ব্রুনাইয়ে এলজিবিটি অধিকার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সমকামী অধিকার : Brunei
LocationBrunei.png
সমকামী অধিকার?অবৈধ
শাস্তি:
পুরুষ সমকামীদের পাথর ছুড়ে হত্যার বিধান[১], নারী সমকামীদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের যাবজ্জীবন এবং ৪০ বার বেত্রাঘাত।[২]
লিঙ্গ স্বীকৃতি

ব্রুনাইয়ে লেসবিয়ান, গে, উভকামী এবং রুপান্তরকামী (এলজিবিটি) মানুষদের বিরুদ্ধে আইন আছে এবং সেখানে সমকামিতা অবৈধ। পুরুষে-পুরুষে যৌন ক্রিয়া করলে তাদের পাথর ছুড়ে হত্যা করার আইন প্রচলিত আছে এবং নারীতে নারীতে সমকামিতায় লিপ্ত হলে চল্লিশ বার বেত্রাঘাতের বিধান বা সর্বোচ্চ ১০ বছরের যাবজ্জীবন সাজার বিধান রয়েছে।

আউটরাইট এ্যাকশন ইন্টারন্যাশনালের বর্ণনা অনুসারে "এলজিবিটি মানুষদের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ভীতিকর স্থান হলো ব্রুনাই। ব্রুনাইয়ের এলজিবিটি মানুষদের বেঁচে থাকার খাতিরে এমনভাবে চলাফেরা করতে হবে; যাতে করে তাদের যৌন পরিচয় কোনোভাবেই যেন প্রকাশ না পায়।"[৩] ২০১৫ সালে ব্রুনাইতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় স্বাধীনতা, মুক্ত চিন্তা, এলজিবিটি অধিকারের সপক্ষের পক্ষে আন্দলোনে সমর্থন জোরালো করার জন্য প্রচারণা চালানো শুরু হয়। এ জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় দ্য ব্রুনাই প্রজেক্ট। ২০১৬ সালে অত্যন্ত গোপনে সমকামভীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দিবস প্রথমবারের মত এ সংগঠনের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত গোপনে অনুষ্ঠিত হয়।[৪]

সমলিঙ্গে যৌনাচারণের বৈধতা[সম্পাদনা]

এপ্রিলে পাসকৃত আইনের পূর্বে সমকামিতা ছিল অবৈধ এবং এর জন্য যাবজ্জীবন শাস্তি প্রচলিত ছিল। এক্ষেত্রে তা গোপনে করা হোক বা সম্মতি নিয়ে করা হোক তা বিবেচ্য ছিল না। ২০১৪ সালে ব্রুনেই ঘোষনা করে, এটি শরিয়া আইনকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন করবে।[৩][৫] ২০১৯ সালের এপ্রিলে এ আইন পাস হয়।[৬] মার্কিন অভিনেতা জর্জ ক্লুনি একটি খোলা চিঠিতে ব্রুনাইয়ের সুলতান দ্বারা পরিচালিত হোটেল গুলোকে বর্জন করার আহ্বান জানান।[৭][৮]

২০১৫ সালে যখন শরিয়া আইনের দিকে যাওয়ার বিধান পাস হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রুনাইতে আলোচনা চলছিল; তখন জাতিসংঘ এ আইনকে পুনর্বিবেচনার জন্য আহ্বান করে এবং অনেক গণমাধ্যম এবিধানকে "মধ্যযুগীয়", "অসভ্যতা" এবং "প্রস্তর যুগে ফিরে যাওয়ার" ধাপ হিসেবে অভিহিত করেছিল।[৩][৫] ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আইন বাস্তবায়ন না হলেও সুলতান এই আইনকে "আল্লাহর বিশেষ নির্দেশনা" হিসেবে অভিহিত করার পর তা ব্রুনাইতে পাস হয়ে যায়।[৬] পুরুষে-পুরুষে যৌন সম্পর্ক হলে উভয়কে পাথর ছুড়ে হত্যার যে বিধান রয়েছে তা বাস্তবায়িত হবে তখনি যদি সম্পর্ককারীরা তা স্বীকার করে নেয় অথবা চারজন সাক্ষী তাদের কৃতকর্মের সাক্ষী দেয়।[১] নারীতে নারীতে যৌনসম্পর্ককারীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য যাবজ্জীবনের বিধান অথবা ৪০ বার বেত্রাঘাতের ব্যবস্থা[২]

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ক্রিশ্চান এবং বৌদ্ধ সংখ্যালঘুদেরও সাবধানে চলাচল করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে। কারণ ইসলামকে কেও যদি একটুও ঠাট্টা তামাশা করে, তবে তার কঠোর থেকে কঠোর শাস্তি হতে পারে।[৫]

