ভ্যালি অফ দ্য কিংস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
১৯৮৮ সালে, নীল নদের পশ্চিমে তেহবান পাহাড়ে অবস্থিত ভ্যালি অফ দ্য কিংসের অবস্থান (লাল রংয়ে নির্দেশিত)

ভ্যালি অফ দ্য কিংস (ইংরেজি: Valley of the Kings) (আরবি: وادي الملوك ওয়াহিদ্‌ আল্‌ মূল্‌ক্‌‎)[১] (বাংলায়: রাজাদের উপত্যকা) হচ্ছে মিশরে অবস্থি একটি উপত্যকা। খ্রিস্টপূর্ব ১৬ শতক থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ১১ শতক পর্যন্ত এখানে মিশরের নিউ কিংডমের (প্রাচীন মিশরের ১৮তম ও ২০তম যুগ) ফারাওদের জন্য মন্দির নির্মাণ করা হতো।[২][৩] উপত্যকাটি নীল নদের পশ্চিম তীরে, তেহবাস শহরের (বর্তমানে লুক্সোর শহর) বিপরীতে, তেহবান নেক্রোপলিসের কেন্দ্রে অবস্থিত।[৪] এই উপত্যকার দুইটি অংশ, একটি হচ্ছে পূর্ব উপত্যকা, যেখানে বেশিরভাগ রাজকীয় মন্দিরগুলো অবস্থিত, এবং অপরটি হচ্ছে পশ্চিম উপত্যকা।

২০০৬ সালে একটি নতুন প্রকোষ্ঠ, এবং ২০০৮ সালে আরো নতুন দুটি মন্দিরের প্রবেশমুখ আবিস্কারের পর,[৫] জানা যায় যে, এই উপত্যকায় মোট ৬৩টি মন্দির রয়েছে। এগুলো মধ্যে কিছু সাধারণ গর্তের মতো প্রকোষ্ঠের সাথে ১২০ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট মন্দিরও রয়েছে।[৬] এটি ছিলো প্রাচীন মিশরের নিউ কিংডমের রাজন্যবর্গের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত প্রধান কবরস্থান। এই মন্দিরগুলোর নকশায় তৎকালীন মিশরীয় পুরাণের বিভিন্ন চরিত্রের ছবি আঁকা রয়েছে যার থেকে সেই সময়কার বিশ্বাস ও মৃত্যু পরবর্তী বিভিন্ন সৎকার কর্ম ও সংস্কৃতির সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সবগুলো মন্দিরেই মূল্যবান দ্রব্যাদি থাকার কারণে লুট হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু এখনো যা আছে তা তৎকালীন শাসকদের ক্ষমতা সম্পর্কে একটি ধারণা লাভে সহায়তা করে।

১৮ শতক থেকেই এই স্থানটি প্রত্নতাত্ত্বিকইজিপ্টোলজির একটি আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এর মন্দিরগুলো মানুষের আকর্ষণ ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের গবেষণার বিষয় হয়ে ওঠে। বর্তমান সময়ে এই উপত্যকাটি ফারাও তুতাংখামুনের মমি আবিস্কার ও তাঁর সমাধিস্থ মন্দির কেভি৬২-এর আবিস্কারের জন্য বিখ্যাত। কারণ তুতাংখামুনের মমির মাধ্যমেই ফারাওদের অভিশাপের গুঁজব বিস্তৃতি লাভ করে।[৭] এটি বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। ১৯৭৯ সালে এটি বাদবাকি তেহবান নেক্রোপলিস অংশের সাথে একত্রে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হওয়ার মর্যাদা লাভ করে।[৮]

টীকা ও তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Reeves and Wilkinson (1996), p.6
  2. Maspero (1913), p.182
  3. "Theban Mapping Project"। Theban Mapping Project। সংগৃহীত ২০০৬-১২-০৪ 
  4. Siliotti (1997), p.13
  5. Zahi Hawass। "Spotligh Interview: 2008"। The Plateau: Official Website for Dr. Zahi Hawass। সংগৃহীত ২০০৮-০৮-১৫ 
  6. "Valley of the Kings"। Theban Mapping Project। সংগৃহীত ২০০৮-০৮-০৯ 
  7. "Egypt's "King Tut Curse" Caused by Tomb Toxins?"। National Geographic। সংগৃহীত ২০০৬-১২-০৮ 
  8. "Ancient Thebes and its necropolis"। UNESCO Work Heritage Sites। সংগৃহীত ২০০৬-১২-০৪ 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

