লাকপা শেরপা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search

লাকপা শেরপা (এছাড়াও লাকপা (জন্ম ১৯৭৩) একজন নেপালি শেরপা পর্বাতারোহিণী।  তিনি   মাউন্ট এভারেস্ট নয় বার আরোহন করে বিশ্বের মহিলাদের মধ্যে অধিকতমবার এভেরেস্ট শীর্ষ জয়ের মর্যাদা অর্জন করেছেন[১] ২০০০ সালে তিনি হলেন এভারেস্ট আরোহণ করে, সফলভাবে নেমে আসা প্রথম নেপালি মহিলা।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

লাকপা ১১ জন ভাই বোনেদের মধ্যে নেপালের মাকালুতে  বড় হয়েছেন।[২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

২০০০ সালে এশিয়ান ট্রেকিংএর পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত একটি অভিযানে  তিনি দলনেত্রী ছিলেন[৩] ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০০০ সালে, তিনি হয়ে ওঠেন প্রথম নেপালি নারী যিনি মাউন্ট এভারেস্ট শিখর আরোহণ করে, বেঁচে অবরোহণ করেন (এছাড়াও দেখুন পাসাং লামু শেরপা)। নেপালী নারী মিলেনিয়াম অভিযানের অন্তর্ভুক্ত ছিল তার এই আরোহণ।[৪]

২০০৩ সালে মার্কিন পিবিএস খেয়াল করেন যে, তিনি ৩ বার এভারেস্ট বিজয় করে, বিশ্বের মহিলাদের মধ্যে  অধিকতমবার আরোহণকারীনি ছিলেন।[৫] ২০০৩ সালের মে মাসে তিনি তার বোন এবং ভাই একত্রে এভারেস্ট বিজয় করেন; তারা হলেন মিং কিপা এবং মিংমা গেলু।[৬]

১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৭ সাল অবধি লাকপা ৬ বার এভারেস্ট জয় করেন এবং তার স্বামী  নয়বার।[৭] ওই বছর তারা তাদের ২০০৭ এভারেস্ট ট্রিপ সম্বন্ধীয় একটি উপস্থাপনার আয়োজন করেন  সঙ্গে অনুদান গ্রহণ করেন কোয়েকার লেন সমবায় নার্সারি স্কুলএর জন্য। জর্জ এবং লাকপা, মাউন্ট এভারেস্ট  ৫ বার একত্রে বিজয় করেন ।[৮]

২০১৬ সালে , তিনি তিব্বত (চীন) থেকে মাউন্ট এভারেস্ট বিজয় করেন, যেটি  এভেরেস্টে তাঁর সপ্তম আরোহণ।[৯] রাষ্ট্রপতি মাউন্ট এভারেস্ট সাম্মিটারস এসোসিয়েশন,এর সভাপতি আর একজন নেপালি মহিলাও সেই সঙ্গে শিখরে পৌঁছান কিন্তু নেপালের দিক থেকে। মায়া শেরপা, যিনি আর একজন রেকর্ড অধিকারিণী এবং কে২ আরোহণকারিণী

আরোহণ কর্মজীবন সাফল্য[সম্পাদনা]

  1. ২০০০[১০]
  2. ২০০১
  3. ২০০৩
  4. ২০০৪[১১]
  5. ২০০৫[১২]
  6. ২০০৬[১৩]
  7. ২০১৬[১৪]
  8. ২০১৭[১৫][১৬]
  9. ২০১৮

অতিরিক্ত অভিযান:

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

লাকপা তিনি (বুধবার) জন্মগ্রহণ করেন সেই দিনের জন্য নামকরণ করা হয়। যদিও নেপালে জন্মগ্রহণ করেন, বর্তমানে তিনি একজন মার্কিন নাগরিক এবং তার তিন সন্তানপালন এবং বিভিন্ন চাকরিতে ব্যাস্ত থাকেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাত এগারোতে কাজ করেছেন। যাইহোক, ইউ.কে. মিডিয়া আউটলেট দৈনিক টেলিগ্রাফ সাক্ষাত্কারে তিনি পর্বতারোহণের জন্য তাঁর অদম্য বাসনা উলেখ করেন,দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফএর অনুযায়ী যেমনটি পূর্বে জর্জ ম্যালরি এবং ইউচিরো মিউরার মত পর্বাতোরোহীদের মধ্যে দেখা গিয়েছিল। [১৮]

তাঁর দুই কন্যা ও এক পুত্র, এবং ১২ বছর ধরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন  জর্জ দিজমার্সাকুর সঙ্গে, যিনি একজন রোমানিয়ান-আমেরিকান। তারা ২০০০সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে প্রথমবার পরিচিত হন, ২০০২ সালে  বিবাহ করেন। ২০০৮ সালে জর্জএর  কর্কট রোগে আক্রান্ত, হবার পর  চিকিৎসার মাত্রাধিক্য বিল ছিল তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের টানাপড়েনের অন্যতম কারণ।

২০১৬ সালে লাকপা সপ্তমবার এভারেস্ট বিজয় করেন ও বিশ্বের নারীদের মধ্যে সর্বাধিকবার  এভারেস্ট বিজয়ের  পুনরায় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে স্বীকৃতিপ্রাপ্তি শুরু করেন। 

