প্রথম কুলোত্তুঙ্গ চোল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কুলোত্তুঙ্গ, অভয়
রাজকেশরিবর্মণ, রাজনারায়ণ, চক্রবর্তী, ত্রিভুবন চক্রবর্তী, কোনেরিনমাইকোন্ডান, সুঙ্গম তবির্থ চোলন, জয়ধর, বীরুদরাজভয়ংকর
চিত্র:Kulothunga territories a.png
চোল অধিকারভুক্ত অঞ্চলসমূহ, আনু. ১০৭০ খ্রিস্টাব্দ
রাজত্বআনু. ১০৭০ – আনু. ১১২২ খ্রিস্টাব্দ
পূর্বসূরিঅতিরাজেন্দ্র চোল
উত্তরসূরিবিক্রম চোল
জন্মরাজামুন্দ্রি (অধুনা অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে)
মৃত্যু১১২২ খ্রিস্টাব্দ
গঙ্গইকোন্ড চোলপুরম
রানিদীনাচিন্তামণি[১]
মদুরান্তকী
ত্যাগবল্লি
এলিসাই বল্লভী
সোলকুলভল্লিয়ার
বংশধররাজরাজ চোদগঙ্গ[২]
বিক্রম চোল
বীর চোল[২]
অন্য চার পুত্র
সুত্তমল্লি
আম্মানগই অলবর
রাজ্যের নাম
কো রাজকেশরিবর্মণ বা চক্রবর্তী কুলোত্তুঙ্গ চোলদেব[৩]
পিতারাজরাজ নরেন্দ্র

চক্রবর্তী কুলোত্তুঙ্গ চোলদেব (বানানান্তরে কুলোতুঙ্গ; শা. ১০৭০ – ১১২২ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন দক্ষিণ ভারতের চোল সাম্রাজ্যের একাদশ শতাব্দীর এক রাজা।[৪] তিনি ছিলেন "কুলোত্তুঙ্গ" উপাধি (তামিল ভাষায় যার অর্থ "কুলের গৌরব") ধারণকারী সার্বভৌম রাজাদের অন্যতম। তিনি চোল রাজবংশের মূল শাখার বংশধর ছিলেন না, বরং ছিলেন পূর্ব চালুক্য রাজবংশের এক রাজকুমার। তাঁর মা আম্মানগাইদেবী ছিলেন এক চোল রাজকুমারী (সম্রাট প্রথম রাজেন্দ্র চোলের কন্যা)। তাঁর বাবা ছিলেন পূর্ব চালুক্য রাজা রাজরাজ নরেন্দ্র (প্রথম রাজেন্দ্র চোলের ভ্রাতুষ্পুত্র তথা প্রথম রাজরাজ চোলের দৌহিত্র)। ইতিহাসবিদ শৈলেন্দ্রনাথ সেনের মতে, কুলোত্তুঙ্গের সিংহাসনে আরোহণের ফলে এক নতুন যুগের সূচনা ঘটে। কারণ, তাঁর রাজত্বকাল ছিল অভ্যন্তরীণ শান্তি ও জনকল্যাণকারী প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি পর্যায়কাল।[৫]

কুলোত্তুঙ্গ উত্তর ভারতীয় শহর কনৌজ এবং কম্বোডিয়া, শ্রীবিজয়, খেমের, পাগান (ব্রহ্মদেশ) ও চীনের ন্যায় বৈদেশিক রাজ্যগুলির সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করে চলতেন।[৬] মালয় উপদ্বীপে শ্রীবিজয় প্রদেশ কেদাহে তিনি চোল অধিরাজত্ব স্থাপন করেছিলেন।[৭] গুয়াংঝউ-এর একটি তাও মন্দিরে পাওয়া অভিলেখে (১০৭৯ খ্রিস্টাব্দ) চুলিয়েন (চোল) রাজা কুলোত্তুঙ্গকে সান-ফো-ৎসি (শ্রীবিজয়) দেশের অধিরাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিলেখটির সম্পাদক তান ইয়েওক সেওং-এর মতে, কুলোত্তিঙ্গ চোল ও শ্রীবিজয় দুই রাজ্যই শাসন করতেন।[৮] ১০৯০ খ্রিস্টাব্দের একটি দানপত্রে কেদারমের (শ্রীবিজয়) রাজাকে কুলোত্তুঙ্গের সামন্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[৯] পূর্বসূরিদের মতো কুলোত্তুঙ্গও শিল্পকলা ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। বিখ্যাত তামিল কাব্য কলিঙ্গত্তুপরনি (কবি জয়মকোন্ডার কর্তৃক রচিত বলে কথিত) তাঁর শাসনকালেই রচিত হয়।[১০] তাঁর নথিপত্র থেকে একটি অতিমাত্রায় সুসংগঠিত সরকারি রাজস্ব ও স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রমাণ পাওয়া যায়।[১১][৬] নিজ শাসনকালে কুলোত্তুঙ্গ ব্যাপক হারে জমি জরিপ করে রাজস্বের হার ধার্য করেছিলেন।[১১][৬]

