প্রশান্ত কর্মকার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
প্রশান্ত কর্মকার
Prasanta Karmakar at IPC.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
জাতীয়তা ভারত
জন্ম (1980-12-08) ৮ ডিসেম্বর ১৯৮০ (বয়স ৩৯)
ক্রীড়া
ক্রীড়াসাঁতার
স্ট্রোকফ্রিস্টাইল, বাটারফ্লাই, ব্যাকস্ট্রোক, একক মেডলি

প্রশান্ত কর্মকার (জন্ম ডিসেম্বর ৮, ১৯৮০, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ) একজন ভারতীয় অর্জুন পুরস্কার প্রাপক প্যারা সাঁতারু যিনি প্রথম ভারতীয় প্যারালিম্পিয়ান। অর্জুন পুরস্কার ছাড়াও তিনি ভীম পুরস্কার প্রাপক, কলকাতা শ্রী পুরস্কার প্রাপক, মেজর ধ্যান চাঁদ পুরস্কার প্রাপক, রাজ্য রোল মডেল পুরস্কার প্রাপক, সুপার আইডল পুরস্কার প্রাপক, ইতিবাচক স্বাস্থ্য হিরো পুরস্কার প্রাপক এবং লিমকা বুক অফ রেকর্ডস -এ রেকর্ডের অধিকারী । তিনি হলেন প্রথম ভারতীয় প্যারা সাঁতারু যিনি আর্জেন্টিনায় ওয়ার্ল্ড সুইমিং চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন [১]। তিনি বাটারফ্লাই, ব্রেস্টস্ট্রোক এবং ব্যাকস্ট্রোকের এশিয়ান রেকর্ড হোল্ডার। এছাড়াও তিনি ১৬ বছর ধরে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ছিলেন।

প্রাথমিক ও ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

সাত বছর বয়সে এক পথ দুর্ঘটনায় তিনি ডান হাত হারান। ছোট বয়সে সাঁতার এর থেকে তার কাছে বেশি প্রিয় ছিল ফুটবল কিন্তু তার গ্রামে বন্ধুদের মধ্যে তিনি ছিলেন চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু। একদিন কেউ তাকে একটি স্থানীয় 'ভিন্নভাবে সক্ষম' দের জন্যে আয়োজিত সাঁতার প্রতিযোগিতায় যোগদান করার জন্যে বলেন এবং সেই প্রতিযোগিতায় তিনি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। এর পরেই শুরু হয় তার সাঁতার এর যাত্রা। কলেজে পড়ার সময় তিনি হরিয়ানা প্যারালিম্পিক সুইমিং টিমে যোগদান করেন।[২]। প্রশান্ত কর্মকার কাবাডি খেলোয়াড় পায়েল চৌধুরীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

কর্ম জীবন[সম্পাদনা]

২০০৩ তে আর্জেন্টিনায় ওয়ার্ল্ড সুইমিং চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন । তিনি ২০০৯ সালে ব্যঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত আই ডাবলু এ এস ওয়ার্ল্ড গেমসে সর্বাধিক সফল ভারতীয় সাঁতারু ছিলেন যিনি ৪টি স্বর্ণপদক, ২টি রৌপ্যপদক এবং 1টি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। এর পরে চীনে গুয়াংঝু ২০১০ এশীয় প্যারা গেমস তে, তিনি ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে ব্রোঞ্জ এবং ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডেলিতে রৌপ্য পদক জয় করেন । ২০১০ সালে বার্লিনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক জার্মান সুইমিং 'ভিন্নভাবে সক্ষম' চ্যাম্পিয়নশিপে এস ৯ শ্রেণিতে ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকের ব্রোঞ্জ জেতেন প্রশান্ত [৩]। ২০১৪ সালে ইঞ্চিওন এশিয়ান প্যারা গেমসে প্রশান্ত কর্মকার ২টি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ত্রোক-এ এবং ৪*১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলেতে [৩]। ২০১০ সালে দিল্লিতে আয়োজিত কমনওয়েলথ গেমসে তিনি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন এবং এটি অ্যাকোয়াটিক বিভাগে কোন ভারতীয়র প্রথম পদক সাধারণ এবং প্যারা গেমস মিলিয়ে [৪]। প্রশান্ত ৫০ মি বাটারফ্লাই , ৫০ মি ব্রেস্ট স্ট্রোক এবং ৫০ মি ব্যাকস্ট্রোকের প্যারাম্পিলিক সুইমিং এশিয়ার রেকর্ড হোল্ডার। এছাড়াও তিনি চার Paralympic ইভেন্টের জাতীয় রেকর্ড ধারক - ৫০ মি ফ্রিস্টাইল, ১০০ মি ফ্রিস্টাইল, ১০০ মি ব্যাকস্ট্রোক এবং ২০০ মি ব্যক্তিগত Medley। ব্যাঙ্গালোরের প্রদীপ কুমারের কাছে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে তিনি ভারতীয় দলের প্রশিক্ষক ছিলেন। কর্মজীবনের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১১ সালে অর্জুন পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ==পদক তালিকা ও অর্জন==[৫]

