বানা আল-আবেদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বানা আল-আবেদ
জন্ম৭ জুন ২০০৯
বাসস্থানআলেপ্পো, সিরিয়া (ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত)
তুরস্ক (ডিসেম্বর ২০১৬ থেকে)
জাতীয়তাসিরিয়ান
কার্যকাল২০১৬ – বর্তমান

বানা আল-আবেদ (আরবি: بنا العبد‎‎) বিদ্রোহী শাসিত আলেপ্পো অঞ্চলের একজন সিরিয়ান মেয়ে শিশু যে তার ইংরেজীভাষী মায়ের সাহায্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে তার শহর আলেপ্পোর যুদ্ধ নিয়ে তথ্যচিত্র প্রকাশ করে।[১][২] তার বেশির ভাগ টুইটেই বিমান হামলা, ধ্বংসযজ্ঞ, ক্ষুধা, জনসাধারণের উৎখাত, তার এবং তার পরিবারের মৃত্যু সম্ভাবনা, সুন্দর শৈশবের জন্য তার স্পৃহা, আলেপ্পোর আল-বাব বিভাগ এবং সর্বোপরি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো মানবিক দিকগুলো ফুটে উঠেছে।[৩] বানা কিছু টুইটার একাউন্টধারীদের ব্লকও করেছিল যাদের মধ্যে মার্কিন সাংবাদিক ম্যাক্স ব্লুম্যানথাল এর টুইটার একাউন্ট অন্যতম;[৪] এছাড়াও সমালোচনা-মিশ্রিত প্রশ্ন করার দরুণ বানা অন্যান্য একাউন্ট-ধারীদেরও ব্লক করে।

২০১৭ সালের এপ্রিলে তৈরী হওয়া আমেনা শালাদি নামের একটি বিদ্রুপ-ধর্মী টুইটার একাউন্ট কিছু সাংবাদিকদের প্রচারণায় অল্প কিছু দিনেই পরিচিতি লাভ করে, যে একাউন্টটির উদ্দেশ্যই মূলত বানার কাজের সমালোচনা করা।[৫][৬][৭]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বানা আল-আবেদ এর একাউন্ট, @AlabedBana, তৈরী করা হয়েছিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের ২৪ তারিখে। একাউন্ট খোলার ২ দিনেই ৭ বছর বয়সী বানা #HolocaustAleppo, #MassacreInAleppo, #StopAleppoMassacre এর মতো হ্যাশট্যাগ এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ কে উল্লেখ করে টুইট করেন।[৮] টুইটার পরবর্তীতে তার একাউন্টে স্বীকৃতি প্রদান করে।[৯] বানার একাউন্টে প্রায় ৩,৭০,০০০ এর মতো অনুসারী রয়েছে[১০] এবং তার একাউন্টটি মূলত তার মা ফাতেমা কর্তৃক পরিচালিত। ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর বানার টুইটার একাউন্ট বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু পরবর্তীতে ২ দিনের মধ্যে সে তার একাউন্ট ফিরে পায় এবং তখন থেকে তার টুইট প্রদান অব্যাহত রয়েছে।[১১]

যুদ্ধের পূর্বে বানার মা ফাতেমা একজন ইংরেজী ভাষার শিক্ষিকা ছিলেন। বানা আল-আবেদও তার মায়ের মতো শিক্ষিকা হতে চায় কিন্তু যুদ্ধের কারণে বানার স্কুল ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বানার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।[১২] তার শহরে হ্যারি পটারের বই না পাওয়ার আক্ষেপে একটি টুইট করার পর জে কে রাউলিং নভেম্বর মাসে তার জন্য হ্যারি পটারের একটি ই-বুক সংস্করণ উপহার হিসেবে প্রদান করে।[১৩] সেই মাসেই এক বিমান হামলায় তার পরিবারের ঘর ধ্বংস হয়ে যায় কিন্তু তার পরিবার সেই সময় এটি নিশ্চিত করেছিলো যে, শুধু সামান্য আঘাত ছাড়া তারা ঐ হামলায় বেঁচে ফিরেছিলো।[১৪]

বানার পিতা একজন উকিল ছিলেন যিনি দক্ষিণ-পূর্ব আলেপ্পোর স্থানীয় পরিষদে কাজ করতেন।[১৫] বানার নূর এবং মোহাম্মদ নামের দুইজন ছোট ভাই আছে।[১৬]

