সাধনানন্দ মহাস্থবির

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সাধনানন্দ মহাস্থবির

সাধনানন্দ মহাস্থবির (৮ জানুয়ারি ১৯২০ - ৩০ জানুয়ারি ২০১২) ছিলেন একজন বৌদ্ধ ধর্মীয় আধ্যাত্মিক গুরু। তিনি বুদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের কাছে বনভান্তে নামে অধিক পরিচিত। তিনি একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বৌদ্ধ ভিক্ষু।[১]

জীবনী[সম্পাদনা]

১৯২০ : জন্ম ১৯২০ সালের ৮ জানুয়ারি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি শৈলশহর রাঙামাটির ৬ মাইল দক্ষিণে ১১৫ নং মগবান মৌজার মোরঘোনা নামক গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মধ্যবিত্ত চাকমা বৌদ্ধ পরিবারে। তাঁর পিতার নাম শ্রী হারুমোহন চাকমা, মাতার নাম শ্রীমতি বীরপুদি চাকমা। জন্মের পর তাঁর নাম রাখা হয় ‘রথীন্দ্র লাল চাকমা’। পিতামাতার ৬ সন্তানের মধ্যে তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন। তাঁর (রথীন্দ্র) শিক্ষাজীবন সম্পর্কে যতদূর জানা যায়-তিনি তৎকালীন ব্রিট্রিশ আমলে মিডল ইংলিশ স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। পড়াশুনার পাঠ চুকিয়ে জীবনের তাগিদে ব্যবসায় আত্মনিয়োজিত হন।

১৯৪৩ : রথীন্দ্র যখন ২৩ বছরের যুবক তখন হঠাৎ তাঁর পিতা হারুমোহন চাকমার অকালমৃত্যু ঘটে। ফলে জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্বভার তাঁর উপর এসে পড়ে। ১৯৪৯ : ১৯৪৯ সালে পটিয়ার নাইখাইন গ্রামের অধিবাসী বাবু গজেন্দ্র লাল বড়ুয়ার ঐকান্তিক সহযোগিতায় ২৯ বছর বয়সে ভরা যৌবনে শুভ ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিতে তিনি চট্টগ্রামস্থ নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারের তৎকালীন অধ্যক্ষ শ্রীমৎ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান মহাস্থবির (বিএ) মহোদয়ের নিকট প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেন। তখন গৃহী নামের সাথে মিল রেখে তাঁর নাম ‘রথীন্দ্র শ্রামণ’ রাখা হয়।

১৯৪৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে দুঃখমুক্তির অন্বেষায় গুরুভান্তের অনুমতি নিয়ে জন্মভূমি রাঙামাটির উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামস্থ নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহার ত্যাগ করেন। পথিমধ্যে বেতাগী বনাশ্রমে সাধকপ্রবর ত্রিপিটক বাগ্মীশ্বর ভদন্ত আনন্দমিত্র মহাস্থবির মহোদয়ের নিকট সপ্তাহকাল অবস্থান করেন। অতঃপর পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পুণ্যতীর্থ চিৎমরম বৌদ্ধ বিহারে এসে তিনি পক্ষ্কাল অবস্থান করেন।

১৯৪৯-১৯৬০ : চিৎমরম ত্যাগ করে ১৯৪৯ সালের শেষের দিক থেকে ১৯৬০ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রায় ১২ বছর শ্রামণ অবস্থায় ‘ধনপাতা’ নামক শ্বাপদসংকুল গহীন অরণ্যে একাকী ধ্যান-সাধনায় রত ছিলেন। ধনপাতা অরণ্যে অবস্থানকালে তাঁর সম্পর্কে বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা লোকমুখে প্রকাশ পায়। বনে সাধনা করতেন বলে লোকে তাঁকে ‘বন শ্রামণ’ হিসেবে সম্বোধন করতে থাকে। ১৯৬০ : ১৯৬০ সালে কাপ্তাই-বাঁধ দেওয়ার ফলে রাঙামাটির বিশাল এলাকা (প্রায় ৪৫০ বর্গ কিমি) জলমগ্ন হয়। এতে বন শ্রামণের সাধনাস্থল ধনপাতার আশপাশের এলাকাও জলমগ্ন হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার অধিবাসীরাও উদ্বাস্তু হয়। এমতাবস্থায় তাঁর ধ্যান-সাধনা ও পিণ্ডচারণের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। শেষে অনন্যোপায় হয়ে তাঁর পরমভক্ত সেবক নিশিমনি চাকমার আমন্ত্রণে দীঘিনালা গমন করেন। তথায় বোয়ালখালী রাজবিহারে অল্প কিছুদিন অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে বর্তমান দীঘিনালা থানার দক্ষিণ- পশ্চিমে লোকালয় থেকে প্রায় এক মাইল দূরে তাঁর থাকার জন্য এলাকাবাসী এক পর্ণকুটির নির্মাণ করে দিলে পুনরায় আরণ্যিক সাধন জীবন শুরু করেন।

১৯৬১ : বার্মাফেরত চাকমা রাজগুরু শ্রীমৎ অগ্রবংশ স্থবির ও শ্রীমৎ জ্ঞানশ্রী ভিক্ষু মহোদয়ের ঐকান্তিক অনুপ্রেরণায় ও সার্বিক সহযোগিতায় ২৭ জুন ১৯৬১ সালে ২৫০৫ বুদ্ধবর্ষের জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা তিথিতে বোয়ালখালী মাইনী (নদীর) উদক সীমায় তৎকালীন ২য় সংঘরাজ ভদন্ত গুণালংকার মহাথের মহোদয়ের উপাধ্যায়ত্বে শুভ উপসম্পদা লাভ করেন। তিনি ধ্যান-সাধনায় সর্বদা নিরত থাকতে আনন্দ পেতেন বিধায় ভিক্ষু-উপসম্পদা লাভ করার পর তাঁর উপাধ্যায় তাঁর নাম রাখলেন ‘সাধনানন্দ’ ভিক্ষু । তবে তিনি (প্রায় ২৮ বছর) বনে-জঙ্গলে ধ্যান-সাধনা করেছিলেন বিধায় ভক্তবৃন্দের কাছে ‘বনভান্তে’ নামেই সমধিক পরিচিত হয়েছিলেন। ১৯৬০-১৯৭০ : ১৯৬০ সালের শেষের দিক হতে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০ বছরের মতো দীঘিনালার নির্জন অরণ্যে খুব কষ্টসাধ্য জীবনযাপন করেন। জ্বরাক্রান্ত হয়ে অর্ধাহারে অনাহারে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে মরণাপন্ন দশায় উপনীত হয়েছিলেন। তখন জনৈক বড়ুয়া দায়কের প্রদত্ত গরুর দুধ খেয়ে কোন রকমে প্রাণে বেঁচে যান। এই কথা অনেক বার পূজ্য ভান্তে তাঁর শিষ্যদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত প্রাত্যহিক দেশনায় স্মৃতিচারন করে বলতেন। দীঘিনালা অরন্যে অবস্থানকালে জুম্ম জনগণের অবিসংবাদিত নেতা শ্রীমানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা, শ্রীভবতোষ দেওয়ান, শ্রীজ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ পূজ্য বনভান্তের উপদেশ শুনতে এবং পরামর্শ নিতে মাঝে মধ্যে যেতেন।

১৯৭০ : ১৯৭০ সালে পূজ্য বনভান্তে দীঘিনালা (মেয়োনী এলাকা) ত্যাগ করে লংগদুস্থ তিনটিলা বৌদ্ধ বিহারের কঠিন চীবরদানানুষ্ঠানের ফাঙে আমন্ত্রিত হয়ে যোগদান করেন। আর লংগদুর হেডম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাবু অনিল বিহারী চাকমাসহ বিশিষ্ট দায়ক-দায়িকাগণ পূজ্য বনভান্তেকে স্থায়ীভাবে লংগদুতে থাকার জন্য প্রার্থনা জানালে ভান্তে তাতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। দানানুষ্ঠান শেষে ভদন্ত ইন্দাচারা ভিক্ষুর (সুরেন্দ্র মাস্টার) -এর প্রার্থনায় বাঘাইছড়িস্থ দূরছড়ি গ্রামে চলে যান। আর তিনটিলায় কুটির নির্মাণের কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত তথায় অবস্থান করেন। অতঃপর লংগদুস্থ তিনটিলা অরণ্যের পর্ণ কুটিরে চলে আসেন।

