সেক্স পিস্টলস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
সেক্স পিস্টলস
Sex Pistols in Paradiso.jpg
১৯৭৭ সালে আমস্টারডামে সেক্স পিস্টলস (বাম থেকে ডানেঃ পল কুক, গ্লেন ম্যাটলক, জনি রটেন এবং স্টিভ জোন্স)
প্রাথমিক তথ্য
উদ্ভব লন্ডন, ইংল্যান্ড
ধরন পাঙ্ক রক
কার্যকাল
  • ১৯৭৫-১৯৭৮
  • ১৯৯৬-২০০১
  • ২০০২-২০০৩
  • ২০০৭-২০০৮
লেবেল
সহযোগী শিল্পী
ওয়েবসাইট www.sexpistolsofficial.com
প্রাক্তন সদস্যবৃন্দ স্টিভ জোনস
পল কুক
গ্লেন ম্যাটলক
জনি রটেন
সিড ভিশাস

দ্য সেক্স পিস্টলস (ইংরেজি ভাষায়: The Sex Pistols) ১৯৭৫ সালে লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত একটি ইংলিশ পাঙ্ক রক ব্যান্ড। প্রাথমিক ভাবে ব্যান্ডটি আড়াই বছর টিকে মাত্র চারটি সিঙ্গেল এবং একটি স্টুডিও এ্যালবাম (Never Mind The Bollocks, Here's The Sex Pistols) প্রকাশ করলেও, এটিকে জনপ্রিয় সঙ্গীত ইতিহাসের একটি অন্যতম প্রভাবশালী কাজ বলে বিবেচনা করা হয়।[১][২] যুক্তরাজ্যে পাঙ্ক মুভমেন্টের সূচনা তাদের মাধ্যমেই হয় এবং পরবর্তীতে ব্যান্ডটি অসংখ্য পাঙ্ক ও অল্টারনেটিভ রক সঙ্গীতজ্ঞদের অনুপ্রাণিত করেছে।

সেক্স পিস্টলসের প্রাথমিক লাইনআপে ছিলেন গায়ক জনি রটেন (জন লিন্ডন), লিড গিটারিস্ট স্টিভ জোন্স, ড্রামার পল কুক এবং বেজিস্ট গ্লেন ম্যাটলক। ১৯৭৭ সালের শুরুতে Sid Vicious (জন রিচি) ম্যাটলকের জায়গা গ্রহন করেন। প্রথম থেকেই ব্যান্ডটির গানের কথা, কনসার্টে শ্রোতাদের উন্মত্ত আচরণ বিভিন্ন বিতর্কের সৃষ্টি করে।[৩]

১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ট্যুর শেষে রটেন সেক্স পিস্টলস ত্যাগ করেন এবং ব্যান্ডটির ভেঙ্গে যাবার ঘোষণা দেন।সিড ভিশাস তাঁর বান্ধবীকে হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার হন এবং তার কয়েকমাস পরেই ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হেরোইন ওভারডোজে মারা যান।

১৯৯৬ সালে রটেন, জোন্স, কুক এবং ম্যাটলক Filthy Lucre ট্যুরের জন্য পুনরায় একত্রিত হন।২০০২ সাল থেকে তাঁরা বিভিন্ন রিইউনিওন শো এবং ট্যুর করেছেন।[৪]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

উৎপত্তি[সম্পাদনা]

