বিষয়বস্তুতে চলুন

৯৬ (চলচ্চিত্র)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
৯৬
চলচ্চিত্রের পোস্টার
পরিচালকসি. প্রেম কুমার
প্রযোজকএস. নান্থাগোপাল
রচয়িতাসি. প্রেম কুমার
চিত্রনাট্যকারসি. প্রেম কুমার
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকারগোবিন্দ মেনন
চিত্রগ্রাহক
  • মেহেদিরান জায়ারাজু
  • এন. শানমুগা সুন্দরম
সম্পাদকআর. গোবিন্দরাজ
প্রযোজনা
কোম্পানি
মাদ্রাজ এন্টারপ্রাইজ
মুক্তি
  •  অক্টোবর ২০১৮ (2018-10-04)
স্থিতিকাল১৫৭ মিনিট
দেশভারত
ভাষাতামিল
নির্মাণব্যয়১২ কোটি
আয়১৫০ কোটি

৯৬ (ইংরেজি: 96) ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া একটি তামিল প্রণয়ধর্মী নাট্য চলচ্চিত্র। [] ভ্রমণ-আলোকচিত্রশিল্পী রামচন্দ্রন ওরফে রামের কৈশোরের প্রেমস্মৃতি রোমন্থন ও তার প্রেমিকা জনকি দেবী বা জানুর সাথে বিদ্যালয় পুনর্মিলনীতে দেখা হওয়ার মাধ্যমে কাহিনী আবর্তিত হয়।

চলচ্চিত্রের কাহিনী লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন সি. প্রেন কুনার এবং প্রযোজক এস. নান্থাগোপাল। চলচ্চিত্রটির মিউজিক কম্পোজাফ গোবিন্দ মেনন, মেহেন্দারিন জায়ারাজু, এবং শানমুগা সুন্দারাম সিনোমেটগ্রাফির নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। আর. গোবিন্দরাজ চলচ্চিত্রটির সম্পাদনা করেন এবং কস্টিউন ডিজাইন করেন শুভস্রী কার্তিক বিজয়।

চলচ্চিত্রটি ৪ অক্টোবর ২০১৮ সালে মুক্তি পায় এবং ব্যাপক প্রশংসিত হয়। পরিচালক স্বীকার করেন যে, কিছু বিষয় "ব্লু জ্যা" চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত। [] তৃষা কৃষ্ণন এই চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রী পুরস্কার - তামিল পেয়েছিলেন আর বিজয় সেতুপতি পেয়েছিলেন সেরা অভিনেতা বিষয়শ্রেণীতে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, অপরদিকে সঙ্গীতকার এ আর রহমান শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার - তামিল পেয়েছিলেন।

কাহিনি

[সম্পাদনা]

রামাচন্দ্রন "রাম" কৃষ্ণমূর্তি, একজন ট্রাভেল ফটোগ্রাফার, নিজের স্কুলজীবনের স্মৃতিতে ভেসে উঠে অনেক বছর পর তাঞ্জাভুরের স্কুলে ফিরে আসে। হাইস্কুলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যোগ হওয়ার পর একটি রিইউনিয়নের আয়োজন করা হয়। রাম তার পুরনো বন্ধু মুরালি, সুভাশিনি ও সাথিশের সঙ্গে চেন্নাইয়ে দেখা করে। আড্ডার মাঝে মুরালি দ্বিধা নিয়ে বলে যে রামের শৈশবের ভালোবাসা, জানকি "জানু" দেবী সরবনন, সিঙ্গাপুর থেকে রিইউনিয়নে আসছে।

১৯৯৪ সালে, রাম ও জানু দশম শ্রেণিতে সহপাঠী ছিল। জানু ছিল অসাধারণ গায়িকা, আর দুজনের মধ্যে ধীরে ধীরে ভালোবাসা জন্ম নেয়। বোর্ড পরীক্ষার পর বিদায়ের মুহূর্তে জানু রামকে বলে ছুটির পর দেখা না হওয়া পর্যন্ত তাকে যেন ভুলে না যায়। কিন্তু সেই বছরই রাম স্কুল ও গ্রাম ছেড়ে চলে যায়, আর তাদের দেখা আর হয় না।

রিইউনিয়নের দিন জানু সিঙ্গাপুর থেকে এসে রামকে খুঁজতে থাকে। সুভা তাকে রামের দিকে দেখিয়ে দিলে জানু আবেগে ভেসে রামের দিকে এগিয়ে যায়। তার মনে ভেসে ওঠে সেই দিন— যখন সে একাদশ শ্রেণির ক্লাসরুমে রামের জন্য অপেক্ষা করেছিল, কিন্তু জানতে পারে রামের পরিবার আর্থিক সমস্যায় পড়ে চেন্নাইয়ে চলে গেছে। জানু ভেঙে পড়েছিল, এবং বহু বছর পর আজ আবার মুখোমুখি হচ্ছে।

রিইউনিয়নে তাদের দেখা হওয়া শুরুতে অস্বস্তিকর হলেও ধীরে ধীরে তারা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। আড্ডায় জানুর সিঙ্গাপুরের বিবাহিত জীবন ও রামের অবিবাহিত থাকা নিয়ে কথা হয়। পার্টির পর দুজন গাড়িতে ঘুরতে বের হয়। জানু জানায় যে সে রামকে কোনোদিন ভুলতে পারেনি এবং যদি আবার কখনো দেখা হতো এমন আশা সবসময় ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি তাকে অন্য কাউকে বিয়ে করতে বাধ্য করেছে।

