বিষয়বস্তুতে চলুন

বারনার্ড লুইস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বার্নার্ড লুইস
২০১২ সালে লুইস
জন্ম(১৯১৬-০৫-৩১)৩১ মে ১৯১৬
লন্ডন, ইংল্যান্ড
মৃত্যু১৯ মে ২০১৮(2018-05-19) (বয়স ১০১)
জাতীয়তাব্রিটিশ
আমেরিকান
দাম্পত্য সঙ্গীরুথ হেলেন ওপেনহেইম
(বিবাহিত ১৯৪৭–১৯৭৪)
সন্তান
পুরস্কারব্রিটিশ অ্যাকাডেমির ফেলো
হার্ভি পুরস্কার
আর্বিং ক্রিস্টল পুরস্কার
জেফারসন ভাষণ
ন্যাশনাল হিউম্যানিটিজ মেডেল
উচ্চশিক্ষায়তনিক পটভূমি
মাতৃ-শিক্ষায়তনSOAS (বিএ, পিএইচডি)
প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়
উচ্চশিক্ষায়তনিক কর্ম
বিষয়ইতিহাসবিদ
প্রতিষ্ঠানSOAS
প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়
করনেল বিশ্ববিদ্যালয়
ডক্টরাল শিক্ষার্থীফিরোজ আহমদ
প্রধান আগ্রহমধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন, ইসলামী অধ্যয়ন
উল্লেখযোগ্য কাজ
যাদের প্রভাবিত করেনহিথ ডব্লিউ. লোরি, ফুয়াদ আজমি

বার্নার্ড লুইস FBA[] (৩১ মে ১৯১৬ – ১৯ মে ২০১৮) ছিলেন একজন ব্রিটিশ-আমেরিকান ইতিহাসবিদ, যিনি প্রাচ্য অধ্যয়ন-এ বিশেষজ্ঞ ছিলেন।[] তিনি একজন পাবলিক ইন্টেলেকচুয়ালরাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। লুইস প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ-এর ক্লিভল্যান্ড ই. ডজ অধ্যাপক এমেরিটাস ছিলেন। ইসলামি ইতিহাস এবং ইসলাম ও পশ্চিমা বিশ্বের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল তার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লুইস ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর রয়েল আর্মার্ড কোর এবং ইন্টেলিজেন্স কোর-এ দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োজিত হন। যুদ্ধ শেষে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরিয়েন্টাল ও আফ্রিকান স্টাডিজ বিদ্যালয়ে (SOAS) ফিরে যান এবং নিয়ার ও মিডল ইস্টার্ন ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যাপকের পদে নিযুক্ত হন।

২০০৭ সালে তাকে "মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের প্রধান ব্যাখ্যাতা" বলা হয়েছিল।[] তবে অনেক সমালোচক লুইসের দৃষ্টিভঙ্গিকে মুসলিম বিশ্ব সম্পর্কে অতিরঞ্জিত ও সাধারণীকরণমূলক বলে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন, তিনি এমন সব অনুমান পুনরাবৃত্তি করতেন, যেগুলো আধুনিক গবেষণায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। রাজনৈতিক দিক থেকে তার সমালোচকেরা মনে করেন, লুইস ইসলামকে সাংস্কৃতিকভাবে পিছিয়ে দেখানোর ধারণা পুনরুজ্জীবিত করেন এবং জিহাদকে একটি হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করেন।[] নিওকনজারভেটিভ নীতিনির্ধারকেরা, বিশেষ করে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসন, নিয়মিতভাবে তার পরামর্শ নিত।[] লুইস ইরাক যুদ্ধের প্রবল সমর্থক ছিলেন এবং তার এই অবস্থান ও নিওকনজারভেটিভ মতাদর্শের প্রতি সমর্থন পরবর্তীতে সমালোচিত হয়।[][][][][১০][১১]

লুইসের সাথে এডওয়ার্ড সাঈদ-এর বিতর্ক ছিল সুপরিচিত। সাঈদ তাকে সায়োনিস্টপন্থী এবং একজন প্রাচ্যতত্ত্ববিদ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, যিনি আরবদের অবমাননা করেন, ইসলামকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেন এবং পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদকে উৎসাহ দেন।[১২][১৩] জবাবে লুইস বলেন, প্রাচ্যতত্ত্ব মানবতাবাদের একটি অংশ এবং সাঈদ বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছেন।[১৪][১৫]

