বি. বিজয়ালক্ষ্মী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বি. বিজয়ালক্ষ্মী
বি. বিজয়ালক্ষ্মী.jpg
বি. বিজয়ালক্ষ্মী
জন্ম১৯৫২
মৃত্যু১২ মে', ১৯৮৫
বাসস্থানভারত
জাতীয়তাভারতীয়
কর্মক্ষেত্রপদার্থ বিজ্ঞান
প্রাক্তন ছাত্রসীতালক্ষ্মী কলেজ, মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়
স্ত্রী/স্বামীটি. জয়ারাম

বি. বিজয়ালাক্ষ্মী ছিলেন একজন ভারতীয় পদার্থ বিজ্ঞানী। (১৯৫২ –১২ মে', ১৯৮৫) দুরারোগ্য কর্কট রোগে আক্রান্ত হওয়ার সত্ত্বেও তাঁর বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসা এবং জিজ্ঞাসু মানসিকতার কমতি ঘটা ছিল না। সমাজ এবং রাজনীতির ক্ষেত্রতেও একসময় সক্রিয় হয়ে ওঠা বিজয়ালক্ষ্মী ১৯৭৮ সালে "আপেক্ষিকতাশূন্য বলান্টাম বলবিদ্যায় ঘূর্ণায়মান কণিকার বিশিষ্টতা" (characterizing a spinning particle in non-relativistic quantum mechanics.) উদ্‌ঘাটন করতে অধ্যয়ন আরম্ভ করেছিলেন। [১]

প্রারম্ভিক জীবন এবং শিক্ষা[সম্পাদনা]

বিজয়ালক্ষ্মীর জন্ম হয়েছিল একটি রক্ষণশীল পরিবারে। তিরুচিপল্লীতে থাকা সীতালক্ষ্মী রামাস্বামী কলেজ থেকে তিনি ১৯৭৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তারপরে তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের বিভাগে যোগদান করেন। [২][৩][৪] ১৯৮২ সালে তিনি মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন। তারপরে তাঁর সাক্ষাৎ হয় টি. জয়ারামের সঙ্গে। খুব কম দিনের মধ্যে দুজন বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন।[৩][৪]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

বি. বিজয়ালক্ষ্মী আপেক্ষিকতাবাদের সঙ্গে জড়িত কতগুলি সমীকরণ সম্বন্ধে অধ্যয়ন করেছিলেন, যেগুলি সমীকরণে বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় এবং মাধ্যকার্ষণিক ক্ষেত্রে উচ্চ ঘূর্ণনের সঙ্গে নিহিত হয়ে থাকে। সেগুলি থেকেও উচ্চতর ঘূর্ণন তত্ত্ব উদ্ভাবন করতে পারা যায় না কি – এই বিষয়ে তিনি অন্বেষণ করেছিলেন। কিছু দিন পরেই তিনি আপেক্ষিকতাহীন বলান্টাম বলবিদ্যা ঘূর্ণায়মান কণিকা সম্বন্ধে কাজ করেছিলেন। ১৯৭৮ সালে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক পন্ডিতের একটি বিশেষ সংঘের গঠন করা হয়েছিল। এই সংঘ স্থাপন করতে বিজয়ালক্ষ্মীরো অবদান ছিল।[৩][৪] ১৯৮০ সালে কোচির বিশ্ববিদ্যালয়ে পারমাণবিক শক্তি বিভাগের আয়োজন করা "দ্বি-বার্ষিক উচ্চশক্তিসম্পন্ন পদার্থ বিজ্ঞানের সভা"য় (biannual High Energy Physics Symposium) তিনি বক্তৃতা প্রদান করেন। এর পরেই তাঁর সমাদর এবং সম্মান বাড়ে৷ সঙ্গে তাঁর করা গবেষণা এবং অধ্যয়নাও বিশেষ মর্যাদা পায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এর কিছুদিনের পরেই তাঁর দেহ ভেঙে পড়ে এবং তিনি কর্কট রোগে আক্রান্ত হন। তৎসত্ত্বেও বিজয়ালক্ষ্মীর উদ্যম কমেনি, বরং অসুস্থ দেহেই তিনি পাঁচটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিলেন। এই গবেষণাপত্রে বহিঃক্ষেত্রে আপেক্ষিকতাবাদী তরঙ্গের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছিল। তারসঙ্গে এই গবেষণাপত্রের মাধ্যমে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রীর আবশ্যকতাও পূরণ করেছিলেন। উল্লেখযোগ্য যে, আপেক্ষিকতাবাদী সমীকরণের সঙ্গে জড়িত এই গবেষণার বিষয়বস্তুটি বিজ্ঞান মহলে এর পূর্বে দৃষ্টিগোচর হয়নি। দুবছরেরও অধিক সময় ধরে বিজয়ালক্ষ্মী আপেক্ষিকতাবাদী সমীকরণকে বিভিন্ন দিক থেকে গবেষণা করেছিলেন। [৪][৪]

স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

শশী কুমার তাঁর জীবন এবং দর্শন নিয়ে "বিজয়ালক্ষ্মী: দ্য স্টোরি অব এ ইয়ং য়োমেন উইথ কেন্সার" শীর্ষক একটি তথ্যচিত্র প্রস্তুত করেন। [৫]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯৮৫ সালের ১২ মে'তে বিজয়ালক্ষ্মীর মৃত্যু হয়। [৩][৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "B. Vijayalakshmi: The Physicist Who Fought Feudalistic Academia"। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০  অজানা প্যারামিটার |1= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  2. "Undaunted by Cancer, She Wrote 11 International Papers Before Passing Away"The Better India (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৯-১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২৬ 
  3. Sen, Nayonika (২০১৯-০৩-০৪)। "B. Vijayalakshmi : The Physicist Who Fought Feudalistic Academia| #IndianWomenInHistory"Feminism In India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২৬ 
  4. Govindarajan, T R। "A heroic struggle of a scientist with cancer"। Lilavati's Daughters (PDF)Indian Academy of Sciences। ২১ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  5. "Mr. Sashi Kumar"Celebrate। ২২ মার্চ ২০১২। ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]