সাবিরুল ইসলাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
সাবিরুল ইসলাম
Sabirul Islam Photo.jpg
জন্ম ১২ জুলাই, ১৯৯০
স্ট্যানফোর্ড, লন্ডন, ইংল্যান্ড
যে জন্য পরিচিত তরুন উদ্যোক্তা, লেখক
ওয়েবসাইট www.sabirulislam.com

সাবিরুল ইসলাম (জন্ম: ১২ জুলাই, ১৯৯০) বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণ উদ্যোক্তা, লেখক ও বক্তা। তিনি তিনটি বই লিখেছেন। তাঁর লেখা তরুণদের ব্যবসা শেখার গেম ‘টিন-ট্রাপেনার’ যুক্তরাজ্যের ৬৫০টি স্কুলে পাঠ্যসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের খেলতে দেওয়া হয়। এটি সারাবিশ্বের ১৪টি দেশে পাওয়া যায়। ২০১০ সালে পৃথিবীর ২৫ তরুণ শিল্প-উদ্যোক্তার একজন নির্বাচিত হন সাবিরুল। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী ১০০ ব্রিটিশ-বাংলাদেশির তালিকায় নাম আছে তাঁর। তাঁর লেখা বই ‘দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাট ইওর ফিট’ বিক্রি হয়েছে ৬০ হাজার কপি। তিনি এখন ‘ইন্সপায়ার ওয়ান মিলিয়ন’ (Inspire1Million) কার্যক্রম চালাচ্ছেন, যার লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে ১০ লাখ তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করা। ইতিমধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে তিনি বিশ্বের ২৫টি দেশের আট লাখের বেশি তরুণের সামনে কথা বলেছেন। [১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

সাবিরুলের জন্ম এবং বেড়ে উঠা ইংল্যান্ডের লন্ডনে। [২][৩] তার বাবার নাম শফিকুল ইসলাম। তার দাদার বাড়ি বাংলাদেশের সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়[৪][৫][৬]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

মাত্র ১৩ বছল বয়সে সাবিরুল ইসলাম সোয়ানলি বিজনেস স্কুলে তাঁর সহপাঠী ১৪ বছর বয়সের চাচাতো ভাই কবিরুলসহ স্কুল ক্যালেন্ডার ডিজাইনের ব্যবসা শুরু করেন। পড়াশোনার সঙ্গে প্রোডাকশন ডাইরেক্টর হিসেবে চাকরি করতে থাকেন তিনি। কিন্তু দুই সপ্তাহের মাথায় সাবিরুলকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে স্কুলের আরও ছয় বন্ধুকে পরিচালকের পদ দিয়ে শুরু করেন ওয়েব ডিজাইনের ব্যবসা। তবে কিশোরদের কিছু করার আগ্রহে সাধুবাদ জানালেও কেউ কাজ দিতে চাইল না। পরবর্তীতে লন্ডনে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল লিনচ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কোম্পানির ওয়েব ডিজাইনের কাজ দেন। পরবর্তীতে দুই বছরের চেষ্টায় ব্যবসার মৌলিক কিছু বিষয় শিখেন সাবিরুল। মাত্র ১৬ বছর বয়সে নিউইয়র্ক স্টক মার্কেটে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হয়। যেখানে প্রতি সেকেন্ডে যেখানে ১০ লাখ ডলারের ব্যবসা আসে-যায়! সেখানেই লন্ডন স্টক মার্কেটে জুনিয়র ট্রেডার হিসেবে কাজ শুরু করেন সাবিরুল। ১৭ বছর বয়সে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখলেন তাঁর প্রথম বই দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাট ইয়োর ফিট। প্রকাশের নয় মাসে বইটি বিক্রি হয় ৪২ হাজার ৫০০ কপি! আর এই সময়টায় ৩৭৯টি অনুষ্ঠানে নিজের বই ও ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন তিনি। বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে উপস্থিত থেকে ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন বলেছিলেন, ‘পৃথিবীতে প্রেরণার প্রতীক হয়ে আলো ছড়াবে এই তরুণ।’ পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরের খ্যাতনামা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মার্শাল ক্যাভেন্ডিস থেকে দ্বিতীয় বই "দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাট ইয়োর ফিট-থ্রি স্ট্রাইকস টু এ সাকসেসফুল এন্ট্রাপ্রেনিউর" প্রকাশিত হয়। বইটি মূলত নানা দেশের ২৫ জন টিন-স্পিকারের (কিশোর বক্তা) সাফল্যগাথা। সাবিরুলের তৈরি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬-২৫ বছর বয়সী তরুণদের বক্তৃতা দেওয়ার জায়গা ‘টিন স্পিকার’ এর সাফল্য ছিল এটি। বই আর বক্তৃতার পাশাপাশি ‘টিন-ট্রাপেনার’ গেম তৈরির ভাবনা নিয়ে স্কুলপড়ুয়া তরুণদের ব্যবসা শেখার মজার এই বোর্ড গেম শুরু করলেন তিনি। একসঙ্গে শুরু হয় বিশ্বের ১৪টি দেশে শুরু হলো টিন-ট্রাপেনার বিক্রি। নানা দেশে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে গেমটি। ইংরেজির বাইরে আরও ১৩টি ভাষায় বের হয়েছে এটি। যুক্তরাজ্যের ৬৫০টি স্কুলে পাঠ্যসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের খেলতে দেওয়া হয় সাবিরুলের এই উদ্ভাবন।[৭]

উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা[সম্পাদনা]

প্রকাশিত বই[সম্পাদনা]

বছর নাম প্রকাশক আইএসবিএন
২০০৮ দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাট ইয়োর ফিট লুলু প্রেস আইএসবিএন ৯৭৮-১৮৪৭৯৯৩৯৭৭
২০০৯ দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাট ইয়োর ফিট-থ্রি স্ট্রাইকস টু এ সাকসেসফুল এন্ট্রাপ্রেনিউর মার্শাল ক্যাভেন্ডিস আইএসবিএন ৯৭৮-০৪৬২০৯৯৫২১
2012 ইয়ং এন্ট্রাপ্রেনিউর ওয়ার্ল্ড: হাউ ২৫ টিন-প্রেনারস সাকসিডেড অ্যান্ড লেফ্ট ওয়ার্ল্ড লিডারস স্ক্যাচিং দেয়ার হেডস" মার্শাল ক্যাভেন্ডিস বিজনেস আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮১৪৩৬১০৯৫

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

মোজাইক বেস্ট এন্ট্রাপ্রেনিউর অব দ্য ইয়ার পুরস্কার ২০০৮
  • প্রিন্স অব ওয়েলস ও প্রিন্সেস অব জর্ডানের দেয়া মোজাইক বেস্ট এন্ট্রাপ্রেনিউর অব দ্য ইয়ার, (২০০৮)
  • হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে দেয়া “গ্রোয়িং আপ সিইও অ্যাওয়ার্ড”
  • আউটস্ট্যান্ডিং ইয়াং অ্যাচিভার অ্যাওয়ার্ড
  • “ইয়াং কোম্পানি অব দ্য ইয়ার”, (২০০৪)
  • “বেস্ট প্রেজেন্টেশন অব দ্য ইয়ার”

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. স্বপ্ন নিয়ে,দৈনিক প্রথম আলো
  2. Scheidies, Nick (৩০ জানুয়ারি ২০০৮)। "Make a difference, do it yourself"। London: BBC London। সংগৃহীত ১ জানুয়ারি ২০১৪ 
  3. Scheidies, Nick; Tart, Nick (৯ এপ্রিল ২০১০)। "Sabirul Islam Interview: Fired at 13, Founder at 14"JuniorBiz। সংগৃহীত ১ জানুয়ারি ২০১৪ 
  4. Lai, Christina (২২ নভেম্বর ২০১২)। ""The World Doesn’t Need Another Jay-Z Or Beyoncé" Meet Teen Entrepreneur Sabirul Islam"Live Magazine। সংগৃহীত ১ জানুয়ারি ২০১৪ 
  5. Hafiz, Tanvir (২৪ অক্টোবর ২০১৩)। "Interview with Sabirul Islam"Vibe। সংগৃহীত ১ জানুয়ারি ২০১৪ 
  6. "Sabirul Islam motivates students at DIS"। Dhaka: The News Today। ৪ অক্টোবর ২০১৩। সংগৃহীত ১ জানুয়ারি ২০১৪ 
  7. ছুটির দিনে, প্রথম আলো

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]