প্রথম ইন্দ্রবর্মণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
প্রথম ইন্দ্রবর্মণ
রাজা
পূর্বসূরিপৃথ্বীন্দ্রবর্মণ
উত্তরসূরিপ্রথম যশোবর্মণ
পিতাপৃথ্বীন্দ্রবর্মণ
মাতাপৃথ্বীন্দ্রদেবী

প্রথম ইন্দ্রবর্মণ ছিলেন (খ্‌মের: ឥន្រ្ទវរ្ម័នទី១) খমের সাম্রাজ্যের একজন শাসক, যিনি ৮৭৭/৭৮ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ৮৮৯/৯০ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন এবং তার রাজধানী ছিল হরিহরালয়

ইন্দ্রবর্মণ এর পূর্বপুরুষ[সম্পাদনা]

৮৮০ খ্রীষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারী,সোমবার প্রোথিত, পবিত্র কোর মন্দিরের শিলালিপি অনুসারে,(ফাউন্ডেশন স্টিল কে ৭১৩ এ) [১] তিনজন মৃত রাজা ও তাদের রানীদের জন্য তিনটি মন্দিরের টাওয়ার নির্মিত হয়েছিল তার দ্বারা এবং এই মদিরগুলি "স্মৃতিস্তম্ভের মন্দির" হিসাবে নির্মিত হয়েছিল। কেন্দ্রীয় টাওয়ারটি ছিল সম্রাট দ্বিতীয় জয়বর্মণ (যাঁর মৃত্যুপরুবর্তী নাম ছিল পরমেশ্বর) এবং মহারাণী ধরনীন্দ্রদেবীর জন্যে নিবেদিত (K. 320a),[২]; উত্তরের টাওয়ারটি ছিল তার মায়ের পিতামাতা মহারাজ রুদ্রবর্মণ এবং রাণী রাজেন্দ্রদেবীর জন্যে নিবেদিত(K. 318a); এবং দক্ষিণের টাওয়ারটি ছিল পূর্বসূরী মহারাজা পৃথ্বীন্দ্রবর্মণ এবং রাণী পৃথ্বীন্দ্রদেবীর জন্যে নিবেদিত। (K. 315 একটি)[৩] এবং K. 713 বি).

প্রথম ইন্দ্রবর্মণ-এর স্ত্রী ইন্দ্রদেবী ছিলেন শম্ভুপুর, ব্যাধপুর এবং অনিন্দিতাপুর (ফুনান) রাজবংশের কন্যা.:১১০–১১১

পৃথ্বীন্দ্রবর্মণ এবং রুদ্রবর্মণ[সম্পাদনা]

কিছু এপিগ্রাফিস্ট যেমন কমলেশ্বর ভট্টাচার্য্য এবং কার্ল-হেইঞ্জ-এর মতে আসলে নবম শতাব্দীর রাজাদের মধ্যে  শাস্ত্রীয় উত্তরাধিকার ,[৪]:১১০–১১১,last page fold-out নিয়ে বিতর্ক ছিল।তৃতীয় জয়বর্মণের খারাপ নথিভুক্তিকরণের কারণে, এবং উত্সর্গীকৃত টাওয়ারগুলির উপস্থিতির কারণে, তারা রালুওস-এর কয়েকটি সংস্কৃত শিলালিপি ব্যাখ্যা করে দেখান যে তার এবং ইন্দ্রবর্মণের মধ্যে আরো দুজন সম্রাট ছিলেনঃ পৃথ্বীবর্মণ এবং রুদ্রবর্মণ[৫]

৮ই জুলাই ৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে, ইন্দ্রবর্মণের উত্তরাধিকারী প্রথম যশোবর্মন কর্তৃক প্রোথিত লোলেই শিলালিপি (K. 324) অনুযায়ী,  রূদ্রবর্মণ ছিলেন তৃতীয় জয়বর্মণের(যাকে ইন্দ্রবর্মণ তার বকোং শিলালিপিতে  (কে ৮২৬), মৃত্যুপরবর্তী নামে বিষ্ণূলোক নামে উল্লেখ করেছেন, 881/82 খ্রি) মাতা এবং দ্বিতীয় জয়বর্মণের মহারাণী ধরনীন্দ্রদেদীর মায়ের ছোট ভাই।[৬]

