ভূটানের ধর্মবিশ্বাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ভূটানের ধর্মবিশ্বাস (পিউ ২০১০)[১]

  বৌদ্ধ (৭৪.৭%)
  হিন্দু (২২.৬%)
  পুরানো প্রাক বৌদ্ধ এবং অন্যান্য আদিবাসী বিশ্বাস (১.৯%)
  ইসলাম (০.২%)
  অন্যান্য বা কিছুই নয় (২%)

ভূটানের প্রায় ৭০ ভাগ জনসংখ্যা হয় কাগ্যুর দ্রুকপা বংশ না হয় তিব্বতী বৌদ্ধীয় বংশকে অনুসরণ করে। বাকি ৩০ শতাংশ জনগণ হিন্দুধর্ম বা পুরানো প্রাক বৌদ্ধ সহ অন্যান্য ধর্ম অনুসরণ করে থাকে।[২]

বৌদ্ধ ধর্ম[সম্পাদনা]

নালপী জনগণ, তীব্বতীয় অভিবাসীদের বংশধর, পশ্চিম এবং মধ্যীয় ভূটানের অধিকাংশ জনগণ কাগ্যু ভাজরায়ানার দ্রুকপা বংশকে অনুসরণ করে।.[৩]

শারচপ, সম্ভবত ভূটানের আদি অধিবাসী, পূর্বাঞ্চলে বাস করে। তথ্যানুসারে, কিছু শারচপ পুরানো প্রাক বৌদ্ধ ধর্মের কিছু উপাদানসমেত বৌদ্ধ ধর্ম পালন করে থাকে, যেখানে অন্য শারচপরা সর্বপ্রাণবাদ এবং হিন্দুধর্ম পালন করে থাকে। জাতীয় পরিষদ, আদালত ব্যবস্থাসহ সরকারি অনেক উচ্চ পর্যায়ে প্রচুর শারচপরা রয়েছে।[৩]

সরকার কাগ্যু এবং নিনগমা উভয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে সমর্থন করে। রাজ পরিবার এই দুই সম্প্রদায়ের ধ্যান ধারণাকে মেলে চলে এবং অনেক নাগরিকই “কানয়িন-জুংদ্রিল” যার অর্থ “কাগ্যুপা এবং নিংগমাপা অভিন্ন” ধারণা বিশ্বাসী।[৩]

হিন্দু ধর্ম[সম্পাদনা]

হিন্দুরা, প্রধানত দক্ষিণে, হিন্দুধর্ম পালন করে থাকে। ভূটানের আশ্রমের অধ্যক্ষ জে খেনপু কর্তৃক ২০১২ এ থিম্পুতে হিন্দুদের প্রথম মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় এবং হিন্দুরা ছোট থেকে মাঝারি দলে বিভক্ত হয়ে নিজেদের ধর্ম পালন করে থাকে।[৩] হিন্দুধর্ম নেপালি নৃতাত্ত্বিক দলগুলো কর্তৃক পালন করতে বেশি দেখা যায়, যদিও নৃতাত্ত্বিক দলগুলোর অধিকাংশরাই বৌদ্ধ ধর্ম পালন করে থাকে।

ইসলাম[সম্পাদনা]

ভূটানের মোট জনসংখ্যার ০.১%-০.২% মুসলিম। সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক দাািব করে য়ে ভূটানে মোট জনসংখ্যার ০.১% এরও কম মুসলমান রয়েছে। ২০০৯ সালে, পিউ রিসার্চ সেন্টার তাদের এক সমীক্ষায় দাবি করে যে, ভূটানে মোট জনসংখ্যার মাত্র ১% অর্থ্যাৎ মাত্র ৭০০০ জন মুসলমান ছিল।[৪][৫]

ধর্ম পালনে স্বাধীনতা এবং নিয়ন্ত্রণ[সম্পাদনা]

ভূটানের আইন ধর্ম পালনে স্বাধীনতা প্রদান করে; ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় নেতাগণের দায়িত্ব হচ্ছে, “ভূটানের আ্ধ্যাত্বিক ঐতিহ্যকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দেয়া এবং সে সাথে ধর্মকে রাজনীতি থেকে পৃথক রাখার ব্যাপারটি অবশ্যেই নিশ্চিত করতে হবে” এবং ঐ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং নেতৃবৃন্দ “রাজনীতির ঊর্ধ্বে” থাকবেন।"[৬] সরকারের বিবৃত অনুধ্যায়ী ব্যক্তিগত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মান সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে, সংবিধানের নিষেধাজ্ঞামূলক ধারায় যথাক্রমে ধর্মান্তরের এবং ধর্মীয় নেতাগণের ভোট দানের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।[৭][৮][৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Pew Research Center - Global Religious Landscape 2010 - religious composition by country.
  2. Bhutan: International Religious Freedom Report 2007. This article incorporates text from this source, which is in the public domain.
  3. United States Bureau of Democracy, Human Rights and Labor. Bhutan: International Religious Freedom Report 2007. This article incorporates text from this source, which is in the public domain.
  4. CIA - The World Factbook - Bhutan
  5. Miller, Tracy, সম্পাদক (অক্টোবর ২০০৯), Mapping the Global Muslim Population: A Report on the Size and Distribution of the World’s Muslim Population (PDF), Pew Research Center, পৃষ্ঠা 31, সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৩-৩১ 
  6. "The Constitution of the Kingdom of Bhutan" (PDF)Government of Bhutan। ২০০৮-০৭-১৮। ২০১১-০৭-০৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১০-০৮ 
  7. "Religious Organizations Act of Bhutan 2007" (PDF)Government of Bhutan। ২০০৭-০৭-৩১। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০১-২৫ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  8. "Pastor sentenced to 3 yrs in prison"Bhutan News Service online। Bhutan News Service। ২০১০-১২-১২। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০১-২৫ 
  9. "Chhoedey Lhentshog Lists Those Who Can Vote–Religious personalities above politics"Kuensel online। ২০১০-১০-১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০১-২৮