পরিবার ও সম্পর্ক[সম্পাদনা]

২২ মে,  ২০০৩ সালে তার ছোট বোন মিংমা ১৫ বছর বয়সে  মাউন্ট এভারেস্ট শিখরে (তিনি আরোহন করেন লাকপা এবং গেলুর সঙ্গে), আরোহণ করেন। সুতরাং, মাউন্ট এভারেস্ট বিজয়িনী সর্বকনিষ্ঠ  নারী ও ব্যক্তি । (এছাড়াও দেখুন টেমবা শেরি এবং জর্ডান রোমেরো)।[১৯][২০] তার ভাই মিংমা গেলু শেরপা ২০১৬ সাল অব্ধি আটবার মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণের জন্য সুপরিচিত। বিবিসির সংবাদ অনুযায়ী ২০০৩ সালে যখন তারা মধ্যে তিন ভাই বোন একত্রে মাউন্ট এভারেস্ট বিজয় করেন সেটি প্রথমবার তিন সহোদরের একত্রে এভারেস্ট বিজয়ের নজির ছিল, সাথে এটি  বিশ্ব গীনিস বুক অফ রেকর্ডস দ্বারা স্বীকৃত ছিল।

২০০৪ সালে কানেকটিকাট এভারেস্ট অভিযানে তৎকালীন স্বামী দিজমার্সাকু লাফকাকে মারধর করেছিলেন।[২১] অভিযানে উপস্থিত এক সাংবাদিক মাইকেল কোদাসের মতে, ডিজমারসু, " তার ডান হাত দিয়ে তার স্ত্রীকে মাথায় আঘাত করেন।"[২২] এই বিবাদটি "পর্বতারোহণ জগতের প্রচার মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল"।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

  • আপা শেরপা
  • ছুরিম
  • লাকপা গেলু
  • মাউন্ট এভারেস্ট রেকর্ড তালিকা
  •  মাউন্ট এভারেস্ট অসংখ্যবার বিজয়ীদের তালিকা
  • শ্রিয়া শাহ-Klorfine (একজন নেপালি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নারী যিনিও এভারেস্ট থেকে নামার সময় মারা যান, ২০১২)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Lhakpa Sherpa scales Mt Everest nine times breaking own record"। The Himalayan Times। ২০১৮-০৫-১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৫-১৬ 
  2. "Mt. Everest 2005: Lakpa Sherpa"www.everestnews.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৫-১১ 
  3. "Mt. Everest 2005: Lakpa Sherpa"। Everestnews.com। ২০০০-০৫-১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৫-২০ 
  4. Nepal's Lhakpa Sherpa: 'I want to climb Everest 10 times' 15 June 2016
  5. PBS – Reaching for a Record
  6. "Everest 2003: Romanian Mt. Everest Expedition North Side"। Everestnews.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৫-২০ 
  7. "Everest Summiters Lakpa Sherpa and George Dijmarescu slide show/video presentation open to the public"। Everestnews.com। ২০০০-০৫-১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৫-২০ 
  8. Mt Everest's greatest female climber back for 7th ascent
  9. Pokhrel, Rajan (২০ মে ২০১৬)। "Two Nepali women atop Mt Everest as summit push continues"The Himalayan Times। সংগ্রহের তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০১৬ 
  10. About to scale peak a seventh time, Connecticut 7-Eleven clerk is Everest’s greatest ever female climber Barney Henderson, The Telegraph | May 16, 2016 12:12 PM ET
  11. "Himalayan Database Expedition Archives of Elizabeth Hawley"। Himalayandatabase.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৫-২০ 
  12. Himalayan Database – Spring 2005 Everest
  13. as Ms. Lakpa/Lhakpa Sherpa (Tashigaon, Nepal)?
  14. "7-Eleven worker becomes first woman to climb Mount Everest seven times"। Rawstory.com। ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৫-২০ 
  15. "Nepal woman breaks her own record for most Everest summits"The Hans India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৮-২৫ 
  16. "Nepali woman scales Mt Everest eight times breaking own record"। thehimalayantimes.com। ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৫-১৩ 
  17. Schaffer, Grayson (২০১৬-০৫-১০)। "The Most Successful Female Everest Climber of All Time Is a Housekeeper in Hartford, Connecticut"Outside Online। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৫-১১ 
  18. Everest's greatest ever female climber: Lhakpa Sherpa – the unknown mountaineering hero who works in a 7-Eleven in Connecticut
  19. Guinness World Records 2010: Thousands of New Records in The Book of the Decade!, ২০১০ উদ্ধৃতি টেমপ্লেট ইংরেজি প্যারামিটার ব্যবহার করেছে (link)
  20. THT 10 years ago: Ming Kipa's record was happenstance‚ says sister, ২০১৩ উদ্ধৃতি টেমপ্লেট ইংরেজি প্যারামিটার ব্যবহার করেছে (link)
  21. Kodas, Michael (২০০৮-০২-০৫)। High Crimes: The Fate of Everest in an Age of Greed (English ভাষায়)। New York, N.Y.: Hyperion। আইএসবিএন 1401302734 
  22. "Breaking Mount Everest's Glass Ceiling"। dailybeast.com। ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৩-৩০