সিরিয়ার সরকার বাহিনী কর্তৃক আলেপ্পো তে সফলভাবে হামলা চালানোর পর তুরস্ক এবং রাশিয়ার মধ্যস্থতায় উক্ত শহর থেকে বিদ্রোহী এবং জনসাধারণদের খালি করার জন্য যুদ্ধবিরতি হয়। যখন আলেপ্পো শহরে জনসাধারণদের সরিয়ে আনার কর্মকান্ড পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করছিলো না, তখন বানার মা ফাতেম তুরষ্কের বিদেশ মন্ত্রী মেভলুত চাভুশোগ্লু কে উল্লেখ করে একটি টুইট করেন এবং প্রত্যুত্তরে মন্ত্রী তাদের এবং বাকি জনসাধারণদের বের করে আনার তুরষ্কের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন।[১৭] ২০১৬ সালের ১৯ শে ডিসেম্বর সংবাদ মাধ্যমে এটি নিশ্চিত হয়েছিলো যে, সিরিয়ার সরকার বাহিনীর আলেপ্পো দখলের পর ৩৫০ জন জনসাধারণ সমেত বানা আল-আবেদ এবং তার পরিবার যুদ্ধ কবলিত আলেপ্পো থেকে ফিরে আসতে পেরেছে।[১৮] ২১ শে ডিসেম্বর বানা এবং তার পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তুরষ্কে বসবাসের অনুমতি লাভ করে এবং আন্তর্জাতিক প্রেসের উপস্থিতিতে বানা এবং তার পরিবার তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ লাভ করে।[১৯][২০]

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের ইদলিবের খান শাইখুন শহরে জনসাধারণের উপর রাসায়নিক হামলার জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যখন আসাদ সরকারের শাইরাত এয়ারবেইসে ক্রুস মিসাইল হামলা চালিয়েছিল, সে হামলাকে সমর্থন জানিয়ে ২০১৭ সালের ৭ এপ্রিল বানা একটি টুইট করেন।[২১]

এছাড়াও ২০১৭ সালের ১২ই মে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান কর্তৃক তার পরিবার তুরষ্কের নাগরিকত্ব লাভ করে।[২২]

সমালোচনা[সম্পাদনা]

অনেক পর্যবেক্ষকরা প্রশ্ন তুলেছিল, বানা যেসব বিষয় নিয়ে টুইট করে, সেসব বিষয়ের ব্যাপারে বানা আদৌ জ্ঞান রাখে কি না। এছাড়া ৭ বছর বয়সী বানা ইংরেজীতেও কথা বলে না। নিউ ইয়র্কার নামক একটি সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিক উল্লেখ করেছিলেন যে, "ভিডিওর বিবৃতিগুলো এতোটাই মানসম্পন্ন দেখলে মনে হয় যেন, তাঁর মা-ই তাকে তার চিন্তা-ভাবনাগুলো ইংরেজীতে বলতে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে যে ভাষাটা সে শেখা আরম্ভ করেছে মাত্র।"[২৩]

সম্প্রতি মুছে ফেলা একটি টুইটে বানা উল্লেখ করেছিলো, "রাশিয়া এবং আসাদ কে আলেপ্পো তে গণহত্যা চালাতে দেওয়ার পরিবর্তে ৩য় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়া ঢের শ্রেয়।"[২৪][২৫]

এছাড়া বানা তুরষ্কের টিভি চ্যানেল মাধ্যমগুলোতে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলো, যেখানে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, তার পছন্দের খাবার কোনটি এবং প্রত্যুত্তরে বানা না বুঝে জবাব দিয়েছিল "সিরিয়ার শিশুদের রক্ষা কর"।[২৬][২৭]

বিদ্রুপাত্মক আক্রমণ[সম্পাদনা]