লুইস আর্মেনীয় গণহত্যা অস্বীকার করার জন্যও পরিচিত ছিলেন। তিনি দাবি করেন, উসমানীয়দের দ্বারা আর্মেনীয় জনগণের বিরুদ্ধে কোনও পরিকল্পিত গণহত্যা সংঘটিত হয়নি। কিন্তু এই মতামত অন্য ইতিহাসবিদরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।[১৬][১৭][১৮] লুইস বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ছিল দুই জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মধ্যে সংঘর্ষের ফল। সমালোচকেরা এই ব্যাখ্যাকে "অইতিহাসিক" হিসেবে উল্লেখ করেছেন।[১৯]

পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন

[সম্পাদনা]

বার্নার্ড লুইস ১৯১৬ সালের ৩১ মে লন্ডনের স্টোক নিউিংটন এলাকায় একটি মধ্যবিত্ত ব্রিটিশ ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হ্যারি লুইস এবং মাতার নাম ছিল জেন লেভি।[২০] বার মিৎসভার প্রস্তুতিকালে তার ভাষা ও ইতিহাসে আগ্রহ গড়ে ওঠে।[২১]

১৯৪৭ সালে তিনি রুথ হেলেন ওপেনহেইমকে বিবাহ করেন। তাদের এক কন্যা ও এক পুত্রসন্তান ছিল। এই দাম্পত্য সম্পর্ক ১৯৭৪ সালে বিচ্ছেদে পরিণত হয়।[১৪] ১৯৮২ সালে লুইস যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।

একাডেমিক জীবন

[সম্পাদনা]

১৯৩৬ সালে বার্নার্ড লুইস লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ স্কুল (বর্তমানে SOAS) থেকে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতক (BA) ডিগ্রি অর্জন করেন। এই পাঠ্যক্রমে নিকট ও মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিন বছর পর, তিনি SOAS থেকেই ইসলামের ইতিহাসে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।[২২]

লুইস আইনশাস্ত্রেও পড়াশোনা করেন এবং সলিসিটার হওয়ার পথে অগ্রসর হন, তবে পরে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস অধ্যয়নে ফিরে আসেন। তিনি প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করেন, যেখানে খ্যাতিমান প্রাচ্যতত্ত্ববিদ লুই ম্যাসিনোঁ-এর সঙ্গে অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৩৭ সালে "Diplôme des Études Sémitiques" অর্জন করেন।[১৪] ১৯৩৮ সালে তিনি SOAS-এ ইসলামি ইতিহাসে সহকারী প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।[২৩]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লুইস রয়েল আর্মার্ড কোরে এবং পরবর্তীতে ১৯৪০–৪১ সালে ইন্টেলিজেন্স কোরে কর্পোরাল পদে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত করা হয়।[২৪] যুদ্ধের পরে তিনি আবার SOAS-এ ফিরে আসেন এবং পরবর্তী ২৫ বছর সেখানে কর্মরত ছিলেন।[]

১৯৪৯ সালে, মাত্র ৩৩ বছর বয়সে, তিনি নিকট ও মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস বিভাগে নবগঠিত চেয়ারে অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন।[২৫] ১৯৬৩ সালে তিনি ব্রিটিশ অ্যাকাডেমির ফেলো নির্বাচিত হন।[]

১৯৭৪ সালে, ৫৭ বছর বয়সে, তিনি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং একই শহরে অবস্থিত ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিতে যৌথ পদে যোগ দেন। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি প্রতি বছর মাত্র একটি সেমিস্টার পড়াতেন এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে মুক্ত থাকায় তিনি গবেষণায় অধিক সময় ব্যয় করতে পারতেন। ফলে, এই সময় থেকেই লুইসের গবেষণা কর্মজীবনের সবচেয়ে ফলপ্রসূ সময়কাল শুরু হয় এবং তিনি পূর্বে সংগৃহীত উপকরণের ওপর ভিত্তি করে বহু বই ও প্রবন্ধ প্রকাশ করেন।[২৬] প্রিন্সটন থেকে ১৯৮৬ সালে অবসর নেওয়ার পর, তিনি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত করনেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।[১৪]