এ বছরই পূজ্য বনভান্তের ভিক্ষুত্ব জীবনের ১০ বর্ষা পূর্ণ হলে শ্রদ্ধেয় ইন্দাচারা ভিক্ষু খেদারমারা গ্রাম নিবাসী জনৈক যুবককে এনে পূজ্য ভান্তের নিকট প্রব্রজ্যা দেন। পরবর্তীতে তিনি প্রব্রজ্জ্যা ত্যাগ করেজীবনে ফিরে যান। তাই আর্য্যপাল শ্রামণ শিষ্য হিসেবে যোগ্যতা লাভে করতে পারেনাই। যেমন কোন স্কুলে কোন ছাত্র যদি পরীক্ষায় পাস না করে তাহলে তাকে সার্টিফিকেট দেয়া যায়না ঠিক তেমন আর্য্যপাল শ্রমণকে শিষ্যের অভিধা দেয়া যায়না। 
১৯৭০ সালের মধ্যে অস্থায়ীভাবে আরও কয়েকজন যুবক শ্রদ্ধেয় বনভান্তের নিকট প্রব্রজ্জ্যা গ্রহণ করলে তন্মধ্যে ১৪ই নভেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার দিনে শ্রীসুবেন্দু বিকাশ চাকমা নামে এক তরুন প্রব্রজ্জিত হলে শ্রদ্ধেয় বনভান্তে সুস্থ দেহমনে স্বশরীরে সহস্তে কেশা, লোমা, নখা, দন্তা, তাসো এই ত্বকপঞ্চক কর্মস্থান দিয়ে ত্রিশরনসহ দশশীলে প্রতিষ্ঠিত করে প্রব্রজ্জ্যা প্রদান করেন। সাধকশ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ সাধনানন্দ স্থবির (বনভান্তে) নব প্রব্রজ্জিত শ্রীসুবেন্দু বিকাশ চাকমার প্রব্রজ্জিত নাম রাখেন শ্রীমান নন্দপাল শ্রামণ। এবং আর্য্যপাল শ্রামন, সঙ্ঘপাল শ্রামণ ও নন্দপাল শ্রামন এই তিনজনকে ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে ত্রিপিটক শিক্ষার জন্য বনভান্তে প্রতিরুপ দেশ বার্মায় প্রেরণ করেন। সেখানে তারা একসাথে ১৯৭২ ইংরেজী বর্ষের শুভ পবিত্র বৈশাখি পূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সময় দীক্ষাগুরুর অনুমোদন সাপেক্ষে বৌদ্ধ সরকার শাসিত প্রতিরুপদেশ বার্মা( বর্তমান মিয়ানমার)-এ আকিয়াবের প্রদেশে ত্রিপিটক বিশারদ উঃঞালিন্ডা মহাস্থবির ভান্তেসহ গুনোত্তম ভিক্ষুসঙ্ঘের উপস্থিতিতে বনভান্তের শিষ্য হিসেবে একসাথে তিনজন শ্রামণ দুর্লভ উপসম্পদা লাভ করতে সমর্থ হন । দীক্ষাগুরু শ্রদ্ধেয় বনভান্তে অনুমোদনের প্রমানস্বরুপ লংগদুর সম্মানিত চেয়ারম্যান উপাসক শ্রীঅনিল বিহারী চাকমাকে বলেন, আমার শিষ্যরা উপসম্পদা লাভ করতে যাচ্ছে আপনি পূণ্যের ভাগীদার হতে চাইলে হতে পারবেন। শ্রীঅনিল বিহারী চাকমা চেয়ারম্যান মহোদয় তৎমুহুর্তে উপসম্পদা গ্রহণকারীদের উদ্দ্যেশ্যে শ্রদ্ধাসহকারে ৫০০টাকা শ্রদ্ধাদান দেন। শ্রদ্ধেয় বনভান্তে উক্ত শ্রদ্ধাদান যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে সহযোগীতা প্রদানকারী উঃ চান্দিমা নামে জনৈক ভিক্ষু (যোগাযোগ রক্ষাকারী মার্মা ভিক্ষু)-কে দিয়ে বার্মায় পাঠিয়ে দেন। সেখানে অর্থাৎ বার্মায় আর্যপাল শ্রমণ, সঙ্ঘপাল শ্রমণ এবং নন্দপাল শ্রমণ তিনজন একসাথে উপসম্পদা গ্রহণ করেন তবে বনভান্তের শিষ্য হিসেবে এদের মধ্যে একমাত্র শ্রীমৎ নন্দপাল ভিক্ষু শেষ পর্য্যন্ত প্রব্রজ্জ্যা জীবনে ঠিকে রয়েছেন। 
শ্রীমৎ নন্দপাল ভিক্ষু ১৯৭৩ - ১৯৭৪ সালের বর্ষাব্রত সেখানে উদযাপন করে ত্রিপিটক শেখার ফাঁকে গুরু দর্শনের লক্ষে স্বদেশে ফিরে লংগদু আসেন। শ্রদ্ধেয় বনভান্তের সাথে সহকারী ভিক্ষু না থাকার কারনে এবং রাজবনবিহার রাঙ্গামাটি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালনের জন্য গুরু ভান্তের নির্দেশ প্রতিপালন করতে পরবর্তীতে (১৯৭৫ সালে দ্বিতীয় গ্রুপ বার্মায় গমনকারী উত্তরপাল ভিক্ষু বর্তমানে দেবাশীষ নগর নিবাসী কিরনময় চাকমা, সত্যলংকার ভিক্ষু বর্তমানে শ্রীমৎ সুমনালঙ্কার ভান্তে, অধ্যক্ষ পিবিএম কমলছড়ি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা, সংঘপাল ভিক্ষু( বর্তমানে বার্মায় গৃহী হিসেবে জীবনযাপন করতেছেন, ১৯৭৫ সালে যিনি বার্মায় ছিলেন) তাদের সংযোগে শ্রীমৎ নন্দপাল ভিক্ষু যাননি। এসময় ( ১৯৭৫ সাল) শ্রীমৎ নন্দপাল ভিক্ষু প্রথম রাজপরিবারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত রাজবন বিহারে আরেক সহকর্মী শ্রীমৎ উত্তমানন্দ ভিক্ষুকে সাথে রেখে রাজবনবিহার, রাঙ্গামাটিতে বর্ষাব্রত পালন করেন। তখন রাজবন বিহারের নাম ছিল রাজবন শমথ ও বিদর্শন ভাবনাকেন্দ্র, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। 
১৯৭৬ সালে প্রথমবার শ্রদ্ধেয় বনভান্তে রাজবন বিহার রাঙ্গামাটিতে দক্ষিণ হস্ততুল্য শ্রীমৎ নন্দপাল ভিক্ষুকে সাথে নিয়ে বর্ষাব্রত যাপনের পর আবার লংগদু ফিরে যান তবে বর্ষাব্রত সমাগত হলে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে চলে আসেন। আবার ১৯৭৭ সালে নন্দপাল ভিক্ষু বন্দুকভাঙ্গার খারিখ্যং শাক্য বনবিহারে একাকী বর্ষাব্রত পালন করেন। তারপর ১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সাল পর্য্যন্ত একনাগাড়ে ৫ বছর শ্রদ্ধেয় বনভান্তে ও শ্রদ্ধেয় নন্দপাল ভান্তে গুরুশিষ্য একসাথে রাজবন বিহারে বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান ও পালন করেন।
১৯৭৭ সালে একদিন শ্রদ্ধেয় বোধিপাল ভান্তে গামারীঢালা এলাকা থেকে প্রব্রজ্জিত শিক্ষিত ভদ্র, নম্র শ্রীবিরলোচন চাকমা নামে একজন অস্থায়ী শ্রমণকে সাথে নিয়ে শ্রদ্ধেয় বনভান্তের দর্শনে আসেন। ১৯৭৭ ইংরেজীর ২৮ নভেম্বর রাজবন বিহার প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর শ্রদ্ধেয় বনভান্তের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধায় এবং শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ নন্দপাল ভান্তের উৎসাহ অনুপ্রেরণায় তিনি শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার শ্রামন নামে শ্রদ্ধেয় বনভান্তের নিকট পুনঃ প্রব্রজ্জ্যা গ্রহণ করেন। পরে ১৯৭৯ ইংরেজীর ২১ জানুয়ারি রোজ রবিবার শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার ভিক্ষু নামে উপসম্পদা লাভ করার সুবর্ন সুযোগ লাভ করেন। তখন শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ সাধনানন্দ স্থবির( বনভান্তে) ভিক্ষু জীবনের ১৭ বর্ষা এবং শ্রীমৎ নন্দপাল ভান্তে ৭ বর্ষায় বর্ষীয়ান ছিলেন। উপসম্পদার সময় মহাস্থবির হিসেবে শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ জিনবংশ ভান্তে, শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ অরিন্দম ভান্তে উপস্থিত ছিলেন। সিনিয়র হিসেবে শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ জিনবংশ মহাস্থবির উপাধ্যায় গুরু ছিলেন। শ্রদ্ধেয় বনভান্তে তখন মহাস্থবিরত্বে পৌঁছাননি। ১৯৮১ সালে তিনি মহাস্থবির পদ অর্জন করেন।

