হোসে মুজিকা
হোসে মুজিকা | |
|---|---|
২০১১ সালে | |
| ৪০তম উরুগুয়ের রাষ্ট্রপতি | |
| কাজের মেয়াদ ১ মার্চ ২০১০ – ১ মার্চ ২০১৫ | |
| উপরাষ্ট্রপতি | ডানিলো আস্তোরি |
| পূর্বসূরী | তাবারে ভাযকুয়েজ |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | হোসে আলবার্তো "পেপে" মুজিকা কর্ডানো ২০ মে ১৯৩৫ মোন্তেবিদেও, উরুগুয়ে |
| মৃত্যু | ১৩ মে ২০২৫ (বয়স ৮৯) মোন্তেভিদেও, উরুগুয়ে |
| রাজনৈতিক দল | বোর্ড ফ্রন্ট |
| দাম্পত্য সঙ্গী | লুসিয়া টোপোলানস্কি |
| ধর্ম | ধর্মহীন (নাস্তিকতাবাদী) |
| স্বাক্ষর | |
হোসে আলবার্তো "পেপে" মুজিকা কর্ডানো (স্পেনীয় উচ্চারণ: [xoˈse muˈxika]; ২০ মে ১৯৩৫ – ১৩ মে ২০২৫[১]) ছিলেন একজন উরুগুয়ের রাজনীতিবিদ এবং ২০১০ সাল থেকে উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট। একজন সাবেক বামপন্থী গেরিলা যোদ্ধা এবং বামপন্থী যুক্ত সরকারের বোর্ড ফ্রন্টের সদস্য। মুহিকা ২০০৫ - ২০০৮ সাল পর্যন্ত পশুসম্পদ, কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রীর দায়িত্ব এবং পরে সিনেটর ছিলেন। বোর্ড ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তিনি ২০০৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতেন এবং ১ মার্চ ২০১০ সালে কার্যভার গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রাপ্ত বেতনের ৯০ ভাগই তিনি গরিবদের সহায়তা এবং ছোট বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে দেশের সামাজিক সেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে দান করার কারণে তাকে বিশ্বের সবচেয়ে গরিব রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বর্ণনা করা হয়।[২]
জীবন
[সম্পাদনা]হোসে মুজিকার বয়স যখন আট বছর তখন তার বাবা মারা যান। সংসারে নেমে আসে চরম দারিদ্র্য। এই সময় তিনি স্থানীয় এক বেকারির ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ শুরু করেন। আবার কখনো কখনো হোটেল বয় হিসেবেও কাজ করেন। এসবের পাশাপাশি বাড়ির পিছনে বয়ে যাওয়া খাঁড়ি থেকে অ্যারাম লিলি ফুল তুলে বিক্রি করেও সংসারের খরচ যোগান। এভাবেই দারিদ্র্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে তার জীবন। তরুণ বয়সে বাম চরমপন্থী নেতা হিসেবে উরুগুয়ের ত্রাস হয়ে ওঠেন তিনি। কারণ তিনি ছিলেন জনপ্রিয় বামপন্থী নেতা এনরিকে এরোর সহযোগী। কিন্তু চে গেভোরার সংস্পর্শে এসে পরিবর্তন ঘটে তার চিন্তাধারার। পঞ্চাশের দশকের শেষে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও রুগ্ন অর্থনীতির চাপে পড়ে মহাসঙ্কটে পড়ে উরুগুয়ে। এই সময় চে-র ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন মুজিকা ও তার সঙ্গীরা। নতুন কিছু করার তাড়না থেকে মুজিকা ও তার সঙ্গীরা শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করা শুরু করেন। পেরুর কিংবদন্তি বিপ্লবী চরিত্র দ্বিতীয় টুপাক আমারুর নামানুকরণে তাদের হাতেই জন্ম নেয় গেরিলা বাহিনী ‘টুপামারো’। অত্যাচারীর নিধন ও দরিদ্রের পালন নীতিতে বিশ্বাসী টুপামারোদের জনপ্রিয়তা উরুগুয়ের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত সমাজে বাড়তে থাকে হু হু করে। ১০০ জনেরও কম মানুষ নিয়ে তারা সেসময় কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন অত্যাচারী শাসকদের মনে। তারা ব্যাংক লুট করে বিত্তশালীদের অবৈধ অর্থ দরিদ্রদের উন্নয়নে ব্যয় করেন। শুধু তাই নয়, ধনী ব্যবসায়ীদের খুন করে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, দামী ক্যাসিনো দখল করে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের টাকা পাঠানো প্রভৃতি কাজ করতে থাকে। ১৯৬৯ সালে যে কারণে টাইমস ম্যাগাজিনে তাদেরকে আখ্যায়িত করা হয়েছিল ‘রবিন হুড গেরিলা’ হিসেবে। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ১৯৭০-এর দশকের শুরুর সময় পর্যন্ত স্থায়ী ছিল উরুগুয়ের শহরভিত্তিক এই বিদ্রোহ।