২০০৭ সালে বার্নার্ড লুইস

১৯৬৬ সালে লুইস মিডল ইস্ট স্টাডিজ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (MESA)-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। তবে ২০০৭ সালে তিনি এই সংস্থা থেকে সরে এসে ASMEA প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল MESA-এর একটি বিকল্প। নিউ ইয়র্ক সান পত্রিকা মন্তব্য করেছিল যে MESA মূলত এমন একাডেমিকদের দ্বারা প্রভাবিত, যারা ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে সমালোচনার চোখে দেখেন।[২৭]

১৯৯০ সালে ন্যাশনাল এন্ডাওমেন্ট ফর দ্য হিউম্যানিটিজ লুইসকে জেফারসন ভাষণ প্রদানের জন্য নির্বাচিত করে, যা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক বিদ্যায় সর্বোচ্চ সম্মান। এই ভাষণ, "পশ্চিমা সভ্যতা: পূর্বের দৃষ্টিভঙ্গি", পরে দ্য আটলান্টিক মান্থলি পত্রিকায় "The Roots of Muslim Rage" শিরোনামে সংশোধিত ও পুনঃপ্রকাশিত হয়।[২৮][২৯]

২০০৭ সালে তিনি আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটে আর্বিং ক্রিস্টল ভাষণ প্রদান করেন, যা পরবর্তীতে Europe and Islam নামে প্রকাশিত হয়।[৩০]

গবেষণা

[সম্পাদনা]

বার্নার্ড লুইসের প্রভাব কেবল একাডেমিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সাধারণ জনগণের মধ্যেও তা বিস্তৃত হয়েছিল। তিনি তার গবেষণা জীবন শুরু করেন মধ্যযুগীয় আরব, বিশেষ করে সিরীয় ইতিহাস নিয়ে।[১৪] তার প্রথম প্রবন্ধ ছিল মধ্যযুগীয় ইসলামে পেশাজীবী গিল্ড নিয়ে, যা প্রায় তিরিশ বছর ধরে এ বিষয়ে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।[৩১]

তবে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর, ইহুদি বংশোদ্ভূত গবেষকদের জন্য আরব দেশগুলোতে আর্কাইভ ও মাঠপর্যায়ে গবেষণা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে, কারণ তাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহ করা হতো। ফলে লুইস ওসমানীয় সাম্রাজ্য নিয়ে গবেষণায় মনোযোগ দেন। তবে তিনি আরব ইতিহাস নিয়ে কাজ চালিয়ে যান, বিশেষ করে সদ্য পাশ্চাত্যের গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত হওয়া ওসমানীয় আর্কাইভের সাহায্যে।[১৪] পরবর্তী কয়েক বছরে তিনি যে প্রবন্ধগুলো প্রকাশ করেন, তা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করে; এতে ইসলামী সমাজের শাসনব্যবস্থা, অর্থনীতি ও জনসংখ্যাগত চিত্র বিশ্লেষণ করা হয়।[৩১]

লুইস যুক্তি দেন, মধ্যপ্রাচ্যের পশ্চাদপসরণ মূলত আত্মনির্মিত, যা এর সংস্কৃতি ও ধর্ম থেকে উদ্ভূত। এর বিপরীতে, উপনিবেশবাদ-পরবর্তী তত্ত্বে দাবি করা হয়, এই অঞ্চলের সমস্যা মূলত ১৯শ শতকে ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের কারণে সৃষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিকলতা থেকে উদ্ভূত।[৩২] ১৯৮২ সালের Muslim Discovery of Europe গ্রন্থে তিনি বলেন, মুসলিম সমাজগুলো পাশ্চাত্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি এবং "ক্রুসেডারদের সাফল্যের পেছনে মুসলিম দুর্বলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।"[৩৩]

তিনি আরও বলেন, ইসলামি সমাজগুলো ১১শ শতক থেকেই পতনের দিকে যাচ্ছিল, যার কারণ ছিল মূলত অভ্যন্তরীণ সমস্যা, বিশেষ করে "সাংস্কৃতিক অহংকার", যা সৃজনশীল ধারণা গ্রহণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বাইরের চাপ, যেমন ক্রুসেড, ততোটা দায়ী ছিল না।[১৪]

