বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন বা সংক্ষেপে বিসিক বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান যা বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে কাজ করে থাকে। ১৯৫৭ সালে সংসদীয় আইনের অধ্যাদেশ বলে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বে এর নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালে তৎকালীন যুক্তফ্রন্ট সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী থাকাকালে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন নামে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান গঠনের লক্ষ্যে তদানীন্তন গণপরিষদে বিল উত্থাপন করেন। একই বছরের ৩০ মে পূর্ব পাকিস্তান ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়, যা স্বাধীনতা উত্তরকালে যা বিসিক নাম ধারণ করে। বিসিক বেসরকারি খাতে ক্ষুদ্র কুটির ও গ্রামীণ শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে মুখ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও কুটির খাতের পোষক কর্তৃপক্ষ হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছে।[১]

পরিচালনা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা বিসিকের প্রধান নির্বাহী বা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। পরিচালক পর্ষদের অপর ছয়জন সদস্যও সরকারের যুগ্ম-সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা যারা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরিচালক পর্ষদের সহযোগিতা ও প্রশাসনিক বিষয় তদারকীর জন্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন সরকারের উপ-সচিব একজন কর্মকর্তা।

প্রধান কার্যালয়[সম্পাদনা]

বিসিক, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়

করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় ১৩৭/১৩৮ মতিঝিল বা/ এ ঢাকায় অবস্থিত। বিসিক প্রধান কার্যালয়ে মোট ১০(দশ) টি বিভাগ রয়েছে। বিভাগগুলো হলো প্রশাসন, হিসাব ও অর্থ, ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতি, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, পরিকল্পনা, প্রকল্প, প্রযুক্তি, পুরকৌশল ও নিরীক্ষা বিভাগ। বিভাগের প্রধান হিসেবে মহাব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

আঞ্চলিক কার্যালয়[সম্পাদনা]

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগীয় শহরে বিসিকের ৪ (চার) টি আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। এগুলোর প্রধান হচ্ছেন মহাব্যবস্থাপক সমপর্যায়ের আঞ্চলিক পরিচালক যিনি অধীনস্থ জেলা সমূহের কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি করে থাকেন।

জেলা কার্যালয় (শিল্প সহায়ক কেন্দ্র)[সম্পাদনা]

জেলা কার্যালয় হিসেবে প্রতিটি জেলায় ১ টি করে শিল্প সহায়ক কেন্দ্র রয়েছে।

বিসিকের কার্যক্রম[সম্পাদনা]

একটি বেসরকারি উদ্যোক্তা দ্বারা বিসিকের সহায়ক পরিষেবা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি শিল্প ইউনিট

শিল্প সহায়ক কেন্দ্রের সেবা সহায়তা কার্যক্রম-[সম্পাদনা]

  • (ক) বিনিয়োগ পূর্ব সহায়তাঃ-
    • ০১। শিল্পোদ্যোক্তা চিহ্নিতকরন বা উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা।
    • ০২। শিল্পোদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিল্প ষ্থাপনের বিষয়ে উদ্যোক্তাগনকে ধারণা দেয়া।
    • ০৩। বিপণন সমীক্ষা প্রনয়ন।
    • ০৪। বিপণন সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন প্রনয়ন।
    • ০৫। উপ-খাত ভিত্তিক সমীক্ষা প্রনয়ন।
    • ০৬। প্রজেক্ট প্রোফাইল প্রনয়ন।
    • ০৭। প্রকল্প প্রস্তাব প্রনয়ন ও মূল্যায়ন।
    • ০৮। কারিগরী তথ্য সংগ্রহ ও বিতরন।
  • (খ) বিনিয়োগ কালীন সহায়তাঃ-
    • ০৯। অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা সহ শিল্প নগরীতে প্লট বরাদ্দ প্রদান।
    • ১০। ঋণ ব্যবস্থাকরন / ঋণ সহায়তা প্রদান।
    • ১১। উদ্যোক্তার নিজস্ব বিনিয়োগ শিল্প স্থাপনে সহায়তা দান।
    • ১২। নক্শা নমুনা উন্নয়ন ও বিতরন।
    • ১৩। ঋণ বিতরনকৃত প্রকল্পের বাস্তবায়ন তদারকীকরন।
    • ১৪। ঋণ আদায়ের জন্য শিল্প ইউনিট পরিদর্শন।
  • (গ) বিনিয়োগোত্তর সহায়তাঃ-
    • ১৫। ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মেলন আয়োজন।
    • ১৬। পন্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নে সহায়তা প্রদান।
    • ১৭। সাব-কন্ট্রাকটিং ইউনিট তালিকা ভূক্তি করন।
    • ১৮। সাব-কন্ট্রাকটিং সংযোগ স্থাপন।
    • ১৯। সেমিনার কর্মশালা ইত্যাদির আয়োজন।
    • ২০। বিভিন্ন তথ্য বুলেটিন প্রকাশ করা।
    • ২১। কর্মসংস্থান সিৃষ্টি করা।
  • (ঘ) বিবিধ কর্মকান্ডঃ-
    • ২২। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানের রেজিষ্ট্রেশন প্রদান।
    • ২৩। কর শুল্ক ইত্যাদি মওকুফ বিষয়ে সুপারিশ প্রদান।
    • ২৪। শিল্পের কাঁচামাল ও মোড়ক সামগ্রী আমদানীর ক্ষেত্রে প্রাধিকার নির্ধারনে সুপারিশ প্রদান।
  • বিনিয়োগ পূর্ব পরামর্শ
  • বিনিয়োগ পরবর্তী সম্প্রসারণ সেবা
  • কারিগরি তথ্য
  • হ্যান্ডিক্রাফট এর নকসা প্রনয়ন
  • শিল্পের যাবতীয় তথ্য এবং পরিসংখ্যান
  • বাজারজাতকরণ তথ্য
  • অবকাঠামোগত সুবিধা
  • দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ
  • উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ
  • ঋণ সুবিধা

বিসিক ক্ষুদ্র শিল্পে মধ্যমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী ঋণ প্রদান করে থাকে। এই ঋণ কার্যক্রম সরাসরি অথবা বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। ঢাকায় বিসিক-এর প্রধান কার্যালয় ছাড়াও সারা দেশে ৪টি আঞ্চলিক অফিস এবং ৬৪ টি জেলা অফিসের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।এছাড়াও সারাদেশে বিসিকের ৭৬টি শিল্প সহায়ক কেন্দ্র রয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]