লুং-শার-র্দো-র্জে-ম্ত্শো-র্গ্যাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ইংল্যান্ডে যাত্রা করার পূর্বে চার ছাত্রের সঙ্গে লুং-শার-র্দো-র্জে-ম্ত্শো-র্গ্যাল
28 জুন 1913 ছবি

লুং-শার-র্দো-র্জে-ম্ত্শো-র্গ্যাল (তিব্বতি: ལུང༌ཤར༌རྡོ་རྡྟེ་མཚོ་རྒྱལওয়াইলি: lung shar rdo rje mtsho rgyal) (১৮৮০-১৯৩৮) একজন তিব্বতী রাজনীতিবিদ ছিলেন।

বাল্যকাল[সম্পাদনা]

লুং-শার-র্দো-র্জে-ম্ত্শো-র্গ্যাল ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে মধ্য তিব্বতের র্তা-নাগ (তিব্বতি: རཊ་ ནགওয়াইলি: rta nag) নামক স্থানের একটি ঐতিহ্যশালী অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এই পরিবাররের সদস্যরা পঞ্চম দলাই লামার সময় থেকে বহু প্রজন্ম ধরে তিব্বত সরকারে আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।[১][২]:৩৮৫ তার পিতার নাম ছিল লুং-শার-ল্হুন-গ্রুব-র্দো-র্জে (ওয়াইলি: lung shar lhun grub rdo rje)।[২]:৩৯৫ আট বছর বয়সে তার পিতার মৃত্যু হলে তার মাতার প্রচেষ্টায় তিনি তিব্বতী চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন এবং সঙ্গীত ও নৃত্যকলার শিক্ষালাভক করেন।[n ১]

বৈবাহিক জীবন[সম্পাদনা]

কুড়ি বছর বয়সে তিনি র্তা-নাগ অঞ্চলের এক অভিজাত পরিবারের কন্যাকে বিবাহ করেন এবং তাদের দুই জন সন্তানের জন্ম হয়। এই সময় তিনি তিব্বত সরকারের অধীনে একজন আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। গণিতশাস্ত্রের দক্ষতার কারণে তাকে করবিভাগের হিসাবরক্ষকের দায়িত্বলাভ করেন ও এই পদে তিনি প্রায় দশ বছর অতিবাহিত করেন।[n ২] এই সময় তার স্ত্রীর মৃত্যু হলে তিন বছর পরে অপর একটি বিবাহ করেন এবং তাদের পাঁচ পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।[n ৩]

বিদেশে[সম্পাদনা]

বাকিংহাম প্রাসাদে চার ছাত্রের সঙ্গে লুং-শার-র্দো-র্জে-ম্ত্শো-র্গ্যাল

ত্রয়োদশ দলাই লামা তিব্বতকে আধুনিক করার উদ্দেশ্যে ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে ব্যাং-ঙ্গোস-পা-রিন-স্গাং (ওয়াইলি: byang ngos pa rin sgang), দ্বাং-'দুস-নোর-বু (ওয়াইলি: dbang 'dus nor bu), ম্খ্যেন-রাব-কুন-ব্জাং (ওয়াইলি: mkhyen rab kun bzang) এবং ব্সোদ-নাম্স-স্গোম-পো-গো-খার-বা (ওয়াইলি: bsod nams sgom po go khar ba) নামক চারজন তিব্বতীকে ইংল্যান্ডে আধুনিক শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। লুং-শার-র্দো-র্জে-ম্ত্শো-র্গ্যালকে এই চারজন ছাত্রকে ইংল্যান্ড পৌছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।[n ৪] ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৪শে এপ্রিল তারা ইংল্যান্ড পৌছন এবং সম্রাট পঞ্চম জর্জের সঙ্গে সাক্ষাত করে ত্রয়োদশ দলাই লামার পক্ষ থেকে তাকে উপহার প্রদান করেন।[n ৫] চারজন তিব্বতী ছাত্রের সঙ্গী হিসেবে আগত লুং-শার-র্দো-র্জে-ম্ত্শো-র্গ্যাল নিজেকে তিব্বতের রাজদূতের মতো উচ্চপদাধিকারী হিসেবে সকলের নিকট পরিচয় দিতেন বলে ব্রিটিশরা লুং-শার-র্দো-র্জে-ম্ত্শো-র্গ্যালকে খুব একটা পছন্দ করতেন না,।[n ৬] এছাড়া তিনি ফ্রান্স, জার্মানি, হল্যান্ডবেলজিয়াম ভ্রমণ করে চীন, ভারত ও জাপানের বিপ্লবীদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন বলে ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিভাগের নজরে পড়ে যান।[৫]:১৯১ ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ই সেপ্টেম্বর তিনি ইংল্যান্ড থেকে যাত্রা করেন।[৩]

