লিগা এমএক্স
| সংগঠক | মেক্সিকীয় ফুটবল ফেডারেশন |
|---|---|
| স্থাপিত | ১৯৪৩ |
| প্রথম মৌসুম | ১৯৪৩–৪৪ |
| দেশ | |
| কনফেডারেশন | কনকাকাফ |
| দলের সংখ্যা | ১৮ |
| লিগের স্তর | ১ |
| ঘরোয়া কাপ | কোপা এমএক্স কাম্পেওন দে কাম্পেওনেস |
| আন্তর্জাতিক কাপ | |
| বর্তমান চ্যাম্পিয়ন | আমেরিকা (১৪তম) (২০২৩–২৪ এপার্টুরা) |
| সর্বাধিক শিরোপা | আমেরিকা (১৪) |
| সর্বাধিক ম্যাচ | |
| শীর্ষ গোলদাতা | |
| সম্প্রচারক | সম্প্রচারকের তালিকা |
| ওয়েবসাইট | দাপ্তরিক ওয়েবসাইট |
লিগা এমএক্স (স্পেনীয়: Liga MX; পৃষ্ঠপোষকজনিত কারণে লিগা বিবিভিএ এমএক্স[১] নামে পরিচিত) হচ্ছে মেক্সিকীয় ফুটবল ফেডারেশন কর্তৃক মেক্সিকোর পেশাদার ফুটবল ক্লাবগুলোর মধ্যকার আয়োজিত মেক্সিকীয় ফুটবল লিগ পদ্ধতির শীর্ষ স্তরের পেশাদার ফুটবল লিগ। এই লিগে মেক্সিকোর সর্বমোট ১৮টি পেশাদার ফুটবল ক্লাব মেক্সিকীয় ক্লাব পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এই লিগটি দুটি প্রতিযোগিতায় বিভক্ত; "এপার্টুরা" (যা সাধারণত জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়) এবং "ক্লাউসুরা" (যা সাধারণত জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়)। প্রতিটি প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন "লিগিইয়া" নামে একটি প্লে-অফ পদ্ধতির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়।
১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে লিগা এমএক্সে এপর্যন্ত অসংখ্য দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, যার মধ্য হতে মাত্র ২৪টি ক্লাব এই লিগের শিরোপা জয়লাভ করেছে এবং ষোলোটি ক্লাব একাধিকবার জয়লাভ করেছে। আমেরিকা এই লিগের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ক্লাব, যারা সর্বমোট ১৪টি শিরোপা জয়লাভ করার পাশাপাশি ১০ বার রানার্স-আপ হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গুয়াদালাহারা, যারা এপর্যন্ত ১২ বার এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে ক্লাব তোলুকা, যারা এপর্যন্ত ১০ বার শিরোপা জয়লাভ করেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আমেরিকা ২০২৩–২৪ (আপের্তুরা) মৌসুমে ৪০ পয়েন্ট অর্জন করে ক্লাবের ইতিহাসে ১৪তম বারের মতো লিগা এমএক্সের শিরোপা ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছিল; উক্ত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন আমেরিকা হতে ৭ পয়েন্ট কম অর্জন করে মোন্তেররেই রানার্স-আপ হয়েছিল।[২]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]১৯৪৩ সালে মেক্সিকীয় প্রথম বিভাগ নামে এই লিগটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, অতঃপর ১৯৪৩–৪৪ লিগা এমএক্স মৌসুমের মাধ্যমে এই লিগটি যাত্রা শুরু করেছে। লিগা এমএক্সের উক্ত মৌসুমে সর্বমোট দশটি ক্লাব দ্বৈত রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করেছিল। ১৯৪৩ সালের ১৭ই অক্টোবর তারিখে শুরু হয়ে ১৯৪৪ সালের ৯ই এপ্রিল তারিখে সম্পন্ন হওয়া উক্ত মৌসুমে প্রতিটি ক্লাব সর্বমোট ১৮টি ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছিল; যার মধ্যে ক্লাবগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে দুইটি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল। ১৮তম ম্যাচদিন শেষে ২৭ পয়েন্ট অর্জন করে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ স্থান অধিকারী ক্লাব হিসেবে আস্তুরিয়াস প্রথম ক্লাব হিসেবে লিগা এমএক্সের শিরোপা জয়লাভ করেছিল। ১৯৪৩–৪৪ মৌসুমে এস্পানিয়ার স্পেনীয় আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ইসিদ্রো লাঙ্গারা ২৭ গোল করে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে লিগা এমএক্সের শীর্ষ গোলদাতার পুরস্কার জয়লাভ করেছিলেন।[৩]
