মথুরানাথ বসু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সাধু
মথুরানাথ বসু
মথুরানাথ বসু
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম(১৮৪৩-১২-০৫)৫ ডিসেম্বর ১৮৪৩
কোটচাঁদপুর, বাংলা প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
(বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু২ সেপ্টেম্বর ১৯০১(1901-09-02) (বয়স ৫৭)
গোপালগঞ্জ, বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাংলাদেশি
দাম্পত্য সঙ্গীপ্রেয়সীবালা
সন্তানমহেন্দ্র নাথ বসু
জ্যোতি প্রকাশ বসু
জন. জি বসু
প্রাক্তন শিক্ষার্থীযশোর জিলা স্কুল
ডাফ কলেজ
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশাখ্রিস্টান মিশনারি
সমাজসেবক
ধর্মখ্রিস্টান

জীবন বৃত্তান্ত[সম্পাদনা]

মথুরানাথ বসু তদানীন্তন ভারতীয় উপমহাদেশের বঙ্গ প্রদেশের অর্ন্তভূক্ত যশোর জেলার কোটচাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন সদানন্দ বসু এবং তাঁর মাতা ছিলেন সুলোচনা দেবী। কৃষ্ণের লীলাভূমি মথুরার নামানুসারে তাঁর নাম দেয়া হয় মথুরানাথ।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

চার বছর বয়স থেকেই তিনি গৃহ শিক্ষকের কাছে বিদ্যাভাস শুরু করেন। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত গৃহ শিক্ষকের কাছে পড়াশুনা সমাপ্ত করে যশোর জিলা স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৫৭ সালে তিনি যশোর জিলা স্কুল থেকে এন্ট্রাস পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৮৫৭ সালে তিনি কলকাতার ডাফ কলেজ ভর্তি হন এবং এখান থেকেই তিনি আই.এ পাস করেন। আই.এ পরীক্ষায় তিনি প্রথম বিশ জনের মধ্যে চতুর্থ হন এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে স্বর্ণপদক লাভ করেন। মথুরানাথ ১৮৬০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং এখন থেকেই তিনি প্রথম বিভাগে বি.এ পাশ করে স্বর্ণপদক লাভ করেন।

কর্ম জীবন[সম্পাদনা]

মথুরানাথ ৪ বছর আইন ব্যবসা করেন। পরে আইন ব্যবসা ছেড়ে কিছুদিন সরকারী চাকুরী করেন। সরকারী চাকুরী ছেড়ে দিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেন, এখানে তিনি সফল হলেও পরবর্তীতে তিনি ব্যবসা ছেড়ে দেন। ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে তিনি ৯ বছর ভবানীপুরে শিক্ষকতা করেন।

খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ[সম্পাদনা]

ডাফ কলেজে পড়াকালীন সময়ে তিনি খ্রিস্টধর্মের সংস্পর্শে আসেন এবং ১৮৬৫ সালে তিনি স্বধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন।

গোপালগঞ্জে আগমন[সম্পাদনা]

মথুরানাথ বসু ১৮৭৪ সালে তিনি ফরিদপুর জেলা ম্যাজিস্টে্রট মিঃ ওয়েলেসের আমন্ত্রণে মিশনারী হিসাবে তৎকালীন রাজগঞ্জ বর্তমানে গোপালগঞ্জে আসেন। তৎকালীন রাজগঞ্জ ছিল সম্পূর্ণ একটি জলাভূমি। মধুমতী তীরের ছোট্ট একটি হাট ছিল রাজগঞ্জ হাট।

সমাজসেবামূলক কর্মকান্ড[সম্পাদনা]

তিনি এ অঞ্চলে নিরক্ষরতা দূর করতে একটি স্কুল নির্মান করেন। পাঁচটি ছেলে ও দুটি মেয়ে নিয়ে তিনি শুরু করেন তাঁর মিশন স্কুল। এই স্কুল ছিল অবৈতনিক, এখান থেকে বিনামূল্যে বই পেতো ছাত্র-ছাত্রীরা। পরবর্তীকালে তিনি এই স্কুলকে হাই স্কুলে উন্নীত করেন। মৃত্যুর পূর্বে তাঁর স্কুলের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিলো প্রথম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশী। তিনি এ অঞ্চলে বেঙ্গল মিশন সোসাইটির অধীনে স্কুল, চিকিৎসা, ধর্ম প্রচারমূলক কাজ করতেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন গ্রামে পাঠশালা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর একক প্রচেষ্ঠায় গোপালগঞ্জে কোর্ট স্থাপিত হয় এব্ং আনাবারি ম্যাজিস্টট তাঁকে করা হয়। তিনি এ অঞ্চলে কৃষি ব্যাংক ও পোস্ট অফিস স্থাপন করেন।

খ্রিস্টধর্ম প্রচার[সম্পাদনা]

সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি গোপালগঞ্জ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা গুলোতে খ্রিস্টধর্ম প্রচার করেন। তিনি গোপালগঞ্জের খ্রিস্টান পাড়ায় গীর্জা স্থাপন করেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

মথুরানাথ বসু ২ সেপ্টেম্বর ১৯০১ সালে মুত্যুবরণ করেন।