সাধারণ বীমা কর্পোরেশন
| সংক্ষেপে | SBC |
|---|---|
| গঠিত | ১৯৭৩ |
| ধরন | সরকারী |
| সদরদপ্তর | ঢাকা, বাংলাদেশ |
| অবস্থান |
|
যে অঞ্চলে কাজ করে | বাংলাদেশ |
দাপ্তরিক ভাষা | বাংলা |
| মালিক | গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার |
চেয়ারম্যান | মোহাম্মদ জয়নুল বারী |
ব্যবস্থাপনা পরিচালক | মো. হারুন অর রশিদ |
প্রধান প্রতিষ্ঠান | আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় |
| ওয়েবসাইট | http://www.sbc.gov.bd |
| মন্তব্য | বাংলাদেশে একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নন-লাইফ বীমাকারী এবং পুনর্বীমাকারী প্রতিষ্ঠান |
সাধারণ বীমা কর্পোরেশন বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় সাধারণ বা নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান যা বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এটি ১৯৭৩ সালের ১৪ মে বীমা কর্পোরেশন আইন ১৯৭৩ এর অধীনে গঠিত হয়। [১]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]সরকারি এই বীমা সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত একমাত্র সাধারণ বা নন-লাইফ বীমা ব্যবসায় পরিচালনা করে আসছিলো। বাংলাদেশের বীমা বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রতিষ্ঠানটির দখলে। বাংলাদেশের সরকারি বীমা ব্যাবসায়ের ৫০% নিয়ে এটি কাজ করে। বীমা কর্পোরেশন আইন (সংশোধীত) ১৯৯০ অনুসারে দেশের সরকারি সম্পত্তির ঝুঁকি বীমা সাধারণ বীমা কর্পোরেশনে করা বাধ্যতামূলক।
পরবর্তীতে বীমা কর্পোরেশন আইন ২০১৯ -এর ১৭ ধারা সাধারণত বীমা কোম্পানিগুলোকে তাদের পুনর্বীমা ব্যবসার ৫০% রাষ্ট্র-মালিকানাধীন সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (এসবিসি)-এ হস্তান্তর করতে নির্দেশ দেয়। বীমার ধরণের উপর নির্ভর করে এই নির্দিষ্ট শতাংশ পরিবর্তিত হবে বলে আইনে বলা হয়েছে।
কর্পোরেশন আইন সংশোধন প্রস্তাব
[সম্পাদনা]২০২৫ সালে সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) ২০১৯ সালের বিমা করপোরেশন আইন থেকে একটি ধারা বাতিলের প্রস্তাব দেয়। ওই ধারা অনুযায়ী, নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোকে তাদের রিইনস্যুরেন্সের অন্তত ৫০ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে সাধারণ বীমা করপোরেশন-এর মাধ্যমে করতে হতো। [২]
আইডিআরএ জানিয়েছে, এই বাধ্যতামূলক নিয়ম অনেক আন্তর্জাতিক প্রকল্পের অর্থায়নে সমস্যা সৃষ্টি করে, কারণ সাধারণ বীমা করপোরেশনের আন্তর্জাতিক মানের ক্রেডিট রেটিং নেই। প্রস্তাবিত পরিবর্তন হলে, বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলো তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী দেশীয় বা আন্তর্জাতিক রিইনস্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে কাজ করতে পারবে।[৩] এতে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং দাবিসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। তবে সাধারণ বীমা করপোরেশন আশঙ্কা করছে, এই পরিবর্তন তাদের আয় ও ভূমিকায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
পরিচালনা
[সম্পাদনা]সাধারণ বীমা কর্পোরেশন পরিচালনার জন্য ৭ সদস্যের একটি পরচালনা পর্ষদ আছে যার মধ্যে এক জন খণ্ড-কালীন চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব জনাব মোহাম্মদ জয়নুল বারী, এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ হারুন-অর-রশিদ।
আর্থিক বিবরণ
[সম্পাদনা]২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। সদ্য প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, ২০২৪ সালে মোট গ্রস প্রিমিয়াম আগের বছরের তুলনায় ৪৩% বৃদ্ধি পেয়ে ১,৭১৮ কোটি টাকায় পৌঁছায়। একই সময়ে আন্ডাররাইটিং মুনাফায় প্রায় ৯৭৯% বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। সামগ্রিকভাবে, এটি সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম অর্জন হিসেবে বিবেচিত। [৪]
সেবাসমূহ
[সম্পাদনা]বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান হিসাবে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন বৃহৎ পরিসরে বাংলাদেশের বীমা ব্যবসার উন্নতির জন্য বীমা, পুনঃবীমা ও প্রয়োজনীয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বীমা সংশ্লিষ্ট সকল সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটি দেশি বিদেশী অন্যান্য বীমা কোম্পানির সাথে পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির মুল বীমা সেবাসমুহ হচ্ছেঃ
- অগ্নি বীমা
- নৌ-বীমা
- মোটরযান বীমা
- শস্য বীমা
- অন্যান্য বীমা
এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি এসকল বীমার পুনঃবীমা করে থাকে।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "সাধারণ বীমা কর্পোরেশন"। www.sbc.gov.bd (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২১ এপ্রিল ২০১৯।
- ↑ "ধারা ১৭ বিলোপের উদ্যোগ – বীমা কর্পোরেশন আইন ২০১৯"। ইন্সুরেন্স নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ৯ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ "সাধারণ বিমায় একচেটিয়া রিইনস্যুরেন্সের নিয়ম বাতিলের প্রস্তাব সরকারের"। দ্যা ডেইলি ষ্টার (বাংলা)। সংগ্রহের তারিখ ৯ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ "২০২৪ সালের সাধারণ বীমার মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি"। ইন্সুরেন্স নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৫।