সুশীলা কার্কি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি | |
|---|---|
सुशीला कार्की | |
২০২১ সালে সুশীলা কার্কি | |
| নেপালের ৩৯তম প্রধানমন্ত্রী | |
দায়িত্বাধীন | |
| অধিকৃত কার্যালয় ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | |
| রাষ্ট্রপতি | রামচন্দ্র পৌডেল |
| পূর্বসূরী | কে. পি. ওলী (পদত্যাগ) |
| নেপালের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি [১] | |
| কাজের মেয়াদ ১১ জুলাই ২০১৬ – ৬ জুন ২০১৭ | |
| নিয়োগদাতা | বিদ্যা ভণ্ডারী (নেপালের রাষ্ট্রপতি) |
| পূর্বসূরী | কল্যাণ শ্রেষ্ঠ |
| উত্তরসূরী | গোপাল পরাজুলি |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ৭ জুন ১৯৫২[২] শঙ্করপুর, বিরাটনগর শহর, মোরাং জেলা, পূর্বাঞ্চল, নেপাল[৩][৪] |
| দাম্পত্য সঙ্গী | দুর্গা প্রসাদ সুবেদী |
| প্রাক্তন শিক্ষার্থী | ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় |
সুশীলা কার্কি (নেপালি: सुशीला कार्की; জন্ম ৭ জুন ১৯৫২) একজন নেপালি আইনবিদ যিনি ২০২৫ সালের নেপাল প্রতিবাদগুলোর পর নেপালের অন্তবর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন৷[৫][৬] তিনি নেপালের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং এই পদে অধিষ্ঠিত একমাত্র নারী। কার্কি ১১ জুলাই ২০১৬ তারিখে প্রধান বিচারপতি হন।
তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার শূন্য সহনশীলতার জন্য পরিচিত। ২০১৭ সালের ৩০ই এপ্রিল, মাওবাদী সেন্টার ও নেপালি কংগ্রেস কারকির বিরুদ্ধে সংসদে একটি অভিশংসন প্রস্তাব উন্থাপন করে।[৭] তবে, জনসাধারণের চাপ এবং সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পর সংসদকে প্রস্তাবটি এগিয়ে না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর অভিশংসন প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়।
২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নেপালের জেনারেশন জেড বিক্ষোভের ফলে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করার পর, কার্কিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দেওয়া হয়।
প্রাথমিক জীবন এবং শিক্ষা
[সম্পাদনা]কারকি তার পিতামাতার সাত সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে বড় সন্তান। তিনি একটি কৃষক পরিবার থেকে এসেছেন।[৮] তিনি দুর্গা প্রসাদ সুবেদীকে বিয়ে করেছিলেন, যার সাথে তিনি বেনারস-এ পড়াশোনা করেছিলেন। দুর্গা সুবেদী তখন নেপালি কংগ্রেসের জনপ্রিয় যুব নেতা ছিলেন।[৪] নেপালি কংগ্রেসের পঞ্চায়েত শাসনামলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় একটি বিমান ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার জন্য সুবেদি সবচেয়ে পরিচিত।
১৯৭২-এ, তিনি বিরাটনগর মহেন্দ্র মোরাং ক্যাম্পাস থেকে স্নাতক (বিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন।[৪] ১৯৭৫ সালে, কারকি বানারাস হিন্দু ইউনিভার্সিটি, ভারানসি, ভারত থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন।[৯] ১৯৭৮ সালে নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে তিনি ব্যাচেলর ডিগ্রি লাভ করেন।[৯]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]১৯৭৯ সালে তিনি বিরাটনগরে তার আইন অনুশীলন শুরু করেন। কারকি প্রথম দিকে ১৯৮৫ সালে ধারণ-এর মহেন্দ্র একাধিক ক্যাম্পাসে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। তিনি ২০০৭ সালে একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট হয়ে ওঠেন।[২] ২২ জানুয়ারি ২০০৯-এ তারিখে কারকিকে সুপ্রিম কোর্টের একটি অস্থায়ী বিচারপতি নিয়োগ করা হয় এবং ১৮ নভেম্বর, ২০১০-এ স্থায়ী বিচারপতি নিয়োগ করা হয়।[২][২] ১৩ই এপ্রিল ২০১৬ থেকে ১০ জুলাই ২০১৬ পর্যন্ত কারকি নেপালের সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।[৩]
উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত
[সম্পাদনা]- ওম ভক্ত রানা বনাম সিআইএএ / নেপাল সরকার (সুদান শান্তিরক্ষা মিশন দুর্নীতি)
