বিষয়বস্তুতে চলুন

শান্তা রামা রাও

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শান্তা রামা রাও
জন্ম(১৯২৩-০১-২৪)২৪ জানুয়ারি ১৯২৩
মাদ্রাজ, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে চেন্নাই, ভারত)
মৃত্যু২১ এপ্রিল ২০০৯(2009-04-21) (বয়স ৮৬)
আমেনিয়া, নিউ ইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানওয়েলেসলি কলেজ, ওয়েলেসলি, ম্যাসাচুসেটস
ধরনভ্রমণ লেখক, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার
উল্লেখযোগ্য রচনাদিস ইজ ইণ্ডিয়া (১৯৫৩) (উপন্যাস)
এ প্যাসেজ টু ইণ্ডিয়া (১৯৬০) (নাটক অভিযোজন)
দাম্পত্যসঙ্গীফাউবিওন বাওয়ার্স (১৯৫১-১৯৬৬; বিবাহ বিচ্ছেদ)
গার্ডন ওয়াটলস (১৯৭০-১৯৯৫; স্বামীর মৃত্যু)
সঙ্গী((ফাউবিওন বাওয়ার্স))

শান্তা রামা রাও (২৪শে জানুয়ারি ১৯২৩ ২১শে এপ্রিল ২০০৯)[] একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান লেখক ছিলেন।

প্রারম্ভিক জীবন এবং পটভূমি

[সম্পাদনা]

শান্তার বাবা কানাড়ার একজন চিত্রপুর সারস্বত ব্রাহ্মণ ছিলেন, যাঁর মাতৃভাষা ছিল কোঙ্কনি। তাঁর মা ছিলেন ভারতের সুদূর উত্তরের একজন কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ, যিনি অবশ্য হুবলিতে বড় হয়ে উঠেছিলেন।[]

শান্তার জন্মের প্রথম বছরগুলিতে, তিনি ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে বসবাস করতেন। সাড়ে ৫ বছর বয়সে, তাঁর ৮ বছর বয়সী দিদি প্রেমিলার সাথে, তিনি একটি অ্যাংলো-ইণ্ডিয়ান স্কুলে কিছুদিনের জন্য ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানকার শিক্ষক তাঁদের নাম ইংরেজি করেছিলেন। শান্তার নাম পরিবর্তন করে সিনথিয়া রাখা হয় এবং তাঁর দিদির নাম পামেলা রাখা হয়। সেখানকার পরিবেশ তাঁদের কাছে নিন্দনীয় বলে মনে হয়েছিল, কারণ তাঁদের শিক্ষক তাঁদের বলেছিলেন যে "ভারতীয়রা প্রতারণা করে"। তাঁরা বাড়ি ফিরেছিলেন, এবং সেই স্কুলে আর ফিরে যাননি। ঘটনাটি শান্তা রামা রাওয়ের "বাই এনি আদার নেম" শিরোনামের সংক্ষিপ্ত স্মৃতিকথায় উল্লেখ করা হয়েছে।[]

কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালে যখন ভারত স্বাধীনতা লাভ করে, তখন শান্তা রামা রাওয়ের বাবা জাপানে তাঁর দেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হন। জাপানের টোকিওতে থাকাকালীন, শান্তার সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যত স্বামী, একজন আমেরিকান, ফাউবিওন বাওয়ার্সের দেখা হয়েছিল। ১৯৪৮ সালে, তিনি এবং বাওয়ার্স, একজন আমেরিকান মহিলা সাংবাদিক এবং একজন ইংরেজের সাথে চীন, ইন্দোচীন, ইন্দোনেশিয়া এবং সিয়াম (বর্তমানে থাইল্যান্ড) ভ্রমণ করেছিলেন। এই ভ্রমণের পাশাপাশি জাপানে তাঁর জীবনের ঘটনা ইস্ট অফ হোম (১৯৫০) -এ বিবরণীভুক্ত করা হয়েছে।এশিয়া এবং কিছুটা আফ্রিকা ও ইউরোপের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত ভ্রমণের পর, শান্তা রামা রাও এবং ফাইবিওন বাওয়ার্স ১৯৫১ সালের অক্টোবরে বিয়ে করেন।[] দম্পতি নিউ ইয়র্কের নিউ ইয়র্ক শহরে বসতি স্থাপন করেন। শান্তা রামা রাও ১৯৭১ সালে, নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কসভিলের সারাহ লরেন্স কলেজে ইংরেজি ভাষা অনুষদে একজন প্রশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন, এছাড়াও তিনি একজন ফ্রিল্যান্স লেখক হিসেবেও কাজ করেন।[]