১৯৭৩ : ১৯৭৩ সালের ৫ ও ৬ নভেম্বর তারিখে লংগদুর তিনটিলায় পূজ্য বনভান্তে এদেশে প্রথম চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা কেটে রং করে কাপড় বুনে সেলাই করে ‘দানোত্তম কঠিন চীবরদান’ করার রীতি প্রবর্তন করেন। কঠিন চীবরদানোৎসব বনভান্তেরই অনন্য শ্রেষ্ঠ অবদান।

১৯৭৪ : চাকমা রাজ পরিবার ও রাঙামাটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাদর আমন্ত্রণে ১৯৭৪ সালের ২৭ ও ২৮ নভেম্বর রাজ বিহারে অনুষ্ঠিত দানোত্তম কঠিন চীবরদানে পূজ্য বনভান্তে যোগদান করেন। এ সালে চাকমা রাজ পরিবার ও রাঙামাটির বিশিষ্ট উপাসক-উপাসিকাদের আকুল প্রার্থনায় তিনি তিনটিলা থেকে রাঙামাটিতে স্থায়ীভাবে অবস্থান করার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করলে রাজবাড়ির অনতিদূরে রাজ পরিবারের দানকৃত ভূমিতে ‘রাঙামাটি রাজবন বিহার’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৭৫ সালে রাজবন বিহারে সর্বপ্রথম বর্ষাব্রত পালন করেন শ্রীমৎ নন্দপাল ভিক্ষু ও শ্রীমৎ উত্তমানন্দ ভিক্ষু।

১৯৭৫ : ১৯৭৪ সালের দানোত্তম কঠিন চীবরদানানুষ্ঠানে যোগদানের লক্ষে আগমনরত পুণ্যার্থীগণের (মারের অশুভ প্রভাবে) লঞ্চডুবিতে কিছু পুণ্যার্থী নিহত হওয়ায় পূজ্য বনভান্তের নির্দেশক্রমে প্রথমবারের মতো মারবিজয়ী অর্হৎ উপগুপ্ত মহাথের মহোদয়কে আমন্ত্রণ করার মাধ্যমে এদেশে উপগুপ্ত ভান্তেকে পূজা করার রীতি প্রবর্তিত হয়। বে সহযোগীতা প্রদানকারী উঃ চান্দিমা নামে জনৈক ভিক্ষু (যোগাযোগ রক্ষাকারী মার্মা ভিক্ষু)-কে দিয়ে বার্মায় পাঠিয়ে দেন। সেখানে অর্থাৎ বার্মায় আর্যপাল শ্রমণ, সঙ্ঘপাল শ্রমণ এবং নন্দপাল শ্রমণ তিনজন একসাথে উপসম্পদা গ্রহণ করেন তবে বনভান্তের শিষ্য হিসেবে এদের মধ্যে একমাত্র শ্রীমৎ নন্দপাল ভিক্ষু শেষ পর্য্যন্ত প্রব্রজ্জ্যা জীবনে ঠিকে রয়েছেন।

শ্রীমৎ নন্দপাল ভিক্ষু ১৯৭৩ - ১৯৭৪ সালের বর্ষাব্রত সেখানে উদযাপন করে ত্রিপিটক শেখার ফাঁকে গুরু দর্শনের লক্ষে স্বদেশে ফিরে লংগদু আসেন। শ্রদ্ধেয় বনভান্তের সাথে সহকারী ভিক্ষু না থাকার কারনে এবং রাজবনবিহার রাঙ্গামাটি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালনের জন্য গুরু ভান্তের নির্দেশ প্রতিপালন করতে পরবর্তীতে (১৯৭৫ সালে দ্বিতীয় গ্রুপ বার্মায় গমনকারী উত্তরপাল ভিক্ষু বর্তমানে দেবাশীষ নগর নিবাসী কিরনময় চাকমা, সত্যলংকার ভিক্ষু বর্তমানে শ্রীমৎ সুমনালঙ্কার ভান্তে, অধ্যক্ষ পিবিএম কমলছড়ি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা, সংঘপাল ভিক্ষু( বর্তমানে বার্মায় গৃহী হিসেবে জীবনযাপন করতেছেন, ১৯৭৫ সালে যিনি বার্মায় ছিলেন) তাদের সংযোগে শ্রীমৎ নন্দপাল ভিক্ষু যাননি। এসময় ( ১৯৭৫ সাল) শ্রীমৎ নন্দপাল ভিক্ষু প্রথম রাজপরিবারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত রাজবন বিহারে আরেক সহকর্মী শ্রীমৎ উত্তমানন্দ ভিক্ষুকে সাথে রেখে রাজবনবিহার, রাঙ্গামাটিতে বর্ষাব্রত পালন করেন। তখন রাজবন বিহারের নাম ছিল রাজবন শমথ ও বিদর্শন ভাবনাকেন্দ্র, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। 
১৯৭৬ সালে প্রথমবার শ্রদ্ধেয় বনভান্তে রাজবন বিহার রাঙ্গামাটিতে দক্ষিণ হস্ততুল্য শ্রীমৎ নন্দপাল ভিক্ষুকে সাথে নিয়ে বর্ষাব্রত যাপনের পর আবার লংগদু ফিরে যান তবে বর্ষাব্রত সমাগত হলে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে চলে আসেন। আবার ১৯৭৭ সালে নন্দপাল ভিক্ষু বন্দুকভাঙ্গার খারিখ্যং শাক্য বনবিহারে একাকী বর্ষাব্রত পালন করেন। তারপর ১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সাল পর্য্যন্ত একনাগাড়ে ৫ বছর শ্রদ্ধেয় বনভান্তে ও শ্রদ্ধেয় নন্দপাল ভান্তে গুরুশিষ্য একসাথে রাজবন বিহারে বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান ও পালন করেন।
১৯৭৭ সালে একদিন শ্রদ্ধেয় বোধিপাল ভান্তে গামারীঢালা এলাকা থেকে প্রব্রজ্জিত শিক্ষিত ভদ্র, নম্র শ্রীবিরলোচন চাকমা নামে একজন অস্থায়ী শ্রমণকে সাথে নিয়ে শ্রদ্ধেয় বনভান্তের দর্শনে আসেন। ১৯৭৭ ইংরেজীর ২৮ নভেম্বর রাজবন বিহার প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর শ্রদ্ধেয় বনভান্তের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধায় এবং শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ নন্দপাল ভান্তের উৎসাহ অনুপ্রেরণায় তিনি শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার শ্রামন নামে শ্রদ্ধেয় বনভান্তের নিকট পুনঃ প্রব্রজ্জ্যা গ্রহণ করেন। পরে ১৯৭৯ ইংরেজীর ২১ জানুয়ারি রোজ রবিবার শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার ভিক্ষু নামে উপসম্পদা লাভ করার সুবর্ন সুযোগ লাভ করেন। তখন শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ সাধনানন্দ স্থবির( বনভান্তে) ভিক্ষু জীবনের ১৭ বর্ষা এবং শ্রীমৎ নন্দপাল ভান্তে ৭ বর্ষায় বর্ষীয়ান ছিলেন। উপসম্পদার সময় মহাস্থবির হিসেবে শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ জিনবংশ ভান্তে, শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ অরিন্দম ভান্তে উপস্থিত ছিলেন। সিনিয়র হিসেবে শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ জিনবংশ মহাস্থবির উপাধ্যায় গুরু ছিলেন। শ্রদ্ধেয় বনভান্তে তখন মহাস্থবিরত্বে পৌঁছাননি। ১৯৮১ সালে তিনি মহাস্থবির পদ অর্জন করেন।

