বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার অষ্টাদশ শতকের একজন বিখ্যাত বাঙালি পণ্ডিত, কাব্য এবং নাট্যকার।

জীবনী[সম্পাদনা]

বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার হুগলী জেলার গুপ্তিপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর পিতার নাম রামদেব তর্কবাগীশ। তিনি ছিলেন গুপ্তিপাড়ার প্রসিদ্ধ শুভাকরের বংশধর।[১]

বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাপণ্ডিত ছিলেন। কোন কারণবশত কৃষ্ণচন্দ্র তাঁর উপর রেগে গেলে তিনি বর্ধমানরাজ চিত্রসেনের আশ্রয়ে যান। তিনি বর্ধমানরাজের আদেশে ১৭৪৪ খ্রিস্টাব্দে গদ্যেপদ্যে চিত্রচম্পূ গ্রন্থ রচনা করেন। এই বইটিতে বর্গীর হাঙ্গামার বহু বিবরণ পাওয়া যায়। চিত্রসেনের মৃত্যুর পর তিনি আবার কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভায় যান এবং এর কিছুদিন পরে তিনি নদীয়া ত্যাগ করে কলকাতায় রাজা নবকৃষ্ণের আশ্রয়ে থাকেন। ওয়ারেন হেস্টিংস যে ১১ জন পণ্ডিতের সাহায্যে বিবাদার্ণবসেতু নামে বিরাট ধর্মশাস্ত্রসংগ্রহ রচনা করান তিনি তাঁদের অন্যতম। এই বইটি ব্রিটিশ আমলে হিন্দু আইনের আদিগ্রন্থ এবং দীর্ঘকাল সুপ্রীম কোর্টের একমাত্র আইনগ্রন্থ ছিল। হ্যালহেড এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। তাঁর অনুবাদের নাম A Code of Gentoo Law, যা ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। বাণেশ্বর রচিত আটটি গ্রন্থ এ যাবৎ পাওয়া গেছে। সেগুলি হলো: চিত্রচম্পূ, বিবাদার্ণবসেতু, রহস্যামৃত, তারাস্তোত্র, দেবীস্তোত্র, চন্দ্রাভিষেক ও কাশীশতক।[২] চিত্রচম্পূ কাব্যটি একাধারে ইতিহাস ও ভূগোল। এতে চিত্রসেন সম্পর্কে অনেক তথ্য লিপিবদ্ধ হয়েছে। তাঁর রচনা বলে প্রসিদ্ধ কিছু উদ্ভট সংস্কৃত কবিতার সন্ধান পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান - প্রথম খণ্ড - সাহিত্য সংসদ