ইসরায়েলকে বর্ণবাদী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করার সোভিয়েত ও আরব প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় লুইস ১৯৮৬ সালে Semites and Anti-Semites শীর্ষক একটি গ্রন্থ লেখেন, যা ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে লেখা।[১৪] অন্যান্য লেখায় তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বে ইসরায়েলের প্রতি রাগ বা ক্ষোভ অন্য অনেক বড় সংকটের তুলনায় অতিমাত্রায়। যেমন: সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান আক্রমণ, মধ্য এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণ, সিরিয়ার হামা বিদ্রোহে (১৯৮২) রক্তাক্ত দমন, আলজেরিয়ার গৃহযুদ্ধ (১৯৯২–১৯৯৮), এবং ইরান–ইরাক যুদ্ধ (১৯৮০–১৯৮৮)।[৩৪]

বহিঃস্থ ভিডিও
video icon Booknotes interview with Lewis on What Went Wrong?, 30 December 2001, C-SPAN[৩৫]

একাডেমিক গবেষণার পাশাপাশি লুইস সাধারণ পাঠকদের জন্যও প্রভাবশালী কিছু বই লিখেছেন, যেমন: The Arabs in History (১৯৫০), The Middle East and the West (১৯৬৪), এবং The Middle East (১৯৯৫)।[১৪] ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালের হামলার পর লুইসের লেখার প্রতি আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যায়, বিশেষ করে তার ১৯৯০ সালের প্রবন্ধ The Roots of Muslim Rage। এই সময়ে তার তিনটি বই প্রকাশিত হয়: What Went Wrong? (যা ৯/১১-এর আগেই লেখা), যেখানে মুসলিম বিশ্বের আধুনিকতা-বিরোধিতার কারণ অনুসন্ধান করা হয়েছে; The Crisis of Islam; এবং Islam: The Religion and the People[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

আব্রাহাম উদোভিচ তাকে বর্ণনা করেন "নিশ্চিতভাবে আরব বিশ্ব, ইসলামি বিশ্ব, এবং মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরের ইতিহাসের অন্যতম শ্রদ্ধেয় ও বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ" হিসেবে।[৩৬]

তবে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ রিচার্ড বুলিয়েট বলেন, লুইস আধুনিক আরবদের নিচু দৃষ্টিতে দেখতেন এবং মনে করতেন তারা কেবল তখনই মূল্যবান, যখন তারা পশ্চিমা পথ অনুসরণ করে। এডওয়ার্ড সাঈদ তাকে একজন সায়োনিস্টপন্থী এবং প্রাচ্যতত্ত্ববিদ বলে অভিহিত করেন, যিনি আরবদের "অবমাননা" করেছেন।[৩৭][৩৮][৩৯]

মতামত ও সমসাময়িক রাজনীতিতে প্রভাব

[সম্পাদনা]

১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বার্নার্ড লুইস আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়াবলির একজন বিশ্লেষক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং চরমপন্থী ইসলামের উত্থান নিয়ে তার বিশ্লেষণ তাকে পরিচিতি এনে দেয় এবং তা বেশ বিতর্কও সৃষ্টি করে। মার্কিন ইতিহাসবিদ জোয়েল বেইনিন তাকে "উত্তর আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক একাডেমিক পরিমণ্ডলে সম্ভবত সবচেয়ে প্রজ্ঞাবান ও সুবক্তা সায়োনিস্ট প্রবক্তা" হিসেবে অভিহিত করেছেন।[৪০] লুইসের একাডেমিক মর্যাদার কারণে তার নীতিগত পরামর্শ বিশেষ গুরুত্ব পেত।[৩১] মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি ডিক চেনি মন্তব্য করেন, "এই নতুন শতকে, তার প্রজ্ঞা প্রতিদিনই নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ এবং সংবাদমাধ্যমের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।"[৪১]

সোভিয়েত ইউনিয়নের কঠোর সমালোচক হিসেবে লুইস ইসলামী ইতিহাস অধ্যয়নে উদার ধারার উত্তরসূরি ছিলেন। যদিও তার প্রথম বই The Origins of Ismailism-এ মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব দেখা যায়, তিনি পরে মার্কসবাদ ত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে তার কাজগুলো তৃতীয় বিশ্বের মতাদর্শিক বামপন্থার প্রতি প্রতিক্রিয়া হিসেবে গড়ে ওঠে, যা মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়নে একটি শক্তিশালী প্রবাহ হয়ে উঠেছিল।[১৪]

