পেইহাই পার্ক

স্থানাঙ্ক: ৩৯°৫৫′২৮″ উত্তর ১১৬°২২′৫৯″ পূর্ব / ৩৯.৯২৪৪৪° উত্তর ১১৬.৩৮৩০৬° পূর্ব / 39.92444; 116.38306
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পেইহাই উদ্যান
Beihai park, beijing, china.jpg
ছিয়াংহুয়া দ্বীপে সাদা দাগোবা (বা বৌদ্ধস্তূপ)
পেইহাই উদ্যান কেন্দ্রীয় বেইজিং-এ অবস্থিত
পেইহাই উদ্যান
পেইহাই উদ্যান
পেইহাই উদ্যান চীন-এ অবস্থিত
পেইহাই উদ্যান
পেইহাই উদ্যান
ধরনশহুরে উদ্যান
অবস্থানবেইজিং, চীন
আয়তন৭১ হেক্টর
নির্মিত১১৫০ (প্রকৃত)
১৯২৫ (আধুনিক)
মালিকানাধীনবেইজিং পৌর উদ্যান প্রশাসন কেন্দ্র
অবস্থাসবসময় খোলা
পেইহাই উদ্যানের স্যাটেলাইট চিত্র, ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৬৭
হ্রদের উত্তর তীরে অবস্থিত ছানফু মন্দিরের প্রবেশপথ
নয় ড্রাগনের প্রাচীর
পদ্ম ফুল
Beihaipark2.jpg
Beihaipark1.jpg

পেইহাই উদ্যান (চীনা: 北海公園; 北海公园) হলো বেইজিংয়ের রাজকীয় শহরের উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত একটি সাবেক রাজপ্রাসাদ ও সরকারি উদ্যান। একাদশ শতাব্দীতে প্রথম নির্মিত এই উদ্যানটি বৃহত্তম চৈনিক উদ্যানগুলোর অন্যতম এবং এখানে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ভবন, প্রাসাদ ও মন্দির রয়েছে। ১৯২৫ সালে উদ্যানটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এর উত্তরপ্রান্ত শিছাহাইয়ের সাথেও যুক্ত।

উদ্যানটির আয়তন ৬৯ হেক্টর (১৭১ একর)-এর চেয়েও বেশি। উদ্যানে রয়েছে একটি হ্রদ, যা সমগ্র উদ্যানের অর্ধেকের বেশি অংশ দখল করে আছে। উদ্যানের কেন্দ্রস্থলে জেড ফুলের দ্বীপ (瓊華島; 琼华岛; ছিউংহুয়াতাও) নামে একটি দ্বীপ রয়েছে, যার সর্বোচ্চ বিন্দু ৩২ মিটার (১০৫ ফু)।

পেইহাই শব্দটির আক্ষরিক অর্থ “উত্তরের সাগর”। এছাড়াও অন্যত্র এর অনুরূপ কেন্দ্রীয় (চুংহাই) ও দক্ষিণ (নানহাই) সাগর বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত। পরবর্তী কালে এই দুটিকে একটি ভবন কমপ্লেক্সের ভেতর সংযুক্ত করা হয়, যার নাম চুংনানহাই; এটি চীনের সর্বোচ্চ নেতাদের বাসস্থান।

অন্যান্য চীনা রাজকীয় বাগানের ন্যায় পেইইহাই উদ্যানকে থাই হ্রদ, হাংচৌইয়াংচৌয়ের বিস্তৃত প্যাভিলিয়ন ও খালের ন্যায় চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনার অনুকরণে নির্মাণ করা হয়েছে। সুচৌ এবং অন্যান্য সুরম্য উদ্যানের কাঠামো এই রাজকীয় বাগানের অসংখ্য স্থানের নকশার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল। পেইহাই উদ্যানের কাঠামো এবং দৃশ্যগুলিকে বাগান তৈরির কৌশলের অসাধারণ নমুনা হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা ঐতিহ্যবাহী চৈনিক বাগানশিল্পের শৈলী এবং দুর্দান্ত স্থাপত্য দক্ষতা এবং সমৃদ্ধি প্রতিফলিত করে।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯১০ সালে উদ্যানে স্থাপিত সেতু এবং ফলক