১৯৭২ সালে ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরের কয়েকজন কিশোর মিলে গড়ে তোলে 'দ্যা স্ট্র্যান্ড' (The Strand) নামক একটি গ্রুপ যেটি থেকে পরে জন্ম সেক্স পিস্টলসের। স্ট্র্যান্ডের ভোকালিস্ট ছিলেন স্টিভ জোন্স,ড্রামার পল কুক এবং গিটারে ওয়ালি নাইটিংগেল।তখন জোন্স আর কুক চোরাই ইন্সট্রুমেন্ট বাজাতেন। জোন্স পরবর্তীতে স্বীকার করেন এটি যে তারা কোন কনসার্ট শেষে স্টেজ থেকে যতটুকু সম্ভব গিয়ার চুরি করে আনতেন, যা তাদের প্র্যাকটিসের সম্বল ছিল। দ্যা স্ট্র্যান্ডের (যা Swankers নামেও পরিচিত ছিল) সদস্যরা লন্ডনের চেলসির কাছে 'Acme Attraction' ও 'Too Fast To Live,Too Young To Die' নামের দুটি পোশাকের দোকানে আড্ডা দিতেন। Too Fast To Live,Too Young To Die দোকানটির মালিক ছিলেন ম্যালকম ম্যাক্লারেন এবং ভিভিয়েন ওয়েস্টউড।১৯৭১ সালে লেট ইট রক নামে চালু হওয়া এ দোকানটি একসময় পরিনত হয় লন্ডনের পাঙ্ক রক সিনের কেন্দ্রবিন্দুতে যা সিড ভিশাস,জিন অক্টোবর,মার্ক স্টুয়ারট সহ অনেক প্রতিভাবান শিল্পীদের কাছাকাছি নিয়ে আসে। ১৯৭৪ সালে জোন্স ম্যাক্লারেনকে রাজি করান তাদের ব্যান্ড গড়ায় সাহায্য করার জন্য। ম্যাক্লারেন হন স্ট্র্যান্ডের ম্যানেজার। তার দোকানে তখন কাজ করতেন গ্লেন ম্যাটলক,যাকে ব্যান্ডের বেজিস্ট হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। নিউইয়র্কে কিছুদিন New York Dolls এর ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে ম্যাক্লারেন ১৯৭৫ সালের মে মাসে লন্ডনে ফেরেন। ম্যানহ্যাটেনের উঠতি পাঙ্ক রক সিন দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ম্যাক্লারেন স্ট্র্যান্ডের উন্নতিতে মনোযোগ দেন।গ্রুপটি থেকে নাইটিংগেলকে বের করে দেওয়া হয় এবং ভোকালে জোন্স স্বচ্ছন্দ বোধ না করায় তিনি গিটারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।গ্রুপটির তখন নাম ছিল QT Jones and the Sex Pistols। ম্যাক্লারেন নিউইয়র্ক ডলস থেকে Sylvain Sylvain কে লন্ডনে আনার পরিকল্পনা করেছিলেন যদিও তা পরে বাস্তবায়িত হয়নি।এরপর ব্যান্ডের জন্য স্থানীয় একজন সদস্য খোঁজা শুরু হয়।ম্যাটলক বলেন, "Everyone had long hair then, even the milkman, so what we used to do was if someone had short hair we would stop them in the street and ask them if they fancied themselves as a singer."ম্যাক্লারেন রিচারড হেল কে বেশ কয়েকবার যোগদানের অনুরোধ করলেও হেল তা প্রত্যাখ্যান করেন।

জন লিন্ডনের যোগদান[সম্পাদনা]

১৯৭৫ সালের অগাস্টে রোডসের (Bernard Rhodes) চোখে পরে 'I Hate Pink Floyd' টিশার্ট পরা ১৯ বছরের এক যুবক।তাকে একটি পাবে জোন্স এবং কুকের সাথে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রন জানানো হয়।জোন্স এ প্রসঙ্গে বলেন,"He came in with green hair. I thought he had a really interesting face. I liked his look. He had his 'I Hate Pink Floyd' T-shirt on, and it was held together with safety pins. John had something special, but when he started talking he was a real arsehole—but smart."লিন্ডন তাদের ব্যান্ডের সাথে কাজ করতে রাজি হন।

তিনি পরবর্তীতে তাদের ব্যান্ড গঠনের সামাজিক দৃষ্টিকোণ তুলে ধরেন এভাবে,"
     "Early Seventies Britain was a very depressing place. It was completely run-down with trash on the streets, and total unemployment—just about everybody was on strike. Everybody was brought up with an education system that told you point blank that if you came from the wrong side of the tracks...then you had no hope in hell and no career prospects at all. Out of that came pretentious moi and the Sex Pistols and then a whole bunch of copycat wankers after us"
জনি রটেন

New Musical Express ম্যাগাজিনের সাংবাদিক নিক কেন্ট সেসময় ব্যান্ডটির সাথে মাঝেমাঝে বাজাতেন।লিন্ডনের আগমনে কেন্ট গ্রুপ ত্যাগ করেন।লিন্ডন বলেন,""When I came along, I took one look at him and said, 'No. That has to go'.He's never written a good word about me ever since."