নিজ কর্মজীবনে লুইস বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন গোলদা মেয়ার তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য লুইসের প্রবন্ধ পড়ার জন্য নিযুক্ত করেন। জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের সময় তিনি উপরাষ্ট্রপতি ডিক চেনি, ডোনাল্ড রামসফেল্ড এবং নিজে বুশকেও পরামর্শ দিতেন। তিনি জর্ডানের রাজা হুসেইন ও তার ভাই প্রিন্স হাসান বিন তালাল-এর সাথেও ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এছাড়া তিনি ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি, কেনান এভরেন নেতৃত্বাধীন তুরস্কের সামরিক শাসন, এবং আনোয়ার সাদাতের নেতৃত্বাধীন মিশর সরকারের সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি সাদাতের মুখপাত্র তাহসিন বাশিরের অনুরোধে ইসরায়েলের কাছে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা সম্পর্কে একটি বার্তা পৌঁছে দেন।[৪২]

২০১১ সালে ডেভিড হোরোভিটজ বার্নার্ড লুইসকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন

লুইস পশ্চিমের সঙ্গে ইসরায়েল ও তুরস্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে মত দেন। মধ্যপ্রাচ্যে সোভিয়েত প্রভাব বিস্তারের প্রেক্ষাপটে তিনি এটিকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন। আধুনিক তুরস্ক তার দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ ছিল, কারণ এটি পাশ্চাত্যের অংশ হওয়ার চেষ্টা করে গেছে।[১৪] তিনি ইনস্টিটিউট অব টার্কিশ স্টাডিজ-এর সম্মানিত ফেলো ছিলেন, যা "স্বীকৃত গবেষণামূলক অবদান ও দীর্ঘকালীন সেবার জন্য" প্রদান করা হয়।[৪৩]

লুইস খ্রিস্টান সভ্যতা ও ইসলামকে এমন দুটি সভ্যতা হিসেবে দেখতেন, যারা সপ্তম শতাব্দীতে ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকে ক্রমাগত সংঘর্ষে লিপ্ত। তার ১৯৯০ সালের প্রবন্ধ The Roots of Muslim Rage-এ তিনি যুক্তি দেন যে পশ্চিম ও ইসলামের মধ্যকার সংঘর্ষ ধীরে ধীরে প্রবল হচ্ছে। একটি সূত্র অনুযায়ী, এই প্রবন্ধে (যা জেফারসন ভাষণ থেকেও উদ্ভূত) প্রথম উত্তর আমেরিকায় "ইসলামি মৌলবাদ" শব্দটি পরিচিতি পায়।[৪৪] অনেকেই মনে করেন এই প্রবন্ধে "সভ্যতার সংঘর্ষ" পরিভাষার সূচনা হয়, যা স্যামুয়েল হান্টিংটনের একই শিরোনামের বইয়ে পরবর্তীতে জনপ্রিয়তা পায়।[৪৫] তবে একটি ভিন্ন সূত্র বলছে, লুইস ১৯৫৭ সালে ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে এই শব্দবন্ধ প্রথম ব্যবহার করেন, যার লিখিত রেকর্ডও আছে।[৪৬]

১৯৯৮ সালে লন্ডনভিত্তিক পত্রিকা আল-কুদস আল-আরাবি-তে ওসামা বিন লাদেন কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা পড়ে লুইস। তিনি A License to Kill প্রবন্ধে লেখেন, বিন লাদেনের ভাষা "জিহাদের মতাদর্শ" তুলে ধরে এবং তিনি পশ্চিমা বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠবেন বলে সতর্ক করেন।[৪৫] এই প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় ক্লিনটন প্রশাসনগোয়েন্দা সংস্থাগুলো যখন বিন লাদেনকে সুদান ও পরে আফগানিস্তানে খুঁজে বের করার অভিযান শুরু করে।

তার কিছু মতামত ইউরাবিয়া তত্ত্বের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়েছে। যেমন: তিনি সতর্ক করেন যে ইউরোপ শতকের শেষে মুসলিমপ্রধান হয়ে উঠতে পারে,[৪৭] এবং এটি আরব পশ্চিম, অর্থাৎ মাঘরেবের অংশে পরিণত হতে পারে।[৪৮] ২০০৭ সালের পুস্তিকা Europe and Islam-এ তিনি বলেন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন "অদূর ভবিষ্যতে" ঘটে যেতে পারে।[৪৯]

