বিষয়বস্তুতে চলুন

সন্ধানী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সন্ধানী
সন্ধানী লোগো
নীতিবাক্যসেবাই আমাদের আদর্শ
গঠিত ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭; ৪৯ বছর আগে (1977-02-05)
প্রতিষ্ঠাস্থানঢাকা মেডিকেল কলেজ
ধরনস্বেচ্ছাসেবী সংগঠন
সদরদপ্তরসন্ধানী ভবন, 33/2, বাবুপাড়া রোড, নীলক্ষেত, ঢাকা, বাংলাদেশ
অবস্থান
  • ঢাকা, বাংলাদেশ
যে অঞ্চলে
বাংলাদেশ
পরিষেবাস্বেচ্ছায় রক্তদান, বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ
দাপ্তরিক ভাষা
বাংলা
স্বেচ্ছাকর্মী
প্রতিটি ইউনিটের ছাত্রদের সমন্বয়ে গঠিত
পুরস্কারস্বাধীনতা পুরস্কার
ওয়েবসাইটwww.sandhani.org

সন্ধানী বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।[] ১৯৭৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে যাত্রা শুরু করে[] এবং পরবর্তীকালে, ১৮ অক্টোবর, ১৯৭৯ তারিখে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ সন্ধ্যানীর দ্বিতীয় ইউনিটে পরিণত হয়। বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান আন্দোলনের পথিকৃৎ "সন্ধানী"।[] বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলোতে সন্ধানীর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। রক্ত দানের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি মানুষের চক্ষু ব্যাংক হিসেবে কাজ করে।[] মৃত্যুর পূর্বে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত চক্ষু দানের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে থাকে যাতে ভবিষ্যতে সেগুলো অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারেন।[][] সমাজসেবায় অবদানের জন্য ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্করে ভূষিত করে।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও প্রতিষ্ঠানটি রক্ত সংগ্রহ করে থাকে। সংগ্রহীত রক্তকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তা শ্রেণিবিন্যাস করা হয়।[] ১৯৭৮ সালের ২রা নভেম্বর ডিএমসিএইচ ব্লাড ব্যাংকে সন্ধানী প্রথমবারের মত ‘স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর’ আয়োজন করে এবং পরবর্তীতে এই দিনটিকেই ‘জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস’ হিসেবে পালন করার ঘোষণা দেয়া হয়।[] ১৯৮২ সালে ‘সন্ধানী ডোনার ক্লাব’ এবং ১৯৮৪ সালে সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি ও সন্ধানী জাতীয় চক্ষুব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়।

সন্ধানীর কার্যক্রম:

[সম্পাদনা]
  • স্বেচ্ছায় রক্তদান
  • বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ
  • মরণোত্তর চক্ষু দান
  • বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্প

ইতিহাস:

[সম্পাদনা]

১৯৭৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে যাত্রা শুরু করার পর সন্ধানীর দ্বিতীয় ইউনিট হিসেবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ আত্মপ্রকাশ করে ১৮ অক্টোবর, ১৯৭৯ সালে। সন্ধানী মূলত মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ছাত্রছাত্রী দ্বারা পরিচালিত একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালিত হয় ঐ নির্দিষ্ট ইউনিটের ছাত্রদের নিয়ে গঠিত একটি কার্যকরী কমিটির মাধ্যমে এবং সবগুলো ইউনিটকে সমন্বয় করার জন্য রয়েছে একটি ‘কেন্দ্রীয় পরিষদ’।[]

বেসরকারী মেডিকেল কলেজ:

[সম্পাদনা]

বেসরকারী মেডিকেল কলেজগুলোর প্রতিনিধি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের সন্ধানীর সাথে প্রথম পরিচয় ঘটে ১৯৯৫ সালে সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির একটি জোনের আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে।[] ২০০৩ সালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ আয়োজিত সন্ধানী ২২তম কেন্দ্রীয় বার্ষিক সম্মেলনে বেসরকারী মেডিকেল কলেজে সন্ধানী ইউনিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।[] প্রথম বেসরকারী মেডিকেল কলেজ হিসেবে সন্ধানী বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ইউনিট আত্মপ্রকাশ করে ১২ এপ্রিল,২০০৪ইং তারিখে। [] বর্তমানে সারা বাংলাদেশে অনেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজে সন্ধানীর শাখা রয়েছে।

পুরস্কার

[সম্পাদনা]
  • জুয়েল মেমোরিয়াল মেডেল - ১৯৮৬
  • আসফ-উদ-দৌলা মেমোরিয়াল মেডেল - ১৯৮৮
  • রিয়াল এডমিরাল মাহবুব আলী খান গোল্ড মেডেল - ১৯৯১
  • কমনওয়েলথ ইয়ুথ সার্ভিস এওয়ার্ড - ১৯৯৫
  • ওডিএ, ইউকে এওয়ার্ড - ১৯৯৫
  • বাংলাদেশ মেডিকল টিচার্স এসোসিয়েশন ফেডারেশন এওয়াডর্ - ১৯৯৫
  • ইবনে সিনা ট্রাস্ট এওয়ার্ড - ২০০৩ []
  • স্বাধীনতা পুরস্কার - ২০০৪

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 জিয়া উদ্দিন আহমেদ (২০১২)। "সন্ধানী"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১ওসিএলসি 883871743ওএল 30677644M। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০
  2. 1 2 3 হোসেন, আফরিনা (১৬ জুন ২০১৩)। "জীবনের স্পন্দনে সন্ধানী"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০
  3. "শোকের শক্তি দেখিয়েছে সন্ধানী"যায়যায় দিন। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০
  4. 1 2 3 "Sandhani Bangladesh Medical College Unit"Sandhani Bangladesh Medical College Unit। ১ আগস্ট ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০২৩
  5. Trust, The Ibn Sina। "Home | The Ibn Sina Trust | pioneer in Healthcare"www.ibnsinatrust.com (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০২৩

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]