প্রিয়ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
প্রিয়ন রোগ (টিএসইস)
Histology bse.jpg
Microscopic "holes" are characteristic in prion-affected tissue sections, causing the tissue to develop a "spongy" architecture.
শ্রেণীবিভাগ এবং বহিঃস্থ সম্পদ
বিশিষ্টতা infectious disease[*]
আইসিডি-১০ A৮১
আইসিডি-৯-সিএম ০৪৬

'প্রিয়ন' হলো ভাইরাসের মতোই একপ্রকার সংক্রামক সত্ত্বা যা PrP (Prion Protein) নামক প্রোটিন বা আমিষ দিয়ে তৈরি । এটিকে 'transmissible spongiform encephalopathies' নামক স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতার জন্য দায়ী করা হয়। প্রিয়ন গবাদি পশুর 'Mad cow disease' ও 'scrapie' , মানুষের 'Creutzfeldt–Jakob disease' (CJD), 'Gerstmann–Sträussler–Scheinker syndrome', fatal familial insomnia, এবং 'kuru' - এসব ভয়ানক মারণব্যাধির কারণ।.[১]. প্রিয়ন সুস্থ কোষের ভিতরে প্রবেশ করে কোষাভ্যন্তরস্থ প্রোটিনের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করতে পারে। প্রায় সব প্রিয়ন প্রোটিন এমাইলয়েড নামক জমাটবদ্ধ প্রোটিন তৈরি করে। এ জমাটবদ্ধ প্রোটিন খুবই স্থায়ী এবং এগুলো আক্রান্ত স্থানে জমা হয়ে টিস্যুর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

যেসব প্রোটিন দিয়ে প্রিয়ন গঠিত তা আমাদের পুরো দেহে স্বাভাবিকভাবেই রয়েছে। তবে যেসব প্রিয়ন সংক্রামক সেগুলোর গঠন ভিন্ন এবং সেগুলো সহজে ভেংগে যায়না। PrPC হল দেহের স্বাভাবিক প্রিয়ন, আর PrPSc হল সংক্রামক প্রিয়ন।.[২]

স্বাভাবিক প্রিয়নের কাজ[সম্পাদনা]

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে ভেংগে যাওয়া স্বাভাবিক প্রিয়ন Schwann Cell এর মায়েলিন বা চর্বির আবরণের পুনর্গঠনে সাহায্য করে। অন্য একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, প্রিয়ন অস্থিমজ্জার রক্তকোষ তৈরিকারী প্রাথমিক কোষ গুলোতে থাকে, যেসব প্রাথমিক কোষ সমূহে প্রিয়ন থাকেনা সেগুলো খুব সহজেই কার্যকারীতা হারিয়ে ফেলে।[৩]

কিভাবে ছড়ায়[সম্পাদনা]

প্রিয়ন প্রোটিনটি মূলত খাবারের সাথে দেহে প্রবেশ করে । যেসব শষ্যক্ষেতে পশুর মল সার হিসেবে ব্যবহার করা হয় সেসব ক্ষেতের ফসলের মাধ্যমে এ বিষ ছড়ানোর সম্ভাবনা অনেক বেশী। মজার ব্যাপার হলো মহিলাদের বন্ধ্যাত্ব দূর করতে ব্যবহৃত 'Human menopausal gonadotropin' (একধরণের হরমোন যা মূত্র থেকে সংশ্লেষ করা হয়) থেকেও এই ভয়ানক প্রোটিনটি ছড়াতে পারে। .[৪]

কিভাবে ক্ষতি করে[সম্পাদনা]

প্রিয়ন সমূহ স্নায়ুকোষের ভিতর জমা হয়ে স্বাভাবিক প্রোটিনগুলোকে এমাইলয়েড প্রোটিনে পরিণত করে যা টিস্যুর স্বাভাবিক গঠনকে বিঘ্নিত করে। যার ফলে পুরো টিস্যুটি স্পঞ্জের ন্যায় বিকৃত রূপ নেয় এবং স্নায়ুকোষে ছোট ছোট গহবর তৈরি হয়। যদিও এ রোগটির সুপ্তাবস্থা প্রায় ৫ থেকে ১০ বছর , একবার রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলে তা খুব দ্রুত মারাত্মক আকার ধারণ করে- এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

লক্ষণসমূহ[সম্পাদনা]

খিচুনি, স্মরণ-শক্তি হ্রাস, অস্বাভাবিক চলন প্রক্রিয়া ( ataxiaঃ balance and coordination dysfunction), আচার-আচারনে অস্বাভাবিকতা ইত্যাদি।

প্রিয়ন দিয়ে সংগঠিত রোগসমূহ[সম্পাদনা]

মানুষ ভেড়া, ছাগল গরু,মহিষ
Creutzfeldt–Jakob disease (CJD)

Iatrogenic Creutzfeldt–Jakob disease (iCJD)

Variant Creutzfeldt–Jakob disease (vCJD)

Familial Creutzfeldt–Jakob disease (fCJD)

Sporadic Creutzfeldt–Jakob disease (sCJD)

Gerstmann–Sträussler–Scheinker syndrome (GSS)

Fatal familial insomnia (FFI)

Kuru

Familial spongiform encephalopathy

Multiple System Atrophy (MSA)

Scrapie Bovine spongiform encephalopathy

প্রতিকার[সম্পাদনা]

কোন সুনির্দিষ্ঠ প্রতিষেধক প্রিয়নের বিরুদ্ধে কার্যকর নয় । তবে 'Antiprion antibodies' নামক এন্টিবডি আবিষ্কৃত হয়েছে যা 'blood-brain-barrier' কে অতিক্রম করে প্রিয়ন প্রোটিনকে ধ্বংশ করতে সক্ষম। Polythiophenes এবং Astemizole-এই দুটি ঔষুধও প্রিয়নের বিরুদ্ধে কাজ করে বলে জানা গিয়েছে।

Reference[সম্পাদনা]

  1. Prion Diseases , .
  2. A View from the Top--Prion Diseases from 10,000 Feet,.
  3. Healthy prions protect nerves,.
  4. Unraveling prion strains with cell biology and organic chemistry