১১৭৯ সালে চিন রাজবংশের সম্রাট চাংসুং এর তৎকালীন রাজধানী চুংতুর উত্তরপূর্বে একটি গ্রামীন অবকাশকেন্দ্র ছিল যা আধুনিক বেইজিংয়ের দক্ষিণপশ্চিম অংশে অবস্থিত। থাইইয়ে হ্রদটি চিনশুই নদীর ধারে খনন করা হয়েছিল[২] এবং হ্রদের ছিয়ুংহুয়া দ্বীপে তানিং প্রাসাদ (大寧宮) তৈরি করা হয়।[৩]

ইউয়ান রাজবংশের কুবলাই খানের শাসনামলে ছিয়ুংহুয়া দ্বীপটি বিভিন্ন রাজকর্মচারী ও প্রকৌশলী যেমন লিউ পিংচুং, কুও শৌচিং এবং আমির আল-দিন দ্বারা পুনরায় নকশা করানো হয়।[৪][৫] ইউয়ানের নতুন রাজধানী তাতুর রাজকীয় শহরটির কেন্দ্রে তাইয়ে হৃদটি অবস্থিত ছিল।

মিং রাজবংশ রাজধানী বেইজিংয়ে সরিয়ে নেওয়ার পর ১৪০৬ সালে রাজকীয় শহরটিতে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেই সময় থাইইয়ে হৃদটিকে সেতু দ্বারা তিন ভাগে ভাগ করা হয়, উত্তর সাগর (পেইহাই), কেন্দ্রীয় সাগর (চুংহাই) এবং দক্ষিণ সাগর (নানহাই)। হৃদগুলো রাজকীয় শহরের পশ্চিম অংশের শিউয়ান (পশ্চিম উদ্যান) নামক বিস্তৃত রাজকীয় উদ্যানের অংশ ছিলো।

১৭৪৭ সালে সম্রাট ছিয়েনলুং নির্দেশ জারি করেন যে ওয়াং শিয়েনচি, ওয়াং শুনওয়াং শিচির মানসিক চর্চার হলঘরে থাকা তিনটি "বিরল" চারুলিপি সহ সিখু ছুয়ানশুর অন্যান্য ১৩৪টি চারুলিপি কর্মগুলোকে পাথরে খোদাই করে পেইহাই উদ্যানের প্যাভিলিয়নে প্রদর্শন করতে হবে।[৬][৭][৮]

উল্লেখযোগ্য স্থান[সম্পাদনা]

শ্বেত প্যাগোডা (白塔, বাই তা, "সাদা মিনার") হল ৪০-মিটার (১৩১ ফু)-উচ্চতা বিশিষ্ট স্তুপ যা ১৬৫১ সালে ৫ম দালাই লামার আগমন স্মরণে জেড ফুলের দ্বীপের সর্বোচ্চ স্থানে নির্মাণ করা হয়েছিল।[৯] সূর্য, চাঁদ এবং শিখা খোদাইকৃত চিহ্ন মিনারের পৃষ্ঠকে সজ্জিত করে। এটি ১৬৭৯-এর সানহে-পিংগু ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যায় যা পরবর্তীতে পুনর্নির্মাণের পর বেইজিংয়ের নিকট তাংশান ভূমিকম্পের ফলে আবার নির্মাণ করা হয়। ভবনের ভেতরে একটি আধারে বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ, সন্ন্যাসীর চাদর ও ভিক্ষার বাটি, এবং সন্ন্যাসীদের হাড় (দাহ করার পর তাদের দেহাবশেষ) রয়েছে।

বেইহাই উদ্যানের ভেতর অনেক নামকরা বৌদ্ধ মন্দির বিদ্যমান, যেমন ইয়ংআন মন্দির (চির শান্তির মন্দির) এবং চানফু মন্দির।

উদ্যানের উত্তর তীরে রয়েছে সর্পের ন্যায় সংযুক্ত ছাইচ যুক্ত পঞ্চ-ড্রাগন প্যাভিলিয়ন, যা মিং রাজবংশের আমলে তৈরি করা হয়েছে।

