হাকাম ইবনে আমর ইবনুল গিফারী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

আল-হাকাম ইবনে আমর আল-গিফারী (মৃত্যু: ৭১ হিজরি/৬৭০ খ্রিস্টাব্দ) মুহাম্মদের একজন সাহাবি ছিলেন এবং খোরাসানের উমাইয়া গভর্নর এবং ৬৬৫ সাল থেকে মার্ভেতে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ট্রান্সঅক্সানিয়ায় (মধ্য এশিয়া) আরব অভিযানের কমান্ডার ছিলেন।

জীবন[সম্পাদনা]

আল-হাকাম ইবনে আমর কিনানা গোত্র বংশীয় বানু গিফার গোত্রের মুজাদ্দাহ ইবনে হিদাইয়াম ইবনে আল-হারিথ ইবনে নুয়ায়লার পুত্র ছিলেন।[১][২] আল-হাকাম ছিলেন ইসলামের নবী মুহাম্মদের একজন সাহাবি এবং যুদ্ধে তার অন্যতম পতাকা বহনকারী।[৩][৪] তিনি আরব গ্যারিসন শহর বসরায় স্থায়ী হন এবং ৬৩৬ সালে সাসানীয় সাম্রাজ্যে মুসলিম বিজয়ের সূচনা করেন।[৫][৬] বসরায় গিফার গোত্রের লোকদের পাতলাভাবে বিক্ষিপ্ত উপস্থিতি ছিল।[৭] তার ভাই রাফি মুহাম্মদের কাছ থেকে হাদীস বর্ণনাকারী ছিলেন।[২]

আল-তাবারি এবং আল বালাযুরির মতে, ৬৬৫ সালে ইরাক এবং পূর্বাঞ্চলের উমাইয়া খিলাফতের কার্যকর প্রতিনিধি যিয়াদ ইবনে আবিহি খোরাসানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে (ইরানের পূর্বদিকের এবং আমু দরিয়ার পশ্চিম দিক) আল-হাকামের গভর্নরশিপের অধীনে মার্ভ-ভিত্তিক একক প্রাদেশিক প্রশাসনে কেন্দ্রিভূত করেন।[৮][১][৯] উভয় ঐতিহাসিক দ্বারা উদ্ধৃত একটি কাহিনী অনুসারে,যিয়াদ অভিজ্ঞ কমান্ডার আল-হাকাম ইবনে আবি আল-আস তাকাফিকে উক্ত পদে নিয়োগের পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু যখন তার রাজ-গৃহাধ্যক্ষ ভুল করে আল-হাকাম ইবনে আমরকে তার দরবারে নিয়ে আসে তখন তিনি তাকেই নিয়োগ দেন এই বলে যে আল-হাকাম মুহাম্মদের সাহাবী এবং "খাঁটি সহচর" বা "অভিজাত বংশের লোক"।[১০][১১] অন্য একটি ঐতিহ্যবাহী মুসলিম বিবরণে বলা হয়েছে যে যিয়াদ ৬৬৪ সালে আল-হাকামকে নিযুক্ত করেছিলেন।[১২] আল-তাবারি মন্তব্য করেছেন যে যিয়াদ আল-হাকামের অধীনে খারাজ (ভূমি কর এবং/অথবা সম্ভবত মাথাপিছু ধার্য করা কর) সংগ্রহের জন্য ছয় জন প্রতিনিধিও নিয়োগ করেছিলেন।[১৩][১৪]

আল-হাকাম ইন্তেকাল করেন এবং তাকে মার্ভে সমাধিস্থ করা হয়। তার নিযুক্ত উত্তরাধিকারী আনাস ইবনে আবি ইউনুস কে জিয়াদ তৎক্ষণাৎ বরখাস্ত করেন, তিনি তার জানাজার নামাজ আদায় করেছিলেন।[১৫] আব্বাসীয় খলিফা আল-মা'মুন (রাজত্বকাল: ৮১৩-৮৩৩ খ্রিস্টাব্দ) এর রাজত্বকালের শেষদিকে সূত্র ধরে তার সমাধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।[১৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Morony 1987, পৃ. 86।
  2. Landau-Tasseron 1998, পৃ. 122, note 560।
  3. Rtveladze 2000, পৃ. 12।
  4. Hasan 1970, পৃ. 166।
  5. Lecker 2000, পৃ. 47।
  6. [[#CITEREF|]], পৃ. 895, note 1649।
  7. Crone 1980, পৃ. 227, note 234।
  8. Gibb 1923, পৃ. 16।
  9. Murgotten 1924, পৃ. 170।
  10. Morony 1987, পৃ. ৮৬।
  11. Murgotten 1924, পৃ. 170–171।
  12. Fariq 1966, পৃ. ৬৭।
  13. Hasan 1970, পৃ. ১৬৬।
  14. Morony 1987, পৃ. ৮৬–৮৭।
  15. Morony 1987, পৃ. ১৬৩।
  16. Lecker 2000, পৃ. ৪৭।

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]