প্রতিসরণ দুরবিন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

প্রতিসরণ দুরবিন (ইংরেজি ভাষায়: Refracting বা Refractor telescope) বা প্রতিসরণ দূরবীক্ষণ যন্ত্র হল এক ধরণের আলোকীয় দুরবিন যাতে বিম্ব গঠনের জন্য অবজেক্টিভ হিসেবে লেন্স ব্যবহার করা হয়। একে অনেক সময় ডায়োপট্রিক (dioptric) দুরবিনও বলা হয়। আলোর প্রতিসরণ নীতির উপর ভিত্তি করে এটি কাজ করে। প্রথম প্রতিসরণ দুরবিন তৈরি করা হয়েছিল শত্রুপক্ষের সৈন্যদের গতিবিধি দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করতে, পরবর্তীতে গালিলেও গালিলেই-এর মাধ্যমে জ্যোতির্বিজ্ঞানে এর ব্যবহার শুরু হয়। বর্তমানে লম্বা ফোকাসের ক্যামেরাতেও এমন দুরবিন ব্যবহার করতে দেখা যায়। উনবিংশ শতকের শেষার্ধে বড় বড় প্রতিসরণ দুরবিন বেশ জনপ্রিয় থাকলেও ধীরে ধীরে এর বিলুপ্তি ঘটে। একটি সময়ের পর মানুষ জ্যোতির্বিজ্ঞানের কাজে কেবলই প্রতিফলন দুরবিন ব্যবহার করতে শুরু করে।

বিভিন্ন ধরণের প্রতিসরণ দুরবিন[সম্পাদনা]

গালিলীয় দুরবিন[সম্পাদনা]

গালিলীয় দুরবিনের অপটিক্যাল ডায়াগ্রাম: y - দূরের বস্তু; y’ - Real image from objective ; y’’ - অভিনেত্রে বিবর্ধিত অসদ বিম্ব; D - এনট্রান্স পিউপিলের ব্যাস; d - অসদ একজিট পিউপিলের ব্যাস; L1 – অভিলক্ষ্য; L2 - অভিনেত্র, e - অসদ একজিট পিউপিল

১৬০৯ সালে গ্যালিলিও গ্যালিলি এরকম দুরবিন তৈরী করেন। এতে অভিলক্ষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় সমতলোত্তল লেন্স এবং অভিনেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় একটি অবতল লেন্স। এ ধরনের দুরবিনে প্রতিবিম্ব হয় সোজা, বিবর্ধিত এবং অসদ। গ্যালিলিওর তৈরি সবচেয়ে ভাল দুরবিন দিয়ে প্রায় ত্রিশ গুণ বিবর্ধিত বিম্ব হত। লেন্সের ত্রুটি এবং স্বল্প দৃষ্টিক্ষেত্রের কারণে সৃষ্ট বিম্ব ছিল ঝাপসা এবং বিকৃত। এই সকল প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি এই দুরবিন দিয়েই বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ, শুক্রের কলা এবং চাঁদের বড় বড় গর্ত (ক্রেটার) দেখতে সমর্থ হন। পাশের চিত্রে দূরবর্তী বস্তু (y) থেকে আগত সমান্তরাল আলো অভিলক্ষ্যের ফোকাসে মিলিত হয়। ফোকাস থেকে আলো অভিনেত্র দিয়ে গিয়ে সমান্তরাল আলোকরশ্মিতে পরিণত হয়। বস্তু থেকে আগত অসমান্তরাল আলো প্রধান অক্ষের সাথে যে কোণে (α1) আপতিত হয় অভিনেত্র থেকে নির্গত হওয়ার পর তার চেয়ে বেশি কোণে (α2) নির্গত হয়। এ কারণে চূড়ান্ত বিম্ব ( y’’) কৌণিকভাবে বিবর্ধিত হয়।

কেপলারীয় দুরবিন[সম্পাদনা]

১৬১১ সালে কেপলার গ্যালিলিয় টেলিস্কোপের উন্নতি সাধন করেন। তিনি অভিনেত্রে অবতল লেন্সের পরিবর্তে উত্তল লেন্স ব্যবহার করেন। এ ব্যবস্থার সুবিধা হল এতে চূড়ান্ত বিম্ব অভিসারী হয়। এই দুরবিনের দৃষ্টিক্ষেত্র প্রশস্ত কিন্তু সৃষ্ট বিম্ব উল্টা। এ ধরনের দুরবিন দিয়ে ভালো বিবর্ধণ পাওয়া গেলেও ভালো বিম্বের জন্য অভিলক্ষ্যের এফ-অনুপাত (লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য ও কার্যকর ব্যাসের অনুপাত) অনেক বেশি হতে হয়।