মানযিলা পলা উদ্দিন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মানযিলা পলা উদ্দিন
Baroness Uddin.png
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মমানযিলা পলা উদ্দিন
১৭ জুলাই ১৯৫৯ সাল
রাজশাহী, পূর্ব পাকিস্তান
জাতীয়তাব্রিটিশ
রাজনৈতিক দলNon-afflliated[১]
দাম্পত্য সঙ্গীকমর উদ্দিন
বাসস্থানWapping, লন্ডন,
যুক্তরাজ্য
প্রাক্তন শিক্ষার্থীইউনিভার্সিটি অব নর্থ লন্ডন
পেশাসমাজ সেবক
জীবিকারাজনিতিবিদ
ধর্মইসলাম
ওয়েবসাইটwww.baronessuddin.com

মানযিলা পলা উদ্দিন (ইংরেজি Manzila Pola Uddin, Baroness Uddin) (জন্ম- ১৭ জুলাই, ১৯৫৯) একজন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজশাহী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিলেতের রাজনীতি এবং কমিউনিটির সাথে অতপ্রেত ভাবে জড়িত। তিনি প্রথম কোন মুসলমান এবং একই সাথে বাঙ্গালী যিনি ব্রিটেনের পার্লামেন্টের লর্ডস হবার গৌরব অর্জন করেছিলেন। তবে দুর্নীতির দায়ে ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তার সদস্য পদ বাতিল করে দেয়া হয়।

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

তিনি ১৯৭৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে পরিবারের সাথে লন্ডনে আসেন। তিনি লন্ডনের ইষ্ট হামের Plashet বিদ্যালয়ে লেখা পড়া শুরু করেন এবং পরে নর্থ লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামাজিক উন্নয়ন বিভাগ থেকে ডিপ্লোমা শেষ করেন।[২]

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

সত্তরের দশকের শেষের দিক থেকেই তিনি মুলত বিলেতের সামাজিক এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেকে জড়াতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি আসির দশকে তিনি Youth and Community worker (YWCA) এর সাথে যুক্ত হন। পরে তিনি Tower Hamlets Social Services এর একজন কর্মী হিসাবে বেশ সুনাম অর্জন করেন। একই দশকের শেষের দিকে তিনি Tower Hamlets Women's Health Project এর ব্যাবস্থাপক পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।[২] ১৯৮৮ সালে তিনি নিউহাম সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার সাথে যুক্ত হন। ১৯৯০ সালে তিনি প্রথম কোন বাঙালি হিসাবে লেবার পার্টি থেকে the London Borough of Tower Hamlets অঞ্চলের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।[৩] তিনি সফলতার সাথে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সফলতার সাথে লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটের নির্বাহী প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৭ সালে তিনি Bethnal Green and Bow constituency এর জন্যে আবেদন করেন কিন্তু মনোনয়ন পেতে ব্যার্থ হন। তবে ১৯৯৮ সালের ১৮ জুলাই তিনি বিলেতের পার্লামেন্টের হাউজ অব লর্ডসে প্রথম কোন মুসলমান, প্রথম কোন বাঙালি লর্ডস হিসাবে নিযুক্ত হন।[৪] যা সেখানকার বাঙালি কমিউনিটিতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তৎকালীন সময়ে তিনি হাউজ অব লর্ডসে সর্ব কনিষ্ঠ কোন লর্ডস ছিলেন।[৫] তাকে হাউজ অব লর্ডসে আমন্ত্রন জানানু হলে তিনি আল্লাহর নামে শপত নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একজন লর্ডস হিসাবে তিনি স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন।[৩]

১৯৯৯ সালে তিনি বিলেতের মাটিতে এশিয়ান মহিলাদের উন্নয়নের লক্ষে জাগোনারী নামে একটি সংস্থা তৈরি করেন। যা থাকে স্থানীয় ভাবে আরও বেশি পরিচিত করে তুলে।[৬]

২০০৫ সালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার কর্তৃক সন্ত্রাসি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রচারনার জন্যে নিযুক্ত হন। তবে ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে তিনি টনি ব্লেয়ারের মধ্যপ্রাচ্য নীতির বিরুদ্ধে খলা চিটি লেখেন যাতে আরও কয়েকজন মুসলমান সংসদ সদস্য সাক্ষর করেন। যা তাকে বেশ সমালোচিত করে।[৭] তবে সেখানকার মুসলমান কমিউনিটি ব্যাপারটা ইতিবাচক হিসাবেই দেখে ছিলেন।

দুর্নীতির অভিযোগ[সম্পাদনা]

২০০৯ সালের মে মাসে The Sunday Times পত্রিকা তার দুর্নীতি নিয়ে বেশ কিছু সংবাদ ছাপালে আবারও তিনি সংবাদের শিরোনাম হন।[৮] পত্রিকাটি অভিযোগ করে তিনি ব্যয় বাবত সরকারের কাছ থেকে অস্বাভাবিক আর্থিক সাহায্য নিচ্ছেন যা বে আইনি। যদিও তিনি তা অস্বীকার করেন। ২০০৯ সালের ২৩ নভেম্বর মামলাটি পুলিশ গ্রহণ করলে তার দুর্নীতির ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এসময় দি ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকাটি প্রতিবেদন করে তিনি পুলিশকে তদন্তের ব্যাপারে অসহযোগিতা করছেন।[৯] পরে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২০১০ সালের ১৮ অক্টোবর হাউজ অব লর্ডস থেকে তাকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।[১০] এবং জানিয়ে দেয়া হয় দুর্নীতি করে তিনি যে ১২৫,৩৪৯ পাউন্ড নিয়েছেন তা অবশ্যই ফিরত দিতে হবে। তবে তিনি তা দিতে অস্বীকার করে হাউজ অব লর্ডসে ফিরত আসার চেষ্টা করলে প্রবল বাঁধার সম্মুখিন হন।[১১] পরে ২০১২ সালে তিনি ১২৪,০০০ পাউণ্ড ফেরত দিলে তাকে আবার পদ ফিরিয়ে দেয়া হয়।[১২]

তার শ্বশুর বাড়ি সিলেট জেলার ছাতকে। ডেইলি সানডে টাইমস পত্রিকা অভিযোগ করে তিনি তার শ্বশুর বাড়িতে ১৪০,০০০ পাউন্ড ব্যায়ে যে বাড়ি নির্মাণ করেছেন তা দুর্নীতির মাধ্যমে সংগ্রহ করেছেন। তবে তিনি তা প্রথমেই অস্বীকার করেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চার ছেলে এবং এক মেয়ের মাতা। [২]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

  1. ব্রিটিশ বাংলাদেশী

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]