গ্রুপের গিটারিস্টের জন্য অডিশনের মাধ্যমে বাছাই করা হয় স্টিভ নিউকে (Steve New)।কিন্তু গিটারে জোন্স ক্রমাগত উন্নতি করতে থাকায় গ্রুপটিতে নিউকে আর প্রয়োজন হয়নি।তিনি একমাস পর ব্যান্ড ত্যাগ করেন।

দাঁতের খারাপ অবস্থার জন্য জোন্স লিন্ডনের নাম দেন জনি রটেন।এ নামেই লিন্ডন পরবর্তীতে পরিচিতি লাভ করেন।একই সাথে Le Bomb, Subterraneans, the Damned, Beyond, Teenage Novel, Kid Gladlove, and Crème de la Crème ইত্যাদি নাম বিবেচনা করে ব্যান্ডটির নাম অবশেষে ঠিক করা হয় সেক্স পিস্টলস।ব্যান্ডটি এরপর মৌলিক গান লেখার কাজে হাত দেয়।রটেন ছিলেন প্রধান গীতিকার এবং ম্যাটলক প্রাইমারি মেলোডি রাইটার।তাদের লেখা প্রথম গান Pretty Vacant লেখেন ম্যাটলক যা রটেন পরে সামান্য পরিবর্তন করেন।যদিও আনুষ্ঠানিক ক্রেডিটে চারজনের নামই ছিল। ম্যাটলক তখন পড়াশুনা করতেন সেইন্ট মারটিন্স কলেজে।সেখানে তিনি ব্যান্ডটির প্রথম গিগ বা শো এর আয়োজন করেন।পাব রক গ্রুপ 'বাজুকা জো' এর অ্যাম্প ও ড্রাম দিয়েই পিস্টলস শো শুরু করে।প্রথমে তারা The Who,The Small Faces,David Barry এর বিভিন্ন গান কভার করে।কিন্তু তাদের নিজিদের গান শুরু করার আগেই বাজুকা জো এর সদস্যরা তাদের গিয়ারের প্লাগ খুলে নেয়।উপস্থিত দর্শকদের উন্মত্ত আচরনে যন্ত্রগুলোর ক্ষতি হচ্ছিল।এটি নিয়ে দুই ব্যান্ডের সদস্যদের মাঝে স্টেজেই একচোট হাতাহাতি হয়। এরপর আরো বিভিন্ন জায়গায় গান গেয়ে পিস্টলস ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে।তেসরা জুলাই প্যরিসে তারা একটি শো করে।এটি ছিল ব্রিটেনের বাইরের তাদের প্রথম কনসার্ট।

৮ই অক্টোবর রেকর্ড লেবেল EMI এর সাথে দুবছরের চুক্তি সাক্ষর করে তারা।২৬শে নভেম্বর মুক্তি পায় ব্যান্ডটির প্রথম সিঙ্গেল Anarchy In UK।পাঙ্ক গানের মাধ্যমে রাজনীতির সাথে এক ধরনের যোগসূত্র স্থাপন করে গানটি যেখানে পিস্টলসের অবস্থান ছিল ক্ষুব্ধ,উত্তেজিত, নৈরাজ্যবাদী এবং নিহিলিস্টিক।রক বা পাঙ্ক সঙ্গীতকে সবার সামনে একটি আদর্শ হিসেবে তুলে ধরে তারা এ গানটি দিয়ে।গানের কথা, সদস্যদের বেশভূষা খুব দ্রুতই ব্রিটেনের দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

পহেলা ডিসেম্বর Thames Television এর Today Programme অনুষ্ঠানে পিস্টলসের সরাসরি সম্প্রচারকৃত একটি ইন্টারভিউ নেয়া হয়। জোন্স ও রটেন সেখানে এত অশোভন ভাষায় কথা বলেন যে উপস্থাপক বিল গ্রান্ডি(Bill Grundy) তাদের মাতাল বলে ধরে নেন।জোন্স ও গ্রান্ডির সাথে কথার কিছু চুম্বক অংশ হলঃ

Jones: You dirty sod. You dirty old man.
Grundy: Well keep going, chief, keep going. Go on. You've got another five seconds. Say something outrageous.
Jones: You dirty bastard.
Grundy: Go on, again.
Jones: You dirty fucker.
Grundy: What a clever boy.
Jones: What a fucking rotter.

