বিষয়বস্তুতে চলুন

শরতের প্রতি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
১৮৯৯ সালে উইলিয়াম জেমস নীটবাই কৃত 'টু অটাম' কবিতার সঙ্গে ব্যবহৃত ছবি,যেটা প্রকাশিত হয়েছি 'আ ডে উইথ কীটস' নিবন্ধে

টু অটাম (শরৎ-কে) হচ্ছে ইংরেজ রোম্যান্টিক কবি জন কিটসের রচিত (জন্ম অক্টোবর ১৭৯৫ - মৃত্যু ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৮২১) একটি কবিতা। কবিতাটি ১৯১৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রচিত হয়েছিল এবং কিটসের কাব্যসংগ্রহের একটি খণ্ডে ১৮২০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল যার মধ্যে "লামিয়া " এবং দ্য ইভ অব সেন্ট অব স্টেন্টস অন্তর্ভুক্ত। টু অটাম হচ্ছে "কিটসের ১৮১৯-এর কবিতা" নামে পরিচিত একগুচ্ছ কবিতার শেষ রচনা।

যদিও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ১৮১৯ সালে কবি লেখালেখিতে খুব একটা মন দিতে পারেন নি , তারপরেও শরতের এক সন্ধে বেলায় উইনচেস্টার-এ হেঁটে বেড়ানোর ফলশ্রুতি হিসেবে এ কবিতা রচিত হয়। এই কবিতা ছিল তাঁর কবিজীবনের শেষ রচনা, কারণ তার অর্থ উপার্জনের প্রয়োজন ছিল এবং শুধু কবিতা লেখাকেই পেশা হিসেবে নিয়ে তিনি আর চলতে পারছিলেন না। 'টু অটাম' প্রকাশের মোটামুটি বছরখানেক সময়ের মধ্যেই কিটস রোমে মারা যান।

"টু অটাম" কবিতায় তিনটি এগারো লাইনসমৃদ্ধস্তবক রয়েছে, যা শরৎ ঋতুর পালাক্রম, ফসলের পরিপুষ্টতা থেকে শুরু করে পরিপক্ক ফসল কাটার পর্যায়, এবং আসন্ন শীতকালের আগে শরতের শেষ দিনগুলোর কাব্যিক পরিচয় তুলে ধরে। শরৎ ঋতুকে ব্যক্তি হিসেবে কল্পনা করে নিয়ে কবি যেভাবে চিত্রকল্প ও শব্দরাশির সাহা্য্য এ ঋতুর রূপ, রস, বর্ণ ফুটিয়ে তুলেছেন তা অত্যন্ত মনোগ্রাহী। [] তাঁর এই লেখনী সেইসব ইংরেজ চিত্রশিল্পীদের কাজের সমতুল্য যাঁরা প্রকৃতির ছবি আঁকেন। কীটস নিজেও বলেছেন, পাকা ফসলের ক্ষেত ধরে হাঁটতে হাঁটতে তিনি যেন চিত্রকর্ম দেখার মুগ্ধ অনুভূতি অনুভব করেছেন।[]

কবিতাটির মর্মবস্তুকে মৃত্যুভাবনা হিসেবে, শৈল্পিক সৃষ্টির রূপক হিসেবে, একই বছরে সংঘটিত পিটারলু গণহত্যা'র প্রতি কিটসের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এবং জাতীয়তাবাদী অনুভূতির প্রকাশ হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। "টু অটাম" সর্বাধিক সংকলিত ইংরেজি লিরিক কবিতাসমূহের মধ্যে অন্যতম। সমালোচকরা এ কবিতাকে ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম নিখুঁত সংক্ষিপ্ত কবিতা হিসাবে অভিহিত করেছেন।

পটভূমি

[সম্পাদনা]

১৮১৯ এর বসন্তকালে কিটস তাঁর ওড শ্রেণির প্রধান কবিতাগুলো লিখেছিলেন: "ওড অন আ গ্রিশ্যন আর্ন", "ওড অন ইনডলান্স", "ওড অন মেলাংকলি", "ওড টু এ নাইটিংগেল ", এবং" ওড টু সাইকি "। মে মাসের পরে তিনি অন্যান্য ধরনের কবিতা লিখতে শুরু করেন। এদের মধ্যে রয়েছে বন্ধু ও রুমমেট চার্লস ব্রাউনের সহযোগিতায় লেখা বিয়োগান্ত শ্লোক "ওথো দ্য গ্রেট" এবং 'লামিয়া 'র দ্বিতীয়ার্ধ। এ সময়ে তিনি অসম্পূর্ণ মহাকাব্য হাইপেরিয়ন -এ আবার হাত দেন। বসন্ত থেকে শরৎকাল পর্যন্ত তাঁর প্রচেষ্টা পুরোপুরি কবিতা রচনায় নিবেদিত ছিল, একবার দীর্ঘ কবিতা লেখেন তো পরের বার ছোট কবিতা। লক্ষ্য স্থির করেন যে, প্রতিদিন পঞ্চাশেরও বেশি কবিতার লাইন রচনা করবেন। অবসর সময়ে তিনি রবার্ট বার্টন -এর 'দি অ্যানাটমি অব ম্যালাংকলি' , টমাস চ্যাটারটন 'এর কবিতা এবং লে হান্ট এর প্রবন্ধ পড়েন। <[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Bewell 1999 p. 176
  2. Bate 1963 p. 580
  3. গিটিংস 1968 পিপি। 269 ​​& ndash; 270