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

২০১৮ সালের ১৯ মে বার্নার্ড লুইস নিউ জার্সির ভুরহিস টাউনশিপে একটি সহায়ক বাসস্থানে ১০১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর সময় তার ১০২তম জন্মদিন আসতে মাত্র বারো দিন বাকি ছিল।[৫০]

তার দাফন করা হয় টেল আবিবের ট্রাম্পেলডর কবরস্থানে[৫১]

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]

পুরস্কার ও সম্মাননা

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 "Professor Bernard Lewis"The British Academy (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯
  2. "Bernard Lewis, Scholar and Political Advisor, Dead At 101"The Jerusalem Post। Jerusalem। ২০ মে ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০১৮
  3. Abrahmson, James L. (৮ জুন ২০০৭)। "Will the West – and the United States – Go the Distance?"American Diplomacy। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
  4. König, Daniel (২০১৫)। "Arabic-Islamic Records"। Arabic-Islamic Views of the Latin West: Tracing the Emergence of Medieval Europe। Oxford: Oxford University Press। পৃ. ২১আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৮৭৩৭১৯-৩ওসিএলসি 913853067
  5. Weisberg, Jacob (১৪ মার্চ ২০০৭)। "AEI's weird celebration"Slate। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
  6. Neocons Gather To Fete Iraq War Godfather Bernard Lewis, The Forward
  7. Bernard Lewis revises Bernard Lewis (says he opposed invasion of Iraq!), Mondoweiss
  8. How neoconservatives led US to war in Iraq, The National (Abu Dhabi)
  9. Migdal, Joel (২০১৪)। Shifting Sands the United States in the Middle East। New York: Columbia University Press। পৃ. ২৪১। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৩১-৫৩৬৩৪-৯
  10. Ahmad, Muhammad (২০১৪)। The road to Iraq: the making of a neoconservative war। Edinburgh: Edinburgh University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৪৮৬-৯৩০৫-৪
  11. Chaudet, Didier (২০১৬)। When Empire Meets Nationalism: Power Politics in the US and Russia। City: Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৪-৭৬২৫৩-৮
  12. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; said নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  13. "Bernard Lewis obituary"TheGuardian.com। ৬ জুন ২০১৮।
  14. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 Kramer, Martin (১৯৯৯)। "Bernard Lewis"Encyclopedia of Historians and Historical Writing। খণ্ড ১। London: Fitzroy Dearborn। পৃ. ৭১৯–২০। ২৭ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০০৬
  15. Edward W. Said; Oleg Grabar; Bernard Lewis (১২ আগস্ট ১৯৮২)। "Orientalism: An Exchange"New York Review of Books২৯ (13)।
  16. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; :3 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  17. Baer 2020, পৃ. 141।
  18. Auron 2003, পৃ. 230।
  19. Ronald Grigor Suny; Fatma Müge Göçek; Norman M. Naimark, সম্পাদকগণ (২০১১)। A Question of Genocide: Armenians and Turks at the End of the Ottoman Empire। Oxford University Press। পৃ. ৩১–৩৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯৭৮১০৪-১
  20. "Lewis, Bernard 1916– Dictionary definition of Lewis, Bernard 1916– Encyclopedia.com: FREE online dictionary"www.encyclopedia.com
  21. Lewis 2004, পৃ. 1–2।
  22. "Bernard Lewis Cleveland E. Dodge Professor of Near Eastern Studies, Emeritus"University of Princeton। ১৬ মে ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০০৬
  23. "Profile: Professor Bernard Lewis"Telegraph। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৪। ১২ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০১৮
  24. Sugarman, Martin (৬ অক্টোবর ২০০৮)। "Breaking the codes; Jewish personnel at Bletchley Park" (পিডিএফ)Bletchley Park। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
  25. Lewis 2004, পৃ. 3–4।
  26. Lewis 2004, পৃ. 6–7।
  27. Karni, Annie (৮ নভেম্বর ২০০৭)। "Group formed to improve Middle East scholarship"The New York Sun। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
  28. 1 2 "Jefferson Lecture"The National Endowment for the Humanities। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
  29. Lewis, Bernard (১ সেপ্টেম্বর ১৯৯০)। "The roots of Muslim rage"The Atlantic। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