  • ১৬ বছর ধরে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন
  • ২০০৬, ২০১০, ২০১৪ -তিনবার এশিয়াডে র পদক বিজয়ী।
  • কমনওয়েলথ গেমসের অ্যাকোয়াটিক বিভাগে পদকজয়ী একমাত্র ভারতীয়
  • ওয়ার্ল্ড গেমস ২০০৯ এ ৭-পদকজয়ী একমাত্র ভারতীয়
  • ২০০৩ সালে বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপ মেডেলিস্ট একমাত্র ভারতীয়
  • ২০১০ সালে ৩টি এশিয়ান রেকর্ড তৈরি করা একমাত্র ভারতীয় সাঁতারু
  • আন্তর্জাতিক সাঁতারু ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করে 13 বছর ধরে এবং 37 টি মেডেল জিতেছেন তিনি

অর্থাভাব এবং অন্য কারণে তিনি ২০১২ লন্ডন প্যারালিম্পিক্সে অংশ গ্রহণ করতে পারেননি (০.২৪ মাইক্রো সেকেন্ডের মার্জিন দ্বারা অলিম্পিকের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি তিনি) । এবং জায়গা ছেড়ে দেন তরুণ শরত গায়কোয়াডএর জন্যে [৬][৭] এর পরে তিনি 'ডিপ্রেশনে' আক্রান্ত হন, এবং অতিরিক্ত ট্রেনিং করার সময় আঘাত লাগে তার। কিছুদিনের জন্যে সাঁতার বন্ধ রাখতে হয় তাকে; জিমে নিয়মিত সাইকেল অভ্যাস করতে থাকেন তিনি। এর পরে ভরতের প্রতিনিধি হয়ে 'এশিয়ান প্যারা সাইকেল চ্যাম্পিয়নশিপ'-এ অংশ নিয়ে স্বর্ণ পদক জয় করেন তিনি। এছাড়াও তিনি ভারতীয় জাতীয় দলের ভলিবল খেলোয়াড় ছিলেন। টেবিল টেনিস মধ্যে জাতীয় Paralympic চ্যাম্পিয়ন ছিলেন [৭].

তিনি ভারতে খেলাধুলা উৎকৃষ্টতা উন্নীত করার লক্ষ্যে একটি ক্রীড়া অলাভজনক সংস্থা,গোস্পোর্টস ফাউন্ডেশন দ্বারা সমর্থিত [৮]

বিতর্ক[সম্পাদনা]

জয়পুরের ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলা প্রতিযোগীদের ভিডিও রেকর্ডিংয়ের অভিযোগে ভারতের প্যারলম্পিক কমিটি (পিসিআই) কর্তৃক তিন বছরের জন্য প্রশান্ত কর্মকারকে নির্বাসিত করা হয় ২০১৮ সালে [৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]