সংস্কার[সম্পাদনা]

লুং-শার-র্দো-র্জে-ম্ত্শো-র্গ্যাল তিব্বতে ফিরে এসে ত্রয়োদশ দলাই লামার সংস্কার নীতির অন্যতম সমর্থক হয়ে ওঠেন।[n ৭] এই সময় তিনি লাসাব্ক্রা-শিস-ল্হুন-পো বৌদ্ধবিহারের মধ্যে আর্থিক চুক্তির ব্যবস্থা করেন এবং গ্যানৎসে অঞ্চলে অর্থদপ্তরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ত্রয়োদশ দলাই লামার নির্দেশে করদপ্তরের প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন। এই সময় কর সংগ্রহের একটি দপ্তর খুলে তাকে এর প্রধান করে দেওয়া হয়। তিনি তিব্বতের সেনাবাহিনীর স্বার্থে অভিজাত ও ধনী ব্যক্তি, মন্ত্রী এবং বিহারগুলির ওপর অতিরিক্ত কর ধার্য করেন, যে কারণে তিনি এই সকল ব্যক্তিদের বিরাগভাজন হন।[n ৮] জাতীয় মন্ত্রীসভার সদস্যরা আজীবন পদ অধিকার করে না থেকে চার বছর তাদের পদে থাকতে পারেন, এই মর্মে ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বেশ কিছু আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে সরকারের নিকট একটি আবেদন দাখিল করেন। এই যুগান্তকারী সংস্কারণীতির ফলে তার সঙ্গে অভিজাত সম্প্রদায়ের দুরত্ব তৈরী হয়।[n ৯][n ১০] ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে ত্শা-রোং-জ্লা-ব্জাং-দ্গ্রা'-'দুলকে সরিয়ে লুং-শার-র্দো-র্জে-ম্ত্শো-র্গ্যালকে তিব্বতী সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক করা হয়। তিনি দায়িত্ব নিয়ে সৈন্যদের বেতন এবং খাদ্যের বরাদ্দ বাড়িয়ে দেন, যার ফলে তিনি বাহিনীতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।[৩]

শাস্তি ও মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বতের রাজপ্রতিনিধি থুব-ব্স্তান-'জাম-দ্পাল-য়ে-শেস-র্গ্যাল-ম্ত্শান (ওয়াইলি: thub bstan 'jam dpal ye shes rgyal mtshan) নামক পঞ্চম র্বা-স্গ্রেং রিন-পো-ছে (ওয়াইলি: rwa-sgreng rin-po-che) উপাধিধারী লামার নির্দেশে লুং-শার-র্দো-র্জে-ম্ত্শো-র্গ্যালকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি থেকে মন্ত্রী খ্রি-স্মোন-ঝাব্স-পাদকে (ওয়াইলি: khri smon zhabs pad) হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়।[n ১১] এই সকল অভিযোগের ভিত্তিতে তার দুইটি চোখ উপড়ে শাস্তি দেওয়া হয়।[n ১২] তার সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হয় ও তার সমর্থকদের তিব্বত থেকে নির্বাসন দেওয়া হয়। তার পরিবারের কোন সদস্য প্রসাসনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবে না বা অভিজাতদের দলভুক্ত হতে পারবে না বলে সরকার সিদ্ধান্ত নেয়।[n ১৩] ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং এক বছর বাদে তার মৃত্যু ঘটে।[৬]:২১১

গুরুত্ব[সম্পাদনা]

