মেমোরিস অব মার্ডার
| মেমোরিস অফ মার্ডার Memories of Murder | |
|---|---|
| পরিচালক | বং জুন-হো |
| প্রযোজক | চা সিউং-জায়ে |
| রচয়িতা | বং জুন-হো শিম সুং-বো |
| উৎস | Kim Kwang-rim কর্তৃক Come to See Me (play) |
| শ্রেষ্ঠাংশে | সং কাং-হো কিম সাং-কিউং কিম রোই-হা পার্ক হাই-ইল বাইউন হি-বংg |
| সুরকার | তারো ইওয়াশিরো |
| চিত্রগ্রাহক | কিম হিউং-কু |
| সম্পাদক | কিম সান-মিন |
| প্রযোজনা কোম্পানি | |
| পরিবেশক | সিজে এন্টারটেইনমেন্ট |
| মুক্তি |
|
| স্থিতিকাল | ১৩১ মিনিট |
| দেশ | দক্ষিণ কোরিয়া |
| ভাষা | কোরিয়ান |
| নির্মাণব্যয় | মার্কিন$২.৮ মিলিয়ন[১] |
মেমোরিস অফ মার্ডার (কোরীয়: 살인의 추억; আরআর: Sarinui chueok) হলো ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি দক্ষিণ কোরীয় ক্রাইম থ্রিলার চলচ্চিত্র। এটি সহ-রচনা ও পরিচালনা করেছেন বং জুন-হো। চলচ্চিত্রটি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নিশ্চিত ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে, যা ১৯৮৬ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে গিয়ংগি প্রদেশের হোয়াসং শহরে সংঘটিত হয়েছিল। এতে দুই গোয়েন্দার চরিত্রে অভিনয় করেছেন সং কাং-হো (ডিটেকটিভ পার্ক) ও কিম সাং-কিউং (ডিটেকটিভ সো), যারা এই অপরাধের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করছেন।
২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বার্কিং ডগস নেভার বাইট চলচ্চিত্রের পর এটি বং পরিচালিত দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। কিম কোয়াং-রিমের ১৯৯৬ সালের মঞ্চ নাটক কাম টু সি মি-এর ওপর ভিত্তি করে বং এবং শিম সুং-বো যৌথভাবে এর চিত্রনাট্য তৈরি করেন। চলচ্চিত্রটি এর আবহ, সিনেমাটোগ্রাফি, সম্পাদনা, আবহসংগীত, সং-এর অভিনয় এবং বং-এর পরিচালনা ও চিত্রনাট্যের জন্য সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে। চলচ্চিত্রটি ৩০টি পুরস্কার ও মনোনয়ন লাভ করেছে এবং অনেকে এটিকে সর্বকালের অন্যতম সেরা দক্ষিণ কোরীয় চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচনা করেন।
কাহিনিসংক্ষেপ
[সম্পাদনা]১৯৮৬ সালের অক্টোবর মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ছোট শহরের উপকণ্ঠে দুই নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। স্থানীয় গোয়েন্দা পার্ক ডু-ম্যান এর আগে কখনো এমন গুরুতর মামলার দায়িত্ব পাননি। ফলে তিনি খেই হারিয়ে ফেলেন। ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণগুলো সঠিকভাবে সংগ্রহ করা হয়নি, পুলিশের তদন্ত পদ্ধতিও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ এবং তাদের ফরেনসিক প্রযুক্তি ছিল প্রায় আদিম যুগের। পার্কের দাবি ছিল, তিনি মানুষের চোখের দিকে তাকিয়েই অপরাধী চিনে নিতে পারেন। তিনি প্রথমে বেক কোয়াং-হো নামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ সে প্রায়ই নিহতদের একজনকে অনুসরণ করত। পার্ক তার চোখের দিকে তাকানোর পদ্ধতি ব্যবহার করে ধরে নেন যে বেকই অপরাধী। এরপর পার্কের সহযোগী চো মারধর করে বেকের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করেন।
