ফ্রানৎস ভেরফেল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ফ্রানৎস ভেরফেল
Werfel.jpg
Werfel photographed by Van Vechten, 1940
জন্ম
ফ্রানৎস ভিক্টর ভেরফেল

(১৮৯০-০৯-১০)১০ সেপ্টেম্বর ১৮৯০
মৃত্যু২৬ আগস্ট ১৯৪৫(1945-08-26) (বয়স ৫৪)
বেভার্লি হিলস, ক্যালিফোর্নিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র.
সমাধিজেন্ট্রালফ্রাইডফ
পেশাঔপন্যাসিক, নাট্যকার, কবি
পরিচিতির কারণদ্য সং অব বার্নাডেৎ, দ্য ফর্টি ডেজ অব মুসা দাঘ
সঙ্গীআলমা মাহলের (১৯২৯–১৯৪৫; আমৃত্যু)
আত্মীয়হানা ফুচস-রোবেত্তিন (বোন)
স্বাক্ষর
Franz Werfel (signature ca 1945).gif

ফ্রানৎস ভিক্টর ভেরফেল, (১০ই সেপ্টেম্বর ১৮৯০ - ২৬শে অগাস্ট ১৯৪৫) ছিলেন এমন একজন অস্ট্রেলীয়-বোহেমিয়ান ঔপন্যাসিক, নাট্যকার এবং কবি যার কর্মজীবনের সময়ের পরিধি ছড়িয়ে ছিল গোটা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, যুদ্ধমধ্যবর্তী সময় ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত। তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন দ্য ফর্টি ডেজ অব মুসা দাঘ (১৯৩৩, ইং অনুবাদ ১৯৩৪ ও ২০১২) উপন্যাসটির লেখক হিসেবে, যা লেখা হয়েছিল ১৯১৫ সালের আর্মেনীয় গণহত্যার বিভিন্ন ঘটনা অবলম্বনে, এবং আরেকটি উপন্যাস দ্য সং অব বার্নাডেৎ (১৯৪১), যেটি ফরাসী ক্যাথলিক সন্ত Bernadette Soubirous এর জীবনদর্শন অবলম্বনে লেখা হয়েছিল। এই শেষোক্ত দ্য সং অব বার্নাডেৎ উপন্যাসটি নিয়ে  পরবর্তীকালে আবার  একই নামে হলিউডের একটি চলচিত্র তৈরী করা হয়।

জীবনালেখ্য[সম্পাদনা]

ফ্রানৎস ভেরফেলের জন্ম হয়েছিল প্রাগ শহরে (যেটা তখন অস্ট্রো-হাংরিয়ান সাম্রাজ্য এর একটি অংশ ছিল),গ্লাভস এবং চামড়াজাত পণ্যের ধনী ইহুদি ব্যবসায়ী রুডল্ফ ভেরফেলের তিন সন্তানের মধ্যে ফ্রানৎস ভেরফেল ছিলেন প্রথম। ফ্রানৎসের মা আ্য়লবিন কুষি ছিলেন একজন কারখানা মালিকের মেয়ে। তাঁঁর দুই বোন ছিল হানা (জন্ম ১৮৯৬) ও মারিয়ান এ্য়ামালি (১৮৯৯)।[১] শৈশবে ফ্রানৎস বড় হয়েছিলেন একজন চেক ক্যাথলিক গৃহশিক্ষিকা, বারবারা সিমুনকোফার কাছে, যে প্রায়ই তাঁঁকে প্রাগ শহরের প্রধান ক্যাথিড্রালে প্রার্থনার সময় নিয়ে যেতেন। প্রাগ শহরের অন্য প্রগতিশীল জার্মান ভাষী ইহুদি শিশুদের সাথেই ফ্রানৎসও পড়াশুনা করেছিল ক্যাথলিক স্কুলে যেখানে ইহুদি পন্ডিতেরা ইহুদি ছাত্রদের শিক্ষা দিতেন বার মিৎসভা তৈরী করার জন্য। এই স্কুল এবং তাঁর গৃহশিক্ষকের প্রভাবে ফ্রানৎস খুব কম বয়সেই ক্যাথলিক ধর্মের প্রতি ঝুঁকে পড়েন, যেখান থেকে আস্তে আস্তে তিনি আরও বিভিন্ন ধর্মের প্রতি আগ্রহী হয়ে যান, যেমন ধর্মতত্ত্ব ও ইসলাম, এবং এর প্রভাব পড়ে তাঁর কল্পকাহিনী ও তথ্যভিত্তিক সাহিত্যেও, যেগুলো লক্ষ্য করলে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বর ইঙ্গিত পাওয়া যাবে।