লুং-শার-র্দো-র্জে-ম্ত্শো-র্গ্যালের তিব্বতের রাজনৈতিক সংস্কারের প্রচেষ্টাই ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে এই ধরনের শেষ পদক্ষেপ। তার মৃত্যু ও এই সংস্কার প্রচেষ্টার ধ্বংসসাধনের মাধ্যমে তিব্বতের ইতিহাস অন্য খাতে বইতে শুরু করে। চিরায়ত ব্যবস্থার প্রতিনিধি হিসেবে খ্রি-স্মোন-ঝাব্স-পাদ ও তার সমর্থকেরা লুং-শার-র্দো-র্জে-ম্ত্শো-র্গ্যালের সংস্কারকে বলশেভিক শাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখলেও তা ছিল তাদের অজ্ঞতারই নামান্তর। কয়েক দশক পরে তিব্বতের লামাতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পতনের মূলে তার মৃত্যু অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করা হয়।[n ১৪]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. "When he was about eight years old, his father died. However, his mother cared for him and he grew up. (His) mother took concern even about his intellectual studies, and (he) studied with many teachers. Consequently, he achieved an excellent result (i.e., became knowledgeable). Because of that, he showed great respect and love for his mother all the time. Because my father liked studying Tibetan medicine, (he) worked with teachers and studied medical activities very diligently and became skilled. Thereafter, even when we were young, father in his spare time did such things as examine the urine and stool of patients and give out Tibetan medicine. Similarly, from small he liked singing and dancing, and not only always played the hojin and yangjin, but occasionally gathered with musicians in Lhasa and played with them again and again for pleasure.[২]:৩৯৫,৩৯৬
  2. "When he reached the age of about 20, he took as (his) bride a girl (from the) aristocratic family of Lleguba in Tanag, and she [lit., that one] bore him two children : Chaba Rusu Wangchen Yulha, and Bema Dromapug. After that, he went to Lhasa to petition to become a lay official in the old government and joined the ranks of officials. Because he was goodd in writing and in arithmetic, he was soon appointed as Dziba (accountant) in the Revenue Office. During the 10 years that he held the position of accountant, he worked diligently. Because he was very capable, he first came to be famous as Dziba Lungshar [i.e., people first came to refer to him by the name Dziba Lungshar[২]:৩৯৬
  3. "Once when faher’s wife went to Lungshar’s estate for doing the autumn harvest [i.e., overseeing it], she unfortunately died there. After about three years passed, (he) married my mother Dendzin Droma. (She) got (bore) us children, 5 boys and one girl.[২]:৩৯৬
  4. "Taking four noble youths to the UK to receive modern education – for the first time in Tibetan history, he won the confidence of the 13th Dalai Lama for his loyalty and talent.[১]
  5. "He and the four boys were received in audience by Their Majesties King George V and Queen Mary in June, 1913, when he presented letters and presents from the Dalai Lama to Their Majesties. He was also granted an audience by Lord Crewe and Sir Edward Grey to whom he submitted gifts from the Dalai Lama while in England.[৩]
  6. "From the outset the British found Lungshar something of a nuisance. In theory no more than the official escort for the boys, in fact Lungshar regarded himself [...] as a Tibetan embassador at large.[৪]:৩২৬
  7. "Ambitious, energetic, fanciful and well-educated, he obtained an eminent position soon after returning and became a firm advocate of the 13th's reform policy.[১]
  8. "After father returned to Tibet, the Dalaï Lama treated him specially and gave him the position of Revenue Head (Dzibön). At that time, they were in the midst of expanding the Tibetan military organization, but there was insufficient income for the military salaries and consequently a plan was made to collect extra grain. The Babshi Office was established (to collect it). Concerning it, the Dalai Lama approved thhe appointment of Drunyichemmo Losang Tenkyong and my father Dzibön Dorje Tsegye Lungshar to be its heads. They imposed extra grain levies on such sources as council ministers’ estates, generals’ estates that were not the one for which the official served the government. (Similarly, they were levied) on all those among the religious sector and the Debön midra, the Yabshi and other aristocrats who had extra estates that had been obtained without proper title. (In this manner) the larhe families had to pay extra levies of 4-5,000 ke of grain, and the families beneath (them) levies of several hundred ke. Because of this, the old government got a very large amount of grain. Afterwards, toward the end of the Dalai Lama’s life, the old grain storage places (of the government) were basically full. […] Because the target of the extra grain levies was the larger Debön midra (families), negative public opinion concerning Dzibön Lungshar was disseminated from one group of the highest officials.[২]:৩৮৭
  9. "Lungsharwa Dorje Tsegyel, who was in the 13th's favor, advocated abolishing lifelong tenure for the Galoin (bkav-blon); instead, a "referendum" should be held to vote the Galoin for a four-year term. Since his radical reform was targeted at the Gaxag (bkav-shag)—the supreme administrative organization of the local government, and thus encroached on the interests of the big nobility.[১]
  10. "The critical reform Lungshar advocated concerned the Kashag (Gaxag). He wanted the shape (goloin)’s lifelong terms of office to be replaced by four-year terms. Moreover he wanted the National Assembly to select the shapes, thereby making the shapes responsible to the agency.[৬]:২০৮-২০৯
  11. "L'un des conspirateurs, Rimshi Kashopa, rapporta ces plans au kalon Trimon, ministre du cabinet, qui en informa le régent. Celui-ci ordonna l'arrestation immédiate de Lungshar. La résidence de Lungshar fut perquisitionnée et des documents compromettants furent trouvés sur place. Il fut également prouvé qu'il avait prévu d'assassiner le kalon Trimon.[৭]:১৬৫
  12. "The method involved the placement of a smooth, round yack’s knucklebone on each of the temples of the prisoner. These were then tied by leather thongs around the head and tightened by turning the thongs with a stick on top of the head until the eyeballs popped out. The prisoner was heavily doped with a drug called langchen nyochu ("the water that makes an elephant mad") during this process. Only one eyeball popped out, and eventually the ragyaba had to cut out the other ball with a knife. Boiling oil was then poured into the sockets to cauterize the wound. The punishment of taking out someone's eyeballs had not been exacted for such a long time that there was no one who had ever seen it done. Mutilation punishments were done by the untouchable caste known as the ragyaba, who in this instance told the government that they were able to do it only because their parents had told them how it was done.[৬]:২০৮-২০৯
  13. "The government also issued orders that none of the Lungsharwa family's offspring could inherit a noble title or have an official career[১]
  14. "Lungshar’s movement was the last attempt to reform and revitalize the traditional political system before World War II. Its destruction was a major turning point in modern Tibetan history. Trimön, representing the prerogatives of the traditional system, outmaneuvered Lungshar and punished him in a way that intimidated other aristocrats. Lungshar’s statement to his sons regarding the government officials’ inability to understand his dreams for a new Tibet rings true in the light of the absurd charge that his party was trying to establish a Bolshevik form of government. For all his personal faults, Lungshar was one of the great figures in modern Tibetan history. In retrospect, his downfall must be seen as a main factor underlying the demise of the Lamaist State.[৬]:২০৮-২০৯