- নেপাল ট্রাস্ট অফিস বনাম প্রেরানা রাজ্য লক্ষ্মী রানা (সাবেক রয়েল রাজকুমারীর সম্পত্তি)
- পৃথ্বী বাহাদুর পাণ্ডে বনাম কাঠমান্ডু জেলা আদালত (অস্ট্রেলিয়ার পলিমার ব্যাংক নোট মুদ্রণ দুর্নীতি)
- কাঠমান্ডু নিঝগড় দ্রুতগমী ট্র্যাক কেস
- সারোগেসি মামলা
অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী
[সম্পাদনা]২০২৫ সালের নেপাল জেন জি আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী কে. পি. শর্মা অলি পদত্যাগ করেন, যার ফলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবি ওঠে। অনলাইন চ্যাটিং প্ল্যাটফর্ম ডিসকর্ডে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী-মনোনীত হিসেবে নির্বাচিত করা হয়, ফলে নেপালের ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী যিনি এই পদে অধিষ্ঠিত হন। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে নেপালের সংবিধানের ৬১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।[১০]
ব্যক্তিগত জীবন
[সম্পাদনা]তিনি নেপালি কংগ্রেসের সদস্য এবং যুব শাখার নেতা দুর্গা প্রসাদ সুবেদীকে বিয়ে করেছিলেন ।[১১] বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তাদের দেখা হয়েছিল।
নেপালি ছাড়াও, কার্কি কিছু হিন্দি এবং ইংরেজি বলতে পারেন।[১২][১৩]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "First woman Chief Justice of Nepal, Sushilaa Karki, takes a path"। ১১ জুলাই ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৭।
- 1 2 3 4 "Sushila Karki recommended for Chief Justice"। ১০ এপ্রিল ২০১৬।
- 1 2 "Rt. Hon'ble Justice Mrs. Sushila Karki (Subedi)"। www.supremecourt.gov.np। ১৫ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৯।
- 1 2 3 "Sushila Karki"। ১০ মার্চ ২০১৬। ২০ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৯।
- ↑ "Nepal to get first woman PM as Sushila Karki set for oath as interim leader after Gen-Z revolt"। Hindustan Times (ইংরেজি ভাষায়)। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "सुशिला कार्की अन्तरिम सरकारको प्रधानमन्त्री नियुक्त"। Nepal Press (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "Archived copy"। ২ মে ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০১৭।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: শিরোনাম হিসাবে আর্কাইভকৃত অনুলিপি (লিঙ্ক) - ↑ "Nepal Gets First Woman Chief Justice, Sign Of Changing Attitudes"।
- 1 2 "Sushila Karki, Nepals's new Acting CJ"। ১৫ এপ্রিল ২০১৬ – www.thehindu.com এর মাধ্যমে।
- ↑ "Sushila Karki: অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর পদে হল শপথ গ্রহণ, অশান্ত নেপালের দায়িত্ব এখন সুশীলার কাঁধে | Sushila Karki Nepal | India Hood |" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "Nepal Gen-Z protesters want former chief justice Sushila Karki, 73, as interim PM"। Hindustan Times (ইংরেজি ভাষায়)। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "सुशीला कार्की कौन हैं, जिनके नेपाल के अंतरिम प्रधानमंत्री बनने की है चर्चा"। BBC News हिंदी (হিন্দি ভাষায়)। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "Rt. Hon'ble Justice Mrs. Sushila Karki (Subedi)"। www.supremecourt.gov.np। ১৫ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- ১৯৫২-এ জন্ম
- জীবিত ব্যক্তি
- নেপালি নারী রাজনীতিবিদ
- ২১শ শতাব্দীর নেপালি নারী রাজনীতিবিদ
- মোরঙ জেলার ব্যক্তি
- বিরাটনগরের ব্যক্তি
- নারী প্রধান বিচারপতি
- নেপালের প্রধান বিচারপতি
- ২১শ শতাব্দীর নেপালি রাজনীতিবিদ
- নারী আইনবিদ
- বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- নেপালের প্রধানমন্ত্রী
- এশিয়ার নারী প্রধানমন্ত্রী
- প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
- ২০শ শতাব্দীর নেপালি আইনজীবী
- ২১শ শতাব্দীর নারী প্রধানমন্ত্রী
- ২১শ শতাব্দীর নেপালের প্রধানমন্ত্রী