শেখ মোহাম্মদ আসলাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(Sheikh Aslam থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শেখ মোহাম্মদ আসলাম
জন্ম
শেখ মোহাম্মদ আসলাম

১১ই মে, ১৯৬২ সাল
গোবরচাকা গ্রাম, খুলনা
পেশাফুটবলার
পরিচিতির কারণফুটবলার

আসলাম (পুরো নাম শেখ মোহাম্মদ আসলাম) বাংলাদেশের একজন কৃতি ফুটবলার। তিনি আবাহনী ক্রীড়া চক্রের হয়ে স্ট্রাইকার পজিশনে খেলতেন। আশির দশকে আসলাম ছিলেন ত্রাসসৃষ্টিকারী গোলদাতা। তিনি বেশ কয়েকবার ঢাকা ফুটবল লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতার সম্মান লাভ করেন।১৯৯৭ সালের ৩রা আগস্ট তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তিনি বর্তমানে বাফুফের স্কুল কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান। [১]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

আসলাম তার পরিবারে ৫ ভাই, ২ বোনের মাঝে ছিলেন ৬ষ্ঠ।তার বাবা আহমেদ আলী খুলনার একজন নামী ফুটবলার,নাট্যকার এবং কণ্ঠশিল্পী ছিলেন যিনি খুলনা রেডিওতে গান গাইতেন।ছোটবেলায় ফুটবলের প্রতি তার আকর্ষণ ছিল ভীষণ। গাছের গাব চুরি করে ২১ টাকা দিয়ে প্রথম শিয়ালকোটের বল কিনেছিলেন।তার বড় মামা ফুটবলার ওয়াসিফুর রহমান এবং বাবার সমর্থন ছিল তার ফুটবল খেলার প্রতি।মা আর গৃহশিক্ষক চাইতেন না যে তিনি খেলেন।তিনি পল্লী মঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তেন এবং ঐ স্কুলের মাঠেই খেলতেন।ক্লাস এইটে পড়ার সময় আসলাম ইন্টার স্কুল অ্যাথলেটিক্সে অংশ নিয়ে লংজাম্পে ২য়, জ্যাভেলিনে ও শুটপুটে প্রথম স্থান দখল করেন।তিনি ইন্টারমিডিয়েট পাস সুন্দরবন কলেজ থেকে।ফুটবলে প্রতি মনোযোগের কারণে আর পড়তে পারেন নি।ঐ কলেজের প্রিন্সিপাল ওয়াহিদুর রহমান তাকে সাহায্য করেন খেলা চালিয়ে যেতে ঢাকা লীগে।সে সময় ইন্টার কলেজ অ্যাথলেটিক্সে অংশ নিয়ে আসলাম জ্যাভলিন থ্রোতে অংশ নিয়ে কলেজের মুখ রাখেন।আসলাম গানও গাইতেন স্কুল কলেজে।[২]

ফুটবল লীগে[সম্পাদনা]

১৯৭৪ সালে পাড়ার এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে আসলাম খুলনার নামী দল টাউন ক্লাবে খেলতে আসেন।পরের বছর খেলেন ওয়াপদাতে একটা চাকরির পাশাপাশি ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত। তিনি সাথে সাথে ছিলেন বিজেএমসির অ্যাথলেট। তিনি মূলত রক্ষণভাগে খেলতেন এবং মাঝে মাঝে আক্রমণে উঠে আসতেন।তিনি ওয়াপদাকে প্রথম বিভাগে উন্নীত করেন এবং নিজে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।[৩]

