মুহাম্মদ শফী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

মুহাম্মদ শফী একজন বাংলাদেশী সার্জন ছিলেন যিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নিহত হন। মুহাম্মদ শফিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের একজন "শহীদ" হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

শফী ১৯১৫ সালের ৫ এপ্রিল ব্রিটিশ ভারতের হুগলি জেলার দিঘড়ে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৩০ সালে হুগলী জেলা উচ্চ বিদ্যালয় এবং ১৯৩৩ সালে হাওড়া সরকারী কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৩৬ সালে তিনি কলকাতা ডেন্টাল কলেজ থেকে দন্ত ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৪২ সালে তিনি একই কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করেছেন।[১]

পেশা[সম্পাদনা]

শফী ডেন্টাল সার্জন এবং পরে কলকাতা মেডিকেল কলেজে আর আহমেদ ডেন্টাল ল্যাবরেটরিতে যোগদান করেছিলেন। কলকাতার বাউবাজার স্ট্রিটে তার প্রাইভেট অনুশীলন ছিল। ভারত বিভাগের পর তিনি পূর্ব পাকিস্তানের চট্টগ্রামে চলে আসেন। তিনি এনায়েত বাজারে একটি বেসরকারী অনুশীলন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৪ সালে, তিনি তার জন-সংখা ও সম্পদ গ্রন্থের জন্য জাতীয় ব্যাংক সাহিত্যের পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি অসহযোগ আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন। ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিবাহিনীকে সহায়তা করতে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। তিনি তার বাসভবনে শুরু হওয়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের কর্মীদের সহায়তা করেছিলেন।[১]

সাহিত্য[সম্পাদনা]

মুহাম্মদ শফী লেখালেখি করতেন। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:

  • জনসংখ্যা ও সম্পদ
  • প্রেম ও বিবাহের সম্পর্ক
  • চরিত্র হানির তাৎপর্য
  • নয়া গণতন্ত্র
  • চিকিৎসা বিজ্ঞান (অনুবাদ গ্রন্থ)
  • চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস (অনুবাদ গ্রন্থ)
  • ঐতিহাসিক বসুতবাদ
  • শান্তি না শক্তি
  • হুনানের কৃষক আন্দোলন
  • জনযুদ্ধের বিজয় দীর্ঘজীবী হোক

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ৭ এপ্রিল শফিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আটক করে, তবে ব্রিগেডিয়ার মির্জা আসলাম বেগের একজন রোগীর পরামর্শে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার বাড়িতে মেজর বোখারী অভিযান চালায়। মেজর বোখারী বাড়িটি অনুসন্ধান করেছিলেন এবং মুক্তিবাহিনীর জন্য সঞ্চিত অস্ত্র পেয়েছিলেন। শফিকে তার ভাই খোন্দকার এহসানুল হকের সাথে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুজনকে আর কখনও দেখা যায় নি এবং তাদের মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল। তার স্ত্রী মোশতারি শফি এবং তার তিন ছেলে ও ৪ ছেলে বাঁচে ছিল। পিএনএস ১৪ ডিসেম্বর ১৯৯৯, বাংলাদেশ ডাকঘর তার নামে স্মারক ডাকটিকেট জারি করে।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]