তাদের সাহায্য করার জন্য সিউল থেকে স্বেচ্ছায় আসেন গোয়েন্দা সো তাই-ইউন। তবে তদন্তের ক্ষেত্রে পার্কের পদ্ধতির সাথে তার মতবিরোধ দেখা দেয়। সো লক্ষ্য করেন যে বেকের হাত অত্যন্ত দুর্বল এবং ক্ষতবিক্ষত, যা দিয়ে এমন জটিল অপরাধ করা অসম্ভব। ফলে তিনি বেককে নির্দোষ বলে ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটার পর তারা বুঝতে পারেন যে, খুনি কেবল বৃষ্টির রাতে লাল পোশাক পরা নারীদেরই টার্গেট করে। নারী পুলিশ কর্মকর্তা কোওন কুই-ওক লক্ষ্য করেন, প্রতিবার খুনের রাতে একটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনে নির্দিষ্ট একটি গান বাজানোর অনুরোধ আসে।
পরবর্তী অপরাধের ঘটনাস্থলে পার্ক, চো এবং সো ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে তদন্ত করতে যান। সেখানে তারা এক স্থানীয় ব্যক্তিকে এক নারীর লাল অন্তর্বাস নিয়ে হস্তমৈথুন করতে দেখেন। পার্ক এবং চো লোকটিকে ধরে ফেলে নির্মমভাবে মারধর করেন। এদিকে সো কর্মকর্তা কোওনের সহায়তায় খুনির হাত থেকে বেঁচে যাওয়া এক নারীকে খুঁজে পান। সেই নারীর কাছ থেকে জানতে পারেন যে খুনির হাত দুটি ছিল অত্যন্ত নরম। আটককৃত লোকটির হাত খসখসে হওয়ায় সো তাকে নির্দোষ বলে ছেড়ে দেন। সন্দেহভাজনকে ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে পার্ক সো-র সাথে ঝগড়া শুরু করেন। এমন সময় কোওন তাদের জানান যে রেডিওতে আবার সেই গানটি বাজছে। তারা বুঝতে পারেন বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, কিন্তু তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অনেক দেরি করে ফেলেন এবং ততক্ষণে আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটে যায়। এরপর পার্ক, সো এবং চো অবশেষে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।
সর্বশেষ নিহত নারীর ময়নাতদন্তের পর তার শরীরের ভেতর থেকে কয়েকটি পীচ ফলের টুকরো পাওয়া যায়। তদন্তের সূত্র ধরে তারা পার্ক হিয়ন-গিউ নামের এক কারখানা শ্রমিকের সন্ধান পান। সো লক্ষ্য করেন যে হিয়ন-গিউয়ের হাত দুটি বেঁচে যাওয়া নারীর বর্ণনার মতোই নরম। সো যখন পীচ ফলের কথা উল্লেখ করেন, তখন হিয়ন-গিউ অস্বস্তি প্রকাশ করতে শুরু করে। এতে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন যে তারা আসল খুনিকে পেয়ে গেছেন। কিন্তু চো নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হিয়ন-গিউকে মারধর শুরু করলে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা চো-কে জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থেকে বের করে দেন। পার্ক এবং সো এরপর বেকের আগের স্বীকারোক্তির রেকর্ডটি আবার শোনেন। সো খেয়াল করেন, বেক এমনভাবে কথা বলছিল যেন অন্য কেউ এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা বুঝতে পারেন যে বেক নিজে খুন করেনি, বরং সে খুনের ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছিল। তারা বেকের বাবার রেস্তোরাঁয় গিয়ে দেখতে পান চো সেখানে মদ্যপ অবস্থায় পড়ে আছেন। সেখানে উপস্থিত অন্য গ্রাহকেরা টিভিতে খবর দেখে পুলিশকে নিয়ে উপহাস করলে চো তাদের মারধর শুরু করেন। এই মারামারির মধ্যে বেকও জড়িয়ে পড়ে এবং সে চো-কে লক্ষ্য করে একটি কাঠের তক্তা ছুড়ে মারে। তক্তায় থাকা একটি মরিচা ধরা পেরেক দুর্ঘটনাবশত চো-এর পায়ে ঢুকে যায়। পার্ক এবং সো বেককে তাড়া করে জিজ্ঞাসাবাদ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সে ভয় পেয়ে রেললাইনের দিকে দৌড় দেয় এবং চলন্ত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মারা যায়।
