মালেনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মালেনা
চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পোস্টার
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পোস্টার
Malèna
পরিচালকজুসেপ্পে তোর্নাতোরে
প্রযোজকহার্ভি ওয়াইনস্টেইন
চিত্রনাট্যকারজুসেপ্পে তোর্নাতোরে
কাহিনীকারলুসিয়ানো ভিনসেনজনি
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকারইনিও মরিকোনি
চিত্রগ্রাহকলাজোস কলটাই
সম্পাদকমাসিমো কুয়াগলিয়া
পরিবেশকমিরাম্যাক্স ফিল্মস
মুক্তি
  • ২৭ অক্টোবর ২০০০ (2000-10-27) (ইতালি)
দৈর্ঘ্য১০৯ মিনিট[১]
দেশইতালি
ভাষাইতালিয়
আয়$১৪,৪৯৩,২৮৪

মালেনা (ইতালীয়: Malèna) ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ইতালীয় প্রণয়ধর্মী নাট্য চলচ্চিত্রলুসিয়ানো ভিনসেনজনি রচিত গল্প অবলম্বনে চলচ্চিত্রটির অভিযোজিত চিত্রনাট্য রচনা এবং পরিচালনায় করেছেন জুসেপ্পে তোর্নাতোরে। অভিনয়ে ছিলেন মনিকা বেলুচ্চি, জুসেপ্পে সালফারো, লুসিয়ানো ফেদেরিকো প্রমুখ।[২] মিরাম্যাক্স ফিল্মসের অধীনে চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছেন হার্ভি ওয়াইনস্টেইন। চলচ্চিত্রটি ২০০১ সালের ক্যবোর্গ চলচ্চিত্র উৎসব গ্যান্ড প্রিক্স খেতাব অর্জন করে।[৩]

কাহিনী[সম্পাদনা]

মালেনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত। সিনেমাটির নামকরন করা হয়েছে কেন্দীয় চরিত্রের নামানুসারে। মালেনা, ইতালির সিসিলি শহরে একা বসবাসরত বছর ৩৬-এর এক রক্ত হিম করা সুন্দরী মহিলা। মালেনার স্বামী আর্মি অফিসার-নিনো স্কার্ডিয়া, নিখোঁজ।  চারপাশে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসলীলা। মালেনার ধারণা তাঁর স্বামী যুদ্ধে মারা গিয়েছেন। মালেনা ভয়াবহ সুন্দরী। এত সুন্দরী যে পাড়ার মধ্যবয়স্ক লোক হতে শুরু করে স্কুলে যাওয়া কিশোর সবাই তাঁর অ্যাপার্টমেন্টের সামনে এসে ঘুরঘুর করে। সবাই সাহস পায় কারণ মালেনা থাকেন সম্পুর্ন একা। সিনেমাটির অন্য আরেকটি প্রধান চরিত্র রেনাটো। ১২ বছরের কিশোর।  সে, ওর বন্ধুরা সবাই মালেনার প্রেমে বিভোর…।

ওরা সাইকেল চালিয়ে প্রতিদিন অনেক রাস্তা পাড়ি দেয়, রাস্তার পাশে দলবদ্ধভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে শুধুমাত্র মালেনাকে একনজর দেখার জন্য। রেনাটো মালেনাকে নিয়ে নানারকম ‘সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসী’ করতে থাকে। ওসব করতে গিয়ে সে বাবা-মা’র কাছে হাতে নাতে ধরা পড়ে-প্রচন্ড মারও খায়। রেনাটো মালেনার ঘরের দেয়ালে একটা ফুটো আবিষ্কার করে ফেলে। এরপর সেই ফুটো দিয়ে রাতে-দিনে নানা সময়ে মালেনাকে অবলোকন করার চেষ্টা করতে থাকে। এদিকে নিঃসঙ্গ একাকিনী মালেনা অর্থাভাবে নানা রকম সমস্যায় পড়তে শুরু করেন। মালেনা সেলুন, মুদিদোকান হতে শুরু করে সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন। ছোট বড় সবাই তাঁকে নিয়ে রসালো গসিব করতে থাকে। “স্বামীটি বুঝি মালেনার সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত”-পাড়ার সব মহিলারা এই আতঙ্কে আতঙ্কিত হতে শুরু করে। পারিপার্শ্বিক চাপে মালেনা কার্যত একঘরে হয়ে পড়েন।  তাঁর কাছে কেউ কিছু বিক্রি করতে চায় না, সামান্য খাবারের বিনিময়েও তাঁকে বিক্রি হতে হয় লোলুপ পুরুষের কাছে।  শহরের প্রভাবশালী পুরুষরা নানা ছুতোয় তাঁকে সম্ভোক করতে চায়। দেয়ালের ফুটো দিয়ে রেনাটো এর অনেককিছুই দেখতে পায়।  সে হয়ে ওঠে মালেনার দুঃর্বিশহ জীবনের একমাত্র সাক্ষী।