  30. 1 2 "The 2007 Irving Kristol Lecture by Bernard Lewis"। AEI। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০১৮
  31. 1 2 3 Humphreys, R. Stephen (মে–জুন ১৯৯০)। "Bernard Lewis: An Appreciation"Humanities১১ (3): ১৭–২০। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
  32. Lewis 2004, পৃ. 156–80।
  33. Lewis, Bernard (২০০১)। The Muslim Discovery of Europe। New York: W. W. Norton & Company। পৃ. ২২আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৯৩-৩২১৬৫-৪
  34. Lewis, Bernard (২০০৪)। The Crisis of Islam: Holy War and Unholy Terror। New York: Random House Trade Paperbacks। পৃ. ৯০–৯১, ১০৮, ১১০–১১আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮১২৯-৬৭৮৫-২
  35. "What Went Wrong"C-SPAN। ৩০ ডিসেম্বর ২০০১। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মার্চ ২০১৭
  36. Aronson, Emily (২২ মে ২০১৮)। "Bernard Lewis, eminent Middle East historian at Princeton, dies at 101"Princeton University (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯
  37. "Bernard Lewis was an important, but flawed, academic mind"
  38. "Do not weep for Bernard Lewis, high priest of war in the Middle East"
  39. Joffe, Lawrence (৬ জুন ২০১৮)। "Bernard Lewis obituary"TheGuardian.com
  40. Beinin, Joel (জুলাই ১৯৮৭)। "Review of Semites and Anti-Semites: An Inquiry into Conflict and Prejudice by Bernard Lewis"। MERIP Middle East Report (147): ৪২–৪৫। ডিওআই:10.2307/3011952জেস্টোর 3011952
  41. "Remarks by Vice President Cheney at the World Affairs Council of Philadelphia Luncheon Honoring Professor Bernard Lewis"। The White House। ২ মে ২০০৬। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
  42. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; abukhalil নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  43. "About the Institute of Turkish Studies"Institute of Turkish Studies। ১ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
  44. Haque, Amber (২০০৪)। "Islamophobia in North America: Confronting the Menace"। Driel, Barry van (সম্পাদক)। Confronting Islamophobia in Educational Practice। Stoke-on-Trent: Trentham Books। পৃ. আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৫৮৫৬-৩৪০-৪
  45. 1 2 Ajami, Fouad (২ মে ২০০৬)। "A Sage in Christendom: A Personal Tribute to Bernard Lewis"OpinionJournal। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০০৬
  46. Liebowitz, Ruthie Blum (৬ মার্চ ২০০৮)। "One on One: When Defeat Means Liberation"Jerusalem Post
  47. "Head count belies vision of 'Eurabia'"Financial Times। ১৯ আগস্ট ২০০৭।
  48. "Tales from Eurabia"The Economist। ২২ জুন ২০০৬।
  49. "Eurabian Follies"Foreign Policy। ৪ জানুয়ারি ২০১০।
  50. Murphy, Brian (১৯ মে ২০১৮)। "Bernard Lewis, eminent historian of the Middle East, dies at 101"The Washington Post। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০১৮
  51. Kramer, Martin (২৬ জুলাই ২০১৮)। "Bernard Lewis rests among the greats"JNS। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুলাই ২০১৯
  52. "APS Member History"search.amphilsoc.org। সংগ্রহের তারিখ ১৫ আগস্ট ২০২২
  53. "Prize Winners"harveypz.net.technion.ac.il। Technion – Israel Institute of Technology। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
  54. "Bernard Lewis"amacad.org। American Academy of Arts & Sciences। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
  55. "The National Book Critics Circle Award: 1996 Winners & Finalists"bookcritics.org। National Book Critics Circle। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
  56. "Past Winners"Jewish Book Council (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২০
  57. "Thomas Jefferson Medal for Distinguished Achievement in the Arts, Humanities, and Social Sciences"amphilsoc.org। American Philosophical Society। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
  58. "Ataturk Peace Prize to Bernard Lewis"
  59. "Golden Plate Awardees of the American Academy of Achievement"www.achievement.orgAmerican Academy of Achievement
  60. "President Bush Awards the 2006 National Humanities Medals"neh.gov। National Endowment for the Humanities। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
  61. "Scholar-Statesman Award Dinner"washingtoninstitute.org। The Washington Institute for Near East Policy। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০