বিন্যাস
[সম্পাদনা]লিগা এমএক্সের প্রতিটি মৌসুমে সর্বমোট ১৮টি ক্লাব দ্বৈত রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে দুইটি ম্যাচে মুখোমুখি হয়; যার মধ্যে একটি নিজেদের মাঠে এবং অপরটি প্রতিপক্ষ দলের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়; ক্লাবগুলো এক মৌসুমে (এপার্টুরা ও ক্লাউসুরা মিলিয়ে) সর্বমোট ৩৪টি ম্যাচে অংশগ্রহণ করে। লিগা এমএক্সের প্রতিটি মৌসুম "এপার্টুরা" অংশটি সাধারণত জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এবং "ক্লাউসুরা" অংশটি সাধারণত জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাবগুলো প্রতিটি জয়ের জন্য তিন পয়েন্ট এবং ড্রয়ের জন্য এক পয়েন্ট করে অর্জন করে থাকে, হারের জন্য কোন পয়েন্ট অর্জন করে না। পয়েন্ট তালিকায় ক্লাবগুলোর অর্জিত পয়েন্টের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। প্রতিটি মৌসুম শেষে পয়েন্ট তালিকায় সর্বাধিক পয়েন্ট অর্জনকারী ক্লাবটি চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা জয়লাভ করে। যদি দুই বা ততোধিক ক্লাব সমান পয়েন্ট অর্জন করে থাকে, তবে গোল পার্থক্যের মাধ্যমে পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। সমতা ভঙ্গের সকল নিয়ম প্রয়োগ করার পরও যদি দুই বা ততোধিক ক্লাব পয়েন্ট তালিকায় সমতায় থাকে, তবে উক্ত ক্লাবগুলো পয়েন্ট তালিকার একই অবস্থানে আছে বলে মনে করা হয়।
লিগা এমএক্সের প্রতিটি মৌসুমের বিজয়ী ক্লাব পরবর্তী মৌসুমের কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তীর্ণ হয়; এছাড়াও পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থানের ভিত্তিতে এক বা একাধিক ক্লাব কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপ, লিগস কাপ এবং কাম্পেওনেস কাপের জন্য উত্তীর্ণ হয়। লিগা এমএক্সে অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি ক্লাবগুলো মেক্সিকীয় ঘরোয়া ফুটবল কাপ কোপা এমএক্সেও অংশগ্রহণ করে।
স্টেডিয়াম এবং অবস্থান
[সম্পাদনা]| ক্লাব | অবস্থান | স্টেডিয়াম | ধারণক্ষমতা | উৎস |
|---|---|---|---|---|
| আমেরিকা | মেক্সিকো সিটি | অ্যাজটেকা | ৮৭,৫২৩ | [৪] |
| অ্যাটলাস | গুয়াদালাহারা | জালিস্কো | ৫৬,৭১৩ | [৫] |
| অ্যাটলেটিকো সান লুইস | সান লুইস পোটোসি সিটি | আলফোনসো লাস্ট্রাস | ২৫,১১১ | |
| ক্রুস আসুল | মেক্সিকো সিটি | এস্তাদিও সিউদাদ দে লস ডিপোর্টেস | ৩৩,০০০ | [৪] |
| গুয়াদালাহারা | জাপোপান | আকরন | ৪৫,৩৬৪ | [৬] |
| জুয়ারেজ | সিউদাদ জুয়ারেজ | অলিম্পিক বেনিতো জুয়ারেজ | ১৯,৭০৩ | [৭] |
| লিওন | লিওন | লিওন | ৩১,২৯৭ | [৮] |
| মাজাতলান | মাজাতলান | মাজাতলান | ২৫,০০০ | [৯] |
| মোন্তেররেই | গুয়াদালুপে | বিবিভিএ | ৫৩, ৫০০ | [১০] |
| নেকাক্সা | আগুয়াস্কালিয়েন্তেস সিটি | ভিক্টোরিয়া | ২৫,০০০ | [১১] |
| পাচুকা | পাচুকা | হিদালগো | ৩০,০০০ | [১২] |
| পুয়েবলা | পুয়েবলা সিটি | কুয়াহতেমোক | ৫১,৭২৬ | [১৩] |
| কোয়েরেতারো | কুয়েরেতারো সিটি | কোরেজিডোরা | ৩৩,১৬২ | [১৪] |
| সান্তোস লেগুনা | টরিওন | করোনা | ৩০,০০০ | [১৫] |
| তিজুয়ানা | তিজুয়ানা | ক্যালিয়েন্তে | ২৭,৩৩৩ | [১৬] |
| তোলুকা | তোলুকা | নেমেসিও দিয়েজ | ৩০,০০০ | [১৭] |
| ইউএএনএল | সান নিকোলাস দে লস গারজা | বিশ্ববিদ্যালয় | ৪২,০০০ | [১৮] |
| ইউএনএএম | মেক্সিকো সিটি | অলিম্পিকো ইউনিভার্সিটি | ৭২,০০০ | [১৯][২০] |
লিগা এমএক্স চ্যাম্পিয়ন
[সম্পাদনা]ডিস্ট্রিটো ফেডারেল লিগ চ্যাম্পিয়ন্স অপেশাদার যুগ (১৯০২–১৯৪৩)
[সম্পাদনা]- টীকা
- 1 2 লিগা মেক্সিকানা, একটি ভিন্নমতাবলম্বী লিগ, মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন কর্তৃক স্বীকৃত নয়।