খুব কম বয়স থেকেই ফ্রানৎস লেখালিখি শুরু করেন এবং ১৯১১ সালে তাঁর লেখা প্রথম কবিতা সংকলন, Der Weltfreund, প্রকাশ হয় যার মানে "বিশ্ববন্ধু "। একই সময় ফ্রানৎস তাঁর অন্য জার্মান ইহুদি লেখক বন্ধুদের থেকে সরে আসেন যারা কাফে আর্কো তে গিয়ে যোগ দিয়েছিল, এবং এঁদের মূল দুজন হল ম্যাক্স ব্রডফ্রান্‌ৎস কাফকা। আবার তাঁঁর লেখা কার্ল ক্রস এর মতো সমালোচকের কাছ থেকে খুব প্রশংসা অর্জন করেছিল যিনি তাঁর নিজের পত্রিকা Die Fackel(দ্য টর্চ) এ ফ্রানৎসের প্রথমদিকের কবিতা ছাপাতেন।

১৯১২ সালে ফ্রানৎস লেইপজিগ শহরে গিয়ে কার্ট উলফ এর নতুন ছাপাখানায় সম্পাদকের চাকরিতে যোগ দেন। সেখানেই তিনি জর্জ ট্রাক্ল এর প্রথম কবিতার বই সম্পাদনা করে ছাপিয়েছিলেন । তিনি জার্মানিতে বসবাসকালীন বহু জার্মানভাষী লেখকদের সাথে কাজ করেছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম সাহিত্যিকরা হলেন: এলস লাস্কের-স্কুয়েলার, মার্টিন বিউবার, রাইনার মারিয়া রিল্ক প্রমুখ ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে ফ্রানৎস রাশিয়ান ফ্রন্ট এর অস্ট্রো-হাংরিয়ান সেনায়[২] একজন দুরভাষী সঞ্চালক হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর কাজ তাঁর সামনে একটা নতুন দিক খুলে দিয়েছিলো, যার ফলে সে পুরো যুদ্ধের আদ্যোপান্ত বিবরণ চোখের সামনে ছবির মতো দেখতে পেয়েছিলেন। জীবনের এই ঘটনা যেন ফ্রানৎসকে আরও সম্পদ জোগাড় করে দিয়েছিলো ভাববাদী কবিতা, উচ্চাভিলাষী নাটক এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে চিঠি লিখতে। এই সময়েই তাঁর মানবতাবাদ, কনফেসানালিজম, আত্মকথা, পৌরাণিক ও ভক্তিভাবের মিশ্রণে সাহিত্য রচনার উন্নতি হয়। তাঁর সাহিত্যের মধ্যে যেমন পুরোনো মিশরীয় দৃশ্য পাই (বিশেষতঃ আখেনাতুনের অদ্বৈতবাদ) তেমনই আমরা অদৃশ্য পরোক্ষভাবে উল্লেখিত অনেক বিষয়েরও উপস্থিতি পাই (এমনকি তিনি তাঁর বন্ধু ব্রড এবং কাফকার সাথে প্ল্যানচেটে বসতেন) এবং "যীশু আ্য়ন্ড দ্য ক্যারিয়ন পথ" কবিতায় বাহা ই ফেথ এর নীতিমূলক প্যারাবেলও দেখা যায়। তাঁর এই খ্রীষ্টধর্মের প্রতি ঝোঁক এবং ইহুদিরাষ্ট্র আন্দোলনের প্রতি বিদ্বেষ, তাঁকে তাঁর ইহুদি পাঠক ও বন্ধুদের থেকে আলাদা করে দেয় এমনকি তাঁর প্রথম জীবনের সমর্থক কার্ল ক্রস এর থেকেও। যদিও বাকিরা অনেকে ওঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মার্টিন বিউবার যে নিজে ফ্রানৎসের যুদ্ধের সময়ে লেখা কবিতার সংকলন Der Gerichtstag (জাজমেন্ট ডে, প্রকাশিত ১৯১৯ সালে) প্রকাশ করেন তাঁর নিজের মাসিক পত্রিকা Der Jude (দ্য জিউ) এ এবং সেখানে ফ্রানৎসের সম্বন্ধে একতি ভুমিকাও লেখেনঃ

