বিষয়বস্তুতে চলুন

হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ
জন্ম(১৮৭৬-১০-২২)২২ অক্টোবর ১৮৭৬
ফরিদপুর ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে বাংলাদেশ)
মৃত্যু২৬ ডিসেম্বর ১৯৬১(1961-12-26) (বয়স ৮৫)
পেশালেখক ও অনুবাদক
পরিচিতির কারণভারতীয় মহাকাব্য ও ক্লাসিক গ্রন্থ সমূহের বঙ্গানুবাদ
পুরস্কার পদ্মভূষণ (১৯৬০)
রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৬১)
4990010020426 - অভিজ্ঞান শকুন্তলম্ ২য় সংস্করণ, ভট্টাচার্য, হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ, ৬৬৬ পৃষ্ঠা সংস্কৃতসাহিত্য (১৮৬০)

মহামহোপাধ্যায় হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ ভট্টাচার্য্য (২২ অক্টোবর ১৮৭৬ - ২৬ ডিসেম্বর ১৯৬১) ছিলেন সংস্কৃত ভাষা, সাহিত্য দর্শন, জ্যোতিষ প্রভৃতি বিষয়ের ভারতীয় বাঙালি সুপণ্ডিত। সংস্কৃত ভাষায় একাধিক গ্রন্থ রচয়িতা এবং বাংলা সাহিত্যের অনুবাদক তিনি। [১] ঢাকার সারস্বত সমাজ তাকে সিদ্ধান্তবাগীশ উপাধি প্রদান করে।

জীবনী

[সম্পাদনা]

হরিদাস ব্রিটিশ ভারতের অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুরের কোটালীপাড়ার ঊনশিয়া গ্রামের কাশ্যপপাড়ায় ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২২ অক্টোবর প্রখ্যাত পণ্ডিত বংশে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা গদাধর বিদ্যালঙ্কার ও মাতা বিধুমুখী দেবী। পিতামহ কাশীচন্দ্র বাচস্পতি'র কাছে তার শিক্ষারম্ভ।

পূর্বপুরুষদের প্রজ্ঞা ও পাণ্ডিত্যের অধিকারী হরিদাস কাব্য, ব্যাকরণ, পুরাণ, জ্যোতিষ, দর্শন প্রভৃতি বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। ঊনিশ বৎসর বয়সেই নাটক, খণ্ডকাব্য রচনা করেন।

সংস্কৃত পণ্ডিতের শ্রেষ্ঠ কীর্তি সংস্কৃত থেকে মহাভারতের সম্পূর্ণ বঙ্গানুবাদ। ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তার অনুবাদ খণ্ডে খণ্ডে (৪৩ খণ্ডে) প্রকাশিত হয়। একক প্রচেষ্টায় এবং মূলানুগত্যে এটি বাংলাভাষায় মহাভারত অনুবাদে সর্বোত্তম নিদর্শন। [২] এছাড়াও তিনি বেশ কিছু মহাকাব্য এবং ক্লাসিক যেমন শকুন্তলা[৩]এবং [[মেঘদূতম্ |মেঘদূত] [৪]অনুবাদ করেন। তার অন্যান্য রচিত গ্রন্থাদি হল-

  • রুক্মিণীহরণ
  • শিবাজীচরিতম্
  • বিরাজসরোজিনী

সম্মাননা

[সম্পাদনা]

সাহিত্যের ক্ষেত্র তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ, ভারত সরকার তাকে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মভূষণে সম্মানিত করে । [৫] পশ্চিমবঙ্গ সরকার তার মহাভারতের অনুবাদের জন্য ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান করে।

পারিবারিক জীবন ও জীবনাবসান

[সম্পাদনা]

মহামহোপাধ্যায় হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ পনের বৎসর বয়সে গৈলানিবাসী রমানাথ ঠাকুরের প্রথমা কন্যা সরলাসুন্দরীকে বিবাহ করেন। সরলাসুন্দরীর মৃত্যুর পর ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে রামেন্দ্র কৃতিরত্নের জ্যেষ্ঠাকন্যা কুসুমকুমারীকে বিবাহ করেন। ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ২৬ ডিসেম্বর ছিয়াশী বৎসর বয়সে প্রয়াত হন।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. শিশিরকুমার দাশ (২০১৯)। সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী। সাহিত্য সংসদ, কলকাতা। পৃষ্ঠা ২৩৯। আইএসবিএন 978-81-7955-007-9 
  2. "Mahabharata in Bengali"www.hindu-blog.com। ২০১৮-০৫-২৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৫-২৩ 
  3. "Abhigyan Shakuntalam Ed.2"www.abebooks.co.uk (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৫-২৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৫-২৩ 
  4. "megh dootam 1861 [Hardcover] by sri haridas siddhanta vagosha bhatta charya"www.abebooks.com (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৫-২৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৫-২৩ 
  5. "Padma Awards"Padma Awards। Government of India। ২০১৮-০৫-১৭। ২০১৮-১০-১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৫-১৭