প্রিমেরা ডিভিসিওন - লিগ পদ্ধতিতে চ্যাম্পিয়ন্স পেশাদার যুগ (১৯৪৩–১৯৭০)
[সম্পাদনা]প্রিমেরা ডিভিসিওন – লিগিলা পদ্ধতিতে চ্যাম্পিয়ন্স পেশাদার যুগ (১৯৭০–১৯৯৬)
[সম্পাদনা]* অফিসিয়াল/স্বীকৃত শিরোনাম নয়
** গোল পার্থক্য।
প্রিমেরা ডিভিসিওন – সংক্ষিপ্ত টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন্স পেশাদার যুগ (১৯৯৬–বর্তমান)
[সম্পাদনা]* অফিসিয়াল/স্বীকৃত শিরোনাম নয়
** গোল পার্থক্য।
সারাংশ
[সম্পাদনা]গাড় দ্বারা হলো বর্তমানে লিগা এমএক্সে খেলা ক্লাবগুলিকে নির্দেশ করে।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Liga MX hace oficial su cambio de nombre y logo"। MedioTiempo (স্পেনীয় ভাষায়)। ১৮ জুন ২০১৯। ২১ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০১৯।
- ↑ https://ligamx.net/cancha/tablas/tablaGeneralClasificacion/sp/544f5bc44c6944
- ↑ https://www.rsssf.org/tablesm/mex44.html
- 1 2 "La capacidad de espectadores que tendrá el Azteca después de ser remodelado"। 90min.com। ফেব্রুয়ারি ২০১৭। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "Estadio Jalisco"। atlasfc.com.mx। ১৫ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৬।
- ↑ "Liga MX - Página Oficial de la Liga del Fútbol Profesional en México .: Bienvenido"। Liga MX / Ascenso MX। ১৪ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৬।
- ↑ "Liga MX - Página Oficial de la Liga del Fútbol Profesional en México .: Bienvenido"। Liga MX / Ascenso MX। ১১ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০১৯।
- ↑ "Liga MX - Página Oficial de la Liga del Fútbol Profesional en México .: Bienvenido"। Liga MX / Ascenso MX। ১৪ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৬।
- ↑ "Liga MX: Conoce el nuevo estadio del Mazatlán FC"। El Universal (স্পেনীয় ভাষায়)। ৩ জুন ২০২০। ১৫ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০২০।
- ↑ "Historia"। estadiobbvabancomer.com। ৩০ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৬।
- ↑ Click It - clubnecaxa.mx। "Estadio Victoria"। ২৬ জুন ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "Tuzos » Estadio Hidalgo"। tuzos.com.mx। ২৯ মে ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৬।
- ↑ "Los estadios de la Liga Bancomer"। Pueblaonline.com.mx। ২৯ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৬।
- ↑ "Liga MX - Página Oficial de la Liga del Fútbol Profesional en México .: Bienvenido"। Liga MX / Ascenso MX। ২৪ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৬।
- ↑ "ESTADIO CORONA"। clubsantos.mx। ৩০ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৬।
- ↑ "Estrenará "Caliente" capacidad el viernes"। el-mexicano.com.mx। ১৬ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৬।
- ↑ "Estrenará "Caliente" capacidad el viernes"। Liga MX / Ascenso MX। ২৩ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৬।
- ↑ "Estadio Universitario"। tigres.com.mx। ১৬ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৬।
- ↑ "Estadio Olímpico Universitario"। pumas.mx। ১২ মে ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৬।
- ↑ "Liga MX - Página Oficial de la Liga del Fútbol Profesional en México .: Bienvenido"। Liga MX / Ascenso MX। ২৩ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৬।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- দাপ্তরিক ওয়েবসাইট (ইংরেজি)