নয় ড্রাগনের প্রাচীর পঞ্চ-ড্রাগন প্যাভিলিয়নের উত্তরে অবস্থিত। এটি চীনের তিনটি প্রাচীরের অন্যতম যা ১৪০২ সালে নির্মাণ করা হয়েছিলো। এটি সাতরঙা চকচকে ইট দ্বারা নির্মিত। মেঘের মধ্যে ক্রীড়ারত নয়টি সম্পূর্ণ ড্রাগন প্রাচীরের দুপাশে দেখা যায়।

এছাড়াও উত্তর তীরে রয়েছে জিংজিন রুম (শান্ত হৃদয়ের কক্ষ)। এটি বাগানের ভেতর অবস্থিত আরেকটি বাগান যার আয়তন ৪,০০০ বর্গমিটার (৪৩,০৫৬ ফু) এর চেয়ে বেশি। এই উদ্যানের ভেতরে অনেক ছোট ছোট ঐতিহ্যবাহী চৈনিক বাগান অবস্থিত।

চক্রাকার শহরে (團成, টুয়ানচেং) এর মূল কাঠামো গৃহীত আলোর হলঘর (চেংগুয়াংডিয়ান) অবস্থিত, এটি একটি সবুজে ঘেরা হলুদ চকচকে টাইলস দিয়ে তৈরি দুই ওলতিবিশিষ্ট ছাদ সহ একটি প্রশস্ত ভবন। এর ভেতরে রয়েছে ১.৬ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট একটি বৌদ্ধ মূর্তি যা চিং রাজবংশের গুয়াংজু সম্রাটকে খামের (কম্বোডীয়) রাজা উপহার দিয়েছিল। এটি মূল্যবান রত্ন খচিত খাঁটি একটি শ্বেত জেড খোদাই করে তৈরি করা হয়েছে। আট জাতির জোট ১৯০০ সালের বেইজিংয়ের লড়াইয়ের সময় মূর্তিটির বাম হাতটির ক্ষতিসাধন করে।

পেইহাই উদ্যানে হেনান প্রদেশ থেকে আসা তাইহু শিলা এবং ইউয়ান রাজবংশের জেড জার থেকে শুরু করে শত শত বছরের পুরানো গাছের শিলালিপি সহ ৪৯৫টি ফলক সহ বিভিন্ন শিল্প সংগ্রহ রয়েছে।[১]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Beihai Park"UNESCO World Heritage Centre। ২০০৮-০৯-০৩। ২০০৭-০৭-০২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  2. Du, Pengfei & al. "History of Water Supply in Pre-Modern China" from Evolution of Water Supply through the Millennia, pp. 169 ff. Accessed 16 November 2013.
  3. Rinaldi, Bianca. The Chinese Garden: Garden Types for Contemporary Landscape Architecture, p. 137. Walter de Gruyter, 2011. Accessed 16 November 2013.
  4. Steinhardt, Nancy Riva Shatzman (১৯৮১)। Imperial Architecture under Mongolian Patronage: Khubilai's Imperial City of DaiduHarvard University। পৃষ্ঠা 222। 
  5. "Yeheidie'erding" (Amir al-Din) in Bai Shouyi, Zhongguo Huihui minzu shi। Yang Huaizhong। পৃষ্ঠা 813–818। 
  6. Lauer, Uta (২০২০-১১-২৩)। Venerable Copies: The Afterlife of a Fragment of a Letter by Wang Xizhi (303–361) (ইংরেজি ভাষায়)। De Gruyter। আইএসবিএন 978-3-11-071433-3ডিওআই:10.1515/9783110714333-004 
  7. "Letter to Boyuan in Running Script|The Palace Museum"en.dpm.org.cn। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-২০ 
  8. "Top 10 calligraphy masterpieces of ancient China - China.org.cn"www.china.org.cn। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-১৬ 
  9. "Beihai Park, Top choice park in Beihai Park & Xicheng North"Lonely Planet 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]