হিটলারের নাৎসি বাহিনী যখন সিসিলিতে আসে মালেনাকে জীবিকার তাগিদে তাদের কাছেও যেতে হয়, দেহপসারিণী হয়ে।  নাৎসি বাহিনী চলে যাওয়ার পর শহরের অন্য নারীরা মালেনার উপর চড়াও হয়ে ওঠে। তাঁকে মারধোর করে শহর থেকেই তাঁড়িয়ে দেয়। মালেনা সিসিলি ছেড়ে মেসিনায় চলে আসেন। কিছুদিন পর মালেনার যুদ্ধাহত স্বামী ফিরে আসেন, মালেনাকে খুঁজে বের করেন এবং একবছর পর তাঁরা সিসিলিতে আগের বাড়িতে ফিরে আসেন। স্বামীর হাত ধরে মালেনা মাথা উঁচু করে বাজারের মাঝ দিয়ে হেঁটে যায়। মালেনাকে কারো অধীনে দেখে অন্য মহিলারা খুব খুশী হয়, স্বস্তি পায়।  তাঁকে মাথা নিঁচু করে অভিবাদন করে, শুভেচ্ছা জানায়।

পুরো সিনেমাটি দেখানো হয়েছে রেনাটোর চোখ দিয়ে। শেষের দিকে রেনাটোকে কিছু আপেল কুঁড়িয়ে দিয়ে মালেনাকে সাহায্য করতে দেখা যায়, যেগুলো তাঁর শপিং ব্যাগ থেকে পড়ে গিয়েছিল।  রেনাটো মালেনাকে শুভকামনা জানায়। এরপর সাইকেল চালিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।  ছবিতে ওটাই ছিল প্রথম এবং একমাত্র দৃশ্য যেখানে রেনাটো-মালেনা পরস্পরের সাথে কথা বলে।  রেনাটো সাইকেল চালিয়ে সামনের দিকে এগুনোর সময় শেষবারের মত পেছনে মালেনার দিকে ফিরে তাকায়।  সে দেখতে পায় হাঁটতে থাকা মালেনাকে।

শেষ দৃশ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক রেনাটোর কণ্ঠ শোনা যায়।  সে বলে ওঠে : ‘অনেক সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে এবং আমিও অনেক মেয়ের প্রেমে পড়েছি। তাঁরা আমাকে কাছে টেনে জড়িয়ে ধরে বলেছে আমি যেন তাঁদের মনে রাখি। আমি মন থেকে বিশ্বাস করি আমি তাঁদের মনে রাখবো। কিন্তু একমাত্র নারী মালেনা, ‘ভুলোনা আমায়’ কথাটা না বলা স্বত্ত্বেও যাকে আমি ভুলতে পারি নি”।

অভিনয়ে[সম্পাদনা]

  • মনিকা বেলুচ্চি – মালেনা স্কোর্ডিয়া
  • জুসেপ্পে সালফারো – রেনাতো আমারোসো
  • লুসিয়ানো ফেদেরিকো – রেনাতোর বাবা
  • ম্যাটেল্ড পিয়ানা – রেনাতোর মা
  • পিয়েত্রো নোতারিয়ানি – অধ্যাপক
  • গেতানো অ্যারোনিকা – নিনো স্কোর্ডিয়া
  • গিলবার্তো ইডোনা – আভোকাতো সেন্টোরবি
  • অ্যাঞ্জেলো প্যালিগ্রিনো – সেগ্রিতারিও পলিটিকো
  • গ্যাব্রয়িেলা ডি লুজিও – ম্যান্টেউলা দেল বারোন

সঙ্গীত[সম্পাদনা]

এই সাউন্ডট্র্যাক শ্রেষ্ঠ অরিজিনাল স্কোর বিভাগে একাডেমি পুরস্কার এবং গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের জন্যে মনোনীত হয়েছিল।

পুরস্কার[সম্পাদনা]

বছর ‍‍ শিরোনাম বিভাগ প্রাপক ফলাফল টীকা
২০০১ ইতালীয় জাতীয় নিষদ চলচ্চিত্র সাংবাদিক শ্রেষ্ঠ সুর বিভাগে নাস্ত্রো দারজেন্তো ইনিও মরিকোনি বিজয়ী
২০০১ কাবোর্গ চলচ্চিত্র উৎসব গ্যান্ড প্রিক্স জুসেপ্পে তোর্নাতোরে বিজয়ী
২০০১ দাভিদ দি দোনাতেল্লো শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রায়ন লাজোস কলটাই বিজয়ী

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "মালেনা: তুলনা"movie-censorship.com। movie-censorship.com। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ৯, ২০১৫ 
  2. "অভিনয় স্বীকৃতি"www.nytimes.com/। nytimes.com। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ৯, ২০১৫ 
  3. "PALMARÈS 2001" (PDF)festival-cabourg.com। ২০০১। ২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]