রাম তখন জানায় এক চমকপ্রদ ঘটনা— বহু বছর আগে সে জানুর কলেজে দেখা করতে গিয়েছিল। কিন্তু জানু তাকে অপ্রীতিকর মনে করে দেখা করতে অস্বীকার করেছিল, ভেবে যে সে কোনো স্টকার। এই ভুল বোঝাবুঝিতে দুজনের বছরের পর বছর দূরত্ব তৈরি হয়। জানু হতবাক হয়, কারণ সে সবসময় বিশ্বাস করেছিল রাম তাকে ভুলে গেছে। রাম আরও জানায়, সে জানুর জীবন সম্পর্কে সব জানত— শুধু এই ভুল ধারণা ছাড়া। জানু স্মরণ করে, বিবাহের দিন পর্যন্ত সে মনে মনে চেয়েছিল রাম যেন তাকে নিতে আসে। রাম জানায়, সে সেদিন আসলেই সেখানে ছিল, দূর থেকে তাকিয়ে। এতে জানুর কষ্ট আরও বাড়ে।

জানু রামের সঙ্গে বাকি রাতটা কাটাতে চায়, তার পরের ফ্লাইটের আগে।

তারা শহর ঘুরে বেড়ায়, পুরনো দিনের কথা মনে করে। পথে রামের ফটোগ্রাফির ছাত্রদের সঙ্গে দেখা হয়, যারা জানুকে রামের স্ত্রী ভেবে ভুল করে। তারা তাদের প্রেমকাহিনি জানতে চাইলে জানু একটি কাল্পনিক সুন্দর গল্প বানিয়ে বলে— কলেজে দেখা না হলেও পরে তারা মিলিত হয়ে একসঙ্গে হয়েছে। রামও গল্পে সায় দেয়।

পরে রাম জানুকে বিশ্রাম নিতে তার বাড়িতে নিয়ে যেতে চায়। পথে বৃষ্টি শুরু হলে রাম জানুকে শুকনো জামা দেয়। জানু রামের কাপড় পরে— যা একটি কোমল, ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত তৈরি করে।

রামের বাড়িতে জানু বুঝতে পারে রাম এখনও বিয়ে করেনি। সে রামকে বিয়ে করার ও পরিবার গড়ার কথা বলে। জানু তখন “ইয়ামুনাই আত্রিলে” গানটি গায়— যে গান রাম স্কুলজীবনে তাকে গাইতে শুনতে চেয়েছিল। রাম তাকে তাদের পুরোনো স্মৃতি দেখায়— শুকনো ফুল, কবিতা, স্কুল ইউনিফর্ম।

সময় শেষ হয়ে এলে রাম জানুকে হোটেলে পৌঁছে দেয়, তার ফ্লাইটের প্রস্তুতির জন্য।

বিমানবন্দরে তাদের বিদায় অত্যন্ত আবেগময় হয়। রাম জানুকে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত এগিয়ে দেয়। জানু বিমানে ওঠে, আর দুজনের চোখে জল— তারা জানে এ বিদায়ই তাদের শেষ দেখা।

দৃশ্য শেষ হয় রামকে জানুর রেখে যাওয়া পোশাক নিজের স্মৃতির বাক্সে গুছিয়ে রাখতে দেখা যায়— স্কুলজীবনের স্মৃতির সঙ্গে। স্যুটকেস বন্ধ হয়, কিন্তু রামের জীবনে জানুর স্মৃতি চিরদিনের মতো থেকে যায়।

অভিনয়ে

[সম্পাদনা]
  • কে. রামাচন্দ্রন ওরফে রাম চরিত্রে বিজয় সেতুপতি
  • জানাকি দেবি ওরফে জানু চরিত্রে তৃষা কৃষ্ণন (চিন্ময়ি কর্তৃক ডাবকৃত)
  • প্রভা চরিত্রে ভরসা বোল্লাম্মা
  • সুভাষিনী চরিত্রে দেবদর্শিনী
  • কাভাল দেইভাম (ওয়াচম্যান) চরিত্রে জানাগারাজ
  • মুরালি চরিত্রে ভগবতী পেরুমল
  • সতীশ চরিত্রে আদুকালাম মুরুগাদস
  • বার্বার চরিত্রে কাভিতালায় কৃষ্ণান
  • ছোটবেলার রাম চরিত্রে আদিত্য ভাস্কার
  • ছোটবেলার জানু চরিত্রে গৌরি জি. কিশান
  • ছোটবেলার সুভাষিনী চরিত্রে নিয়িতী কদম্বী
  • ছোটবেলার মুরালি চরিত্রে সুরিয়া
  • ছোটবেলার সতীশ চরিত্রে গৌতম
  • হোটেল রিসিপশনিস্ট চরিত্রে শ্যাম প্রসাদ

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "বিজোশ পানাপরমবিল-তৃষা ফিল্ম টাইটেল্ড '৯৬'?"Sify.com। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫। ২৩ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৬
  2. ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]