মধ্য জাভার বড় মসজিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সেন্ট্রাল জাভা এর গ্রেট মসজিদ
প্রতিষ্ঠিত ২০০৬
স্থাপত্য তথ্য
ধরণ জাভানিজ, অ্যারাবিক ও গ্রিক এর সংমিশ্রণ
ধারণক্ষমতা ১৫,০০০
গম্বুজ
মিনার
নির্মাণ খরচ ১৯৮,৬৯২,৩৪০,০০০ ইন্দোনিশিয়ান রুপি[১]
(US$ ২২,০০০,০০০)

ওয়েবসাইট: www.majt.org

মধ্য জাভার গ্রেট মসজিদ (Masjid Agung Jawa Tengah) মধ্য জাভা’র সেমারাং শহরের প্রধান মসজিদ।

বিন্যাস[সম্পাদনা]

এই মসজিদ কমপ্লেক্সটি ১০ হেক্টর (২৫ একর) স্থান জুড়ে আছে। এই মসজিদ কমপ্লেক্সের তিনটি কেন্দ্রীয় ভবন, যা “U” আকারে অবস্থিত। এবং এই তিন ভবনের মধ্যে গম্বুজসহ মধ্যের ভবনটি হল মসজিদ। সব ভবনের টাইলস আবৃত ছাদ বিদ্যমান। যেখানে প্রধান মসজিদ ভবনটির চারটি মিনার আছে। সবার বিশ্বাস করে যে, প্রধান মসজিদটির ছাদ তাদের ঐতিহ্যবাহী জাভানিজ বাড়ি "'জগলো"' "'(joglo)"' এর অনুকরণে তৈরী করা হয়েছে। ছাদের এইধরনের নির্মাণ দ্বারা “জান্নাতের দিকে সিড়ি” বা “সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ” প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মধ্যের প্রধান মসজিদটির “U” আকারে দুইবাহুতে অবস্থিত অপর দুইটি ভবন হল যথাক্রমে “গ্রন্থাগার” ও “সভাকক্ষ”।[২] এই সভাকক্ষের ধারণক্ষমতা ২,০০০।[১]

মসজিদের সামনে শিলালিপি

কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের খোলা অংশে ছয়টি হাইড্রোলিক সিস্টেমে চালিত ছাতা আছে। যা মদিনা’র আল-মসজিদ আল-নববী মসজিদের ছাতার অনুকরণে তৈরী। যা উঠানে প্রার্থনারত মুসল্লীদের রোদ, বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করা উদ্দেশ্যে নির্মিত।[২] এই ছয়টি ছাতা ইমানের ছয়টি বিষয়ের প্রতিনিধিত্ব করে।[৩] ৭,৬৬৯-বর্গমিটার (৮২,৫৫০ ফু) প্রার্থনার স্থানে একসাথে ১৫,০০০ এর অধিক মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারে।[২][৪] “U” আকৃতিতে অবস্থিত ভবনগুলোর খোলা অংশে অ্যারাবিক-স্টাইলে খিলানের শ্রেণী বিদ্যমান। যাতে আল্লাহ’র ৯৯ টি গুণবাচক নাম আরবীতে খোদাই করা আছে। এই খিলান শ্রেণীটি ২৫ টি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে। যার ২৫ টি স্তম্ভ ইসলাম ধর্মের ২৫ জন নবী-রাসূলের প্রতিনিধিত্ব করে।[৩] খিলানগুলোর পেছন দিকের অংশে একটি পাথরের তৈরী ফলক বিদ্যমান। যার উচ্চতা ৩.২-মিটার (১০ ফু) এবং ওজন ৭.৮ টন, এই পাথরটি আনা হয় “মাউন্ট মেরাপী” থেকে। এর ডিজাইন করেন “ন্যুমান এম. আলীম”।[১][৩]