যেহেতু আমি প্রথম তাঁর কবিতাগুলি দ্বারা মুগ্ধ হয়েছিলাম, তাই আমি আমার অদৃশ্য উদ্যানের দরজা তাঁর কাছে খুলে দিয়েছি , যেটা থেকে সেও এখন এমন কিছু করতে পারবেনা যার জন্য ওঁকে আমি নির্বাসিত করতে পারব। তুলনা করতেই পারেন, যদি আপনারা করেন, একটা বাস্তবের মানুষের সাথে একটা উপাখ্যানে উল্লিখিত মানুষের, বা একটা পরবর্তী বইয়ের সাথে আগেকার বইয়ের, আপনারা সেটাকে তেমনই দেখবেন যেমন আপনারা দেখতে চান, কিন্তু আমি একটা কবির মূল্যায়ন করছিনা, শুধু তাঁকে একজন হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছি - তাঁরই মতো করে।[৩]

১৯১৭ সালের গ্রীষ্মকালে ফ্রানৎস ফ্রন্টলাইন ছেড়ে এসে ভিয়েনা শহরে Military Press Bureau তে যোগদান করলেন এবং সেখানে পেলেন অন্যান্য বিখ্যাত সব প্রচারক সাহিত্যিকদের যেমন রবার্ট মিউসিল, রিলকে, হিউগো ফন হফমানসতালফ্রানৎস ব্লেই। এই ব্লেইয়ের মাধ্যমেই ফ্রানৎসের আলাপ হয় আলমা মাহলের এর সাথে এবং প্রেমে পড়ে যান তার। এই আলমা মাহলের আবার ছিল গুস্তাভ মাহলের এর বিধবা, বিখ্যাত চিত্রশিল্পী অস্কার কোকস্চকা এর পুরোনো প্রেমিকা এবং স্থাপত্যশিল্পী ওয়াল্টার গ্রোপিয়াস এর (যে তখন ইম্পেরিয়াল জার্মান সেনার পশ্চিম ফ্রন্টে কর্মরত) সেইসময় স্ত্রী। আলমা যেহেতু একজন সুরকার ছিলেন তিনি ইতিমধ্যেই ফ্রানৎসের একটা কবিতাকে গানের রূপ দিয়েছিলেন, কিন্তু সেসব সত্ত্বেও প্রথমে ফ্রানৎসকে পছন্দ করতেন না যেহেতু ফ্রানৎস বয়েসে ছোটো, বেঁটে এবং ইহুদিদের মতো দেখতে ছিল। কিন্তু তাদের ভালবাসা চরম পরিণতি পেল ১৯১৮ সালের আগস্ট মাসে অকালজাত শিশু মার্টিনের জন্মে। মার্টিন জন্মের পরে গ্রোপিয়াসের পরিচয় পায় কিন্তু ঠিক তার পরের বছর মে মাসে সেই ছেলের মৃত্যু হয়। আলমার সাথে গ্রোপিয়াস তাদের মেয়ে ম্যানন এর জন্যে বিয়েটা টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই ১৯২০ সালে বৈবাহিক বিচ্ছেদে রাজী হয়। এর পরে যে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয় তা হলো আগামী ৯ বছর আলমা কিন্তু ফ্রানৎসকে বিয়ে করতে রাজী হলেন না বরং তিনি ফ্রানৎসের কর্মজীবনে সাফল্য আনার জন্যে তাঁর সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করতে থাকলেন যা তিনি এর আগে কোনো প্রেমিক বা স্বামীর জন্যে করেননি এবং এমনভাবে অনুপ্রেরিত করলেন যে ফ্রানৎস একজন বিখ্যাত নাট্যকার, ঔপন্যাসিক এবং কবিতে পরিণত হলেন। এর পর ১৯২৯ সালের ৬ই জুলাই তাঁরা বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