ইন্দ্রবর্মণের এর সৌধাবলী এবং সরকারী ভবন[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় জয়বর্মণকেই ৮০০ খ্রিষ্টাব্দে খেমার সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার জন্য কৃতিত্ব দেওয়া  হলেও, ইন্দ্রবর্মণকে কৃতিত্ব দেওয়া হয় রাজ্য জুড়ে সংঘটিত বিস্তৃত নির্মাণকার্যের জন্যে। তিনি ভবিষ্যতে আংকোরী রাজাদের অনুসরণ করার জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন বলা যায়। তার প্রথম কাজ ছিল তার প্রজাদের কৃষিক্ষেত্রের জন্য একটি সেচ প্রকল্প নির্মাণ করে জনসাধারণের সেবা করা। বর্ষাকালে জল ভরে রাখার জন্যে একটি বড় জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হয় এবং তারপর খাল ও চ্যানেলগুলির একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে সেচ প্রদান করা হ্ত। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনীতে জলাধারটিকে একটি সমুদ্ররূপে কল্পনা করা হয়েছে এবং সংলগ্ন মন্দির পর্বতটিকে সুমেরু পর্বত অর্থাত দেবতাদের আবাসস্থল বলে বর্ণনা করা হয়েছে। রাজা ও তার ব্রাহ্মণ উপদেষ্টারা এই বিশ্বাসকে শক্তিশালী করার জন্য সারা বছর ধরে বহু অনুষ্ঠান পালন করতেন; উদাহরণস্বরূপ, চাল রোপণ ঋতু আগে বৃষ্টির আবাহন রীতি। অবিলম্বে, ইন্দ্রমানমানের পরে আমি স্বীকার করলাম, আমি তার প্রো কো-র শিলালিপি ঘোষণা করেছি: "আজ থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে আমি খনন শুরু করবো।" তিনি একটি বিশাল আকারের জলাধার দিয়ে ডিগ করেছিলেন: ইন্দ্রাটনাকটি ছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জলাধার যা তার দৈর্ঘ্য 3.8 কিলোমিটার (2.4 মাইল) দীর্ঘ 800 মিটার (2,600 ফুট) দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। যাইহোক, পরে শাসকরা তাকে নির্মিত এবং তার জলাধার তৈরি ছোট চেহারা। এখন শুকনো, মৌসুমে মৌসুমে প্রায় 7.5 মিলিয়ন ঘনমিটার পানি থাকতে পারে।

রাজার দ্বিতীয় কাজ ছিল দেবতা, পূর্বপুরুষ, এবং বাবামায়ের জন্যে স্মৃতিসৌধ এবং মন্দির নির্মাণ।তার রাজধানী শহর হরিহরালয়, অধুনা রুলৌস, তিনি প্রান কো (প্রিয়া ক) তৈরি করেছিলেন, যা তিনি মাতামহ এবং রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা দ্বিতীয় জয়বর্মোণকে উৎসর্গ করেছিলেন। তার প্রাসাদ প্রেই মন্টি এ অবস্থিত ছিল।.[৭]:৩৫৩–৩৫৯

রাজার তৃতীয় কাজ ছিল একটি মন্দির-পর্বত গড়ে তোলা (বলা যায়, তৃতীয় জয়বর্মণ দ্বারা শুরু করা নির্মাণকার্য সম্পূর্ণ করেন তিনি), যা তিনি নিজের উদ্দ্যেশে নিবেদন করেন। কোডেস প্রমাণ করেন যে ইন্দ্রবর্মণের পরে তেরো জন আংকোরিয়ান সম্রাট এই দ্বৈত উদ্দেশ্য (রাষ্ট্র এবং স্মৃতিস্তম্ভের মন্দির) এর জন্য এই ধরনের মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। মন্দিরগুলি স্টেপড পিরামিড দ্বারা নির্মিত হয় যা ছিল লেক দ্বারা পরিবেষ্টিত ।রাজধানী হরিহরালয়ের কেন্দ্রস্থলে, ইন্দ্রবর্মণ দ্বৈত প্রাচীরের মধ্যে  বাকং গড়ে তোলেন। বাকং তার রাষ্ট্রীয় মন্দির ছিল, তাই এর অভ্যন্তরে দেশের পূজ্য দেবতা শিবলিঙ্গও প্রতিষ্ঠিত ছিল। যদিও তার পূর্বপুরুষদের চেয়ে তার মন্দিরগুলি বড়, তবে পরবর্তী মন্দিরগুলির তুলনায় তারা সাধারণ। খেমার আর্কিটেকচারে এটি প্রথমবারের মতো ছিল যে, নাগ-দেরকে মানব বিশ্বের এবং মন্দিরের দেবতাদের ঘরের মধ্যে সেতুর অভিভাবক হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছিল।.

উত্তরাধিকার[সম্পাদনা]

ইন্দ্রবর্মণ ৮৮৯ খ্রীষ্টাব্দে মারা যান এবং মৃত্যুপরুবর্তী নামকরণ হয় ঈশ্বরলোক।তার পুত্র প্রথম যশোবর্মণ সিংহাসনে আরোহণ করেন।

নোট[সম্পাদনা]

  1. Bhattacharya, 2009, pp. 25-41
  2. Pou, 2002, pp. 55-57
  3. Pou, 2002, pp. 41-43
  4. Coedès, George (১৯৬৮)। Walter F. Vella, সম্পাদক। The Indianized States of Southeast Asia। trans.Susan Brown Cowing। University of Hawaii Press। আইএসবিএন 978-0-8248-0368-1 
  5. Golzio, Karl-Heinz। "Considerations on the Chronology and History of 9th Century Cambodia" (PDF)। Center for Khmer Studies - Siksacakr No 2। ২০ আগস্ট ২০০৮ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-১১-২৪ 
  6. Bhattacharya, 2009, p. 58
  7. Higham, C., 2014, Early Mainland Southeast Asia, Bangkok: River Books Co., Ltd.,

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • Bhattacharya, Kamaleswar (২০০৯)। A Selection of Sanskrit Inscriptions from Cambodia। in collaboration with Karl-Heinz Golzio। Center for Khmer Studies। আইএসবিএন 9789995051075 
  • Saveros, Pou (২০০২)। Nouvelles inscriptions du Cambodge (French ভাষায়)। EFEOআইএসবিএন 2-85539-617-4 উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (link)
পূর্বসূরী

পৃথ্বীন্দ্রবর্মন
সম্রাট, অ্যাংকর

৮৭৭-৮৮৯
উত্ত্রাধিকারী

প্রথম যশোবর্মণ