অনেক বিরোধীরা অনলাইন জগতে বানাকে অসম্মান ও ছোট করার জন্য নকল একাউন্ট বানিয়ে তাকে নিয়ে বিদ্রুপ শুরু করে।[২৮] এক বিবৃতিতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ উল্লেখ করেন যে, "বানার একাউন্টটি মূলত একজন বেনামী টুইটার ব্যবহারকারীর অপপ্রচারের একটি মাধ্যম"।[১৩] দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং ব্যালিংক্যাট নামক একটি বৃটিশ অনুসন্ধানি সার্চ নেটওয়ার্কের দাবি অনুযায়ী, জিওলোকেশানের মাধ্যমে আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলে বানা এবং তার পরিবারের পূর্বে বসবাস করার কোন হদিস মিলে নি।[২৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Mezzofiore, Gianluca। "The trolls who believe Bana, 7-year-old Syrian girl, isn't real"। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  2. "Aleppo girl's Twitter appeals for peace capture world's attention" 
  3. "7-year-old Bana Alabed tweets her life in besieged Aleppo, the horror of Syria airstrikes"। Daily Sabah। 
  4. "Max Blumenthal on Twitter"Twitter (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১৮ 
  5. "Amena Shaladi (@AmenaShaladi) | Twitter"twitter.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-২২ 
  6. Spartacus (২০১৭-০৪-২৪)। "GeenStijl: Inspirerend. 4-jarig meisje twittert vanuit Syrie"GeenStijl (ওলন্দাজ ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৫-১০ 
  7. "Say Hello To The Best Parody Account On Twitter"Caitlin Johnstone। ২০১৭-০৪-২৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৫-১০ 
  8. "Doubts raised over Aleppo girl Bana al-Abed's Twitter account"। RT। ৮ ডিসেম্বর ২০১৬ – www.rt.com/-এর মাধ্যমে। 
  9. "About verified accounts"। Twitter। 
  10. "Where's Bana? Seven-Year-Old Syrian Girl Goes Quiet"। ২৫ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০১৭ 
  11. "Aleppo tweeting girl Bana al-Abed 'is safe'"। BBC। ৫ ডিসেম্বর ২০১৬ – www.bbc.com-এর মাধ্যমে। 
  12. "The seven-year-old girl tweeting the horrors of war in her Aleppo neighbourhood"। Telegraph। 
  13. Rick Gladstone; Megan Specia; Sydney Ember (ডিসেম্বর ৭, ২০১৬)। "Girl Posting to Twitter From Aleppo Gains Sympathy, but Doubts Follow"New York Times 
  14. Bogart, Nicole। "Syrian girl with viral Twitter account trapped in Aleppo, family worried army will target them"। Global News। 
  15. Molloy, David (২ অক্টোবর ২০১৬)। "Meet the seven-year-old girl tweeting from Aleppo"। BBC – www.bbc.com-এর মাধ্যমে। 
  16. "'I saw deaths and I almost died': Read seven-year-old's harrowing tweets from inside war-torn Aleppo" 
  17. "7-Year-Old Syria War Symbol, Bana al-Abed, Evacuated From Aleppo" 
  18. "Aleppo battle: Hundreds leave Syria city as evacuations resume"BBC। ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬। 
  19. CNN, Muhammad Lila and James Masters। "Bana Alabed: Aleppo girl meets Erdogan"CNN 
  20. "Bana Alabed, Aleppo's tweeting girl, meets Turkey's President Erdogan"BBC News। ২১ ডিসেম্বর ২০১৬। 
  21. Samuelson, Kate (৭ এপ্রিল ২০১৭)। "The Syrian Girl Who Tweeted Aleppo's Downfall Welcomed Trump's Air Strike"TIME 
  22. Serdat Oguz, Yuksel (১২ মে ২০১৭)। "Erdogan gives Aleppo's 'Twitter girl', family Turkish ID"Anadolu Agency 
  23. "Bana Alabed, Twitter's Child Witness to the Battle for Aleppo"The New Yorker। ২০১৬-১২-০৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১৮ 
  24. "Bana Alabed on Twitter: "Dear world, it's better to start 3rd world w…"archive.is। ২০১৬-১২-০৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১৮ 
  25. "Finding Bana - Proving the Existence of a 7-Year-Old Girl in Eastern Aleppo - bellingcat"bellingcat (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৬-১২-১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১৮ 
  26. Alexs220 (২০১৭-০২-০৬), Bana Alabed is Fake, সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১৮ 
  27. "The scandal of the opposition's propaganda in Aleppo continues; Bana Alabed - AWD News"awdnews.com (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৭-০৪-১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১৮ 
  28. Taylor, Adam (ডিসেম্বর ১৪, ২০১৬)। "In Aleppo's misinformation war, a 7-year-old girl prompts a fact check"। The Washington Post।