রূপান্তরকামীদের অধিকার[সম্পাদনা]

ব্রুনাই কারো নাম অথবা লিঙ্গ সরকারী নথিতে পরিবর্তনের অধিকার সংরক্ষণ করে না।[৯] লিঙ্গ রুপান্তরকারী অস্ত্রোপাচার সেখানে স্বীকৃত নয়।[১০]

২০১৫ সালের ১১ মার্চ একজন সরকারী কর্মচারী ক্রস ড্রেসিং বা বেশান্তর করায় শরীয়া পেনাল কোড অনুযায়ী $১০০০ ব্রুনাই ডলার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হয়।[১১][১২]

জীবন ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

ব্রুনাইয়ে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের মানুষজন অত্যন্ত গোপনে নিজেদের লুকিয়ে রাখেন। ব্রুনাইয়ের সমাজ সমকামিতাকে "মেয়েলী পুরুষ" হিসেবে গণ্য করে।"[১৩]

২০১১ সালে ব্রুনাই বিশ্ববিদ্যালয় সমকামী পুরুষদের উপর একটি গবেষণা চালান। এই গবেষণা থেকে দেখা যায় ব্রুনাইয়ের সমকামী পুরুষরা তাদের যৌন অভিমুখিতা নিয়ে পারতপক্ষে সম্পুর্ণ নীরব থাকে। গবেষকরা শুধুমাত্র ২৯ জন এলজিবিটি সম্প্রদায়ের মানুষ খুঁজে পেয়েছেন; যাদের মধ্যে আবার কিছু বিদেশী ছিল।[১৩]

সারাংশ ছক[সম্পাদনা]

সমলিঙ্গে যৌনাচারণ No (পুরুষে: মৃত্যুদণ্ড, নারীর জন্য হাজতবাস অথবা বেত্রাঘাত)
সমান বয়সে সম্মতিদান No
কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য বিরোধী আইন No
অন্যান্য এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আইন (যেমনঃ ঘৃণামুলক বক্তব্য, পরোক্ষ বৈষম্য) No
সমলিঙ্গে বিবাহ No
সমকামী দম্পতির স্বীকৃতি No
সমকামী দম্পতির সন্তান দত্তক নেওয়া No
সমকামী দম্পতির যুগ্ন ভাবে সন্তান দত্তক নেওয়া No
সেনাবাহিনজতে এলজিবিটি মানুষকে মেনে নেওয়া No
বৈধ লিঙ্গ পরিবর্তনে অধিকার No
লেসবিয়ানের আইভিএফে প্রবেশাধিকার No
পুরুষ সমকামী দম্পতির বাণিজ্যিক ভাবে সারোগেসি No
পুরুষে-পুরুষে যৌনাচারণকারীদের রক্তদানে অনাপত্তি No[১৪]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Brunei implements stoning to death under new anti-LGBT laws
  2. Brunei introduces stoning to death for gay sex, adultery
  3. Mosbergen, Dominique (১৫ অক্টোবর ২০১৫)। "Brunei's LGBT Community Faces Terrifying Future"The Huffington Post। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৯ 
  4. Welcome to IDAHOT Newbies !
  5. Michaelson, Jay (২২ এপ্রিল ২০১৪)। "Brunei Returns to the Stoning Age"The Daily Beast। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৯ 
  6. Barnes, Tom (২৮ মার্চ ২০১৯)। "LGBT+ people to be stoned or whipped to death in Brunei under new sex law"The Independent। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৯ 
  7. Westcott, Ben (২৭ মার্চ ২০১৯)। "Brunei to punish gay sex and adultery with death by stoning"CNN। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৯ 
  8. Clooney, George (২৮ মার্চ ২০১৯)। "George Clooney: Boycott Sultan Of Brunei's Hotels Over Cruel Anti-Gay Laws"Deadline Hollywood। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০১৯ 
  9. https://ilga.org/downloads/ILGA_Trans_Legal_Mapping_Report_2017_ENG.pdf
  10. LGBTIQ RIGHTS IN SOUTHEAST ASIA - WHERE WE STAND AND PATHWAY FORWARD
  11. Ak Md Khairuddin Pg Harun (১১ মার্চ ২০১৫)। "Bruneian civil servant fined $1,000 for cross-dressing"Brunei Times। ১৩ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৯ 
  12. "Country Profile – Brunei"Human Dignity Trust। ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৯ 
  13. Gay Life in Brunei
  14. "Archived copy"। ৬ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-১২-২৩ 

বহিঃস্থ সংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Brunei topics


টেমপ্লেট:LGBT-law-stub টেমপ্লেট:Brunei-stub