ভিয়েনায় অবস্থিত ফ্রানৎসের স্মৃতিস্তম্ভ. এই গ্রানাইটের স্মৃতিস্তম্ভে খোদিত আছে: "In Dankbarkeit und Hochachtung – Das Armenische Volk" (কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে আর্মেনীয় জনগণ

১৯২৪ সালের এপ্রিলে সোলনে ভার্লাগ কর্তৃক প্রকাশিত "ভার্দি - রোমান দার অপেরা" (অপেরার উপন্যাস) ফ্রানৎসকে ঔপন্যাসিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯২৬ সালে ফ্রানৎসকে গ্রিলপারজার পুরস্কারে পুরস্কৃত করে অস্ট্রিয়ান আকাদেমি অব সাইন্সেস এবং বার্লিনে ম্যাক্স রেইনহার্ট ওনার নাটক "যুয়ারেজ আ্য়ন্ড ম্যাক্সিমিলিয়ন" মঞ্চস্থ করেন। সেই দশকের শেষে ফ্রানৎস সেই সময়ের জার্মান ও অস্ট্রিয় সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ ও প্রতিষ্ঠিত লেখক হয়ে উঠেছেন এবং একটা গোটা পূর্ণ দৈর্ঘ্যের সমালোচনামূলক আত্মজীবনী লিখে ফেলেছেন।

১৯৩০ সালে তাঁর মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলোয় ভ্রমণকালীন অনাহারে পীড়িত উদ্বাস্তুদের সংস্পর্শে আসার প্রভাব পরে তাঁর দ্য ফর্টি দেজ অব মুসা দাঘ নামক উপন্যাসটিতে, যেটা অটোম্যান সাম্রাজ্য-এর নির্দেশে আর্মেনিয়ান গণহত্যা-র প্রতি সারা বিশ্বের নজর কেড়েছিল।[৪] এবং গোটা জার্মানিতে এই বিষয়ে বক্তৃতা শুরু করল। দাস সোয়ার্জ কর্পস নামক নাৎসি সংবাদপত্র ফ্রানৎসকে আর্মেনীয়দের ওপর তুরস্কীয় অত্যাচারের প্রচারক হিসেবে কুখ্যাতি করা আরম্ভ করে দিল। এই পত্রিকা পরবর্তীকালে এও রটায় যে আরমেনীয় ও পরবর্তী ইহুদি গনহত্যার মধ্যে যোগ থাকার দরুন আমেরিকার আর্মেনীয় ইহুদিরা ফ্রানৎসের বই আমেরিকায় বিক্রির জন্যে প্রচার চালাচ্ছে।[৫]

১৯৩৩ সালে ফ্রানৎসকে প্রূসিয়ান আকাদেমি অব আর্টস থেকে ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। তাঁর সব বইও নাৎসিরা পুড়িয়ে ফেলে। ১৯৩৮ সালে আন্স্লুস এর পরে ফ্রানৎস আলমাকে নিয়ে অস্ট্রীয়া ছেড়ে ফ্রান্সে গিয়ে মারসেইয়ে নামক এক মৎস্যজীবিদের গ্রামে বসবাস শুরু করলেন। এইসময়ে তাঁদের ঘরে অতিথিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বের্টল্ট ব্রেখট এবং টমাস মান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান আক্রমণ ও ফ্রান্সের ওপর তাদের কব্জার পরে, যখন ফরাসী ইহুদিদেরকে ধরে ধরে নাৎসি কন্সসেন্ট্রেশন ক্যাম্প এ পাঠানো হচ্ছিল, তখন ফ্রানৎসকে আরেকবার পালাতে হল। ভারিয়ান ফ্রাই ও মারসেইয়ের জরুরী উদ্ধারকারী কমিটির সাহায্যে ফ্রানৎস ও তাঁর স্ত্রী কোনোভাবে নাৎসির হাত থেকে পালিয়ে পাঁচদিন ধরে খুঁজে বেরিয়েছে লর্ডস শহরে একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই। উনি ক্যাথলিকের কাছ থেকে এই সময় অনেক সাহায্য ও দয়া পান। তিনি এও শপথ নিলেন যে তিনি এবার আমেরিকায় নিশ্চিন্তে বসে সারা যুদ্ধের অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে লিখবেন এবং ১৯৪১ সালে তাই উনি প্রকাশ করেন দ্য সং অব বার্নাদেৎ[৬]

