বিশ্ব বেতার দিবস

বিশ্ব বেতার দিবস (ইংরেজিতে World Radio Day ওয়ার্ল্ড রেডিও ডে; ফরাসিতে Le jour mondial de la radio ল্য জুর মোঁদিয়াল দ্য লা রাদিও) একটি আন্তর্জাতিক দিবস যা প্রতি বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি পালন করা হয়। এই দিবসের লক্ষ্য জনসাধারণের মাঝে ও সংবাদমাধ্যমে বেতারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদেরকে বেতারের মাধ্যমে তথ্য সুলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং বেতার সম্প্রচারকদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও পারস্পরিক মতামত ও তথ্য বিনিময় জোরদার করা।[১]
২০১৪ সালে ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনের ৩৬তম অধিবেশনে ১৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে বিশ্ব বেতার দিবস ঘোষণা করা হয়।[২] ২০১১ সালে স্পেনের আকাদেমিয়া এস্পানিওলা দে রাদিও-র একটি প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ইউনেস্কো পরিচালিত একটি বাস্তবায়নযোগ্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে ইউনেস্কোর নির্বাহী পরিষদ সাধারণ সম্মেলনে বিশ্ব বেতার দিবস ঘোষণার ব্যাপারে সুপারিশ করেন। উল্লেখ্য ১৯৪৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে জাতিসংঘের নিজস্ব বেতারকেন্দ্রটি যাত্রা শুরু করে।[১]
বেতার এমন একটি গণমাধ্যম পৃথিবীতে যার ব্যাপ্তি অন্য সব গণমাধ্যম অপেক্ষা বেশি। এটি একাধারে যোগাযোগের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার এবং সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত। দূরবর্তী জনসম্প্রদায় ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের কাছে (নিম্ন সাক্ষরতার হারবিশিষ্ট জনসম্প্রদায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, নারী, তরুণ-তরুণী এবং দারিদ্র্যের শিকার ব্যক্তি) পৌঁছাতে বেতারের কোনও বিকল্প নেই। একই সাথে এটি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার স্তর নির্বিশেষে জনবিতর্কে মানুষের অংশগ্রহণের একটি মঞ্চ। অধিকন্তু, জরুরি অবস্থাকালীন যোগাযোগ ও বিপর্যয়কালীন ত্রাণকর্মে বেতার একটি শক্তিশালী ও নির্দিষ্ট ভূমিকা রাখে। বর্তমানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সমধর্মিতা হবার প্রবণতা বেড়ে গেছে, তাই বেতার সেবাগুলিও প্রযুক্তির নতুন নতুন রূপের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, মুঠোফোন ও ট্যাবলেটে ভিন্ন ভিন্ন রূপে আবির্ভূত হচ্ছে। এত কিছু সত্ত্বেও বলা হচ্ছে যে বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি মানুষের কাছে এখনও বেতার সেবা লভ্য নয়।[১]
প্রতিপাদ্য বিষয়
[সম্পাদনা]২০২৫ সালে বিশ্ব বেতার দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল "রেডিও এবং জলবায়ু পরিবর্তন"। গ্রহটিকে জর্জরিত করে এমন নেতিবাচক জলবায়ু প্রভাবের ক্রমাগত বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে, যেমন ২০২৪ সাল রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ বছর বলে নিশ্চিত হওয়া, ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলের কারণে সৃষ্ট গভীর ধ্বংসযজ্ঞ, অথবা কোটি কোটি মানুষের উপর ভূমি ক্ষয়ের উচ্চ প্রভাব, জলবায়ু ঘটনাগুলির সঠিক যোগাযোগের গুরুত্ব ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
যদি আমরা আমাদের অদূর ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করি, তাহলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার জন্য ২০২৫ সাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্যারিস চুক্তি অনুসারে, যদি আমরা বিশ্ব উষ্ণায়নকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই, তাহলে সেই বছরের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে এবং তারপরে তা কমতে শুরু করতে হবে। বিশ্ব বেতার দিবস "রেডিও এবং জলবায়ু পরিবর্তন"-এর প্রতি উৎসর্গীকৃত, যাতে রেডিও স্টেশনগুলিকে এই সংখ্যার সাংবাদিকতামূলক কভারেজ প্রদানে সহায়তা করে।[৩]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 "Why World Radio Day?"। UNESCO।
- ↑ "days/world radio"। unesco। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "important days /world radio day"। vikaspedia। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।