১৯৭৬ সালে আসেন ঢাকাতে অ্যাথলেটিক্সে অংশ নিতে এবং তিনি লংজাম্পে ২য় স্থান অধিকার করেন ।ঢাকায় তিনি তার পরিচিত ভিক্টোরিয়ার গোলরক্ষকের দেখা পান যার মাধ্যমে ভিক্টোরিয়া দলে খেলার সুযোগ পান।সেখানে কোচ হিসেবে পান রহিম সাহেবকে।ইস্ট এন্ডের বিপক্ষে তিনি প্রথম খেলেন যা ছিল ড্র ম্যাচ।ঢাকার ফুটবলে আসলামে ক্যারিয়ার প্রায় ২ দশকের মতো যেখানে তিনি ১৮টি মৌসুমে খেলেছেন এবং মোট গোল করেছেন ১৭৭টি।সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন মোট ৫ বার ;১৯৮৪ থেকে ১৯৮৭ এবং ১৯৮৯-৯০ সালে।[৪]বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলেছেন টানা ১৪ বছর ১৯৭৮ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত।১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালে তিনি এশিয়াডে অংশ নেন।

ব্যাক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

আসলাম প্রেম করে বিয়ে করেন মোনা মারজানকে ১৯৯০ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর যাকে তিনি প্রস্তাব দিয়েছিলেন ১৯৮৯ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর।তাদের অনেক ঝড় ঝাপটা সামলাতে হয়েছে পরিণতির জন্য।তাদের একটি কন্যা আছে যার নাম নোলক। [৫]

ঢাকা ফুটবল লীগে আসলামের গোল[সম্পাদনা]

সাল দল গোল
১৯৭৭ ভিক্টোরিয়া
১৯৭৮ ভিক্টোরিয়া
১৯৭৯ ভিক্টোরিয়া
১৯৮০ বিজেএমসি ১৩
১৯৮১ বিজেএমসি
১৯৮২ বিজেএমসি
১৯৮৩ মোহামেডান
১৯৯৩ মোহামেডান
১৯৮৪ আবাহনী ১৭
১৯৮৫ আবাহনী ১৮
১৯৮৬ আবাহনী ২০
১৯৮৭ আবাহনী ১৪
১৯৮৮-৮৯ আবাহনী ১১
১৯৮৯-৯০ আবাহনী ১১
১৯৯১-৯২ আবাহনী ১২
১৯৯৪ আবাহনী
১৯৯৫ আবাহনী
১৯৯৬ আবাহনী

ঢাকা লীগে আসলামের হ্যাট্রিক[সম্পাদনা]

  • ১৯৮৪ সাল (দিলকুশার বিরুদ্ধে)
  • ১৯৮৫ সাল (ওয়ারীর বিরুদ্ধে)
  • ১৯৮৬ সাল (চলন্তিকার বিরুদ্ধে)
  • ১৯৮৭ সাল (পিডব্লিউডির বিরুদ্ধে)
  • ১৯৮৮-১৯৮৯ সাল (ওয়ান্ডারার্সের বিরুদ্ধে) [৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "আমি নিরানব্বই ভাগ ব্যর্থ"দৈনিক প্রথম আলো। ১৩ জানুয়ারি ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১১  Authors list-এ |প্রথমাংশ1= এর |শেষাংশ1= নেই (সাহায্য)
  2. রহমান, শেখ সাইফুর (১৯৯৮)। "নক্ষত্রের হাজার কথা"। অন্যদিন ,ঈদ সংখ্যা। মাজহারুল ইসলাম। (২৫): ৩২২।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য);
  3. রহমান, শেখ সাইফুর (১৯৯৮)। "নক্ষত্রের হাজার কথা"। অন্যদিন ,ঈদ সংখ্যা। মাজহারুল ইসলাম। (২৫): ৩২০।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য);
  4. রহমান, শেখ সাইফুর (১৯৯৮)। "নক্ষত্রের হাজার কথা"। অন্যদিন ,ঈদ সংখ্যা। মাজহারুল ইসলাম। (২৫): ৩২১।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য);
  5. রহমান, শেখ সাইফুর (১৯৯৮)। "নক্ষত্রের হাজার কথা"। অন্যদিন ,ঈদ সংখ্যা। মাজহারুল ইসলাম। (২৫): ৩২৩।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য);

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]