সিটকম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

সিটকম (পরিস্থিতিগত কমেডি তথা সিচুয়েশনাল কমেডির সংক্ষিপ্তরূপ; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরিস্থিতি কমেডি বা সিচুয়েশন কমেডি) হলো কৌতুকাভিনয়ের একটি জনরা নির্দিষ্ট চরিত্রাবলী (বেশিরভাগ) এক পর্ব থেকে অন্য পর্বে কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। সিটকমকে স্কেচ কমেডির সাথে পৃথক করা যায়, কারণ স্কেচ কমেডিতে একটি ট্রুপ প্রতিটি স্কেচে নতুন চরিত্র ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে স্ট্যান্ড-আপ কমেডিতে একজন কৌতুক অভিনেতা শ্রোতাদের কৌতুক এবং গল্প বলেন। সিটকমের শুরু হয় রেডিওতে, কিন্তু আজ বেশিরভাগ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সিটকম তার সবচেয়ে প্রভাবশালী রূপে আবির্ভূত হয়েছে আখ্যান উপস্থাপনের মাধ্যমে।

একটি সিটকম টেলিভিশন প্রোগ্রাম স্টুডিওতে দর্শকদের সামনেও রেকর্ড করা যেতে পারে, যা প্রোগ্রামের প্রযোজনা বিন্যাসের উপর নির্ভর করে। একটি লাইভ স্টুডিও শ্রোতাদের প্রভাব অনুকরণ করার জন্য হাসির ট্র্যাকও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

সমালোচকরা শতাব্দীর শুরু থেকে চলে আসা নানাবিধ প্রদর্শনী তথা শো-সমূহের শ্রেণীবিন্যাস করার ক্ষেত্রে "সিটকম" শব্দটির উপযোগিতা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেন। অনেক সমসাময়িক আমেরিকান সিটকমে একক ক্যামেরা সেটআপ ব্যবহার করা হয় এবং প্রেক্ষাপটে হাসির ট্র্যাক ব্যবহার করে না। এই অনুষ্ঠানগুলো ঐতিহ্যগত সিটকমের পরিবর্তে ১৯৮ এবং ১৯৯০-এর দশকের ড্রেমেডি অনুষ্ঠানগুলোর সাথে তুলনা করা হয়।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

"সিচুয়েশনাল কমেডি" বা "সিটকম" শব্দগুলো সাধারণত ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত ব্যবহৃত হত না।[২] রেডিওতে কিছু প্রাথমিক উদাহরণ থাকলেও প্রথম টেলিভিশন সিটকম হিসেবে পিনরাইট'স প্রগ্রেসকে আখ্যায়িত করা হয়। এই সিরিজটি ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বিবিসিতে দশটি পর্বে সম্প্রচারিত হয়।[৩][৪] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালক ও প্রযোজক উইলিয়াম আশেরকে "যে ব্যক্তি সিটকম আবিষ্কার করেছিলেন" হিসেবে অভিহিত করা হয়।[৫] তিনি ১৯৫০-এর দশক থেকে ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত আই লাভ লুসি সহ দুই ডজনেরও বেশি শীর্ষস্থানীয় সিটকম পরিচালনা করেছিলেন।

দেশ অনুযায়ী সিটকম[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়া[সম্পাদনা]

কিছু অস্ট্রেলীয় সিটকম নির্মিত হয়েছে যা দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়েছে; মূলত মার্কিন এবং যুক্তরাজ্যের সিটকম সেখানে সফল হয়েছে। সিটকমগুলি সরকারী সম্প্রচারকারী অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (এবিসি) একটি প্রধান অংশ। তবে ১৯৭০ এবং ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাজ্যের অনেক সিটকমও সেভেন নেটওয়ার্কে প্রদর্শিত হয়েছিল। ১৯৮৬ সালের মধ্যে, যুক্তরাজ্যের কমেডি ব্লেস দিজ হাউজ এবং আর ইউ বিং সার্ভড? এবিসি টেলিভিশনে বেশ কয়েকবার প্রচার করা করেছিল, এবং তারপরে প্রাইম টাইমে সেভেন নেটওয়ার্ক দ্বারা অধিগ্রহণ করা হলে সেখানেই সম্প্রচার করা হয়।[৬]

১৯৮১ সালের ডেইলি অ্যাট ডন ছিল প্রথম কোনো অস্ট্রেলীয় কমেডি সিরিজ যেখানে নিয়মিত একজন সমকামী চরিত্রকে (সাংবাদিক লেসলি চরিত্রে টেরি বাডার) দেখানো হয়।[৭]