ঘটনাটি ইংল্যান্ডের প্রধান দৈনিক পত্রিকা সহ অসংখ্য ট্যাবলয়েডে স্থান করে নেয়। The Daily Mirror পত্রিকা ‘The Filth and The Fury’ শিরোনামে প্রথম পাতায় খবরটি প্রকাশ করে।Thames TV উপস্থাপক বিলকে সাময়িক বরখাস্থ করে। তাকে পরে আবার নিয়োগ দেওয়া হলেও,এই ইন্টারভিউটিই তার ক্যারিয়ার শেষ করে দিয়েছিল।পিস্টলসের নাম এ ঘটনার মধ্যে দিয়েই মানুষের মুখে মুখে ছরিয়ে পড়ে।

সিড ভিশাসের যোগদান[সম্পাদনা]

সিড ভিশাস

১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ম্যাটলক পিস্টলস ত্যাগ করেন।ম্যাক্লারেন ও রটেন বের করে দেবার কারণ হিসেবে বলেন বিটলসের প্রতি ম্যাটলকের অনুরাগের কথা।ম্যাটলক যদিও পরে দাবি করেন পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই তিনি বেরিয়ে এসেছেন। ম্যাটলকের জায়গা নেন রটেনের স্কুলজীবনের বন্ধু ও পিস্টলসের পাঁড় ভক্ত জন সাইমন রিচি।তিনি রটেনের দেয়া নাম সিড ভিশাস নামেই অধিক পরিচিত।

প্যারাডিসোতে সেক্স পিস্টলস: জনি রটেন এবং স্টিভ জোন্স

"গড সেভ দ্যা কুইন"[সম্পাদনা]

১৯৭৭ সালের ১০ই মার্চ বাকিংহাম প্রাসাদের সামনে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে পিস্টলস চুক্তি সাক্ষর করে A&M রেকর্ডসের সাথে।বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার দরুন এ চুক্তি কয়েকমাসের বেশি টিকেনি।চুক্তি বাতিল হয়ে গেলে পিস্টলস শরনাপন্ন হয় Virgin Records এর। ৬ মাসের মধ্যে এটি ছিল তাদের তৃতীয় চুক্তি। ভার্জিন রেকর্ডস পিস্টলসের নতুন সিঙ্গেল ‘গড সেভ দ্যা কুইন’ (God Save the Queen) রিলিজ করার উদ্যোগ নেয়। সবকিছু প্রস্তুত থাকলেও গানের বিষয় বস্তু দেখে প্রিন্টিং প্রেসের কর্মচারীরা কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায়।অনেক দোকান গানটির কপি স্টক করতে আপত্তি জানায়। অনেক আলোচনার মাধ্যমে এসব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে গানটি মুক্তি পায় ২৭শে মে। গানের কথায় দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে BBC সহ ব্রিটেনের প্রায় প্রতিটি রেডিও স্টেশন গানটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।তারপরেও প্রকাশের পর গানটির ১৫০,০০০ কপি বিক্রি হয়ে যায়।সে সপ্তাহে টপ চার্টে গানটি ছিল ২ নাম্বারে। রটেনের মতে ইচ্ছাকৃত ভাবেই গানটিকে প্রথম স্থানে রাখা হয়নি। সে সময় ইংল্যান্ডে পাঙ্ক ভক্তদের উপর নানা নৃশংস হামলা শুরু হয়। রটেনের উপরেও একাধিকবার আক্রমন আসে।যার মাঝে একবার ছুরিকাঘাতে তার বাম হাতের পেশী কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

Never Mind the Bollocks[সম্পাদনা]

’৭৭ সালের বসন্তে পিস্টলস প্রথম এ্যালবামের কাজ শুরু করে। এ্যালবামটির প্রাথমিক নাম ছিল God Save the Queen.পরে পরিবর্তন করে তা Never Mind the Bollocks,Here’s the Sex Pistols রাখা হয়। এ্যালবামটি মুক্তি পায় ২৮শে অক্টোবর।কিছু উল্লেখযোগ্য গান হল ‘Anarchy in UK’, ’God Save the Queen’, ’Pretty Vacant’, ’Holiday in the Sun’ ইত্যাদি।