বন্দী জীবন
[সম্পাদনা]এক সময় তাদের দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। একারণে গতি হারায় তাদের বিপ্লব। ভাঙন শুরু হয় তাদের মধ্যে। সমাজের মঙ্গল করার বদলে তারা শুধু শুধু মানুষ অপহরণ ও খুনের কারণে জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করে তাদের গড়া সংগঠন ‘টুপামারো’। ১৯৭০ সালের মার্চে এক পানশালায় পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ের পর গ্রেপ্তার হন এল পেপে। তার পেটে মোট ৬টি গুলি ঢোকে। গ্রেপ্তারের পর তার ঠাঁই হয় মন্টেভিডিও শহরের পান্টা ক্যারেটাস কারাগারে। সেখান থেকে দু’বার পালিয়ে গিয়েও ১৯৭২ সালে ফের ধরা পড়েন মুজিকা। ১৯৭৩ সালের জুনে সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করে একটি ক্যুয়ের মাধ্যমে। যার পরিণতি হিসেবে জেলে বন্দী মুজিকাদের জন্য অপেক্ষা করছিল ভয়াবহ বিভীষিকা। তাকেসহ মোট নয়জন টুপামারোসকে বিশেষভাবে শনাক্ত করে ছুঁড়ে ফেলা হয় সলিটারি সেলে। অন্ধকারাচ্ছন্ন, দমবন্ধকর পরিস্থিতিতে বছরের পর বছর থাকতে থাকতে কেউ কেউ উন্মাদ হয়ে গিয়েছিল।
বিয়ে
এক বিপ্লবী সতীর্থ লুসিয়া টোপোল্যানস্কির সঙ্গে দীর্ঘ বিশ বছর প্রেমের পর ২০০৫ সালে এসে বিয়ে করেন। আসলে বিয়ে করার মতো তেমন কোনো সুযোগই তারা এতোদিন পাননি।
প্রেসিডেন্ট
[সম্পাদনা]দীর্ঘ ১৪ বছর বন্দি জীবনের পর ১৯৮৫ সালে এসে মুক্তি পান মুজিকা।১৯৮৪ সালে গণ অভ্যুত্থানের পর একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটার মাধ্যমে তিনি মুক্তি পান। জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর খুব দ্রুতই জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠেন মুজিকা। গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারায় ফিরে আসেন মুজিকা। জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে পুরোনো দিনের সেই রবিন হুড গেরিলা ভাবমূর্তিও হয়তো একটা বড় অবদান রেখেছে। ৮০ ও ৯০-এর দশকে উরুগুয়ে শাসন করে কলরাডো পার্টি। ১৯৯৪ সালের নির্বাচনে জয়ের কাছাকাছি এসেও হার মানে ব্রড ফ্রন্ট। তবে ৯৯ জন সাংসদের পার্লামেন্টে ঠাঁই হয় দু’জন প্রাক্তন টুপামারো নেতার। এদেরই একজন হোসে মুজিকা। ২০০৫ সালে উরুগুয়ের প্রভাবশালী কলোরাডো ও ন্যাশনাল পার্টির জোটকে হারিয়ে ক্ষমতায় বসে বামপন্থী জোট ব্রড ফ্রন্ট। প্রেসিডেন্ট পদে অভিষিক্ত হন তাবারে ভাসকুয়েজ। হোসে মুজিকা ২০০৫-২০০৮ সাল পর্যন্ত পশুসম্পদ, কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। শুধু তাই নয়, পরে তিনি সিনেটর হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। বোর্ড ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তিনি ২০০৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতেন এবং ১ মার্চ ২০১০ সালে উরুগুয়ের কার্যভার গ্রহণ করেন।
জনপ্রিয়তার কারণ
