২২° বর্ণবলয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
চাঁদের পাশে ২২° বর্ণবলয়
চাঁদের পাশে ২২° বর্ণবলয় (সান হোসে, ক্যালিফোর্নিয়া)

২২° বর্ণবলয় হলো এক ধরনের আলোকীয় ঘটনা। বরফ-স্ফটিকে আলোর ক্রিয়ার ফলে এই ধরনের বর্ণবলয়ের উদ্ভব হয়। সূর্য বা চাঁদের চারপাশে আনুমানিক ২২° আপাত ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট এই বলয় বা চক্রের আবির্ভাব হয়। চাঁদের চারপাশে গঠিত হলে, একে চন্দ্র বলয়, মুন রিং বা শৈত্য বলয় (উইন্টার হ্যালো) বলা হয়। বায়ুমণ্ডলের ঘনীভূত ষড়ভুজাকার বরফ-স্ফটিকে সরাসরি আপতিত সূর্য বা চাঁদের আলো প্রতিসরিত হয়ে এ ধরনের বর্ণবলয় গঠন করে।[১] বলয়গুলো আকারে বৃহৎ দেখাতে পারে। এর ব্যাসার্ধ প্রসারিত বাহুর দৈর্ঘ্যের প্রায় সমান।[২] ২২° বর্ণবলয় প্রতি ১০০ দিনে একবার দেখা যেতে পারে; অর্থাৎ, প্রকৃতিতে রংধনুর চেয়েও এদের বেশি দেখা যায়।[৩]

গঠন[সম্পাদনা]

ষড়ভুজাকার প্রিজমের ভেতর দিয়ে আলোর সবচেয়ে অনুকূল আলোকপথ, যার ফলে ন্যূনতম বিচ্যুতি ঘটে
মেঘ থেকে পর্যবেক্ষকের নিকট আলোর চলার পথ

সবচেয়ে সাধারণ বর্ণবলয় হওয়া সত্ত্বেও, ২২° বর্ণবলয়ের জন্য দায়ী বরফ-স্ফটিকের আকার ও ধরনের বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ষড়ভুজাকার, এলোমেলোভাবে সজ্জিত বরফ-স্ফটিকের স্তম্ভ ইত্যাদিকে এই প্রাকৃতিক ঘটনার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয়। তবে এ জাতীয় ব্যাখ্যায় সমস্যা রয়েছে। যেমন: বাতাসের গতিধর্মের কারণে স্ফটিকগুলো এলোমেলো না থেকে আনুভূমিকভাবে সজ্জিত হএয়ার প্রবণতা দেখায়। এছাড়া বুলেট-আকৃতির স্তম্ভাকার মেঘপুঞ্জের উপস্থিতি দ্বারা অনেক সময় এই ঘটনার বিকল্প ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।[৪][৫]

বরফের ষড়ভুজাকার প্রিজমের সর্বোচ্চ ৬০° কোণের মধ্য দিয়ে গমন করার সময় আলো দুইবার অপসৃত হয়। ফলাফলস্বরূপ চূড়ান্তভাবে ২২° থেকে ৫০° কোণে আলো বিচ্যুত হয়। ষড়ভুজাকার বরফ প্রিজমে আলো আলোর ন্যূনতম বিচ্যুতি কোণ হয় প্রায় ২২° (গড়ে ২১.৮৪°; লাল আলোর জন্য ন্যূনতম বিচ্যুতি ২১.৫৪° এবং নীল আলোর ন্যূনতম বিচ্যুতি ২২.৩৭°)। তরঙ্গদৈর্ঘ্য-নির্ভর আলোর প্রতিসরণে এই পার্থক্যের কারণে বর্ণবলয়ের অভ্যন্তরভাগ কিছুটা লালাভ এবং বহির্ভাগ কিছুটা নীলাভ হয়ে থাকে।

প্রতিটি বরফ-স্ফটিকই প্রায় একইরকমভাবে আলোকে প্রতিসরিত করে। কিন্তু কেবলমাত্র ২২ ডিগ্রি কোণে অপসৃত আলো থেকেই একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে বর্ণবলয় দৃশ্যমান হয়। ২২°-এর নিচে কোনো আলো প্রতিসরিত না হওয়ায় বর্ণবলয়ের অভ্যন্তরের আকাশ অপেক্ষাকৃত অন্ধকার বলে মনে হয়।[৬]

অনেক সময় সূর্য ও চাঁদের আশেপাশে করোনা নামক একধরনের আলোকীয় ঘটনাকে ২২° বর্ণবলয় বলে ভ্রম হয়। ২২° বর্ণবলয়ের চাইতে করোনা অনেক ছোট, কিন্তু অধিক বর্ণীল হয়ে থাকে। বরফ-স্ফটিকের বদলে পানির ফোঁটা থেকে করোনার উৎপত্তি হয়।[২]

নিউ ইয়র্কের ক্রোটন-অন-হাডসনের ওপরে ২২° বর্ণবলয়, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০

আবহাওয়ার সাথে সংশ্লিষ্টতা[সম্পাদনা]

লোকগাথা অনুযায়ী, চন্দ্রবলয়কে আসন্ন ঝড়ের সংকেত হিসেবে গণ্য করা হয়।[৭] অন্যান্য বরফঘটিত বর্ণবলয়ের মতো, আকাশে অলকমেঘ বা অলকস্তরী মেঘের উপস্থিতিতে ২২° বর্ণবলয় সৃষ্টি হয়। সাধারণত বড়সড় কোনো ঝড়ের কয়েকদিন পূর্বেই এই ধরনের মেঘ বাহিত হয়ে আসে।[৮] তবে, আবহাওয়ার সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনের সময়ও এই ধরনের মেঘের আবির্ভাব হতে পারে। সেক্ষেত্রে, ২২° বর্ণবলয় থেকে খারাপ আবহাওয়ার পূর্বাভাস কার্যকর হয় না।

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ""Disk with a hole" in the sky"atoptics.co.uk 
  2. Les Cowley। "22° Circular halo"। Atmospheric Optics। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৪-১৫ 
  3. Pretor-Pinney, Gavin (২০১১)। The Cloud Collector's Handbook। San Francisco: Chronicle Books। পৃষ্ঠা 120। আইএসবিএন 978-0-8118-7542-4 
  4. Tape, Walter; Moilanen, Jarmo। Atmospheric Halos and the Search for Angle x। Washington, DC: American Geophysical Union। পৃষ্ঠা 15। আইএসবিএন 0-87590-727-X 
  5. Cowley, Les (এপ্রিল ২০১৬)। "Bullet Rosettes & 22° Halos"Atmospheric Optics। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৪-৩০ 
  6. Les Cowley। "22° Halo Formation"। Atmospheric Optics। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৪-১৫  (Including excellent illustrations and animations.)
  7. "Why a halo around the sun or moon?"earthsky.org। EarthSky। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৬Lunar halos are signs that storms are nearby. 
  8. Harrison, Wayne (ফেব্রুয়ারি ১, ২০১২)। "Nelson: Ring Around Moon Sign Of Approaching Storm"The Denver Channel। Denver। TheDenverChannel.com। ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১২ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]