১৯৭৭ সালে সেক্স পিস্টলস (বাম থেকে ডানেঃ সিড, জোন্স ও রটেন)

যুক্তরাষ্ট্র ট্যুর[সম্পাদনা]

১৯৭৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ট্যুর করতে যায় পিস্টলস।প্রায় প্রতি শোতেই ছিল অব্যাবস্থাপনা,হাতাহাতি-মারামারি ও দর্শকদের উন্মত্ত আচরন।ম্যাক্লারেন ইচ্ছাকৃতভাবেই এরকম হলগুলো বেছে নিয়েছিলেন।এ ট্যুরে সবকিছুই প্রায় ব্যান্ডের প্রতিকুলে যাচ্ছিল। সিডের হিরোইন আসক্তি,রটেনের অসুস্থতা,শো শেষ না করেই চলে যাওয়া, সদস্যদের ভেতরে কোন্দল ইত্যাদি কারণে ব্যান্ডটি ভেঙ্গে যায়।১৭ই জানুয়ারি রটেন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

পিস্টলস ত্যাগের পর রটেন প্রাক্তন ক্ল্যাশ (The Clash) সদস্য Keith Levene এবং বন্ধু Jah Wobble এর সাথে গড়ে তোলেন Public Image Ltd. এ ব্যান্ডটি পাঙ্ক রক ধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও বাণিজ্যিক ভাবে তেমন সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

এদিকে সিড নিউইয়র্কে একক শিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেন।এ সময় তার ম্যানেজার ও প্রেমিকা ছিলেন Nancy Spungen। ’৭৮ এর দোসরা অক্টোবর সিডের লাইভ এ্যালবাম Sid SIngs মুক্তি পায়। ১২ই অক্টোবর নিউইয়র্কে হোটেল চেলসির একটি হোটেল থেকে ন্যান্সিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় যেখানে তিনি সিডের সাথে উঠেছিলেন।তার পরনে ছিল অন্তর্বাস এবং পেটে ছিল ছুরিকাঘাত।হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করে পুলিশ সিডকে গ্রেপ্তার করে। জামিনে বেরিয়ে এসে প্যাটি স্মিথের ভাই টম স্মিথকে আক্রমন করার জন্য সিড আবার গ্রেপ্তার হন।তাকে Rickers Island জেলে পাঠানো হয়।সিড সেখানে ৫৫ দিন ছিলেন। ’৭৯ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারিতে সিডের মুক্তি উদযাপনের একটি পার্টিতে হিরোইন ওভারডোজে সিড মাত্র ২১ বছর বয়সে মারা যায়।

কুক ও জোন্স ১৯৮০ সালে ফর্ম করেন The Professionals যা দুই বছরের মধ্যেই ভেঙ্গে যায়।জোন্স এরপর থেকে বিভিন্ন ব্যান্ডের সাথে কাজ করেছেন।কুক বর্তমানে Man Raze ব্যান্ডের সাথে যুক্ত। ম্যাটলক পিস্টলস ছেড়ে বেরিয়ে Rich Kids এ যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালে সেটিও ভেঙ্গে গেলে বিভিন্ন ব্যান্ডের সাথে কাজ করে বর্তমানে তিনি Slinky Vagabond এর সাথে জড়িত আছেন।

রিইউনিয়ন[সম্পাদনা]

পিস্টলসের মূল চার সদস্য ১৯৯৬ সালে Filthy Lucre ট্যুরের জন্য একত্রিত হন।এ ট্যুরে তারা ইউরোপ,জাপান,উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা,সাউথ আফ্রিকা,নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় শো করেন। এরপর নানা সময় তারা আবার বিভিন্নু টুরের জন্য একত্রিত হয়েছেন।২০১২ সালে Never Mind The Bollocks রি-রিলিজ করার জন্য Universal Music Group এর সাথে তারা চুক্তিবদ্ধ হন।

লিগ্যাসি[সম্পাদনা]