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Tsering Yangdzom, On the dominant Dalai Lama's Yabgzhis families ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২ মে ২০১৪ তারিখে, traduction Shao Da, China Tibet Information Center, 2007-12-11, voir aussi The Aristocratic Families in Tibetan History, 1900-1951
  2. Recollections of My Father Dorje Tsegye Lungshar (by) Lhalu, Tsewang Dorje, in Melvyn C. Goldstein, Gelek Rimpoche, Lobsang Phuntshog, Essentials of Modern Literary Tibetan: A Reading Course and Reference Grammar, University of California Press, 6 septembre 1991, 493 pages
  3. Lungshar, The Tibet Album
  4. Alastair Lamb, The McMahon line: a study in the relations between India, China and Tibet, 1904-1914, Volume 2, Routledge & K. Paul, 1966, repris sous le titre Tom Browns from Central Asia, in The History of Tibet: The modern period : 1895-1959, the encounter with modernity, Alex Mackay, Routledge, 2003, 737 p.
  5. Patrick French, Tibet, Tibet, une histoire personnelle d'un pays perdu, traduit de l'anglais par William Oliver Desmond, Albin Michel, 2005, আইএসবিএন ৯৭৮-২-২২৬-১৫৯৬৪-৯. (ফরাসি)
  6. Melvyn C. Goldstein, A History of Modern Tibet, 1913-1951, University of California Press, 1991, 936 pages
  7. Claude Arpi, Tibet, le pays sacrifié, préfacé par le Tenzin Gyatso, Calmann-Lévy, 2000,আইএসবিএন ২৭০২১৩১৩২৮. (ফরাসি)