ফ্রাই একদিন গুপ্ত পথে পিরেনীস পার হওয়ার ব্যবস্থা করল। তারপর তাঁরা সেই পথ দিয়ে মাদ্রিদ শহরে পৌঁছাল এবং সেখান থেকে আবার পর্তুগালে গিয়ে উঠল। ১৯৪০ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর থেকে ৪ঠা অক্টোবর মন্ট এস্টরিল শহরের গ্র্যান্ড হোটেল ডি'ইটালীয়া-এ থাকেন। ওইদিনই তাঁরা হোটেল ছেড়ে দিয়ে এস এস নী হেলাস নামক জাহাজে করে পাড়ি দেন নিউ ইয়র্ক শহরের উদ্দেশ্যে এবং ১৩ই অক্টোবর সেখানে পৌঁছোন।[৭]

তারপর থেকে ফ্রানৎস তাঁর পরিবার নিয়ে লস এঞ্জেলসে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করলেন, আর সেখানে তাঁর সাক্ষাৎ হল অন্যান্য জার্মান ও অস্ট্রীয় দেশান্তরীদের সঙ্গে, যেমন মান, রেইনহার্ট, এরিচ উল্ফগ্যাং কর্নগোল্ড। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ফ্রানৎস তাঁর শেষ নাটক রচনা করলেন জ্যাকবোস্কি আ্য়ন্ড দ্য কর্নেল (Jacobowsky und der Oberst), যেটা ১৯৫৮ সালে একটা চলচ্চিত্র মি আ্য়ন্ড দ্য কর্নেল যাতে অভিনয় করেছিলেন ড্যানি কায়; জিসেলার ক্লেব এর অপেরা Jacobowsky und der Oberst (1965) যেটাও তৈরী হয়েছিল এই নাটকের উপর ভিত্তি করেই। তাঁর মৃত্যুর আগে শেষ উপন্যাস ষ্টার অব দ্য আনবর্ন (Stern der Ungeborenen)-এর পুরো পান্ডুলিপিও তৈরী হয়ে গিয়েছিল যা ১৯৪৬ সালে ওনার মৃত্যুর পরে ছাপানো হয়।[১]

ফ্রানৎসের সমাধি en:Zentralfriedhof, Vienna

ফ্রানৎস ১৯৪৫ সালে লস এঞ্জেলসে তাঁর শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এবং তাঁর দেহ প্রোথিত হয় রোজডাল সমাধিক্ষেত্রে। পরে অবশ্য ১৯৭৫ সালে তাঁর দেহ ভিয়েনায় ফিরিয়ে দেওয়া হয় জেন্ট্রালফ্রাইডফ এ পুনর্বার সমাধিস্থ করার জন্যে।[৮]

নির্বাচিত কাজ[সম্পাদনা]

সম্মান ও পুরষ্কার[সম্পাদনা]

Armenian stamp (1995): Franz Werfel and a Hero of Musa Dagh

চলচ্চিত্র তালিকা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Jungk, Peter Stephan (১৯৯০)। Franz Werfel: A Life in Prague, Vienna, & Hollywoodবিনামূল্যে নিবন্ধন প্রয়োজনAnselm Hollo কর্তৃক অনূদিত। New York: Grove Weidenfeld। আইএসবিএন 0-8021-1097-5 
  2. "Franz Werfel", U.S. Holocaust Memorial Museum
  3. en:Martin Buber, "Vorbemerkung über Franz Werfel", Der Jude 2, nos. 1–2 (April–May 1917): 109–112.
  4. James Reidel, "Translator's note" in Franz Werfel, The Forty Days of Musa Dagh, trans. Geoffrey Dunlop and James Reidel (1934; revised and expanded, New York: Godine, 2012).
  5. Robert Fisk, en:The Great War for Civilisation: The Conquest of the Middle East, (New York: Knopf, 2006), 231.
  6. Personal Preface, Song of Bernadette, Werfel, Franz
  7. Ellis Island Passenger Registration Records.
  8. Franz Werfel – timeline and works (in জার্মান)
  9. HayPost stamps from 1995