সেক্স পিস্টলস একদম প্রথম পাঙ্ক রক ব্যান্ড না হলেও,পাঙ্ক মুভমেন্টকে দারুনভাবে প্রভাবিত করে তারা।Never Mind The Bollocks এ্যালবামটির মুক্তি জনপ্রিয় সঙ্গীত ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচন করা হয়। Q Magazine এর ইতিহাসের সেরা ১০০টি এ্যালবামের তালিকায় পিস্টলসের একমাত্র এ্যালবামটি ২৮তম স্থান দখল করে। Rolling Stones ম্যাগাজিনের সমালোচকেরা এ্যালবামটিকে অন্যতম সেরা ইনফ্লুয়েনশিয়াল এ্যালবাম হিসেবে ঘোষণা দেয়।মাত্র আড়াই বছরের যাত্রায় পিস্টলস The Class,Siouxie and the Banshees,The Advert এর মত অনেক পাঙ্ক ব্যান্ডকে অনুপ্রাণিত করেছে।

The Who ব্যান্ডের গিটারিস্ট Pete Townshend বলেন,

"When you listen to the Sex Pistols, to Anarchy in the UK and Bodies and tracks like that, what immediately strikes you is that this is actually happening. This is a bloke, with a brain on his shoulders, who is actually saying something he sincerely believes is happening in the world, saying it with real venom, and real passion. It touches you and it scares you; it makes you feel uncomfortable. It's like somebody saying "The Germans are coming! And there's no way we're gonna stop 'em!"[৫]

১৯৭৬ সালের চৌঠা জুন ম্যানচেস্টারের Lesser Free Trade হলে করা পিস্টলসের গিগটি পাঙ্ক সঙ্গীতকে বদলে দেয়া একটি ঘটনা।সেখানে উপস্থিত ৪০ জন দর্শকের মধ্যে থেকেই পরবর্তীতে পাঙ্ক ও পোস্ট পাঙ্ক ধারার অনেক মিউজিসিয়ান উঠে এসেছিলেন।সেখানে উপস্থিত ছিলেন Bernerd Sumner,Ian Curtis ও Peter Hook, যারা পড়ে গড়ে তোলেন Joy Division;Mark E.Smith(The Fall); Morrissey (The Smiths)এবং আরো অনেকে। অসংখ্য সঙ্গীতজ্ঞ ও ব্যান্ড পিস্টলসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন,যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল Motoread,NOFX,Megadeth,Nirvana,Circus Jerks,Bad Religion,Green Day এবং Oasis। Social Distortion এর Mike Ness একটি ডকুমেন্টারিতে বলেছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে সিড ভিশাস ছিল তার আদর্শ।London College of Music এর একটি স্টাডিতে দেখানো হয়েছে বর্তমান জনপ্রিয় অনেক ধারার যেমন Grunge,Indie,Thrash Metal এমনকি Rap সঙ্গীতেরো ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে দিয়ে গেছে পাঙ্ক রক ব্যান্ডগুলো যাদের মধ্যে সবচাইতে প্রমিনেন্ট ছিল সেক্স পিস্টলস। Jamie Reid এর করা সেক্স পিস্টলস কভারগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রাফিক ডিজাইন হিসেবে গণ্য করা হয়। ২১ বছর বয়স হবার আগেই সিড ভিশাস হয়ে উঠেছিলেন টিশার্ট আইকন। The Dark Knight খ্যাত পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান বলেছিলেন যে The Joker (অভিনেতা Heath Ledger) চরিত্রটির ক্যারেক্টারাইজেশন তিনি সিডের কথা মাথায় রেখেই করেছিলেন।লেজারের সহভিনেতা Christian Bale দাবি করেন যে জোকার চরিত্রটি ভালভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য লেজার সিডের পুরনো টেপ দেখে নিতেন।

সদস্যবৃন্দ[সম্পাদনা]

