২০২১ সুমেরু অগ্ন্যুৎপাত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের পূর্ব জাভা প্রদেশের আগ্নেয়গিরি সুমেরু পর্বতের অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয় ২০২১ সালের ৪ ডিসেম্বর। প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে পর্বতের চূড়ায় লাভা গম্বুজটি ভেঙে পড়ার পরে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছিল। আগ্নেয়শিলা প্রবাহ এবং লাহার অন্তত ৫,২০৫ টি বাড়ি এবং বেশ কয়েকটি সরকারী ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কমপক্ষে ৫৭ জন মারা গেছে[১], আরও ১০৪ জন আহত হয়েছে, আর ২৩ বাকি জনের কোন তথ্য নেই।[২][৩][৪][৫]

পটভূমি[সম্পাদনা]

সুমেরু ইন্দোনেশিয়ার ১০০ টিরও বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে একটি।[৬][৭] উচ্চতায় এটি ৩,৭৬৭ মিটার এবং দ্বীপের সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি। আগ্নেয়গিরিটি উত্তর সুমাত্রা থেকে লেসার সুন্ডা দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত আগ্নেয়গিরি পর্বতগুলির একটি শৃঙ্খলের অংশ। ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরিগুলো মূলত সুন্ডা প্লেটের নীচে অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সাগরমুখী অধোগমনের সাথে যুক্ত। অগ্ন্যুৎপাতের প্রাচীনতম রেকর্ডটি ছিল ১৮১৮ সালে। তারপর থেকে ১৯৪১, ১৯৪২, ১৯৪৫, ১৯৪৬, ১৯৪৭, ১৯৫০, ১৯৫১, ১৯৩, ১৯৫৩, ১৯৪, ১৯৫৫-১৯৫৭, ১৯৫৮, ১৯৫৯, ১৯৬০, ১৯৭৭, এবং ১৯৭৮-১৯৮৯ সালে বড় অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে।[৮] ২০২১ সালের জানুয়ারিতে একটি সামান্য অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছিল যেখানে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।[৯] ৪ ডিসেম্বরের অগ্ন্যুৎপাতটি ছিল ২০১৪ সাল থেকে আগ্নেয়গিরিতে ধারাবাহিক বিস্ফোরক অগ্ন্যুৎপাতের মধ্যে সর্বশেষ। আগ্নেয়গিরিতে সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাতের সাথে আগ্নেয়শিলা প্রবাহ, অগ্ন্যুৎপাত কলাম এবং তুষারধস ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।[১০]

অতীতের ঘটনা[সম্পাদনা]

সুমেরুর সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত ঘটে ১৯০৯ সালের ২৯ আগস্ট যখন আগ্নেয়শিলা প্রবাহ এবং লাভা ৩৮ টি বসতি ও ৬০০-৮০০ হেক্টর কৃষিজমি ধ্বংস করে দেয়। সেই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ২০৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তারপর থেকে, আগ্নেয়গিরির বেশিরভাগ অগ্ন্যুৎপাতমূলক ক্রিয়াকলাপ ছোটখাটো স্ট্রম্বোলিয়ান অগ্ন্যুৎপাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৯৪ সালে একটি অগ্ন্যুৎপাতের ফলে তিন জনের মৃত্যু হয়।[১১]

১৯৮১ সালের মে মাসে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আগ্নেয়গিরির চূড়ায় অবস্থিত ক্রেটার হ্রদটি উপচে পড়ে, যার ফলে হঠাৎ বন্যা শুরু হয়। ছয়টি উপ-জেলার প্রায় ২৬টি গ্রাম বন্যায় মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। সরকারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৮১ সালের বন্যায় মৃতের সংখ্যা মোট ২৫১। আরও ১২০ জন নিহত এবং ১৫২ জন আহত হয়েছেন।[১২]

বিস্ফোরণ[সম্পাদনা]

৬ই ডিসেম্বর অগ্নুৎপাতের পর গ্রামবাসীরা পাহাড় থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাচ্ছে।

