রঙ ক্ষেত্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


রঙ ক্ষেত্র একটি বিশেষ রীতির বিমূর্ত চিত্রকলা যা প্রথম দেখা যায় ১৯৪০ সাল থেকে ১৯৫০ সালের সময়কালের মধ্যে নিউ ইয়র্ক শহরে। এই ধরনের চিত্রকলা ইউরোপের আধুনিক শিল্পকলা দ্বারা প্রভাবিত ছিল এবং যেহেতু এই ধারার পরিচর্যাকারী স্মরণীয় অনেক শিল্পীরা বিমূর্ত ধারার চিত্রকলার শীর্ষস্থানীয় শিল্পী ছিলেন, তাই এই ধারার চিত্রের সাথে বিমূর্ত প্রকাশবাদ চিত্রকলার অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। মূলত রঙ ক্ষেত্র চিত্রকলার এমন একটি মাধ্যম যেখানে বড় সমতল পৃষ্ঠের উপর এক একটি রঙ পরস্পর মিলে গেলেও তাদের নিজেদের স্বতন্ত্রতা বজায় রাখে এবং সম্পূর্ণ ক্যানভাস জুড়ে একটি নিশ্ছিদ্র সমতল চিত্রের জন্ম দেয়। এই ধরনের চিত্র অঙ্কনে অংগভংগি এবং তুলির আঁচড় এর চাইতে আকৃতি এবং কৌশলের দিকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। এই ধরনের চিত্রে রঙ কোনো উদ্দেশ্য বা বিষয়কে তুলে ধরতে নয় বরং রঙ নিজেই চিত্রের মূল বিষয় হয়ে উঠে।

ষাটের দশকের শেষার্ধে এবং সত্তর দশকের দিকে ব্রিটেন, কানাডা, ওয়াশিংটন ডি. সি. আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে রঙ ক্ষেত্র চিত্রশিল্পীদের আবির্ভাব ঘটে। তারা রঙ ক্ষেত্র চিত্রকলায় স্ট্রাইপ, টার্গেট বা ক্ষুদ্র গোলাকার বৃত্ত, সরল জ্যামিতিক আকৃতি এবং ল্যান্ডস্কেপ ও প্রকৃতিকে ফুটিয়ে তোলে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকায় অ্যাবস্ট্রাক্ট এক্সপ্রেশনিজম বা বিমূর্ত প্রকাশবাদ ধারা গড়ে ওঠার পর চিত্রকলার আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু ধিরে ধিরে প্যারিস থেকে নিউ ইয়র্ক এ চলে আসে। পঞ্চাশের দশকের শেষে এবং ষাটের দশকের শুরুতে ক্লিমেন্ট গ্রিনবার্গ চিত্র সমালোচকদের মধ্যে প্রথম ছিলেন যিনি বিমূর্ত প্রকাশবাদী চিত্রকলায় যে সকল দ্বন্দ্ব ছিল তা দূর করার পরামর্শ দেন। তবে এই বিষয়ে বিমূর্ত চিত্রকলার আরেক দিকপাল হ্যারোল্ড রোসেনবার্গ ভিন্ন মতামত প্রকাশ করে "আমেরিকান অ্যাকশন পেইন্টারস" শীর্ষক একটি প্রবন্ধ লিখেন যা ১৯৫২ সালের ডিসেম্বরে আর্টনিউজে প্রকাশিত হয়। লেখাটিতে তিনি অ্যাকশন পেইন্টিং এর বিভিন্ন গুণাগুন তুলে ধরেন।