হাসান মতিউর রহমান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হাসান মতিউর রহমান

হাসান মতিউর রহমান (জন্মঃ ৮ ডিসেম্বর ১৯৫৮) হলেন বাংলাদেশী লোকসংগীত শিল্পী, গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাধিক বিক্রীত অ্যালবাম ‘আমি বন্দী কারাগারে’র সুরকার ও প্রযোজক তিনি।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতি[সম্পাদনা]

হাসান মতিউর রহমান ১৯৫৮ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের পূর্বধোয়াইর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।[১] তার পিতার নাম মোহাম্মদ হাসানউদ্দীন, তিনি কলিকাতায় চাকরী করতেন এবং সংগীতের তার বিশেষ অনুরাগ ছিল যা তাকে বিশেষ ভাবে প্রভাবিত করেছে।

শিক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন[সম্পাদনা]

গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুরে অবস্থিত ইব্রাহিমপুর ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। এই সময়েই তিনি মাইকে আব্বাস উদ্দীন ও আবদুল আলীমের গান শুনে সংগীতে অনুপ্রাণিত হন। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী নিয়ে পুঁথি রচনা করে নিজেই পাঠ করে শোনাতেন। কলিকাতায় চাকরীকালীন তার পিতা মোহাম্মদ হাসানউদ্দীন গুনাই যাত্রা এত বেশি শুনেছেন যে, প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পুরাটাই তার মুখস্থ ছিল। তিনি চাকরি ছেড়ে দেশে আসার পরে নিজের টাকায় একটা যাত্রা দল গঠন করছিলেন। এই দল নিয়ে গুনাই যাত্রা পালা করে সাড়া জাগিয়েছিলেন। তখন পুরুষরাই যাত্রার মধ্যে মেয়ে সাজত। পুরুষের করা মেয়ে ক্যারেক্টার দেখে লোকে মুগ্ধ হতো।
নবম বা দশম শ্রেণীর ছাত্র থাকা কালেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। যুদ্ধের ট্রেনিং হয়েছিল মানিকগঞ্জে। ক্যাপ্টেন আবদুল হালিম চৌধুরী ছিলেন সেক্টরের প্রধান। ওই অঞ্চলে মেজর হায়দার ছিলেন।
১৯৭৩ সালে ইব্রাহিমপুর ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় থেকেই এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে উত্তীর্ণ হন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

এরপর ১৯৭৭ সালের শেষ দিকে রূপালী ব্যাংকের চাকরি নিয়ে ঢাকায় আসেন। তার বাসা ছিল আবদুল আলীমের বাড়ির পাশেই, এই সুবাদে তার বড় ছেলে জহির আলীমের সঙ্গে হাসান মতিউর রহমানের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। এবং তার সঙ্গেই বিভিন্ন জায়গায় গান গাইতে যেতেন। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ বেতারে তার লেখা প্রথম গান প্রচারিত হয়। বরিশালের আবদুল করীম খানের গেয়েছিলেন, ‘জ্বালায় জ্বালায় আমার অন্তর কালা, তোরা দেখরে, প্রেমের কি জ্বালা সখী দেখরে’ গানটি। অবশ্যই বেতারের তালিকাভূক্ত গীতিকার না হওয়ায় লোকগীতি বলেই গানটি প্রচারিত হয়েছিল। এভাবে তার লেখা অনেক গান বেনামে বেতারে গেয়েছিলেন আবদুল আলীম পুত্র জহির আলীম।
১৯৭৮ সালের এপ্রিল (বৈশাখ) মাসে ডিস্ক রেকর্ডে সর্বকনিষ্ঠ গীতিকার হিসেবে সুযোগ পান। তখন বাংলাদেশে একমাত্র গ্রামোফোন কোম্পানি ছিল ঢাকা রেকর্ডস। সেখানকার মালিক ছিলেন রূপবান ছবির ডিরেক্টর সালাউদ্দিন, মিউজিক ডিরেক্টর সত্য সাহা আর ফেরদৌসি রহমান। প্রতি গানের জন্য ঢাকা রেকর্ডস তাকে দিয়েছিল ২০০ টাকা করে। গান লিখে টাকা রোজগার করা যায়, এর আগে তিনি জানতে না।

উল্লেখযোগ্য কাজ[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্রে

গীতিকার হিসাবে[সম্পাদনা]

  • মমতাজ (২০০৫);
  • আয়না সুন্দরী (২০১৫)।

সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে[সম্পাদনা]

  • আয়না সুন্দরী (২০১৫)।

পুরস্কার ও সম্মননা[সম্পাদনা]

হাসান মতিউর রহমান দেশে বিদেশে ৩৫০টির বেশি পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলো ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই’ এই গানটির জন্য প্রাপ্ত পুরস্কার। গানটি গেয়েছেন শিল্পী মলয় কুমার ও সাবিনা ইয়াসমিন। হাসান মতিউর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পরপর দুই শনিবার দুটি পুরস্কার পেলাম। লাল সবুজের দল আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কাজ করা গুণীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আমার হাতে এই বিশেষ সম্মাননাটি তুলে দেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আখম মোজাম্মেল হক।’[২]

‘তুমি অনেক দিন কান্দাইলা বন্ধু, কান্দাইয়ো না বেশি আর, তুমি যে ক্ষতি করলে আমার, আল্লায় করবে তোমার বিচার’ গানটির জন্য মিজাব অ্যাওয়ার্ড পেলেন গীতিকার-সুরকার হাসান মতিউর রহমান। ২০১২-১৩ সালের সর্বাধিক জনপ্রিয় গানের ক্যাটাগরিতে তিনি এ পুরস্কার পেয়েছেন।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "মুজিব পরদেশী নামটা আমার দেওয়া"। ১৩ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ 
  2. "পুরস্কার পেলেন হাসান মতিউর রহমান" 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]