লেখক ই এম ফরস্টারের অনুমোদন নিয়ে তিনি এ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া উপন্যাসটি থিয়েটারের জন্য রূপান্তরিত করেছিলেন। একই নামের নাটকটি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের অক্সফোর্ড প্লেহাউসের জন্য নির্মিত হয়েছিল, ১৯৬০ সালে নাটকটি যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ওয়েস্ট এণ্ডে স্থানান্তরিত হয়ে ২৬১টি অভিনয় মঞ্চস্থ করেছিল। এরপর সেটি নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রডওয়েতে (একটি থিয়েটার ঘরানা যা ৪১টি পেশাদার থিয়েটারে উপস্থাপিত নাট্য পরিবেশনা নিয়ে গঠিত) ১০৯ বার মঞ্চস্থ হয়েছিল। ১৯৬৫ সালে বিবিসি টেলিভিশনের প্লে অফ দ্য মান্থের জন্য জন মেনার্ড এটির রূপান্তর করেছিলেন এবং ওয়ারিস হুসেন এর পরিচালনা করেছিলেন। যদিও এর চিত্রনাট্য লেখার অধিকার মূলত শান্তা রামা রাওয়ের ছিল, কিন্তু পরিচালক ডেভিড লিন তাঁর খসড়া অসন্তোষজনক বলে মনে করেন এবং শান্তার লেখা প্রত্যাখ্যান করেন, যদিও ডেভিড এখনও তাঁর কিছু সংলাপ ব্যবহার করেছেন বলে তাঁকে এখনও শিরোনামে কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে।[]

শান্তা রামা রাও হোম টু ইণ্ডিয়া, ইস্ট অফ হোম, দিস ইজ ইণ্ডিয়া, রিমেম্বার দ্য হাউস (একটি উপন্যাস), মাই রাশিয়ান জার্নি, গিফটস অফ প্যাসেজ, দ্য অ্যাডভেঞ্চারেস, (একটি উপন্যাস), ভিউ টু দ্য সাউথইস্ট, এবং অ্যান ইনহেরিটেন্সের লেখক। সেইসাথে তিনি এ প্রিন্সেস রিমেম্বার্স: দ্য মেমোয়ার্স অফ দ্য মহারানি অফ জয়পুর -এর সহ-লেখক (গায়ত্রী দেবীর সাথে)।[][]

ব্যক্তিগত জীবন

[সম্পাদনা]

শান্তা রামা রাও ১৯৫১ সালে ফাউবিওন বাওয়ার্সকে বিয়ে করেন এবং ১৯৫২ সালে তাঁদের জয় পিটার বাওয়ার্স নামে একটি ছেলের জন্ম হয়।[] দম্পতি ১৯৬৬ সালে বিবাহবিচ্ছেদ করেন। ১৯৭০ সালে, রামা রাও গার্ডন বি ওয়াটলসকে বিয়ে করেন এবং তাঁদের কোন সন্তান ছিল না। ১৯৯৯ সালের নভেম্বরে ফাউবিওন বোয়ার্স মারা যান।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Weber, Bruce (২৪ এপ্রিল ২০০৯)। "Santha Rama Rau, Who Wrote of India's Landscape and Psyche, Dies at 86"The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ২৭ এপ্রিল ২০০৯
  2. The postcolonial careers of Santha Rama RauDuke University Press। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০৮২২৩৯০৫০৩। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মার্চ ২০০৭
  3. Rama Rau, Santha (১৭ মার্চ ১৯৫১)। "By Any Other Name"By Any Other Name। The New Yorker। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২২
  4. 1 2 3 "Rama Rau, Santha (1923—) | Encyclopedia.com"www.encyclopedia.com। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
  5. "A Princess Remembers by Devi of Jaipur, Gayatri and Rau, Santha Rama"Biblio.com। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |শিরোনাম= এর 21 নং অবস্থানে line feed character রয়েছে (সাহায্য)
  6. McGee, Scott। "A Passage to India"। Turner Classic Movies। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬
  7. RASHMEE ROSHAN LALL (৩০ জুলাই ২০০৯)। "Gayatri Devi: A maharani and a beauty | India News - Times of India"The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০২১
  8. January 24, Name Santha RauRole WriterMovies A. Passage to IndiaChildren Jai Peter BowersBorn; 1923Madras; College, British IndiaAlma mater Wellesley; Wellesley; writer, MassachusettsGenre Travel; novelist; April 21, playwrightNotable works This is IndiaA Passage to IndiaDied; 2009; Amenia (১৮ আগস্ট ২০১৭)। "Santha Rama Rau - Alchetron, The Free Social Encyclopedia"Alchetron.com (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |শেষাংশ8=-এ সাংখ্যিক নাম রয়েছে (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]

মুখার্জি, দুর্বা ও সায়ন চট্টোপাধ্যায়। "প্যাসেজ থ্রু ইণ্ডিয়া: সেলফ-ফ্যাশনিং ইন শান্তা রামা রাও'স ইণ্ডিয়ান ট্রাভেল রাইটিংস।" স্টাডিস ইন ট্রাভেল রাইটিংস ২৪ (৪), ৩৩৬ - ৩৮৪: ২০২০। < https://doi.org/10.1080/13645145.2021.1946735 >