১৯৭৩ : ১৯৭৩ সালের ৫ ও ৬ নভেম্বর তারিখে লংগদুর তিনটিলায় পূজ্য বনভান্তে এদেশে প্রথম চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা কেটে রং করে কাপড় বুনে সেলাই করে ‘দানোত্তম কঠিন চীবরদান’ করার রীতি প্রবর্তন করেন। কঠিন চীবরদানোৎসব বনভান্তেরই অনন্য শ্রেষ্ঠ অবদান।

১৯৭৪ : চাকমা রাজ পরিবার ও রাঙামাটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাদর আমন্ত্রণে ১৯৭৪ সালের ২৭ ও ২৮ নভেম্বর রাজ বিহারে অনুষ্ঠিত দানোত্তম কঠিন চীবরদানে পূজ্য বনভান্তে যোগদান করেন। এ সালে চাকমা রাজ পরিবার ও রাঙামাটির বিশিষ্ট উপাসক-উপাসিকাদের আকুল প্রার্থনায় তিনি তিনটিলা থেকে রাঙামাটিতে স্থায়ীভাবে অবস্থান করার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করলে রাজবাড়ির অনতিদূরে রাজ পরিবারের দানকৃত ভূমিতে ‘রাঙামাটি রাজবন বিহার’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৭৫ সালে রাজবন বিহারে সর্বপ্রথম বর্ষাব্রত পালন করেন শ্রীমৎ নন্দপাল ভিক্ষু ও শ্রীমৎ উত্তমানন্দ ভিক্ষু।

১৯৭৫ : ১৯৭৪ সালের দানোত্তম কঠিন চীবরদানানুষ্ঠানে যোগদানের লক্ষে আগমনরত পুণ্যার্থীগণের (মারের অশুভ প্রভাবে) লঞ্চডুবিতে কিছু পুণ্যার্থী নিহত হওয়ায় পূজ্য বনভান্তের নির্দেশক্রমে প্রথমবারের মতো মারবিজয়ী অর্হৎ উপগুপ্ত মহাথের মহোদয়কে আমন্ত্রণ করার মাধ্যমে এদেশে উপগুপ্ত ভান্তেকে পূজা করার রীতি প্রবর্তিত হয়।

🖕👉এখানে ১৯৭৫ সালের কথা লেখক ইন্দ্রগুপ্ত ভান্তে তার সংগৃহীত তথ্যে প্রচ্ছন্ন রেখেছেন। তিনি ১৯৭৪ সালের প্রসঙ্গ টেনেছেন। কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান সম্পাদন করা হয় রাজবাড়ীর প্রাঙ্গণ সংলগ্ন রাজবিহার-এ । তখন মানে ১৯৭৪ সালে কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠানে বনভান্তেকে ফাং করলে তিনি আরণ্যিক ধুতাঙ্গ পালনকারী হিসেবে রাজবাড়ী এবং রাজবিহারের অদূরের অরণ্যে কুঠির করে দিতে বলেছিলেন। পরের বছর ১৯৭৫ সালে রাজবন বিহার রাঙ্গামাটিতে শ্রীমৎ নন্দপাল ভিক্ষু ও শ্রীমৎ উত্তমানন্দ ভিক্ষু বর্ষাব্রত পালন করেছিলেন। এবছর উত্তরপাল ভিক্ষু, সত্যলংকার ভিক্ষু বার্মায় যেতে চাইলে প্রথমে অনুমতি প্রদান করলেও বুড়োচোগী বাপের কিছু কথায় অনুমতি প্রত্যাহার করে নেন আর স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বার্মায় যেতে চাইলে তার শিষ্যত্ব ত্যাগ করে যেতে পারে। তারা দুজন প্রব্রজ্জ্যা ত্যাগ করে গৃহী হন। পরে রাজগুরু অগ্রবংশ ভান্তের কাছে পুনঃ প্রব্রজ্জ্যা নিয়ে বার্মায় যান। বার্মায় তাদের অপেক্ষায় ছিলেন সঙ্ঘপাল ভিক্ষু।

১৯৭৬ : পূজ্য বনভান্তে প্রথমবারের মতো রাঙামাটি রাজবন বিহারে বর্ষাবাস যাপন করেন সাথে ছিলেন তাঁর ধৈর্যশীল সুযোগ্য শিষ্য শ্রীমৎ নন্দপাল ভিক্ষু, উত্তমানন্দ ভিক্ষু অন্যত্র চলে যান। উত্তমানন্দ ভিক্ষু বনভান্তের শিষ্য ছিলেন না। বর্ষাবাস সমাপনান্তে তিনি (বনভান্তে) পুনরায় তিনটিলায় গমন করেন।

১৯৭৭ : প্রায় ছয় বছর লংগদুর তিনটিলায় অবস্থান করার পর ১৯৭৭ সালে সশিষ্যে রাঙামাটির রাজবন বিহারে এসে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন। মূলত পূজ্য বনভান্তে রাঙামাটি আসার পর থেকে তাঁর শিষ্যসংঘ গঠনে মনোনিবেশ করেন। ইতিপূর্বে পূজ্য বনভান্তের কাছে দীক্ষা নেওয়া শিষ্যদের মধ্য থেকে শ্রীমৎ উত্তরপাল ভিক্ষু, শ্রীমৎ সত্যলঙ্কার ভিক্ষু (সুমনালঙ্কার সুপরিচিত বেড়াভান্তে) প্রব্রজ্জ্যা ত্যাগ করে রাজগুরু অগ্রবংশ ভান্তের নিকট দীক্ষা ও উপসম্পদা গ্রহণ করতঃ বার্মায় যান এবং ইতিপুর্বে বার্মায় অবস্থানরত শ্রীমৎ সঙ্ঘপাল ভিক্ষুও পরবর্তীতে ভিক্ষুত্ব ত্যাগ করে গৃহীজীবন ধারন করেন। ১৯৭৭ সালের ২৮ নভেম্বর জনৈক যুবক পূজ্য বনভান্তের কাছে পুনঃপ্রব্রজ্জ্যা গ্রহণ করলে তাঁর নাম রাখেন শ্রীমান প্রজ্ঞালংকার শ্রামণ, ইতিপুর্বে তিনি গামারী ঢালা এলাকার একটি বৌদ্ধ বিহারে শ্রীমৎ নীউলা মং ভান্তের নিকট কিছুদিনের জন্য প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেছিলেন পরে শ্রদ্ধেয় বোধিপাল ভান্তের সাথে রাজবনবিহারে শ্রদ্ধেয় বনভান্তের দর্শন লাভ করেন। শ্রীমান প্রজ্ঞালংকার শ্রামণকে ১৯৭৯ সালের ২১ জানুয়ারি পূজ্য বনভান্তের উপস্থিতিতে শ্রীমৎ জিনবংশ মহাস্থবির ভান্তের উপাধ্যায়ত্বে শুভ উপসম্পদা লাভ করেন। বর্তমানে তিনি পূজ্য বনভান্তের শিষ্য হিসেবে রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন।

১৯৭৮ : রাজমাতা বিনীতা রায় (বুড়ারাণী), গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা থাকাকালীন সরকারি অনুদানে ও সর্বসাধারণের শ্রদ্ধাদানে পুরাতন টিনশেড দেশনালয় নির্মিত হয়। বর্তমান পাকা দেশনালয়টি নির্মিত হওয়ার আগ পর্যন্ত পূজ্য বনভান্তে পুরাতন টিনশেড দেশনালয়ে বসে দীর্ঘদিন ভক্তদের উদ্দেশ্যে সদ্ধর্ম দেশনা করতেন।

