সুরেশচন্দ্র সমাজপতি
সুরেশচন্দ্র সমাজপতি | |
|---|---|
| জন্ম | ৩০ মার্চ ১৮৭০ কলকাতা বাংলা প্রদেশ(বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ), ভারত |
| মৃত্যু | ১ জানুয়ারি ১৯২১ (বয়স ৫০) |
| পেশা | সাহিত্য সমালোচক ও সম্পাদক |
| জাতীয়তা | ভারতীয় |
| নাগরিকত্ব | ভারত |
| সময়কাল | ১৮৮৬ -১৯২১ |
| দাম্পত্যসঙ্গী | নলিনীদেবী |
সুরেশচন্দ্র সমাজপতি(ইংরেজি: Sureshchandra Samajpati) (৩০ মার্চ, ১৮৭০, ১৮ চৈত্র,১২৭৬ বঙ্গাব্দ - ১ জানুয়ারি, ১৯২১) ছিলেন ভারতীয় বাঙালি লেখক, সাহিত্য সমালোচক ও সম্পাদক। [১]
জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন
[সম্পাদনা]সুরেশচন্দ্র সমাজপতির জন্ম ব্রিটিশ ভারতের অধুনা পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। পিতা গোপালচন্দ্র ঘোষাল সমাজপতি এবং মাতা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জ্যেষ্ঠা কন্যা হেমলতা। সুরেশচন্দ্রের পৈতৃক নিবাস নদীয়া জেলার আঁশমালি গ্রামে। অল্প বয়সে পিতৃবিয়োগ হলে তিনি ও তার ভাই যতীশ মাতামহের গৃহে প্রতিপালিত হন। শৈশবে মাতামহের কাছে গৃহে কাব্য, ছন্দ, অলঙ্কার ইত্যাদির সাথে বাংলা ও সংস্কৃতের শিক্ষা নেন।
সাহিত্যচর্চা ও কর্মজীবন
[সম্পাদনা]সুরেশচন্দ্র পনেরো-ষোল বছর বয়সেই সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। প্রধানত সাহিত্য সমালোচক ও সম্পাদকরূপে পরিচিতি লাভ করেন। 'সাহিত্য কল্পদ্রুম' মাসিক পত্রিকার সপ্তম সংখ্যা (মাঘ ১২৯৬ বঙ্গাব্দ) থেকে তিনি সম্পাদনা শুরু করেন। এই পত্রিকা এপ্রিল, ১৮৯০ (১২৯৭ বঙ্গাব্দ) হতে " সাহিত্য" নামে প্রকাশিত হয় [২] এবং এর সম্পাদক হিসাবে সাহিত্যজগতে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। এই পত্রিকাকে আশ্রয় করে একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। তদানীন্তন লব্ধপ্রতিষ্ঠ প্রায় সকলের রচনাই পত্রিকায় স্থান পেত। সেজন্য সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সত্যই সাহিত্যজগতের সমাজপতি ছিলেন। তার দ্বারা সমালোচনা-সাহিত্য বহুল পরিমানে পুষ্ট হয়ছে। তিনি সাহিত্যিক সৃষ্টির কাজে যথেষ্ট প্রতিভার পরিচয় দিয়ে গেছেন। এই কারণে তিনি শুধু একজন সাহিত্যিক গণ্য না হয়ে যুগ-হিসাবে গণ্য হয়ে থাকেন। প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যসেবী হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ তার কাছে সাংবাদিকতার পাঠ নেন এবং দীর্ঘদিন দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক বসুমতীর সম্পাদক ছিলেন। সুরেশচন্দ্র 'সাহিত্য' মাসিক পত্রিকা ছাড়াও আরো অনেক পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। সেগুলি হল-
- বসুমতী
- সন্ধ্যা
- নায়ক
- বাঙালি
সুরেশচন্দ্র দীর্ঘদিন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের অন্যতম পরিচালক ছিলেন। স্বদেশী আন্দোলনের সময় বাগ্মী হিসাবেও তার যথেষ্ট খ্যাতি ছিল। তিনি তার বাংলা ভাষণে কখনো ইংরাজী শব্দ ব্যবহার করতেন না। তার রচিত গ্রন্থগুলি হল-
- কল্কিপুরাণ (১৮৮৬)
- সাজি (১৯০০)
- রণভেরী (১৯১৫)
- ইউরোপের মহাসমর (১৯১৫)
- ছিন্নহস্ত (১৯১৫)
"রণভেরী" হল আর্থার কোনান ডয়েলের To Arms এর এবং " ইউরোপের মহাসমর" ডবলিউ এল কোটনী ও জে এম কেনেডি প্রণীত How the War Began এর বাংলা অনুবাদ। সম্পাদিত গ্রন্থগুলি হল -
- আগমনী (১৯১৯)
- কবিতাপাঠ (১৯২১)
- বঙ্কিমপ্রসঙ্গ (১৯২১)
"বঙ্কিমপ্রসঙ্গ" ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে সুরেশচন্দ্রের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
এছাড়া তার রচনা বিভিন্ন মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
জীবনাবসান
[সম্পাদনা]সুরেশচন্দ্র সমাজপতি ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের পয়লা জানুয়ারি প্রয়াত হন।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট,২০১৬, পৃষ্ঠা ৮২০, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
- ↑ শিশিরকুমার দাশ (২০১৯)। সাহিত্য সংসদ, কলকাতা। পৃ. ২৩৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-০০৭-৯।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য);| শিরোনাম=এর 12 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য);|আইএসবিন=মান: চেকসাম পরীক্ষা করুন (সাহায্য);|লেখক=এর 15 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য); অজানা প্যারামিটার| শিরোনাম=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)