ফিলিপাইন–হংকং সম্পর্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ফিলিপাইন–হংকং সম্পর্ক
মানচিত্র Philippines এবং Hong Kong অবস্থান নির্দেশ করছে

ফিলিপাইন

হংকং

ফিলিপাইন–হংকং সম্পর্ক হল ফিলিপাইন এবং হংকং-এর বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। হংকং এর সাধারণ আইন অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী চীনই হংকং-এর কূটনৈতিক এবং প্রতিরক্ষাবিষয়ক সকল কিছু পালন করবে। তবে হংকং উল্লেখযোগ্য স্বায়ত্তশাসন পেয়ে থাকে, এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহের সাথে সম্পর্কস্থাপন ও "সঠিক ক্ষেত্রে" তা প্রয়োগও করতে পারে। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক ২০১০-এর ম্যানিলার জিম্মি ঘটনায় কিছুটা বিঘ্নিত হলেও ২০১৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে তা আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

চীনা ভূমিতে দেশটির কূটনৈতিক মিশনের অংশ হিসেবে হংকংয়ে ফিলিপাইনের একটি কনস্যুলেট জেনারেল ছিল। ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে কনস্যুলেট হিসেবে হংকংয়ে প্রথম ফিলিপিনো কূটনৈতিক মিশনের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৫৮ সালে এটি কনস্যুলেট জেনারেলে উন্নীত হয়। ১লা জুলাই, ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্য চীন থেকে হংকংয়ে সার্বভৌমত্ব স্থানান্তর করে। হংকং-এ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যক্রম পরিচালনা এবং তদারকি প্রসঙ্গে ১৯৯৬ সালের ২৬শে নভেম্বরেই ফিলিপাইন ও চীন একটি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করে। কূটনৈতিক মিশনটি হংকং-এ ফিলিপাইনের নানাবিধ আগ্রহের কেন্দ্র হিসেবে সম্পর্ক পরিচালনা করে, বিশেষ করে হংকং-এর ক্রমবর্ধিষ্ণু ফিলিপিনো সম্প্রদায়ের জন্য।[১]

২০১০-এর ম্যানিলার জিম্মি ঘটনার পর এ দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে দাগ পড়ে। জিম্মি অবস্থায় হংকংয়ের অধিবাসীদের জীবনহানি ঘটে। হংকংয়ের নিরাপত্তা দপ্তর ঐ ঘটনার জেরে কালো তালিকাভুক্ত ফিলিপিনোদের উপর বহির্গামী ভ্রমন সতর্কতা জারি করে।[২] ২০১৩ সালে হংকং বিশ্ববিদ্যালয় বৈদেশিক সরকার ও জাতির উপর জণগনের অভিমত বিষয়ে এক জরিপ পরিচালনা করে। ফিলিপাইন সরকারের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে ৮৬ শতাংশ ব্যক্তিই একে অপছন্দ করে, মাত্র ১ শতাংশই পছন্দ করেছে। আর ফিলিপাইনের অধিবাসীদের ক্ষেত্রে ৪১ শতাংশ ব্যক্তি পছন্দ আর ১১ শতাংশ ব্যক্তি অপছন্দ করেছে।[৩]

২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে আলোচিত এ ঘটনার বিষয়ে সমঝোতার সম্মতি হওয়ায় হংকং এবং ফিলিপাইনের মধ্যকার সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। ২৩ এপ্রিল, ২০১৪ সালে প্রকাশিত বিবৃতিতে উক্ত ঘটনার জন্য ফিলিপাইন "তীব্রভাবে দুঃখ প্রকাশ এবং গভীর সমবেদনা" জানায়। ম্যানিলার মেয়র জোসেফ এস্ট্রাডা এবং তার প্রতিনিধি ঘটনাটির স্বাভাবিকীকরণের উদ্দেশ্যে ২২শে এপ্রিল হংকং-এ যান। হংকং ফিলিপিনো কূটনীতিক এবং কর্মকর্তাদের জন্য বিনা ভিসায় যাতায়াতের সুযোগ পুনরায় চালু করে, যা ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে বন্ধ করা হয়েছিল। ফিলিপিনোদের উপর জারি করা যাত্রা সতর্কতাও হংকং প্রত্যাহার করে নেয়।

পর্যটন[সম্পাদনা]

ফিলিপাইনের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায় যে ২০১৩ সালে হংকং থেকে ফিলিপাইনে আসা পর্যটকদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১১৮,৬৬৬, যা ২০১১ সাল থেকে ২.৭৮ শতাংশ বেড়েছিল। হংকং ফিলিপিনোদের জন্য নবম জনপ্রিয় পর্যটন স্থল। ২০১০ সালে হংকংয়ে আসা ফিলিপিনো পর্যটকদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫৯,৮২৯।

হংকং-এর ফিলিপিনো[সম্পাদনা]

হংকং-এ প্রায় ১৪০,০০০ ফিলিপিনো রয়েছে।[৪] বাসিন্দাদের অধিকাংশই বৈদেশিক গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে থাকে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ":::: Consulate General Of The Philippines ::::Hk Sar ::::"। Philcongen-hk.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৯-০১ 
  2. Carney, John। "Philippines 'as risky as Syria' for Hong Kong tourists, as black travel alert remains | South China Morning Post"। Scmp.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৯-০১ 
  3. "'Dislike' of PHL govt, Filipinos high among Hong Kong residents, survey says | News | GMA News Online"। Gmanetwork.com। ২০১৩-০৬-০৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৯-০১ 
  4. "My Filipino one and only"। ২৯ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৬ 

টেমপ্লেট:হংকংয়ের বৈদেশিক সম্পর্ক টেমপ্লেট:ফিলিপাইনের বৈদেশিক সম্পর্ক