পার্ক জানতে পারেন যে মরিচা ধরা পেরেকের কারণে চো-এর পায়ে ধনুষ্টঙ্কার (টিটেনাস) হয়েছে এবং তার পা কেটে ফেলতে হবে। এতে পার্ক অপরাধবোধে ভুগতে থাকেন। তদন্তকারীরা একটি মরদেহে বীর্যের সন্ধান পেয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় দক্ষিণ কোরিয়ায় ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় সন্দেহভাজন হিয়ন-গিউই আসল খুনি কি না তা নিশ্চিত করতে নমুনাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। এরই মধ্যে এক রাতে আরেকটি মেয়েকে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে সো দেখতে পান, নিহত মেয়েটি আর কেউ নয়, তদন্তের সময় যার সাথে তার পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়েছিল। ক্রোধে ফেটে পড়ে সো হিয়ন-গিউকে আক্রমণ করেন। ঠিক তখনই পার্ক আমেরিকা থেকে আসা ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে সেখানে হাজির হন এবং সো-কে থামান। কিন্তু রিপোর্টে দেখা যায় যে সংগৃহীত নমুনার সাথে হিয়ন-গিউয়ের ডিএনএ মেলেনি। হতাশ হয়ে পার্ক হিয়ন-গিউকে ছেড়ে দেন।
২০০৩ সাল। মামলাটি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। পার্ক এখন পুলিশ বাহিনী ছেড়ে ব্যবসা করছেন এবং তিনি সংসারী হয়েছেন। একদিন তিনি সেই প্রথম অপরাধের ঘটনাস্থলটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে একটু দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে এক ছোট্ট মেয়ের সাথে তার দেখা হয়। মেয়েটি তাকে জানায় যে কিছুদিন আগে অন্য এক ব্যক্তিও সেখানে এসেছিল। সেই ব্যক্তিটি বলেছিল, অনেক বছর আগে সেখানে তার করা একটি কাজের স্মৃতিচারণ করতেই সে এসেছে। পার্ক মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করেন যে লোকটিকে দেখতে কেমন ছিল। মেয়েটি উত্তর দেয়, তার চেহারা ছিল খুবই "সাধারণ" এবং তাকে দেখতে আর দশটা সাধারণ মানুষের মতোই লাগছিল। পার্ক সরাসরি ক্যামেরার দিকে অর্থাৎ দর্শকদের দিকে তাকানোর মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রটি শেষ হয়; যেন তিনি তার সেই চোখের দিকে তাকিয়ে অপরাধী চেনার পদ্ধতি ব্যবহার করে দর্শকদের মাঝেই আসল খুনিকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Cheong, Sung-il; Paquet, Darcy (2004). Korean Cinema 2003, Korean Film Commission. p.92.
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজে মেমোরিস অব মার্ডার (ইংরেজি)
- অলমুভিতে মেমোরিস অব মার্ডার (ইংরেজি)
- বক্স অফিস মোজোতে মেমোরিস অব মার্ডার (ইংরেজি)
- Darcy Paquet's review at Koreanfilm.org
- কোরিয়ান মুভি ডেটাবেসে মেমোরিস অব মার্ডার
- Memories of Murder: In the Killing Jar an essay by Ed Park at the Criterion Collection
- ২০০৩-এর চলচ্চিত্র
- ১৯৮০-এর দশকের পটভূমিতে চলচ্চিত্র
- ২০০০-এর দশকের দক্ষিণ কোরীয় চলচ্চিত্র
- দক্ষিণ কোরীয় ধারাবাহিক খুনি চলচ্চিত্র
- ২০০০-এর দশকের কোরীয় ভাষার চলচ্চিত্র
- সত্য ঘটনা অবলম্বনে দক্ষিণ কোরীয় চলচ্চিত্র
- দক্ষিণ কোরীয় গোয়েন্দা চলচ্চিত্র
- পুলিশ গোয়েন্দা চলচ্চিত্র
- শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র গ্র্যান্ড বেল পুরস্কার বিজয়ী
- দক্ষিণ কোরীয় নব্য-নোয়ার চলচ্চিত্র