  • জনি রটেন – লিড ভোকালস (১৯৭৫-৭৮, ১৯৯৬-২০০৮)
  • স্টিভ জোন্স – গিটার, ব্যাকিং ভোকালস(১৯৭৫-৭৯,১৯৯৬-২০০৮)
  • গ্লেন ম্যাটলক – বেজ গিটার, ব্যাকিং ভোকালস (১৯৭৫–৭৭, ১৯৯৬-২০০৮)
  • সিড ভিশাস – বেজ গিটার, ব্যাকিং ভোকালস (১৯৭৭–৭৮), ভোকালস(১৯৭৮; মৃত্যু ১৯৭৯)
  • পল কুক – ড্রামস (১৯৭৫–৭৯, ১৯৯৬-২০০৮)

টীকা[সম্পাদনা]

  1. "Sex Pistols"। Rock and Roll Hall of Fame। সংগৃহীত ১৯ মে ২০১০ 
  2. Sheldon, Camilla; Skinner, Tony (২০০৬)। Popular Music Theory: Grade 4। Registry Publications Ltd। পৃ: 29–30। সংগৃহীত ২৮ মে ২০১০ 
  3. O'Hagan, Sean (২ মে ২০০৪)। "Fifty Years of Pop"The Observer (London)। সংগৃহীত ২০ মার্চ ২০০৯ 
  4. Sprague, David (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৬)। "Sex Pistols Flip Off Hall of Fame"Rolling Stoneআসল থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৮-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ 
  5. Marcus, Greil, Lipstick Traces, 1989, Harvard University Press, pg. 1

