বাসন্তী বিষ্ট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাসন্তী বিষ্ট
बसंती बिष्ट
BasantiDeviBisht4.jpg
পদ্মশ্রী ডঃ (সাম্মানিক) বাসন্তী বিষ্ট
জন্ম১৯৫৩
জাতীয়তাভারতীয়
কর্মজীবন১৯৯৮ - বর্তমান
পরিচিতির কারণউত্তরাখণ্ডী লোক-গায়ক; আকাশবাণী/দূরদর্শনের "এ" শ্রেণীর শিল্পী; উত্তরাখণ্ডের "জাগর" লোক-রূপের প্রথম পেশাদার মহিলা গায়িকা।
আদি নিবাসলুওয়ানি, দেওয়াল তহসিল, চামোলি জেলা, উত্তরাখণ্ড
পুরস্কারপদ্মশ্রী (২০১৭), রাষ্ট্রীয় মাতোশ্রী দেবী অহল্যা সম্মান

বাসন্তী বিষ্ট (জন্ম: ১৯৫৩) উত্তরাখণ্ডের একজন বিখ্যাত লোক গায়ক, যিনি উত্তরাখণ্ডের জাগর লোক-রূপের প্রথম মহিলা গায়ক হিসাবে বিখ্যাত। জাগর গীতপদ্ধতি দেবদেবীদের আহ্বান করার একটি উপায়, যা পুরুষরা প্রচলিতভাবে করে থাকেন। তবে বাসন্তী বিষ্ট এই প্রথাটি ভেঙে ফেলে আজ একজন সুপরিচিত কণ্ঠস্বর, এবং এই গানের ঐতিহ্যবাহী রূপটি সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছেন। বাসন্তী দেবীকে ২০১৩ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়।[১][২]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

বাসন্তী বিষ্ট ১৯৫৩ সালে উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার লুওয়ানি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ১৫ বছর বয়সে গোলন্দাজ বাহিনীর একজন সৈনিককে বিবাহ করেছিলেন এবং তাঁঁর জীবনের অধিকাংশ সময় গৃহবধূ হিসাবে যাপন করেন। পেশাদার গায়ক হিসাবে তাঁঁর জীবন অনেক পরে শুরু হয়েছিল, যখন তিনি পাঞ্জাবের জলন্ধরে সংগীত শেখা শুরু করেন। তবে তিনি ছোটবেলা থেকেই গান করতেন। তিনি বলেন যে তাঁঁর মায়ের জাগরের গান শুনে তিনি বড় হয়েছেন।

তিনি তাঁর গ্রাম থেকে এক মাইল দূরে স্থানীয় গ্রামের বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন কিন্তু মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি তাঁঁর বাড়ি থেকে অনেক দূরে ছিল এবং পায়ে হেঁঁটে সেই জায়গায় পৌঁছানো অসম্ভব ছিল। তাই তিনি আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি।[৩]

সঙ্গীত জীবন[সম্পাদনা]

বাসন্তী দেবীর পেশাগত জীবন শুরু হয় চল্লিশের কোঠায় তাঁঁর বয়স হবার পর; এর পুর্বে তিনি তাঁঁর পরিবার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি তাঁঁর স্বামীর সাথে জলন্ধর চলে আসার পরে প্রাচীন কলা কেন্দ্রে সংগীত শিখতে আগ্রহী ছিলেন, তবে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে এবং সেই কেন্দ্রের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ছোট হওয়ার ফলে তিনি লজ্জা বোধ করেতেন। তাঁর মেয়ের শিক্ষক তাঁকে হারমোনিয়াম বাজাতে শেখানো শুরু করার পর তিনি পেশাদার সংগীত প্রশিক্ষণের দিকে তাঁর প্রথম অস্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। [৩] এর পরে তিনি ভজন, চলচ্চিত্রের গান ইত্যাদির প্রতি মনোনিবেশ করেন। তাঁঁর স্বামী অবসর নেওয়ার পরে বাসন্তী বিষ্ট দেরাদুনে বসবাস করা শুরু করেন এবং ১৯৯৬ সালে নাজিবাবাদে অল ইন্ডিয়া রেডিও স্টেশনে যোগ দেন। তিনি বর্তমানে আকাশবাণীর "এ" শ্রেণীর শিল্পী।

সময়ের সাথে সাথে, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, তাঁর শৈশবে তাঁর মা এবং গ্রামের প্রবীণদের কাছ থেকে যে সংগীত তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন, তা অনন্য। "জাগর" গান হল সারা রাত ধরে ঈশ্বরের প্রশংসায় করা গ্রামের লোকেদের গাওয়া গান। উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ী অঞ্চলের প্রাচীন লোক ঐতিহ্যগুলি আর গাওয়া হতো না এবং বাসন্তী দেবী এই পুরানো হারিয়ে যাওয়া গানগুলির সন্ধান করার এবং পরে একই পুরাতন সুরগুলিতে সেই গান করার দ্বায়িত্ব নিয়ে নেন।

বাসন্তী বিষ্টের গান কিছুটা নাকি সুরে গাওয়া, এবং গানের শৈলী, এবং তালের ধীর গতি উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি গানের বৈশিষ্ট্য যুক্ত।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

তাঁর স্বামী ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে নায়ক হিসাবে অবসর নিয়েছিলেন। তাঁঁর ছেলে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে উইং কমান্ডার। তাঁঁর মেয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন হিসাবে অবসরপ্রাপ্ত এবং ভারতীয় সেনার একজন কর্নেলের সাথে বিবাহিত।

পুরস্কার[সম্পাদনা]

  • মধ্যপ্রদেশ সরকার কর্তৃক অহল্যা দেবী সম্মান (২০১৬-২০১৭)
  • পদ্মশ্রী (২০১৭)
  • উত্তরাখণ্ড সরকার কর্তৃক নারী শক্তি টিলু রাউতেলি

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]