ব্যবহারকারী:Ahm masum/খেলাঘর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ইতিহাস[সম্পাদনা]

উৎপত্তি[সম্পাদনা]

মূল দেওবন্দী আন্দোলনের আত্নশুদ্ধী বিষয়টির প্রতি বেশী গুরুত্ব দিয়ে আত্নপ্রকাশ করেছিল এই তাবলীগ জামাত আন্দোলনটি। [১] [২]

প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ইলিয়াস এমন একটি সংঘবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন যার মাধ্যমে কুরআনে নির্দেশিত[৩][৪] সঠিক কাজ ও নিষেধ কে বাস্তবায়ন করার একটি দল তৈরী হবে ঠিক যেমনটি বাস্তবায়নের স্বপ্ন তার শিক্ষক দেওবন্দের রশিদ আহমেদ গাঙ্গোহী ব্যক্ত করেছিলেন[৫]। ১৯২৬ সালে মক্কায় তার দ্বিতীয় তীর্থযাত্রাতে (হজ্জ্ব) তিনি এই আন্দোলন বাস্তবায়নের মূল অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন[৬]৷ জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার সময় তিনি তার পান্ডিত্য, বক্তব্য দক্ষতা বিষয়সমূহ নিয়ে নিজের মধ্যে অনেক সীমাবদ্ধতা অনুধাবন করেছিলেন তবে আন্দোলন বাস্তবায়নে দৃঢপ্রতিজ্ঞ ছিলেন[৭]। শুরুতে তিনি একগুচ্ছ মসজিদ-ভিত্তিক ইসলামি পাঠশালা-বয়স্কশিক্ষা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন যাতে সনাতন সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মুখোমুখি মেওয়াত অঞ্চলের অশিক্ষিত দরিদ্র মুসলিমদেরকে সঠিক আকিদা ও ধর্মচর্চার শিক্ষা দিতে পারেন[৮]৷ তবে কিছুকাল পর তিনি অনুধাবণ করেন যে এ পদ্ধতিতে বেশকিছু নতুন ইসলামি পন্ডিত তৈরী হলেও কোন ধর্মপ্রচারক তৈরী হচ্ছে না।[৯]

এই ধর্মপ্রচার আন্দোলন শুরু করার জন্য ইলিয়াস মাদ্রাসা মাজহারুল উলুমে তার শিক্ষকতার চাকরীটি ছেড়ে দেন যাতে মুসলিমদের আত্নশুদ্ধির কার্যক্রমে নিজেকে পুরোপুরি আত্ননিয়োগ করতে পারেন। অতঃপর তিনি দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকাতে চলে আসেন এবং ১৯২৬[৯] বা ১৯২৭ [১০] সালে আন্দোলনটি শুরু করেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুহাম্মাদ যে কর্মপদ্ধতী অনুসরণ করেছিলেন; আন্দোলনের কর্মপন্থা, নীতিনির্ধারণ করার সময় ইলিয়াস তা থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন[৪]। যে স্লোগানটিকে সামনে রেখে তিনি আন্দোলন শুরু করেছিলেন; উর্দু: "!اﮮ مسلمانو! مسلمان بنو"‎‎‎, তার অর্থ হল, "হে মুসলমান, [সত্যিকারের] মুসলমান হও!" যা প্রকৃতপক্ষে তাবলীগ জামাত আন্দোলনের মূল লক্ষ্যকে প্রকাশ করে। আর, পুনঃজাগরণ ঘটিয়ে সর্বোক্ষেত্রে মুহাম্মাদের জীবনপদ্ধতী দৃঢভাবে অনুসরণ করে সমগ্র মুসলিম সমাজকে তার আমলের ন্যায় একত্রিত করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য, বলে তারা দাবী করেন। এই আন্দোলন দ্রুতই গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছিল এবং জানা গিয়েছিল যে, ১৯৪১ সালে তাদের বার্ষীক আলোচনাসভায় ২৫,০০০ জন অনুসারী অংশগ্রহণ করেছিলেন।[৯]

আন্দোলনটি এমন সময়কালে শুরু হয়েছিল যেসময় ভারতবর্ষের কিছু মুসলিম নেতা আশঙ্কা করছিলেন যে মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় পরিচয় হারিয়ে ফেলছেন এবং ধর্মীয় প্রথা-প্রার্থনাও (প্রধানত নামাজ) ঠিকমতো মান্য করতে পারছেন না। তবে এই আন্দোলনটিকে কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ও নাম দেয়া হয়নি, ইলিয়াস এটিকে 'তাহরিক-ই-ঈমান' বলতেন। [১১][১২]

উৎপত্তিস্থান দিল্লির[১০] মেওয়াত অঞ্চলটিতে, মেও নৃগোষ্ঠীর কৃষিসংশ্লিষ্ট দরিদ্র জনগন বসবাস করতেন যারা রাজপুত জাতীগোষ্ঠীর অর্ন্তভুক্ত। ভারতবর্ষে ইসলামপ্রচার শুরু হওয়ার পর এবং মুঘল আমলে তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন তবে পরবর্তীতে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটার সময়কালে অনেকেই পুনরায় সনাতন ধর্মাবলম্বন ও সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মুখে পড়েন। রজার ব্যলার্ড এর মতানুসারে, তৎকালীন সময়ে বাঁকী মেও জনগোষ্ঠীর পক্ষেও তাদের জনজীবনে এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা সম্ভব হতনা যদিনা তাবলীগ জামাত আন্দোলনের উত্থান ঘটতো।[১]

  1. Ballard 1994, পৃ. 64
  2. দেওবন্দ আন্দোলন: ইতিহাস ঐতিহ্য অবদান;লেখক: আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া;প্রকাশনী:আল-আমিন রিসার্চ একাডেমী, বাংলাদেশ;২০১১;পৃ.১৫৭
  3. কুরআন 3:104
  4. Ballard 1994, পৃ. 65
  5. Masud 2000, পৃ. xiii
  6. Agwani, Mohammad Shafi (১৯৮৬)। Islamic Fundamentalism in India। Twenty First Century Indian Society। পৃষ্ঠা 41। 
  7. Ahmad 1994, পৃ. 513
  8. Yadav, Jyoti; Ali, Sajid (১৭ এপ্রিল ২০২০), "How Tablighi Jamaat was born from Mewat's 'drinking Muslims who couldn't even read namaz'", The Print 
  9. Ahmad 1994, পৃ. 512
  10. Dietrich Reetz, Sûfî spirituality fires reformist zeal: The Tablîghî Jamâ‘at in today's India and Pakistan, Archives de sciences sociales des religions [En ligne], 135 | juillet–septembre 2006, mis en ligne le 01 septembre 2009, consulté le 29 novembre 2014. p. 33.
  11. Kepel, War for Muslim Minds, 2004: p. 261
  12. Roy ও Sfeir 2007, পৃ. 342