তীব্র বৃষ্টিপাতের কারণে পর্বতশিখরেরে একটি লাভা গম্বুজ ভেঙে পড়লে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয় বলে মনে করা হচ্ছে। বান্দুং ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির একজন ভলক্যানোলজিস্ট বলেছেন যে অগ্ন্যুৎপাতের ধ্বংসাবশেষ প্রবাহ অতীতের অগ্ন্যুৎপাত থেকে উপাদান সংগ্রহ করেছিল। ভারী বৃষ্টিপাত শিখরে আগ্নেয়গিরির উপাদান ক্ষয় করে লাভা গম্বুজকে অস্থিতিশীল করে।[১৩] ধসে পড়া গম্বুজটি আগ্নেয়গিরির ঢাল দিয়ে এগিয়ে আসা আগ্নেয়শিলা প্রবাহের একটি ধারা শুরু করে।[১৪] জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্লামের উচ্চতা ৪৫ কিলোমিটারের মতো হতে পারে, যদিও দাবি করা হয়েছে যে উচ্চতা ছিল মাত্র ১১ কিলোমিটার। প্লামের উচ্চতা নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলছে।[১৫] ৫ ডিসেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে আটটি আগ্নেয়শিলা প্রবাহ পর্বতশৃঙ্গ থেকে ৩ কিলোমিটার বা তার বেশি পথ অতিক্রম করেছে। প্রবাহগুলি দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগিয়ে গিয়েছল।[১৬]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Hari Terakhir Pencarian Korban Erupsi Semeru, 57 Orang Meninggal" (ইন্দোনেশীয় ভাষায়)। Jawa Pos। ১৭ ডিসেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০২১ 
  2. Binti Mufarida (৭ ডিসেম্বর ২০২১)। "Update, 4.250 Orang Mengungsi Akibat Erupsi Gunung Semeru" (ইন্দোনেশীয় ভাষায়)। SINDOnews। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০২১ 
  3. "Semeru Volcano Eruption Indonesia"। Reliefweb। ৭ ডিসেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০২১ 
  4. Dzikry Subhanie (৭ ডিসেম্বর ২০২১)। "Update, 3.697 Orang Mengungsi Akibat Erupsi Gunung Semeru" (ইন্দোনেশীয় ভাষায়)। SINDOnews। ৭ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০২১ 
  5. Abdul Muhari (৬ ডিসেম্বর ২০২১)। "[Update] – Sebanyak 15 Warga Meninggal Dunia dan 27 Lainnya Hilang Akibat Erupsi Semeru" (ইন্দোনেশীয় ভাষায়)। Indonesian National Board for Disaster Management। ৬ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০২১ 
  6. Drone captures village damage from Semeru eruption
  7. "Indonesia's Semeru volcano erupts, spews huge ash cloud"CP24 (ইংরেজি ভাষায়)। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০২১ 
  8. Karta Raharja Ucu (৪ ডিসেম্বর ২০২১)। "Sejarah Panjang Meletusnya Gunung Semeru Sejak 1818" (ইন্দোনেশীয় ভাষায়)। Republika Online। ৪ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০২১ 
  9. "Residents flee in panic as Indonesia's Semeru volcano erupts"Al Jazeera। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০২১ 
  10. Nur Fitriatus Shalihah (৫ ডিসেম্বর ২০২১)। "Lokasi Gunung Semeru yang Meletus 4 Desember 2021" (ইন্দোনেশীয় ভাষায়)। Kompas.com। ৫ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০২১ 
  11. "Gunung Semeru meletus: sejarah erupsinya dan jaminan kesuburan tanah untuk masa depan"The Conversation (ইন্দোনেশীয় ভাষায়)। ৬ ডিসেম্বর ২০২১। ৬ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০২১ 
  12. "Presiden Minta Segera Dilakukan Normalisasi Aliran Sungai"Angkatan Bersenjata। ২০ মে ১৯৮১। ১১ এপ্রিল ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০২১ 
  13. Adi Permana (৫ ডিসেম্বর ২০২১)। "Ahli Vulkanologi ITB Jelaskan Penyebab Erupsi Gunung Semeru"itb.ac.id (ইন্দোনেশীয় ভাষায়)। Bandung Institute of Technology। ৫ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০২১ 
  14. "Letusan Semeru Terkait dengan Curah Hujan Tinggi" (ইন্দোনেশীয় ভাষায়)। BeritaSatu। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ৫ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০২১ 
  15. Erfan Maaruf (৫ ডিসেম্বর ২০২১)। "Tinggi Letusan Gunung Semeru Diperkirakan Mencapai 45 Km"। SINDOnews। ৫ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০২১ 
  16. Natasya Maulidiawati (৯ ডিসেম্বর ২০২১)। "Terjadi 8 kali awan panas guguran di Gunung Semeru sejak 5 Desember" (ইন্দোনেশীয় ভাষায়)। alinea.id। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০২১