  • Ambros, Eva (২০০১)। Egypt: an up-to-date travel guide with 145 color photos and 21 maps। Hunter Publishing। আইএসবিএন 3886181405 
  • Baines, John; Jaromir Malik (২০০০)। Cultural Atlas of Ancient Egypt। New York: Facts on file। আইএসবিএন 0-8160-4036-2 
  • Baillet, Jules (১৯২০-১৯২৬)। Inscriptions grecques et latines des tombeaux des rois ou Syringes à Thèbes। Cairo: Institut Français d'Archéologie Orientale du Caire, Mémoires publiés par les membres। 
  • M. L. Bierbrier (১৯৯৩)। The Tomb-Builders of the Pharaohs। Cairo: American Univ in Cairo Press। আইএসবিএন 9774242106 
  • Cross, Stephen W. (১৯৯৩)। "The Hydrology of the Valley of the Kings"। JEA 94: ৩০৩–৩১০। 
  • Davis, Theodore M. (২০০১)। The Tomb of Siphtah with The Tomb of Queen Tiyi। London: Gerald Duckworth & Co Ltd। আইএসবিএন 0-7156-3073-3 
  • Davis, Theodore M. (২০০১)। The Tombs of Harmhabi and Touatânkhamanou। London: Duckworth Publishing। আইএসবিএন 0-7156-3072-5 
  • Dodson, Aidan (১৯৯১)। Egyptian Rock-cut Tombs। Buckinghamshire: Shire Publications Ltd। আইএসবিএন 0-7478-0128-2 
  • El Mahdy, Christine (২০০১)। Tutankhamen: The Life and Death of the Boy-King। St. Martin's Press। আইএসবিএন 0312280645 
  • Maspero, Gaston (১৯১৩)। Manual of Egyptian Archaeology, Sixth English Edition। H. Grevel and Co। আইএসবিএন 1-4219-4169-4 
  • Reeves, Nicholas (১৯৯০)। Valley of the Kings: The Decline of a Royal Necropolis। Keegan Paul। আইএসবিএন 0-7103-0368-8 
  • Reeves, Nicholas; Richard H. Wilkinson (১৯৯৬)। The Complete Valley of the Kings। Thames and Hudson। আইএসবিএন 0-500-05080-5  – Details of all the major tombs, their discovery, art and architecture
  • Romer, John (১৯৮১)। Valley of the Kings। Henry Holt। আইএসবিএন 0-8050-0993-0  – Covers the history of the exploration of the Valley in chronological order
  • Rossi, Corinna (২০০১)। "Dimensions and Slope in the Nineteenth and Twentieth Dynasty Royal Tombs"। The Journal of Egyptian Archaeology (The Egyptian Exploration Society) 87: 73–80। আইএসএসএন 0307-5133ডিওআই:10.2307/3822372 
  • Sampsell, Bonnie M. (২০০৩)। A Traveler's Guide to the Geology of Egypt। Cairo: American University Press। আইএসবিএন 977-424-785-X 
  • Siliotti, Alberto (১৯৯৭)। Guide to the Valley of the Kings। Barnes and Noble। আইএসবিএন 88-8095-496-2  – A good introduction to the valley and surroundings
  • Strudwick, Nigel; Helen Strudwick (১৯৯৯)। Thebes in Egypt। Cornell University। আইএসবিএন 0-8014-8616-5 
  • Weeks, Kent R.; Araldo De Luca (photographs) (২০০১)। Valley of the Kings। Friedman/Fairfax। আইএসবিএন 88-8095-712-0  – Spectacular photography of the best tombs
  • Weeks, Kent R. (২০০০)। KV 5: A Preliminary Report on the Excavation of the Tomb of the Sons of Ramesses II in the Valley of the Kings। Cairo: American University Press। আইএসবিএন 977-424-574-1 
  • Weigall, Arthur (১৯১০)। A Guide to the Antiquities of Upper Egypt। London: Mentheun & Co। আইএসবিএন 1-4253-3806-2 
  • Wilkinson, Richard H. (১৯৯৪)। Valley of the Sun Kings: New Explorations in the Tombs of the Pharaohs। Tucson: University of Arizona Egyptian Expedition। আইএসবিএন 0-9649958-0-8  – chapters by archaeologists working in the valley from an international conference on the Valley of the Kings
  • Wilkinson, Richard H. (১৯৯৩)। "The paths of Re: Symbolism in the royal tombs of Wadi Biban El Moluk"। KMT 4 (3)। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

স্থানাঙ্ক: ২৫°৪৪′২৭″ উত্তর ৩২°৩৬′৮″ পূর্ব / ২৫.৭৪০৮৩° উত্তর ৩২.৬০২২২° পূর্ব / 25.74083; 32.60222