সুদেষ্ণা সিনহা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সুদেষ্ণা সিনহা
বাসস্থানভারত
জাতীয়তাভারতীয়
কর্মক্ষেত্রঅরৈখিক পদার্থ বিজ্ঞান
প্রতিষ্ঠানগাণিতিক বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান, চেন্নাই
প্রাক্তন ছাত্রআইআইটি কানপুর, টাটা মৌলিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান
পরিচিতির কারণ"বিশৃঙ্খলাভিত্তিক হার্ডওয়ার এবং গণনা"
উল্লেখযোগ্য
পুরস্কার
বিশ্ব বিজ্ঞান একাডেমীর সভ্য, বি এম বিরলা পুরস্কার,তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক কেন্দ্রর সহযোগী সদস্য
স্ত্রী/স্বামীকপিল হরি পারানজাপে
সন্তান(গণ)শ্রুতি পারানজাপে

সুদেষ্ণা সিনহা' হচ্ছেন মোহালীস্থিত ভারতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একজন অধ্যাপক। এক দশকেরও অধিক কাল তিনি চেন্নাইতে থাকা গাণিতিক বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছিলেন। "অরৈখিক পদার্থ বিজ্ঞান"র ক্ষেত্রটির সঙ্গে তিনি জড়িত। তিনি "বিশৃঙ্খলাভিত্তিক হার্ডওয়ার" সম্পর্কে করা গবেষণা-কার্যকে ব্যবসায়িক দিকে বিকাশ সাধন করেছেন আমেরিকান কোম্পানী কাউলোজিক্স। [১] উল্লেখযোগ্য যে, "কাউস কম্পুটিং" পদ্ধতির জন্ম এবং বিকাশলাভে অগ্রণী বিজ্ঞানীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তিনি বি এম বিরলা পুরস্কার, সাধারণ কুশলতা পুরস্কারকে ধরে বিশ্ব বিজ্ঞান একাডেমী এবং অন্য অনেক বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের সভ্য। [২]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

তাঁর জন্ম এবং প্রতিপালন হয় পশ্চিমবঙ্গে৷ এই অঞ্চলে থাকা লরেটো কনভেন্ট স্কুল থেকে তিনি প্রারম্ভিক শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন-"...আমার বাবা-মা উদারনৈতিক চিন্তাধারায় বিশ্বাস রেখেছিলেন এবং আমার বিজ্ঞান শিক্ষা গ্রহণ করতে তাঁরা কোনো অসুবিধা প্রকাশ করেননি৷ আমি নিজেকে সৌভাগ্যবতী বলে ভাবি, কারণ আমি আইআইটি কানপুরে পড়তে যাওয়ার সময় ষাটজনের শ্রেণীটিতে পাঁচজন মহিলা শিক্ষার্থী ছিল। সেইসময়ে বিজ্ঞান শাখায় পড়তে আসা ছাত্রীর সংখ্যা তেমন বেশি ছিল না।" [৩] ১৯৮৫ সালে কানপুরে থাকা ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা প্রতিষ্ঠান থেকে সুদেষ্ণাই বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী (পদার্থ বিজ্ঞানের পাঁচবছরের সমন্বিত প্রগ্রাম) অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে, ১৯৯০ সালে তিনি মুম্বাইতে থাকা টাটা মৌলিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন।[৪]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

সুদেষ্ণা বৈবাহিক জীবন আরম্ভ করেন কপিল হরি পারানজাপের সঙ্গে। কপিল হরি মোহালিতে থাকা "ভারতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান"র গণিত বিভাগের অধ্যাপক। [৫]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

জুন-১৯৯৪ সাল থেকে আগস্ট-১৯৯৬ পর্যন্ত তিনি ব্যাঙ্গালোরস্থিত ভারতীয় জ্যোতি-পদার্থবৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানে একজন "রিডার" হিসেবে কাজ করেন। তারপরে তিনি চেন্নাইস্থিত গাণিতিক বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে ২০১১ সাল পর্যন্ত জড়িত হয়ে থাকেন। [২] বর্তমানে সুদেষ্ণা সিনহা মোহালীতে থাকা ভারতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করছেন। তিনি অরৈখিক পদার্থ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কর্মরত। [৬] তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রটি অরৈখিক গতিবিদ্যা, বিশৃঙ্খলতা, জটিল প্রণালী, আন্তঃজাল এবং গণনাকে সঙ্গে নেয়। [৭] তিনি "AIP journal Chaos: An Interdisciplinary Journal of Nonlinear Scienceটির সম্পাদনার সঙ্গেও জড়িত৷ [৮].