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • Albiez, Sean, "Print the Truth, Not the Legend. The Sex Pistols: Lesser Free Trade Hall, Manchester, 4 June 1976", in Performance and Popular Music: History, Place and Time, ed. Ian Inglis, pp. 92–106. Ashgate, 2006. ISBN 0-7546-4057-4
  • Bolton, Andrew, Punk: Chaos to Couture, 2013.
  • Campbell, Sean, "Sounding Out the Margins: Ethnicity and Popular Music in British Cultural Studies", in Across the Margins: Cultural Identity and Change in the Atlantic Archipelago, ed. Glenda Norquay and Gerry Smyth, pp. 117–136. Manchester University Press, 2002. ISBN 0-7190-5749-3
  • Creswell, Toby, 1001 Songs: The Great Songs of All Time and the Artists, Stories and Secrets Behind Them, Thunder's Mouth Press, 2006. ISBN 1-56025-915-9
  • Douglas, Mark, "Fashions, Youth", in Encyclopedia of Contemporary British Culture, ed. Peter Childs and Mike Storry, pp. 187–189. Taylor & Francis, 1999. ISBN 0-415-14726-3
  • Evans, Mike, Rock 'n' Roll's Strangest Moments: Extraordinary Tales from Over Fifty Years of Rock Music History, Robson, 2006. ISBN 1-86105-923-X
  • Gimarc, George, Punk Diary: The Ultimate Trainspotter's Guide to Underground Rock, 1970–1982, Backbeat, 2005. ISBN 0-87930-848-6
  • Green, Alex. The Stone Roses, Continuum, 2006. ISBN 0-8264-1742-6
  • Harris, John. Britpop!: Cool Britannia and the Spectacular Demise of English Rock, Da Capo, 2004. ISBN 0-306-81367-X
  • Hatch, David, and Stephen Millward, From Blues to Rock: An Analytical History of Pop Music, Manchester University Press, 1989. ISBN 0-7190-2349-1
  • Henry, Tricia, Break All Rules!: Punk Rock and the Making of a Style, University of Michigan Press, 1989. ISBN 0-8357-1980-4
  • Howard, David N., Sonic Alchemy: Visionary Music Producers and Their Maverick Recordings, Hal Leonard, 2004. ISBN 0-634-05560-7
  • Lydon, John, with Keith and Kent Zimmerman, Rotten: No Irish, No Blacks, No Dogs, Farrar, Straus, and Giroux, 2008 [1994]. ISBN 0-312-42813-8
  • Matlock, Glen, with Pete Silverton, I Was A Teenage Sex Pistol, Omnibus Press, 1990. ISBN 0-7119-1817-1
  • Marsh, Dave, "The Sex Pistols", in The New Rolling Stone Record Guide, ed. Dave Marsh and John Swenson, p. 456. Random House/Rolling Stone Press, 1983. ISBN 0-394-72107-1
  • McNeil, Legs, and Gillian McCain (ed.), Please Kill Me: The Uncensored Oral History of Punk, Grove Press, 1996. ISBN 0-349-10880-3
  • Molon, Dominic, "Made with the Highest British Attention to the Wrong Detail: The UK", in Sympathy for the Devil: Art and Rock and Roll Since 1967, ed. Dominic Molon, pp. 72–79. Yale University Press, 2007. ISBN 0-300-13426-6
  • Monk, Noel, and Jimmy Guterman, 12 Days on the Road: The Sex Pistols and America, Harper Paperbacks, 1992. ISBN 0-688-11274-9
  • Mulholland, Neil, The Cultural Devolution: Art in Britain in the Late Twentieth Century, Ashgate, 2003. ISBN 0-7546-0392-X
  • Pardo, Alona, "Jamie Reid", in Communicate: Independent British Graphic Design Since the Sixties, ed. Rick Poyner, p. 245. Yale University Press, 2004. ISBN 0-300-10684-X
  • Paytress, Mark, Siouxsie & the Banshees: The Authorised Biography, Sanctuary, 2003. ISBN 1-86074-375-7
  • Raimes, Jonathan, Lakshmi Bhaskaran, and Ben Renow-Clarke, Retro Graphics: A Visual Sourcebook to 100 Years of Graphic Design, Chronicle Books, 2007. ISBN 0-8118-5508-2
  • Reynolds, Simon, Rip It Up and Start Again: Post Punk 1978–1984, Faber and Faber, 2006. ISBN 0-571-21570-X
  • Reynolds, Simon, "Ono, Eno, Arto: Nonmusicians and the Emergence of Concept Rock", in Sympathy for the Devil: Art and Rock and Roll Since 1967, ed. Dominic Molon, pp. 80–91. Yale University Press, 2007. ISBN 0-300-13426-6
  • Robb, John, Punk Rock: An Oral History, Ebury Press, 2006. ISBN 0-09-190511-7
  • Robbins, Ira, "Sex Pistols", in The Trouser Press Record Guide, 4th ed., ed. Ira Robbins, pp. 585–586, Collier, 1991. ISBN 0-02-036361-3
  • Salewicz, Chris, Interview with Julien Temple by Chris Salewicz (The Great Rock 'n' Roll Swindle DVD bonus feature), Shout! Factory, 2001. ISBN 0-7389-3199-3
  • Savage, Jon, England's Dreaming: Anarchy, Sex Pistols, Punk Rock and Beyond, St. Martin's Press, 1992. ISBN 0-312-08774-8
  • Sheldon, Camilla, and Tony Skinner, Popular Music Theory—Grade: 4, Registry, 2006. ISBN 1-898466-44-0
  • Southall, Brian, The Sex Pistols: 90 Days At EMI, Omnibus Press, 2007. ISBN 978-1-84609-779-9
  • Strongman, Phil, Pretty Vacant: A History of UK Punk, Chicago Review Press, 2008. ISBN 1-55652-752-7
  • Taylor, Steven, False Prophet: Fieldnotes from the Punk Underground, Wesleyan University Press, 2004. ISBN 0-8195-6668-3
  • Temple, Julian, The Great Rock 'n' Roll Swindle (DVD), Shout! Factory, 1980 (2001). ISBN 0-7389-3199-3
  • Temple, Julian, with Chris Salewicz, "Commentary on The Great Rock 'n' Roll Swindle" (The Great Rock 'n' Roll Swindle DVD bonus feature), Shout! Factory, 2001. ISBN 0-7389-3199-3
  • Thompson, Dave, Alternative Rock, Hal Leonard, 2000. ISBN 0-87930-607-6
  • Vermorel, Fred, and Judy Vermorel, Sex Pistols: The Inside Story, Omnibus Press, 1987 [1978]. ISBN 0-7119-1090-1
  • Wall, Mick, W.A.R.: The Unauthorized Biography of William Axl Rose, Macmillan, 2008. ISBN 0-312-37767-3
  • Warwick, Neil, Jon Kutner, and Tony Brown, The Complete Book of the British Charts: Singles & Albums, 3d ed., Omnibus Press, 2004. ISBN 1-84449-058-0

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:সেক্স পিস্টলস টেমপ্লেট:২০০৬ রক অ্যান্ড রোল হল অব ফ্রেম