১৯৮৭ সালে মাদার অ্যান্ড সন অস্ট্রেলিয় মানবাধিকার কমিশন কর্তৃক উপস্থাপিত টেলিভিশন ড্রামা পুরস্কার লাভ করে।[৮][৯]

২০০৭ সালে, ক্যাথ অ্যান্ড কিমের চতুর্থ মৌসুমের প্রথম পর্ব জাতীয় পর্যায়ে ২.৫২১ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় দর্শকদের আকৃষ্ট করে,[১০] এটা ছিল অস্ট্রেলিয় টেলিভিশনের ইতিহাসে প্রথম পর্বের জন্য সর্বকালের সর্বোচ্চ রেটিং;[১০] পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আন্ডারবেলি: আ টেল অফ টু সিটিজ-এর সিরিজ প্রিমিয়ার দেখেন ২.৫৮ মিলিয়ন দর্শক।[১১]

২০১৩ সালে প্লিজ লাইক মি প্যারিসের সিরিজ ম্যানিয়া টেলিভিশন ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনীর আমন্ত্রণ পায়।[১২] এটি সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত হয়[১৩] এবং অসংখ্য পুরষ্কার এবং মনোনয়ন লাভ করে।[১৪] এছাড়া ২০১৩ সালে অ্যাট হোম উইথ জুলিয়া সিরিজে বেশ কয়েকজন সামাজিক ভাষ্যকার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অনুপযুক্ত ও অসম্মানজনকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে এর সমালোচনা করেন।[১৫] তবে অনুষ্ঠানটি টেলিভিশন দর্শকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় প্রমাণিত হয় — যা ২০১১-এর[১৬] সর্বাধিক দেখা অস্ট্রেলিয়ান লিপিবদ্ধ কমেডি সিরিজ হয়ে ওঠে। টেলিভিশন সমালোচকদের কাছেও এটি জনপ্রিয় হয়।[১৭] ২০১২ সালের অস্ট্রেলিয়ান একাডেমি অব সিনেমা অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টস পুরস্কারের জন্য শ্রেষ্ঠ টেলিভিশন কমেডি সিরিজ হিসেবে মনোনীত হয় এই সিরিজ।[১৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Picone, Jack (২০১৪-০৯-২৪)। "The Evolution Of The Sitcom: The Age of the Single Camera"স্টুডেন্ট রিসোর্সেস (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-১৫ 
  2. Dalton, Mary M.; Linder, Laura R., সম্পাদকগণ (২০১২)। Sitcom Reader, The: America Viewed and Skewed। SUNY Press। পৃষ্ঠা 15। আইএসবিএন 978-0-7914-8263-6 
  3. "Pinwright's Progress"comedy.co.uk 
  4. Lewisohn, Mark (২০০৩)। "Radio Times Guide to TV Comedy"। BBC Worldwide Ltd। 
  5. "William Asher – The Man Who Invented the Sitcom", Palm Springs Life Dec. 1999
  6. Collier, Shayne (২ জুন ১৯৯৬)। "Again and again and again"দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-১৬ 
  7. Howes, Keith. (1998, February). "Gays of Our Lives". Outrage, Number 177, 38-49.
  8. "1987 Human Rights Medal and awards winners"Human Rights Medal and AwardsAustralian Human Rights Commission। ১৯৮৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১১-২৮ 
  9. Tynan, Jacinta (২০০৮-০৯-১৩)। "Weird how my rello won his fame"Sydney Morning Herald। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১১-০৫ 
  10. Seven Network (২০ আগস্ট ২০০৭)। "Seven – Daily Ratings Report"। ebroadcast.com.au। ২০ মে ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০০৭ 
  11. Knox, David (২০০৯-০২-১০)। "2.58m: Underbelly sets new record"TV Tonight 
  12. Knox, David (২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। "Please Like Me, Puberty Blues selected for French TV festival"TV Tonight। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মার্চ ২০১৩ 
  13. "Please Like Me"Rotten Tomatoes। Rotten Tomatoes। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৯ 
  14. "Please Like Me - Awards"IMDb। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৯ 
  15. Craven, Peter (৮ সেপ্টে ২০১১)। "At Home With Julia: inane drivel of the most idiotic kind"Australian Broadcasting Corporation। ২০১৪-০১-১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০১৫ 
  16. "Packed to the Rafters and Underbelly are 2011's top local dramas – Mumbrella"Mumbrella (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১১-১১-২৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০২-০১ 
  17. Knox, David (ডিসে ১, ২০১১)। "Critics' Choice: The Best of 2011"TV Tonight। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০১৫ 
  18. "Inaugural Samsung AACTA Awards Nominees" (PDF)Australian Academy of Cinema and Television Arts। ২০১৫-১০-৩১ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Comedy footer টেমপ্লেট:Television drama series টেমপ্লেট:US TV schedule