১৯৭৯ : ভান্তের একনিষ্ঠ ভক্ত ডা. হিমাংশু বিমল দেওয়ান পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট একটি মাটির ঘর (উত্তর গুদাম) ও তৎসংলগ্ন চংক্রমণ ঘর দান করেন। পূজ্য ভান্তে এই উত্তর গুদামে বেশ কিছুকাল অবস্থান করেছিলেন। ১৯৮১ : এ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী শুভ মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে রাজবন বিহারে ভিক্ষুসীমা ঘর (ঘ্যাং ঘর) স্থাপন করা হয়। উক্ত তারিখে নবপ্রতিষ্ঠিত সেই ঘ্যাং ঘরে পূজ্য বনভান্তেকে ‘মহাস্থবির বরণ’ করা হয়। পূজ্য বনভান্তের ‘মহাস্থবিরবরণ’ অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কা সরকার কর্তৃক (উপহার হিসেবে) প্রদত্ত বোধিবৃক্ষ চারা উক্ত ঘ্যাং ঘরের পাশে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন ধর্মমন্ত্রী নিজ হাতে রোপণ করেন। এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রীলঙ্কার হাই কমিশনার চরিতা রানা সিংহা (সস্ত্রীক), বার্মার (বর্তমানে মায়ানমার) রাষ্ট্রদূত (সস্ত্রীক), এবং ভারতের হাই কমিশনার মুচকুন্দ দুবে। সদ্ধর্মপ্রাণ উপাসক ম্যাজিস্ট্রেট প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা কর্তৃক ভারতের বুদ্ধগয়া হতে সংগৃহীত ‘বোধিবৃক্ষ চারা’ শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে পূজ্য ভান্তে নিজ হাতে রোপন করেন। ১৯৮২ - এবছর শ্রদ্ধেয় বনভান্তেকে পালকীতে করে নিয়ে বন্দুকভাঙ্গার দুর্গম গিরিমৌনতটে যমচুগ বনাশ্রম ভাবনাকেন্দ্র উদ্বোধন করা হয় এটি ছিলো ভিক্ষু শ্রামনদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে প্রথম ভাবনাকেন্দ্র। অনুষ্ঠানে চেঙ্গী কাচলং এলাকার হাজার হাজার পূণ্যার্থীদের সমাগম হয়।

১৯৮৩ : শ্রদ্ধাবান উপাসক পূজ্য ভান্তের বাল্যবন্ধু বাবু অজিত কুমার দেওয়ান পূজ্য ভান্তের বসবাসের জন্য একটি বাংলো টাইপের মাটির ঘর (মাট্যা গুদাম) দান করেন। পূজ্য ভান্তে দীর্ঘ প্রায় এগার বছর এই গুদামে অবস্থান করেন। ১৯৮৬ : তৎকালে পার্বত্য চট্টগ্রামের গোলযোগপূর্ণ সময়ে বহু লোকের অকালমৃত্যু ঘটায় তাদের পারলৌকিক সদ্গতি কামনায় পূজ্য ভান্তের নির্দেশে উপাসিকা স্বর্ণলতা দেওয়ান, সমীরা দেওয়ান ও কনকলতা খীসার নেতৃত্বে সর্বজনীন সংঘদান করা হয়। তার পর থেকে ইহা ‘মহাসংঘদান’ আকারে উপাসিকাদের উদ্যোগে প্রতিবছর উদ্‌যাপিত হয়ে আসছে। ১৯৮৭ : বুদ্ধশাসনে পূজ্য বনভান্তের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবদান সুত্তপিটকের অন্তর্গত খুদ্দক নিকায়ের সুত্ত নিপাত গ্রন্থটির অনুবাদ। এটি ১৯৮৭ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি বিজ্ঞমহলে যথেষ্ট সমাদর লাভ করে। পরবর্তীকালে উক্ত গ্রন্থটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যলিয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এম,এ শ্রেণীর পাঠ্য-তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ত্রিপিটক শাস্ত্র অধ্যায়নকারী অভিজ্ঞ হিসেবে বইটি প্রুফ সংশোধন করেন শ্রীমৎ নন্দপাল ভিক্ষু। তিনি পালি এবং বার্মিস অক্ষরে লিখিত সুত্রের সাথে অনুবাদের সামঞ্জস্য নিরীক্ষা করেন। ১৯৮৮ : ২২ এপ্রিল রাজবন বিহারে ১৩,৭৯,২৫১ টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত দ্বিতল বিহার ভবনটি সাড়ম্বরে দানোৎসর্গ করা হয়। উক্ত বিহার ভবন উদ্বোধনকালে সস্ত্রীক ভারতীয় হাই কমিশনার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা বাবু বিনয় কুমার দেওয়ান, চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়সহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

             ২১ অক্টোবর উপাসিকাদের উদ্যোগেও সর্বসাধারণের শ্রদ্ধাদানে পূজ্য বনভান্তের জন্য নির্মিত পাকা ‘ভোজনশালা’ দানোৎসর্গ করা হয়।

১৯৮৯ : এ বছর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধাদানে পরমপূজ্য বনভান্তের জন্য একটি রাশিয়ান জীপ গাড়ি আনুমানিক ৬ লক্ষ টাকায় ক্রয় করে দান করা হয়।

১৯৯১ : পূজ্য বনভান্তে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার যোগে রাঙামাটি পার্বত্য জেলাস্থ যমচুগ ও বাঘাইছড়ি উপজেলার রূপকারী এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহাজন পাড়াস্থ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন। এদেশে ইতিপূর্বে কোনো ভিক্ষুর হেলিকপ্টার যোগে ধর্মীয় সফর করার সৌভাগ্য হয়নি। পূজ্য বনভান্তের এটা একটা ইতিহাস সৃষ্টি করা ঘটনা। এ বছরে দানোত্তম কঠিন চীবরদানানুষ্ঠান উপলক্ষে রাঙামাটির রিজিয়ন কমান্ডার জনাব আহসান নাজমুল আমীন সস্ত্রীক ‘বেইন (চীবর) বুনা’ দেখতে আসেন। রাঙামাটি জেলার সবচেয়ে উঁচু পাহাড় ফুরমোন চূড়ায় ‘ফুরমোন শাখা বন বিহার’ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ইহার নামকরণ করা হয় ‘ফুরমোন আন্তর্জাতিক সাধনাতীর্থ বন ভাবনা কেন্দ্র’ । ১৯৯২ : ২৪ জানুয়ারী রাজবন বিহারের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। পূজ্য ভান্তের নির্দেশে এদিনটিতে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে অষ্টধাতুর বৃহৎ দুটি বুদ্ধমূর্তি নির্মাণকাজ শুরু করা হয়-রাজবন বিহারে। ১২ মার্চ সার্বজনীন উপোসনা বিহার দানোৎসর্গ করা হয়। পূজ্য বনভান্তে কর্তৃক লিখিত ধুতাঙ্গবিষয়ক গ্রন্থ সুদৃষ্টি এ বছর প্রবারণা পূর্ণিমায় প্রকাশিত হয়। এ বছর ২০ নভেম্বর পূজ্য বনভান্তে জুরাছড়িতে সশরীরে উপস্থিত থেকে সুবলং জুরাছড়ি শাখা বনবিহারের লিখিত অনুমোদন প্রদান করেন।

১৯৯৩ : ৫ মার্চ রাজবন বিহারের ইতিহাসে একটি চিরস্মরণীয় দিন। এদিনে পূজ্য ভান্তের নির্দেশনায় বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে অষ্টধাতুর দুটি বুদ্ধমূর্তি রাজবন বিহারে তৈরী করা হয়। বুদ্ধমূর্তি দুটির নাম যথাক্রমে গৌতমমুনি বুদ্ধমূর্তি ও শাক্যমুনি বুদ্ধমূর্তি। বুদ্ধমূর্তি দুটির উচ্চতা ও ওজন যথাক্রমে ৫ ফিট, ১০ মণ ১১ কেজি এবং ৫ ফিট, ১০ মণ ১০ কেজি। সেই সাথে দেড় ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট একটি উপগুপ্ত মহাথের মূর্তি নির্মাণ করা হয়। ইহার ওজন ৩৫ কেজি। এবছর বর্ষাবাসের পর বুদ্ধমুর্তিগুলোর জীবন্যাস এবং রাজবন ঘ্যাংঘর/ ভিক্ষুসীমায় শ্রীমৎ বোধিপাল মহাস্থবির, শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবিরদ্বয়কে ১) শ্রীমৎ শীলালংকার মহাস্থবির, ২) শ্রীমৎ বুদ্ধ রক্ষিত মহাস্থবির, ৩)শ্রীমৎ জ্যোতিপাল মহাস্থবির, ৪) শ্রীমৎ বোধিমিত্র মহাস্থবির ও ৫) শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে) প্রমুখ একসঙ্ঘ মহাস্থবিরের সম্মুতি কর্মবাক্য পাঠের মাধ্যমে মহাস্থবির অভিধায় বরণ করা হয়। শ্রদ্ধেয় বোধিপাল মহাস্থবির, শ্রদ্ধেয় নন্দপাল মহাস্থবিরকে চেয়ারে উপবিষ্ঠাবস্থায় জয়ধ্বনিতে রাজবনবিহার প্রদক্ষিণ করার পর বোধিবৃক্ষের সাইডে প্রস্তুতকৃত ধর্মীয় অনুষ্ঠান মঞ্চে বনভান্তের ডানদিকে নন্দপাল ভান্তকে উপবেশন করে প্রধান শিষ্য অভিধায় উপস্থাপনা করে দেশনা দেয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয় অনুষ্ঠানে প্রধান ধর্মদেশক ছিলেন শ্রদ্ধেয় বনভান্তে।