ইতিহাসবিদ নীলকণ্ঠ শাস্ত্রীর মতে কুলোত্তুঙ্গ অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধবিগ্রহ এড়িয়ে চলতেন এবং প্রজাদের সুখসুবিধার দিকে সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখতেন। তাঁর শাসনকাল ছিল সুদীর্ঘ ও সমৃদ্ধিশালী। এই শাসনকালী সাম্রাজ্যের পরবর্তী দেড়শো বছরের সাচ্ছন্দ্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।[১২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. S. R. Balasubrahmanyam, B. Natarajan, Balasubrahmanyan Ramachandran। Later Chola Temples: Kulottunga I to Rajendra III (A.D. 1070-1280), Parts 1070-1280। Mudgala Trust, 1979। পৃষ্ঠা 151। 
  2. Government Of Madras Staff, Government of Madras। Gazetteer of the Nellore District: Brought Upto 1938। Asian Educational Services, 1942 - Nellore (India : District)। পৃষ্ঠা 39। 
  3. P. V. Jagadisa Ayyar (১৯৮২)। South Indian Shrines: Illustrated। Asian Educational Services। পৃষ্ঠা 49। আইএসবিএন 978-81-206-0151-2 
  4. Sen, Sailendra (২০১৩)। A Textbook of Medieval Indian History। Primus Books। পৃষ্ঠা 46–49। আইএসবিএন 978-9-38060-734-4 
  5. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Ancient Indian History and Civilization নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  6. Encyclopaedia of Untouchables Ancient, Medieval and Modern by Raj Kumar p.116
  7. Singapore in Global History by Derek Thiam Soon Heng, Syed Muhd Khairudin Aljunied p.40
  8. Hermann Kulke, K Kesavapany, Vijay Sakhuja। Nagapattinam to Suvarnadwipa: Reflections on the Chola Naval Expeditions to Southeast Asia। Institute of Southeast Asian Studies, 2009। পৃষ্ঠা 71। 
  9. Benjamin Lewis Rice। Mysore Gazetteer, Volume 2, Part 2। Government Press, 1930। পৃষ্ঠা 1030। 
  10. A History of Indian Literature, 500-1399: From Courtly to the Popular by Sisir Kumar Das p.209
  11. The Cambridge Shorter History of India p.191
  12. K. A. N. Sastri (১৯৫৫)। The Cōḷas। University of Madras। পৃষ্ঠা 301। 
পূর্বসূরী
অতিরাজেন্দ্র চোল
চোল
১০৭০-১১২২ খ্রিস্টাব্দ
উত্তরসূরী
বিক্রম চোল

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

  • B. Venkataraman (১৯৭৬)। Temple art under the Chola queens। Thomson Press (India), Publication Division। 
  • K. A. N. Sastri (১৯৩৭)। The Cōḷas। 2, Part 1। University of Madras। 
  • K. A. N. Sastri (১৯৫৫)। The Cōḷas। University of Madras। 
  • P. V. Jagadisa Ayyar (১৯৮২)। South Indian Shrines: Illustrated। Asian Educational Services। আইএসবিএন 978-81-206-0151-2 
  • S. R. Balasubrahmanyam (১৯৭৭)। Middle Chola temples: Rajaraja I to Kulottunga I (AD. 985-1070)। Oriental Press।