[সম্পাদনা]মুজিকার তুমুল জনপ্রিয়তার পিছনে রয়েছে তার ঠোঁটকাটা কথা, আদর্শবাদী ভাবমূর্তি এবং সহজ-সরল জীবন-যাপন। তার অনুগামীদের মতে, এল পেপে মুখে যা বলেন, কাজেও তা করে দেখান। সাধারণ পোষাকে চলতি ভাষায় অবিশ্রান্ত গালাগালিতে ভরপুর তার বক্তৃতা রাতারাতি জনপ্রিয়তা পায়। উল্টো দিকে, সমালোচকরা বলেন, মুজিকার আগাগোড়াই অভিনেতা। আদতে তিনি এক পাগলাটে, বাতিকগ্রস্ত বুড়ো যিনি এখন বন্দুক ও বিপ্লব, দু’টোই সরিয়ে রেখেছেন। নিন্দুকদের কথায় অবশ্য আদৌ আমল নেন না প্রেসিডেন্ট। স্পষ্টবক্তা হিসেবে বরাবরই বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন তিনি। ক্ষমতায় এসে একদিকে যেমন দেশে গাঁজার চাষ ও বিপণনকে বৈধতা দিয়েছেন, তেমনই গর্ভপাত এবং সমকামী বিবাহকেও আইনি অনুমোদন প্রদান করেছেন। আবার এই মুজিকাই জাতিসঙ্ঘের সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে সদস্যদের বলেন, ‘বিপুল অর্থব্যয়ে আয়োজিত বৈঠকে যাওয়া বন্ধ করুন। ওখানে কাজের কাজ কিছুই হয় না।’ সম্প্রতি (নভেম্বর, ২০১৪) এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, উরুগুয়েতে হোসে মুজিকার জনপ্রিয়তা প্রায় ৬০ শতাংশ।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট হোসে মুহিকা: বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র প্রেসিডেন্টের মৃত্যু"। BBC News বাংলা। ১৪ মে ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২৫।
- ↑ Hernandez, Vladimir (১৪ নভেম্বর ২০১২)। "Jose Mujica: The World's 'Poorest' President"। BBC News Magazine।
অতিরিক্ত পাঠ
[সম্পাদনা]- (স্পেনীয়) Biography by CIDOB Foundation
- (স্পেনীয়) Editorial publicada el 2011-7-11, en La Red 21 Uruguay, del filósofo Eduardo Sanguinetti: "Mujica gesto de una fundación"
- (স্পেনীয়) Editorial publicada el 21 de junio de 2012, en el diario La República (Uruguay), del filósofo Eduardo Sanguinetti: "El Nobel de la Paz para Pepe Mujica"
- (স্পেনীয়) Artículo publicado el 16 de abril de 2014, en el periódico El Diario (Uruguay), "Video: Filósofo Eduardo Sanguinetti arrepentido de haber propuesto a Mujica para premio Nobel" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৮ মে ২০১৪ তারিখে
- Uruguay's President-Elect: Che Guevara’s Spiritual Heir by The Daily Maverick
- (স্পেনীয়) Lessa (২০০১)। La revolución imposible: los Tupamaros y el fracaso de la vía armada en el Uruguay। Fin de Siglo।
- (স্পেনীয়) Mujica, el viaje de un tupamaro
- (স্পেনীয়) Mujica por Pagina 12: “En mi paisito vale la pena invertir”
- (স্পেনীয়) Infolatam.com
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজে হোসে মুজিকা (ইংরেজি)
- José Pepe Mujica: Biography of the Former President
- উন্মুক্ত গ্রন্থাগারে হোসে মুজিকা সম্পর্কিত কর্ম
| রাজনৈতিক দপ্তর | ||
|---|---|---|
| পূর্বসূরী মার্টিন আগুইরেজাবালা |
প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও মৎস্যমন্ত্রী ২০০৫–২০০৮ |
উত্তরসূরী আর্নেস্তো আগাজ্জি |
| পূর্বসূরী তাবারে ভাযকেজ |
উরুগুয়ের রাষ্ট্রপতি | উত্তরসূরী তাবারে ভাযকেজ |
| কূটনৈতিক পদবী | ||
| পূর্বসূরী দেশি বুটারসে |
ইউএনএএসইউআর এর অস্থায়ী সভাপতি ২০১৪–২০১৫ |
উত্তরসূরী তাবারে ভাযকেজ |
- ১৯৩৫-এ জন্ম
- ২০২৫-এ মৃত্যু
- বোর্ড ফ্রন্ট (উরুগুয়ে) রাজনীতিবিদ
- উরুগুয়ের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী
- উরুগুয়ের রাষ্ট্রপতি
- উরুগুয়েয়ীয় বন্দী ও আটক
- উরুগুয়েয়ীয় নাস্তিক
- উরুগুয়ের কৃষক
- উরুগুয়েয়ীয় গেরিলা
- বাস্ক বংশোদ্ভূত উরুগুয়েয়ীয় ব্যক্তি
- ইতালীয় বংশোদ্ভূত উরুগুয়েয়ীয় ব্যক্তি
- স্পেনীয় বংশোদ্ভূত উরুগুয়েয়ীয় ব্যক্তি
- পুঁজিবাদ বিরোধী
- নারীবাদী পুরুষ
- উরুগুয়েতে ক্যান্সারে মৃত্যু
- সর্বেশ্বরবাদী
- উরুগুয়েয়ীয় সমাজতন্ত্রী