কায়োটিক কম্পুটিঙের ধারণাটির সঙ্গে তিনি পরিচিত হয়েছিলেন ১৯৯৭ সালে, ব্যাঙ্গালোরের একটি সম্মিলনে। সেই সম্মিলনে তিনি ফ্লরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানী উইলিয়াম দিট্টোকে সাথে পান। উইলিয়াম দিট্টো সুদেষ্ণাকে এই প্রণালীটির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। সুদেষ্ণা সিনহা একটি করে ৫০টিরও অধিক বক্তৃতা প্রতিষ্ঠান, কর্মশালা অথবা সম্মিলনী উদ্বোধন করেছেন। [৯]

তাঁকে জার্মানী গণিতজ্ঞ এমি নিয়োথার এবং অষ্ট্রিয়ান-সুইডিস পদার্থ বিজ্ঞানী লাইস মেইটনারের জীবন এবং গবেষণা অনুপ্রাণিত করেছেন। [৩]

প্রকাশন[সম্পাদনা]

  • সুদেষ্ণা সিনহা, "Noisy Uncoupled Chaotic Map Ensembles Violate the Law of Large Numbers" Physical Review Letters, vol. ৬৯ (১৯৯২) 3306-3309
  • ডি. বিশ্বাস এবং সুদেষ্ণা সিনহা, "Classical Resonances and an Arbitrary Trajectory Quantization Scheme for a Chaotic System" Physical Review Letters, vol. ৭১ (১৯৯৪) ৩৭৯০-৩৭৯৩
  • সুদেষ্ণা সিনহা এবং ডি. বিশ্বাস, "Adaptive Dynamics on a Chaotic Lattice" Physical Review Letters, vol. ৭১ (১৯৯৩) ২০১০-২০১৩
  • সুদেষ্ণা সিনহা এবং ডব্লিউ. এল. দিট্টো, "Dynamics Based Computation" Physical Review Letters ,vol. ৮১ (১৯৯৮) ২১৫৬-২১৫৯
  • কে.মুরুলী, সুদেষ্ণা সিনহা, ডব্লিউ. এল. দিট্টো, এ.আর. বালসরা, "Reliable Logic Circuit Elements that Exploit Nonlinearity in the Presence of a Noise-Floor" Physical Review Letters, vol. ১০২ (২০০৯) ১০৪১০১.[১০]

পুরস্কার[সম্পাদনা]

  • ২০১৮ সালে তিনি বিশ্ব বিজ্ঞান একাডেমীর সভ্য হিসেবে নির্বাচিত।[১১]
  • ২০১৫ সালে জে.চি. বসু জাতীয় ফেলোশিপর জন্য নির্বাচিত। [১২]
  • ২০১৪ সালে দিল্লীস্থ ভারতীয় জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমীর সভ্য। [১৩]
  • ২০১০ সালে ব্যাঙ্গালোরে, ভারতীয় বিজ্ঞান একাডেমীর সভ্য। [১৪]
  • ১৯৯৮ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে অগ্রণী অবদানের জন্য বি.এম. বিরলা পুরস্কার লাভ। চল্লিশ বর্ষের অনূর্ধ্ব ভারতীয় বিজ্ঞানীদের এই পুরস্কারটি দেওয়া হয়, যারা তাঁদের ক্ষেত্রটিতে অনবদ্য মৌলিক অবদান রাখেন। [১৫]
  • ১৯৯৫-২০০০ সালে ইটালির ট্রিষ্টিতে থাকা তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের সহযোগী সদস্য।
  • ১৯৮৫ সালে ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা প্রতিষ্ঠান, কানপুর থেকে "সাধারণ কুশলতা পুরস্কার" লাভ। এই পুরস্কারটি পাঁচবছরের পদার্থ বিজ্ঞানের সমন্বিত প্রোগ্রামে শ্রেষ্ঠ বিদায়ী শিক্ষার্থীকে প্রদান করা হয়।
  • ১৯৭৮-৮৫ সালে জাতীয় প্রতিভা সন্ধানী বৃত্তি লাভ। [১৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "IAS - Women in Science"। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০১৪ 
  2. "sudeshna sinha"। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  3. "Sudeshna Sinha is the woman who brought order in computing from chaos"। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  4. "Curriculum Vitae" 
  5. https://www.imsc.res.in/~kapil/pers.html
  6. "Faculty listing" 
  7. "Publications" 
  8. "Chaos" 
  9. https://www.hindustantimes.com/punjab/sudeshna-sinha-is-the-woman-who-brought-order-in-computing-from-chaos/story-Xx8U7FULwAo7w1tKqEXmzK.html
  10. https://www.iisermohali.ac.in/awards-recognitions/dps/dr-sudeshna-sinha
  11. "Fellowship of The World Academy of Sciences (TWAS)" 
  12. "J C Bose National Fellowship" (PDF) 
  13. "Fellowship of Indian National Science Academy"। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০২০ 
  14. "Fellowship of Indian Academy of Sciences" 
  15. "Birla Prize" 
  16. http://14.139.227.202/Faculty/sudeshna/cv_web.html

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]