সেই রেললাইনের ধারে মেঠোপথটার পারে দাঁড়িয়ে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
"সেই রেললাইনের ধারে মেঠোপথটার পারে দাঁড়িয়ে"
সব ক’টা জানালা খুলে দাও না অ্যালবাম থেকে
সাবিনা ইয়াসমিন কর্তৃক সঙ্গীত
ভাষাবাংলা
মুক্তিপ্রাপ্ত১৯৮৫
বিন্যাসকম্প্যাক্ট ডিস্ক, অনলাইন স্ট্রিমিং
রেকর্ডকৃত১৯৮৫
স্টুডিওইপসা রেকর্ডিং স্টুডিও
স্থানকাকরাইল, ঢাকা, বাংলাদেশ
ধারাদেশাত্মবোধক সঙ্গীত
লেবেলসাউন্ডটেক (২০১৬-বর্তমান)
গান লেখকমোহাম্মদ রফিকুজ্জামান
সঙ্গীত রচয়িতাআহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল
প্রযোজকআহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল

'সেই রেললাইনের ধারে মেঠোপথটার পারে দাঁড়িয়ে' ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত[১] বাংলা ভাষায় রচিত একটি দেশাত্মবোধক সঙ্গীত। বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতকৃত এই সঙ্গীত বা গানের গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান[২][৩]আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায়[৪] এই গানে কন্ঠে দেন সাবিনা ইয়াসমিন[১][৫] ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যাওয়া সন্তানের জন্য প্রতীক্ষারত এক মায়ের আকুতি এই গানের মূল উপজীব্য।[৩]

পটভূমি[সম্পাদনা]

গীতিকার রফিকুজ্জামানের ছোট ভাই আসাদ(আসাদুজ্জামান) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যাওয়ার আগে তার মাকে বলে গিয়েছিলেন। আসাদ যুদ্ধে শহীদ হন কিন্তু তার মা এটা জানতেন না। যশোরের খড়কিতে গীতিকার রফিকুজ্জামানের বাড়ীর পাশে রেললাইন রয়েছে।[২] সেই রেললাইনের পাশে মেঠোপথ ধরে আসাদ যুদ্ধে চলে গিয়েছিলেন। রফিকুজ্জামানের মা প্রায়শই এই কথা বলে আসাদের স্মৃতিচারণ করতেন।[৬] মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান তার বাস্তব জীবনের প্রেক্ষাপটে এই গীতি রচনা করেন। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে নিয়ে তিনি এইগানের গীতি রচনা করেছিলেন। প্রথমবার এইগানের প্রেক্ষাপট শুনে সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আবেগতাড়িত হয়ে পরেছিলেন।[৬][৭]

সঙ্গীত ধারণ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিজস্ব শব্দ ও সঙ্গীত ধারণের স্টুডিও থাকলেও সাবিনা ইয়াসমিন ও আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল যৌথ প্রয়াসে সৃষ্ঠ দেশাত্মবোধক গান গুলি কাকরাইলের ইপসা রেকর্ডিং স্টুডিওতে ধারণ করা হতো। 'সেই রেললাইনের ধারে মেঠোপথটার পারে দাঁড়িয়ে' গানটি ঐ স্টুডিওতে রেকর্ড করা গান গুলির মধ্যে অন্যতম।[৮]

প্রকাশ ও পুনঃউৎপাদন[সম্পাদনা]

১৯৮৫ সালে বাংলাদেশে টেলিভিশনের একটি বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠানে এই গানটি প্রথম প্রচার করা হয়।[১] সাবিনা ইয়াসমিন নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য গাওয়া দেশাত্মবোধক গান গুলি সংরক্ষণ ও পুনঃউৎপাদন করেন এবং সাউন্ডটেক-এর ব্যানারে ‘সব ক’টা জানালা খুলে দাও না’ শিরোনামীয় এ্যালবামে এই গান প্রকাশ করেন।[৫] ৩ মে, ২০১৬ তারিখে সাউন্ডটেক তাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এই অ্যালবামটি অবমুক্ত করে।[৯]

জনসংস্কৃতিতে প্রভাব[সম্পাদনা]

এই গানটি আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুর করা অন্যতম জনপ্রিয় গান।[৪] সাবিনা ইয়াসমিন এইগান অনেকবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশন করেছেন। সম্প্রচার টেলিভিশনের যুগে এই গানটি অনেক সঙ্গীতানুষ্ঠানে নিয়মিত পরিবেশন করা হয়েছে। নবীন শিল্পিরা এইগান নতুন করে বহুবার পরিবেশন করেছেন।[১০]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. "জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো"archive.prothom-alo.com। ২০১১-০৩-১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-১৫ 
  2. "খেলাপাগল এক বাড়ির গল্প"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-১৫ 
  3. "রফিকউজ্জামানের জন্মদিন উদ্‌যাপন | কালের কণ্ঠ"Kalerkantho। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-১৫ 
  4. "বুলবুলের জনপ্রিয় কিছু গান"মানবজমিন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-১৫ 
  5. "'সব ক'টা জানালার' সুর কাঁদিয়েছিল সাবিনাকে"bangla.bdnews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-১৫ 
  6. "'যে গান মানুষ মনে মনে গায় না, সেই গান চিরদিনের নয়'"Risingbd.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-১৫ 
  7. "বুলবুল নামের একবুক আবেগের কথা"www.bhorerkagoj.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-১৫ 
  8. "দেশাত্মবোধক গানের জুটি"Kalerkantho। ২০১৬-১২-১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-১৬ 
  9. "Sob Kota Janala Khule Daona - Sabina Yasmin Songs - Full Audio Album" 
  10. "Sei Rail liner Dhare | Nancy | Live Bangla Song|BanglaVision Entertainment" 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]