শ্রদ্ধেয় বোধিপাল মহাস্থবিরকে যৌথভাবে ১সেট সেট বার্মিজ চীবর দান করেন রাজবন বিহার রাঙ্গামাটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি / সাধারন সম্পাদক এর পক্ষে চম্পকনগর নিবাসী শ্রীইন্দ্রনাথ চাকমা, কালিন্দীপুর নিবাসী শ্রীচিত্তরঞ্জন চাকমা (শিমুল্যাবাপ), শ্রদ্ধেয় নন্দপাল মহাস্থবিরকে চীবর সেট দান করেন কমিটির সদস্যা রাঙ্গামাটির দঃ কালিন্দীপুর নিবাসী উপাসিকা কনকলতা খীসা (ধীমানের মা)। 
            শ্রদ্ধাবতী উপাসিকা লাকী চাকমার অর্থায়নে ও উদ্যোগে বনভান্তের বাসোপযোগী ভবন-এর নির্মিত কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। 

৬ মে বুদ্ধপুর্ণিমায় ডা. অরবিন্দ বড়ুয়া কর্তৃক সংকলিত বনভান্তে দেশনা ১ম খণ্ড প্রকাশিত হয়। এ বছর পূজ্য বনভান্তে তাঁর জলমগ্ন জন্মস্থান চিহ্নিত করেন।

১৯৯৪ : ১৫ মার্চ শ্রদ্ধাবতী উপাসিকা লাকী চাকমার অর্থায়নে ও সর্বসাধারণের অংশগ্রহণে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বনভান্তের বাসভবন ‘সাধনা কুটির’ আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসর্গ করা হয়।

             লংগদু তিনটিলা শাখা বনবিহার দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর ১৯৯৪ সালে বনভান্তের অন্যতম শিষ্য শ্রীমৎ ভৃগু মহাস্থবিরের উদ্যোগে পুনঃসংস্কার কাজ শুরু হয়। 

এ বছর রাঙামাটি রাজবন বিহারে রাজমাতা আরতি রায়, বাবু ইন্দ্রনাথ চাকমা ও মিসেস লাকী চাকমাপ্রমুখ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির উদ্যোগে পূজ্য বনভান্তের জন্য বনভান্তে চংক্রমণ-ঘর নামক পাকা ও লম্বা চংক্রমণ-ঘরটি নির্মাণ করা হয়। এটি ২১ আশ্বিন ১৪০২ বাংলায় উদ্বোধন করেন মহামান্য সংঘরাজ ভদন্ত শীলালঙ্কার মহাস্থবির। ১৯৯৫ : ২৭ জানুয়ারী খাগড়াছড়ি জেলা সদরের পেরাছড়া এলাকায় ধর্মপুর আর্যবন বিহার প্রতিষ্ঠিত হয়। রাঙামাটি আসার পর পূজ্য ভান্তে একমাত্র এ শাখা বনবিহারেই একবর্ষা যাপন করেন।

             এবছর মহামান্য অষ্টম সংঘরাজ ভদন্ত শীলালঙ্কার মহাস্থবির মহোদয় পূজ্য বনভান্তের সান্নিধ্যে রাঙামাটি রাজবন বিহারে একবর্ষা অবস্থান করেন।

১৯৯৬ : এই বছর হতে পূজ্য বনভান্তের জন্মদিন (৮ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্‌যাপিত হয়ে আসছে। ভগবান বুদ্ধ তাবতিংস স্বর্গ হতে মর্ত্যের সাংকাশ্য নগরে অবতরণের স্মৃতির স্মরণে এদেশে প্রথমবারের মতো পূজ্য বনভান্তের দিক-নির্দেশনায় ‘ছিমিতং’ (দ্বীপমেরু) পূজা প্রবর্তিত হয়। এ বছর পূজ্য বনভান্তে চুলামনি চৈত্যের উদ্দেশে কার্তিকী পূর্ণিমা হতে অগ্রহায়ণ পূর্ণিমা পর্যন্ত মাসব্যাপী আকাশ-প্রদীপ প্রজ্বলন প্রবর্তন করেন।

১৯৯৭ : এবছর ১৯ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বনভান্তের সাথে সৌজন্যসাক্ষাৎ করে তাঁর উপদেশ-পরামর্শ নেন। পূজ্য ভান্তে প্রধানমন্ত্রীকে জ্ঞান, বুদ্ধি, কৌশল নিয়ে রাষ্ট্রপরিচালনার পরামর্শ দেন। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের শান্তি সমৃদ্ধির লক্ষে এবছর ২রা ডিসেম্বর ১৯৯৭ ইং গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং জনসংহতি সমিতির মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদন করা হয়।

এবছর ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল শংকর রায় চৌধুরী (Sankar Roy Chowdhury) রাজবন বিহার পরিদর্শন করেন এবং পূজ্য ভান্তের সাথে তাঁর বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে কুশল বিনিময় করেন।

১৯৯৮ : নানিয়ারচর উপজেলায় রত্নাঙ্কুর শাখা বনবিহার ও খাগড়াছড়ি পানছড়ি উপজেলায় মণিপুর শাখা বনবিহার প্রতিষ্ঠিত হয়।

            এ বছর দীঘিনালা এলাকাবাসীর উদ্যোগে ও শ্রীমৎ আনন্দ ভিক্ষুর (বর্তমানে স্থবির) সার্বিক সহায়তায় পূজ্য বনভান্তের স্মৃতিধন্য ও দীর্ঘকালীন সাধনাপীঠ দীঘিনালায় ‘দীঘিনালা শাখা বনবিহার প্রতিষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, পূজ্য বনভান্তে এখানে ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দশ বৎসর সাধনা করেছিলেন।

১৯৯৯ : আর্যবন বিহার, ধর্মপুর (পেরাছড়া), খাগড়াছড়িতে এক বর্ষাবাস যাপন করেন। এরপর তিনি রাজবন বিহারে প্রত্যাবর্তন করেন। উল্লেখ্য যে, চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের নেতৃত্বে পরমপূজ্য বনভান্তে মহোদয়কে সসম্মানে ও সগৌরবে ২০০টির মতো গাড়ির বিশাল শোভাযাত্রা-সহকারে খাগড়াছড়ি হতে তাঁর আজীবন সাধনপীঠ রাঙামাটি রাজবন বিহারে আনা হয়।

২০০০ : মন্ত্রী কল্পরঞ্জন চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন সরকারি অনুদানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে রাজবন বিহারের ‘অতিথিশালা’ নির্মিত হয়।

 তৎকালীন মন্ত্রী বাবু কল্পরঞ্জন চাকমা এবং রাঙামাটি শহরতলীর রাঙাপানি গ্রাম নিবাসী ডা. রবিন চাকমা ও তন'মনি চাকমার আন্তরিক প্রচেষ্টায় সরকারি অনুদানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে রাঙামাটি রাজবন বিহারে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ‘রাজবন হাসপাতাল’ নির্মিত হয়।

এবছর ২৬ অক্টোবর পূজ্য বনভান্তের অনুমোদনক্রমে দেশের বাইরে প্রথম ভারতের ত্রিপুরাস্থ মায়নামায় ‘মনুগাঙ শাখা বনবিহার’ প্রতিষ্ঠিত হয়। উক্ত বিহারের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন শ্রীমৎ মধ্যকল্যাণ ভিক্ষু। ২৬ অক্টোবর কঠিন চীবরদান উপলক্ষে সফরকালে মহালছড়ি উপজেলাস্থ মিলনপুর শাখা বনবিহারে পূজ্য বনভান্তে জঙ্গলি বিষকচু খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার পর থেকে পূজ্য বনভান্তে শারীরিক বার্ধক্যজনিত কারণে বাইরে ফাঙে যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করেন। ২০০২ : সাত তলাবিশিষ্ট প্রতীকী পাকা ‘স্বর্গঘর’ নির্মিত হয়। ২০০৩ : ১১ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক রাজবন বিহার পরিদর্শন করেন এবং বনভান্তের উপদেশ ও পরামর্শ নেন।

             ২০ জুন বনভান্তের দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দেশনালয় রাজবন বিহার রাঙামাটিতে দানোৎসর্গ করা হয়। 