প্রায় ৯৯-মিটার (৩২৫ ফু) লম্বা আসমাউল হুসনা টাওয়ার। যা কুদুসের মসজিদের টাওয়ার অনুসারে নির্মিত। এই ৯৯ মিঃ লম্বা টাওয়ারটি আল্লাহ’র ৯৯ টি গুণবাচক নামের প্রতিনিধিত্ব করে।[৫] এই টাওয়ার বা স্তম্ভ থেকে আযান দেওয়া হয়। এই টাওয়ারটি “দাক্বাহ্‌” এবং ভিত্তিতে অবস্থিত যাদুঘরের রেডিও স্টেশন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।[২][৫] লিফটের সাহায্যে এই স্তম্ভের এই স্তম্ভের শীর্ষে যাওয়ার ব্যবস্থা বিদ্যমান।[৬] একটি রেষ্টুরেন্ট ও শহরের দৃশ্য দেখার (Observation Deck) একটা ডেক আছে। এর প্রাঙ্গনে ২৩ টি কক্ষবিশিষ্ট একটি আবাসিক হোটেলও আছে।[৫]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

এই মসজিদটি নির্মাণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয় ২০০১ সালে ৬ জুন, যখন কেন্দ্রীয় জাভা’র গভর্ণর মসজিদ নির্মাণে সহযোহগিতার জন্য একটি দল গঠন করেন "'(Tim Koordinasi Pembangunan Masjid Agung)"'। এই দলে প্রদেশ ও শহরের সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী সংগঠনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যেমন ইন্দোনেশিয়ান উলেমা কাউন্সিল "'[Indonesian Ulema Council (MUI)]"'। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই নির্মাণ সহযোগি দলটি মসজিদ নির্মাণের জন্য একটি “প্রস্তাবিত নির্মাণ তালিকা” প্রকাশ করে।[৪] এই মসজিদের নির্মাণব্যয় প্রাদেশিক সরকার নির্বাহ করবে।[৩] ২০০২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয় যখন, ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম মন্ত্রী সৈয়দ আগিল হুসেইন আল-মুনাওয়ার, MUI এর প্রধান সাহাল মাহফুজ এবং কেন্দ্রীয় জাভা’র গভর্ণর মারদিয়ান্তো ছিলেন, তারা এই মসজিদের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ২০০৪ সালের ১৯ মার্চ যখন মসজিদ নির্মাণাধীন তখন, ছাবিব ত্বোহা জুমার নামাজ পড়ান।[৪] ২০০৬ সালের ১৪ নভেম্বর ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি “সুসিলো বামবাং ইয়ুধনো" এবং তার স্ত্রী মসজিদ উদ্বোধন করেন।[১][২] ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে আসমাউল হুসনা টাওয়ারের অষ্টাদশ তলায় একটি ঘুর্ণায়মান রেষ্টুরেন্ট খোলা হয়। শুরুতে এই রেষ্টুরেন্টে বিশটি রাতের খাবারের টেবিল ছিল।[৬] উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন, বাস এবং ট্রামসহ এই মসজিদটি একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সমাদৃত।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

জীবনী
  • Gower, Simon Marcus (৩১ জুলাই ২০০৯)। "The marvels of a modern mosque"The Jakarta Post। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  • Herusansono, Winarto (১ অক্টোবর ২০০৮)। "Resto Berputar, Restoran Tertinggi di Indonesia" [Rotating Restaurant, the Highest Restaurant in Indonesia]। Kompas (Indonesian ভাষায়)। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  • "Masjid Agung Jateng Telah Mendunia" [The Great Mosque of Central Java is Known Throughout the World]। Antara (Indonesian ভাষায়)। ২২ আগস্ট ২০০৭। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  • Meinita, Hanna (১৭ অক্টোবর ২০১১)। "Payung Otomatis Masjid Agung Jateng Seperti di Masjid Nabawi" [Automatic Umbrellas at the Great Mosque of Semarang are Like Those at Masjid Nabawi]। okezone.com (Indonesian ভাষায়)। MNC Group। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  • "Presiden Resmikan Masjid Agung Jateng" [President Opens the Great Mosque of Central Java] (Indonesian ভাষায়)। Office of the President of Indonesia। ১৪ নভেম্বর ২০০৬। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  • "Sejarah Masjid Agung Jawa Tengah" [History of the Great Mosque of Central Java] (Indonesian ভাষায়)। Grand Mosque of Central Java। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]