সান পেদ্রো দে তিকিনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সান পেদ্রো দে তিকিনা
শহর
সান পেদ্রো শহর ও তিকিনা প্রণালী
সান পেদ্রো শহর ও তিকিনা প্রণালী
বলিভিয়ার মধ্যে অবস্থান
বলিভিয়ার মধ্যে অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ১৬°১৪′ দক্ষিণ ৬৮°৫১′ পশ্চিম / ১৬.২৩৩° দক্ষিণ ৬৮.৮৫০° পশ্চিম / -16.233; -68.850
দেশ Bolivia
বিভাগলা পাজ বিভাগ
প্রদেশমানকো কাপাক প্রদেশ
পুরসভাসান পেদ্রো দে তিকিনা পুরসভা
স্থাপিত১৫৪৮
জনসংখ্যা (২০১২)
 • মোট৬৯৪
সময় অঞ্চলBST (ইউটিসি-4)

সান পেদ্রো দে তিকিনা হল বলিভিয়ার লা পাজ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত একটি শহর। তিতিকাকা হ্রদের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র জলপথ তিকিনা প্রণালীর দক্ষিণ-পশ্চিম তীরে কোপাকাবানা উপদ্বীপের দিকে এই শহর অবস্থিত। কোপাকাবানা থেকে বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজ যেতে হলে এই শহর থেকে তিকিনা প্রণালী পেরিয়ে অপরতীরে সান পাবলো দে তিকিনা হয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য পথ নেই।

অবস্থান[সম্পাদনা]

বলিভিয়ার একেবারে পশ্চিম সীমান্তের কাছে অবস্থিত সান পেদ্রো শহরের অবস্থান সান পেদ্রো দে তিকিনা পৌর এলাকার একেবারে কেন্দ্রস্থলে। আন্দেস পর্বতমালার সুউচ্চ আলতিপ্লানো উচ্চভূমিতে অবস্থিত এই শহরের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৮৪৬ মিটার। এর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তিকিনা প্রণালী ঐ স্থানেই সঙ্কীর্ণতম, মাত্র ৮০০ মিটার চওড়া। পশ্চিম ও পুর্বে আন্দেসের দুই সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্খল কর্ডিলেরা অক্সিডেন্টাল ও কর্ডিলেরা সেন্ট্রাল উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত। এত উঁচু অবস্থানের কারণে এ' শহরের জলবায়ু যথেষ্ট শীতল। তবে সারাবছরই উষ্ণতা মোটামুটি একই রকম থাকে। দিনে-রাতেও উষ্ণতার পার্থক্য কম, কিন্তু গরমকাল ও শীতকালের তাপমাত্রার পার্থক্য অনেকক্ষেত্রেই এমনকী তার থেকেও কম। এই ধরণের জলবায়ুকে সাধারণত দৈনিক-ঋতু জলবায়ু (জার্মান ভাষা - Tageszeitenklima, উচ্চারণ -টাগেসৎসাইটেনক্লিমা) বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে। শহরের সারা বছরের গড় উষ্ণতা ৮° সেন্টিগ্রেড। শীতকালে জুন/জুলাই মাসে গড় তাপমাত্রা যেখানে ৬° সেন্টিগ্রেড, গরমকালে নভেম্বর/ডিসেম্বর মাসে সেই তাপমাত্রা ১০° সেন্টিগ্রেডের চেয়ে বেশি নয়। শহরে সারা বছর বৃষ্টিপাতের মোট পরিমাণ ৭০০ মিলিলিটার। এই বৃষ্টির বেশিরভাগটাই শীতকালেই হয়ে থাকে। গ্রীষ্ম এখানে যথেষ্টই শুষ্ক।

পরিবহন[সম্পাদনা]

লা পাজ থেকে উত্তর-পশ্চিমে এই শহরের স্থলপথে দূরত্ব ১০৭ কিলোমিটার। লা পাজ থেকে বাঁধানো হাইওয়ে রুটা - ২ উয়ারিনা হয়ে তিকিনার অপর তীরে সান পাবলো দে তিকিনা শহরে এসে উপস্থিত হয়। এরপর প্রণালী পেরিয়ে এই রাস্তা প্রথমে আরও ৭ কিমি দূরে কোপাকাবানা পৌঁছয় ও তারপর আরও ৮ কিমি দূরে পেরু সীমান্তের খাসানি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

গত বিশ বছরে এই শহরের জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

বছর জনসংখ্যা উৎস
১৯৯২ ৮৭৪ জনগণনা[১]
২০০১ ৮৩৯ জনগণনা[২]
২০১২ ৬৯৪ জনগণনা[৩]

এই অঞ্চলের জনসংখ্যার বেশির ভাগটাই আইমারাভাষী। এমনকী সান পেদ্রো দে তিকিনা পৌর এলাকার ৯২.৫% মানুষই আইমারা ভাষাতেই কথা বলে থাকেন।[৪]

গুরুত্ব[সম্পাদনা]

১৮৭৯-১৮৮৪ সালের প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধে চিলির কাছে পরাজয়ের ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে সংযোগ হারিয়ে বলিভিয়া এখন একটি সম্পূর্ণ স্থলবেষ্টিত দেশ। তার সম্পূর্ণ সামরিক নৌবল এখন তাই তিতিকাকা হ্রদেই সীমাবদ্ধ। সান পেদ্রোকে আশ্রয় করেই তা কাজ করে। সেই হিসেবে বলিভিয়ার একমাত্র সামরিক বন্দর এখন এই শহর, যাকে কেন্দ্র করে বলিভীয় নৌবাহিনী মাঝে মাঝে মহড়ার আয়োজনও করে থাকে।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. INE – Instituto Nacional de Estadística Bolivia 1992
  2. INE – Instituto Nacional de Estadística Bolivia 2001
  3. "INE – Instituto Nacional de Estadística Bolivia 2012"। ২২ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০১৫ 
  4. INE-Sozialdaten 2001. (PDF; 12.2 এমবি)
  5. "Trockenübungen auf dem Titicacasee". FAZ (ফ্রাঙ্কফুর্টার আলগেমাইনা সাইটুং) vom 23. Juni 2014, পৃঃ - ৩। সংগৃহীত ২০ জুন, ২০১৫।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

স্থানাঙ্ক: ১৬°১৪′ দক্ষিণ ৬৮°৫১′ পশ্চিম / ১৬.২৩৩° দক্ষিণ ৬৮.৮৫০° পশ্চিম / -16.233; -68.850