২১ অক্টোবর মায়ানমারের সামরিক চীফ অফ স্টাফ লে. জেনারেল অংথুই-এর নেতৃত্বে একদল ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা পূজ্য বনভান্তের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পূজ্য ভান্তের বাসভবনে। একই সাথে ভান্তের উপদেশও শ্রবণ করেন। ২০০৪ : বনভান্তের জন্মদিনকে (৮ জানুয়ারি) চিরস্মরণীয় করে রাখার মানসে তাঁরই শিষ্যসংঘ কর্তৃক ৭ জানুয়ারি ২০০৩ সালের সাধারণ সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত-অনুযায়ী পূজ্য ভান্তের জন্মদিন উপলক্ষে ‘বনভান্তে জন্মস্মারক’ নামক বার্ষিক প্রকাশনা ২০০৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে উক্ত স্মরণিকাটি প্রতি-বছর প্রকাশিত হয়ে আসছে। এ বছর ২৯ জুলাই পূজ্য বনভান্তের উৎসাহে ও পরামর্শে তাঁরই শিষ্যসংঘ কর্তৃক রাজবন বিহারে একটি ‘আধুনিক অফসেট প্রেস’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি প্রায় শতাধিক মূল পিটকীয় গ্রন্থসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, যা এদেশে বুদ্ধধর্ম প্রচার-প্রসার ও স্থিতিকল্পে এক যুগান্তকারী অবদান রাখে। পূজ্য বনভান্তের চোখে ছানি পড়লে ৩০ নভেম্বর ২০০৪ সালে ভারতের মাদ্রাজ (ভেল্যুর) থেকে আগত বিশিষ্ট চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এন্ড্রু ব্রাগেন পূজ্য ভান্তের বামচক্ষু অপারেশন করেন। রাজবন বিহারস্থ দেশনালয়ে তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপমন্ত্রী বাবু মনিস্বপন দেওয়ানের উপস্থিতিতে মায়ানমারের রাষ্ট্রদূত সস্ত্রীক সংঘদানের মাধ্যমে পূজ্য বনভান্তেকে ত্রিপিটক দান করেন। ২০০৫ : ২১ মার্চ ভারতের হাই কমিশনার মিস বীণা সিক্রী ও ডেপুটি হাই কমিশনার মি. অশোক দাশ পূজ্য বনভান্তের সাথে সাক্ষাৎপূর্বক আশীর্বাদ নিতে রাজবন বিহারে আগমন করেন। ২২ এপ্রিল জাপানের রাষ্ট্রদূত Mr. Matsushino Horiguch (মাৎসুশিনো হরিগুচ) রাজবন বিহার পরিদর্শন করেন ও পূজ্য ভান্তের সাথে সাক্ষাৎপূর্বক উপদেশ-পরামর্শ গ্রহণ করেন। ২৫ মে মি. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মিজ জুডিথ চামাস পূজ্য বনভান্তের সাথে সৌজন্য-সাক্ষাৎ করেন ও রাজবন বিহার পরিদর্শন করেন। ২ আগষ্ট বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার ব্রিগেডিয়ার ইয়ান ডেভিড ওকলে রীজ বনভান্তের সাথে সৌজন্য-সাক্ষাৎ করেন এবং রাজবন বিহার পরিদর্শনপূর্বক পরিদর্শন বহিতে স্বাক্ষর করেন। এ বছর ৯ ডিসেম্বর মাসে পূজ্য বনভান্তের উপদেশ ও পরামর্শে এবং বাবু অশ্বিনী কুমার চাকমা, বাবু প্রবীর চন্দ্র চাকমা ও বাবু সমীরণ চাকমার উদ্যোগে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম সারারাতব্যাপী পরিত্রাণ সূত্র শ্রবণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বৌদ্ধ নরনারীসহ সমগ্র বাংলাদেশের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ২০০৬ : ১০ মে পূজ্য বনভান্তে সশিষ্যে তাঁর জন্মভূমি মোরঘোনা পরিদর্শন করেন। ১১ নভেম্বর বৌদ্ধরাষ্ট্র থাইল্যান্ড থেকে আগত ৫১ জন বিশিষ্ট দায়ক-দায়িকা রাজবন বিহারে আগমন করেন ও ২০০ জোড়া চীবর ও পাত্র পূজ্য বনভান্তেকে দান দিয়ে পূজা করে কৃতার্থ হন। ২৩ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জনাব মাশুক হোসেন আহমদ পূজ্য বনভান্তের উপদেশ গ্রহণ করেন ও বনবিহার পরিদর্শন করেন। ২০০৭ : ০২ মার্চ ভারতের সহকারি হাই কমিশনার মি. সঞ্জয় ভট্টাচার্য্য পূজ্য বনভান্তের সাথে তাঁর বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন ও পূজ্য বনভান্তের আশীর্বাদ নেন। এবছর ২ জুন সকাল ৯টায় শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির কতৃক প্রার্থনা করা হলে বুদ্ধগয়া বনবিহার প্রতিষ্ঠার অনুমোদন প্রদান করেন। এসময় শ্রদ্ধেয় নন্দপাল ভান্তে কতৃক ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে শাখা বনবিহারসমূহ প্রতিষ্ঠার জন্য অনুমোদন নেয়া হয়। সাথে ছিলেন নরেন্দু চাকমা( হল কার্বারী)ইঞ্জিনিয়ার মোহন চাকমা (সাজু), অবঃ ম্যেজিস্ট্রেট প্রকৃতি রঞ্জন চাকমাসহ৮/ ১০ দায়ক এবং রাজবন বিহারের আবাসিক ও বনভান্তের একনিষ্ট সেবক শ্রীমৎ আনন্দ মিত্র ভান্তের সহকারী হিসেবে সেবায় নিয়োজিত শ্রীমৎ জয়তিলক ভিক্ষু, শ্রীমৎ প্রজ্ঞাবোধি ভিক্ষু, শ্রীমান প্রিয়জ্যোতি শ্রামণ, শ্রীমান শ্রদ্ধাবোধি শ্রামণ । শ্রদ্ধেয় বনভান্তের প্রধানসেবক আনন্দমিত্র ভান্তে নীচতলার রুমে ব্যস্ত ছিলেন।

৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার (জিওসি) পরবর্তীতে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান লে. জেনারেল জনাব আবদুল মুবিন পূজ্য বনভান্তের সাথে সাক্ষাৎ করেন ও বনভান্তের সদুপদেশ শুনে কৃতার্থ হন। শ্রীলঙ্কান হাই কমিশনার মি. ভি. কৃষ্ণামূর্তি সস্ত্রীক রাজবন বিহার পরিদর্শন করেন এবং পূজ্য বনভান্তের উপদেশ নেন। ২০০৮ : ৮ জানুয়ারি তাঁর শিষ্যসংঘ ও উপাসক-উপাসিকাগণ কর্তৃক পূজ্য ভান্তেকে একটি অত্যাধুনিক প্রাডো ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি দান করা হয়। সর্বসাধারণের পক্ষে চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় পূজ্য বনভান্তের হাতে গাড়ির চাবি প্রদান করেন। ৮ ফেব্রুয়ারি ভুটানের হাই কমিশনার মি. শেরিন দর্জি সস্ত্রীক বনভান্তেকে চীবরদানপূর্বক বনভান্তের আশীর্বাদ নেন। ৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের হাই কমিশনার মি. পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বনভান্তের সাথে সাক্ষাৎপূর্বক উপদেশ-পরামর্শ গ্রহণ করেন। ২৭ মার্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা জনাব ড. ফখরুদ্দিন আহমদ ও সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন উ আহমেদ পূজ্য বনভান্তের সাথে সৌজন্য-সাক্ষাৎ করেন এবং ভান্তের সদুপদেশ ও সুপরামর্শ নেন। ১৩ জুলাই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের এমএলএ (খামতি রাজা) মি. চৌ পিংটিকা নামচুম সপরিবারে পূজ্য বনভান্তের সাথে সাক্ষাৎ করেন ও ভান্তের আশীর্বাদ লাভে কৃতার্থ হন। অরুণাচল প্রদেশে বনবিহার শাখা প্রতিষ্ঠার অনুমোদনপ্রাপ্ত নিজ বিহারে স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষনের জন্য পূজ্য বনভান্তে তাঁকে ইতিপূর্বে সেবক আনন্দমিত্র ভান্তের তত্বাবধানে সংরক্ষিত থাকা তিনটি দাত থেকে একটি সহস্তে প্রদান করেন এবং সেবক আনন্দমিত্র ভান্তের মাধ্যমে থেকে বনভান্তের ব্যবহৃত পাত্রচীবর প্রদান করা হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মি. চালেরম্পুল থানচিতের নেতৃত্বে মি. পিসানু চানবিতান, ডাইরেক্টর জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অফ সাউথ এশিয়া, মিডল ইস্ট অ্যান্ড আফ্রিকান অ্যাফেয়ার্স, মিনিস্ট্রি অফ ফরেন অ্যাফেয়ার্স থাইল্যান্ডসহ একদল থাই ডেলিগেট বনভান্তেকে ৪০০ জোড়া চীবর ও পাত্র দান করেন এবং পূজ্য ভান্তের আশীর্বাদ লাভে ধন্য হন। ৬ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী পরমপূজ্য বনভান্তের সাথে তাঁর বাসভবনে সৌজন্য-সাক্ষাৎ করেন এবং রাজবন বিহারে অনুষ্ঠিত ৩৫তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানে চরকায় সুতা কেটে বেইন বুনা উদ্বোধন করেন। সিঙ্গাপুরের হাই কমিশনার মি. ভার্ঘিজ ম্যাথ্যুজ (Verghis Mathews) রাজবন বিহার পরিদর্শন করেন এবং পূজ্য ভান্তের আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। ১১ নভেম্বর থাইল্যান্ডের অর্হৎ ভিক্ষু আঝান্‌ চাহ্‌ -এর ব্রিটিশ বংশোদ্ভুত শিষ্য আঝান জয়াসারো মহাথের পরমপূজ্য ভান্তেকে চীবর দান করে আশীর্বাদ নেন। ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত জন. এফ মরিয়ার্টি বনভান্তের সাথে সৌজন্য-সাক্ষাতে তাঁর বাসভবনে মিলিত হন ও বনবিহার পরিদর্শনপূর্বক পরিদর্শন বহিতে স্বাক্ষ্র করেন। ২৮ নভেম্বর বার্মার (মায়ানমার) রাষ্ট্রদূত মি. ফায়ে থান উঃ সস্ত্রীক বনভান্তের সাথে সাক্ষাৎ করেন ও চীবর দান করেন। ২০০৯ : ২৯ ও ৩০ অক্টোবরে রাজবন বিহারে কঠিন চীবরদানানুষ্ঠানে আগত ব্রিটিশ বংশোদ্ভুত ভিক্ষু আঝান্‌ জয়াসারো মহাথেরর উদ্যোগে থাইল্যান্ডের উপাসক-উপাসিকাগণ কর্তৃক ১১টি (দণ্ডায়মান) বুদ্ধমূর্তি দান করা হয়। একই সাথে থাই রাষ্ট্রদূত মি. চালেরম্পুল থানচিতের নেতৃত্বে থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবল কর্তৃক প্রেরিত থাই প্রতিনিধি দল উক্ত অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মিজ থুনয়িং সুপত্রা মসদি ও আইএলও-এর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডাইরেক্টর মিজ পানুড্ডা বোনপালা। পূজ্য বনভান্তের জন্য প্রেরিত রাজা ভূমিবলের চীবর রাজার পক্ষে রাষ্ট্রদূত চালেরম্পুল থানচিত ভান্তেকে প্রদান করেন। ২০১০: ২৫ ফেব্রুয়ারী সকাল নয় ঘটিকায় এক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে পূজ্য বনভান্তে তাঁর বহুদিনের ইচ্ছা লাইব্রেরী ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন ২০১১ : ১২ মার্চ ব্রিটিশ হাই কমিশনার রাজবন বিহার পরিদর্শন করেন ও পূজ্য ভান্তের সাথে এক সৌজন্য-সাক্ষাতে মিলিত হন। ১৫ মার্চ চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীয় রায় জ্ঞাতি-পরিজন পরিবেষ্টিত হয়ে রাজকীয়ভাবে পূজ্য বনভান্তের নিকট সাময়িক প্রব্রজ্যা গ্রহণ করে সপ্তাহকাল অবধি অবস্থান করেন। তখন পূজ্য বনভান্তে তাঁর নাম দেন ‘রাষ্ট্রপাল শ্রামণ’। ২৪ নভেম্বর মায়ানমারের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সোয়ে উইন , তাঁর স্ত্রী মিসেস ড. থান থান নউয়ি ও তিন বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পরমপূজ্য বনভান্তের সাক্ষাৎ পেতে ও আশীর্বাদ নিতে রাজবন বিহারে আসেন। ২৭ ডিসেম্বর ড. অমিত চাকমা, ভাইস চ্যান্সেলর ওয়েস্টার্ন অন্টেরিও ইউনিভার্সিটি, কানাডা, বনভান্তের সম্মুখে বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান ও অষ্ট পরিষ্কার দান করেন এবং পরমপূজ্য বনভান্তের উপদেশ শ্রবণ করেন।

২০১২ : ৮ জানুয়ারি অন্যান্যবারের মতো এ’বছরও পূজ্য বনভান্তের ৯৩তম জন্মদিন জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্‌যাপিত হয়। এবছর বনভান্তের জন্মদিন উপলক্ষে থাইল্যান্ডের ধম্মকায়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং বনভান্তের শিষ্যসংঘের সার্বিক সহযোগিতায় ২৯৪ জন কুলপুত্রকে প্রব্রজ্যা প্রদান করা হয়। ১১ জানুয়ারি ভোরে পূজ্য ভান্তে তাঁর শিষ্যসংঘকে প্রাত্যহিক ধর্মদেশনা প্রদান করেন। বলা বাহূল্য, এটি ছিল তাঁর শিষ্যসংঘের উদ্দেশে সর্বশেষ ধর্মদেশনা। ১৩ জানুয়ারি লে. জেনারেল জগৎ জয়সুরিয়া, কমান্ডার অব দ্য শ্রীলঙ্কান আর্মি, রাজবন বিহার পরিদর্শন করেন এবং ভিজিটরস বইয়ে স্বাক্ষর করেন। ১৫/১৬ জানুয়ারি পূজ্য ভান্তে ঠাণ্ডাজনিত কারণে সামান্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি পূজ্য বনভান্তের জ্ঞাতিবর্গ ভান্তের উপস্থিতিতে ‘বনভান্তের বিশ্রামাগার’-এ সংঘদান করেন। এবং তাঁর কনিষ্ট ভ্রাতা জহর লাল- চাকমা কতৃক প্রদত্ত সর্বশেষ আহার গ্রহণ করেন। পরদিন হতে পূজ্য ভান্তে সম্পূর্ণ খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করেন—শুধুমাত্র কখনও কখনও সামান্য পরিমাণ কোকাকোলা পানীয় পান করেন। এরপর থেকে ক্রমেই তাঁর অসুস্থতা বাড়তে থাকে। ২৩ জানুয়ারি পূজ্য ভান্তের কনিষ্ঠ ভ্রাতা জওহর লাল চাকমা রাঙামাটি সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

২৬ জানুয়ারি পূজ্য ভান্তের শারীরিক অবস্থা ভীষণভাবে অবনতি হওয়ায় এক জরুরি আলোচনা আহ্বান করা হয়। উক্ত সভায় পূজ্য ভান্তের শিষ্যসংঘ, মেডিকেল বোর্ডের ডাক্তাররা ও চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়সহ উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক সর্বসম্মতিক্রমে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজধানী ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২৭ জানুয়ারি বেলা ১২:০৮ মিনিটের দিকে পূজ্য ভান্তের শত শত শিষ্য ও হাজারো ভক্ত-অনুরাগী মিলিত হয়ে পূজ্য ভান্তের আশু রোগমুক্তি কামনায় রাঙামাটি সার্কিট হাউসের মাঠে শ্রদ্ধেয় ভান্তেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেওয়া হয়। তার পর ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে সর্বাধুনিক উন্নত চিকিৎসা চলতে থাকে। উল্লেখ্য, তিনি বিগত বেশ কিছুদিন ধরে ডায়াবেটিস, নিউমোনিয়া, কিডনী ও লিভারের জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন। ৩০ জানুয়ারি পরমপূজ্য অর্হৎ বনভান্তে শত শত শিষ্য ও লাখো লাখো ভক্ত-অনুরাগীর সনির্বন্ধ প্রার্থনা উপেক্ষা করে ঢাকাস্থ স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩:৫৬ মিনিটে পড়ন্ত বিকেলে সর্বাসব ক্ষয়জনিত পরম সুখ নির্বাণে নির্বাপিত হন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "মহাস্থবির, সাধনানন্দ"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]